সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (7355) Sahih Muslim (2929)
حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ رَأَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَحْلِفُ بِاللَّهِ أَنَّ ابْنَ صَائِدٍ الدَّجَّالُ، فَقُلْتُ تَحْلِفُ بِاللَّهِ فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ يَحْلِفُ عَلَى ذَلِكَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُنْكِرْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)-কে দেখলাম, তিনি আল্লাহর কসম করেছেন! তিনি বললেন, আমি উমারকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এ ব্যাপারে আল্লাহর কসম করতে শুনেছি! অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অস্বীকার করেননি।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিরিশ সংখ্যক দাজ্জাল আবির্ভূত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে আল্লাহর রাসূল বলে দাবী করবে।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিরিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জাল আবির্ভূত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর মিথ্যা আরোপ করবে।[1] সনদ হাসান।
। ইবরাহীম আন নাখঈ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি আবীদাহ আস-সালমানীর সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। আমি আবীদাহ আস-সালমানীকে বললাম, আপনি কি মনে করেন যে, সে ওদের অর্থাৎ আল মুখতার অন্তর্ভুক্ত? আবীদাহ বলেন, সে নেতৃস্থানীয় দাজ্জালদের অন্তর্ভুক্ত।[1] দুর্বল মাকতূ।
। আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলের মধ্যে সর্বপ্রথম ত্রুটি ঢুকেছে এভাবে যে, তাদের কেউ অপরজনের সাক্ষাতে বলতো, এই যে! তুমি আল্লাহকে ভয় করো এবং যা অপকর্ম করেছো, তা পরিত্যাগ করো। কেননা এগুলো করা তোমার জন্য বৈধ নয়। পরের দিন আবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তার অপকর্ম তার সঙ্গে একত্রে পানাহার ও মেলামেশা করতে তাকে বিরত রাখতো না। যখন তাদের অবস্থা এরূপ হলো, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে পরস্পরের সাথে একাকার করে দিলেন। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ ‘‘বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল তারা দাউদ ও মারইয়াম পুত্র ঈসা কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল... ফাসিকূন’’ পর্যন্ত। (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৭৮-৮১৪)। পুনরায় তিনি বলেনঃ কখনো নয়, আল্লাহর কসম! তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং মন্দ কাজে বাধা দিবে এবং অবশ্যই অত্যাচারী দু’ হাত ধরে তাকে সৎ পথে ফিরে আসতে ও সত্যের উপর অবিচল থাকবে বাধ্য করবে।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (হা/ ৫১৪৮)।
। ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থকবোধক হাদীস বর্ণনা করেন। তবে এতে রয়েছেঃ অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের পরস্পরের অন্তরকে একাকার করে দিবেন। অতঃপর তোমাদের অভিসম্পাত করবেন, যেমন তাদেরকে অভিসম্পাত করেছেন।[1] দুর্বল।
। কাইস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বাকর (রাঃ) আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেন, হে জনসমাজ! তোমরা তো এ আয়াত পাঠ করে থাকো, কিন্তু একে যথাস্থানে প্রয়োগ করো না। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তোমরা যদি সৎ পথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না’’ (সূরাত আল-মায়িদাহঃ ১০৫)। তিনি খালিদ থেকে বর্ণনা করে বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মানুষ যখন কোনো যালেমকে যুলম করতে দেখে তার দু’ হাত চেপে ধরে না অবিলম্বে আল্লাহ তাদের সবাইকে শাস্তি দিবেন। আমর (রহঃ) হুসাইন থেকে বর্ণনা করে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে জাতির মধ্যে পাপকাজ হতে থাকে, এগুলো বন্ধ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা বন্ধ করছে না, অচিরেই আল্লাহ তাদের সবাইকে চরম শাস্তি দিবেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, খালিদ, আবূ উসামাহ ও একদল বর্ণনাকারী যেরূপ বলেছেন, এরূপ বর্ণনা তিনি করেছেন। এ বর্ণনায় শু‘বা বলেনঃ ‘‘যে সম্প্রদায়ে পাপ চলতে থাকে এবং পাপীদের চাইতে তাদের সংখ্যা বেশী হয়।’’[1] আবূ বাকরের হাদীস সহীহ।
। জারীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোনো ব্যক্তি কোনো জাতির মধ্যে বাস করছে যাদের মাঝে পাপাচার হচ্ছে, তারা এ পাপাচার প্রতিরোধে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও প্রতিরোধ করছে না, তাহলে মৃত্যুর পূর্বেই আল্লাহ তাদের চরম শাস্তি দিবেন[1] হাসান।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কেউ কোনো অন্যায় হতে দেখলে সে তা হাতের সাহায্যে দমন করতে সক্ষম হলে তা দ্বারা যেন প্রতিরোধ করে। ‘‘হান্নাদ’’ এ হাদীসের বাকী অংশ উল্লেখ করেনি। তবে ইবনুল আলা তা পূর্ণ করেছেন। তা হলোঃ যদি হাতের দ্বারা প্রতিরোধ করতে সক্ষম না হয়, তবে জিহ্বা দ্বারা আর যদি জিহ্বা দ্বারা প্রতিরোধ করতে সক্ষম না হলে তবে অন্তর দ্বারা, তবে এটা দুর্বল ঈমানের স্তর।[1] সহীহ।