। রাবাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পরিজনেরা আমার সাথে তাদের এক রুম দেশীয় দাসীকে বিবাহ দেন। আমি তার সাথে সঙ্গম করলে সে আমার মতোই একটি কালো সন্তান জন্ম দেয়। আমি তার নাম রাখি ‘আব্দুল্লাহ। আমি পুনরায় তার সাথে সঙ্গম করলে সে আবারো আমার মতোই একটি কালো সন্তান জন্ম দিলো। আমি তার নাম রাখি ‘উবাইদুল্লাহ। অতঃপর আমার গোত্রের ইউহান্না নামক এক রোমীয় গোলাম আমার স্ত্রীকে ফুঁসলিয়ে তার অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে। তারা ভাষা ছিলো দুর্বোধ্য। অতঃপর সে গিরগিটি সদৃশ একটি সন্তান জন্ম দেয়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি? সে বললো, এটা ইউহান্নার। আমি ‘উসমান (রাযি.)-এর নিকট বিষয়টি জানালে ‘উসমান (রাযি.) তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তারা উভয়ে তা স্বীকার করলো। পরে তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা এ বিষয়ে কি সম্মত আছো যে, আমি তোমাদের মাঝে এমন ফায়সালা করি যেরূপ ফায়সালা দিয়েছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায়সালা দিয়েছেনঃ বিছানা যার সন্তান তার। অতঃপর তিনি মহিলা ও পুরুষ উভয়কে বেত্রাঘাত করেন। তারা উভয়েই দাস ও দাসী ছিলো।[1] দুর্বল।
। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। একদা এক মহিলা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এই সন্তানটি আমার গর্ভজাত, সে আমার স্তনের দুধ পান করেছে এবং আমার কোল তার আশ্রয়স্থল। তার পিতা আমাকে তালাক দিয়েছে। এখন সে সন্তানটিকে আমার থেকে কেড়ে নিতে চাইছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি অন্যত্র বিয়ে না করা পর্যন্ত তুমিই তার অধিক হকদার।[1] হাসান।
। হিলাল ইবনু উসামাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। আবূ মায়মূনাহ সালামাহ নামক মদীনাবাসীদের এক সত্যবাদী মুক্তদাস বলেন, একদা আমি আবূ হুরাইরাহ (রাযি.)-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় ফার্সীভাষী জনৈক মহিলা তার একটি সন্তানসহ তার তালাকদাতা স্বামী ও সন্তানের দাবী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলো। মহিলাটি ফার্সী বললো, হে আবূ হুরাইরাহ! আমার স্বামী আমার সন্তানটি নিয়ে যেতে চাইছে। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বললেন, তোমরা এ সন্তানের বিষয়ে লটারীর মাধ্যমে মীমাংসা করো। তিনি বিদেশী ভাষায় মহিলাকে কথাটি বললেন। অতঃপর তার স্বামী এসে বললো, আমার সন্তান আমার থেকে কে কেড়ে নিবে? আবূ হুরাইরাহ বললেন, হে আল্লাহ! আমি ঐ কথাই বলবো যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি এক মহিলাকে বলেছিলেন, তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্বামী আমার থেকে আমার সন্তানটি নিতে চাইছে। অথচ এ সন্তান আবূ ইনাবার কূপ থেকে পানি এনে আমাকে পান করায় এবং আমার অনেক খিদমাত করে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা উভয়ে লটারীর মাধ্যমে ফায়সালা করো। কিন্তু স্বামী বললো, আমার সন্তান আমার থেকে কে কেড়ে নিবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তানটিকে লক্ষ্য করে বললেনঃ ইনি তোমার বাবা এবং ইনি তোমার মা। সুতরাং তুমি এদের যাকে খুশি গ্রহণ করো। তখন সে তার মায়ের হাত ধরে, ফলে মহিলাটি তাকে নিয়ে চলে গেলো।[1] সহীহ।
। আলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়িদ ইবনু হারিসাহ (রাযি.) মক্কার দিকে রওয়ানা হলেন। (অতঃপর মক্কা থেকে) ফেরার সময় তিনি হামযাহর (রাযি.) কন্যাটিকে সাথে করে আনলেন। জা‘ফার ইবনু আবূ তালিব (রাযি.) বললেন, তাকে আমি নিবো, আমিই তার অধিক হকদার, কারণ সে আমার চাচার মেয়ে এবং তার খালা আমার স্ত্রী। আর খালা হচ্ছে মায়ের সমতুল্য। আলী (রাযি.) বললেন, আমিই তার অধিক হকদার, সে আমার চাচার কন্যা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা আমার স্ত্রী। সুতরাং আমার স্ত্রীই এর অধিক হকদার। যায়িদ ইবনু হারিসাহ (রাযি.) বললেন, আমিই এর বেশি হকদার। কারণ আমিই তাকে আনতে গিয়েছি, সফরের কষ্ট স্বীকার করেছি এবং আমিই তাকে নিয়ে এসেছি। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আসলেন। তাঁকে একজন ঘটনাটি বললেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ কন্যাটির ব্যাপারে আমার ফায়সালা হচ্ছে, সে জা‘ফারের কাছে থাকবে। সে খালার সাথে অবস্থান করবে, কেননা খালা তো মায়ের সমতুল্য।[1] সহীহ।
। আলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মক্কা থেকে রওয়ানা হলে হামযাহ (রাযি.)-এর কন্যা আমাদের পিছে পিছে ছুটে এলো এবং হে চাচা! হে চাচা! বলে ডাক দিলো। আলী (রাযি.) তার হাত ধরে তাকে তুলে নিলেন এবং ফাতিমাহ (রাযি.)-কে এসে বললেন, এই নাও তোমার চাচার মেয়ে। অতএব ফাতিমাহ (রাযি.) তাকে গ্রহণ করলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, জা‘ফার (রাযি.) বলেন, সে আমার চাচার মেয়ে তার খালা আমার স্ত্রী। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়ে খালাকে দিলেন এবং বললেনঃ খালা মায়ের সমতুল্য।[1] সহীহ।
। আসমা বিনতু ইয়াযীদ ইবনুস সাকান আল-আনসারিয়্যাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তিনি তালাকপ্রাপ্ত হন। তখন তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দাত পালনের কথা ছিলো না। যখন আসমাকে তালাক দেয়া হলো তখন মহান আল্লাহ তা‘আলা তালাক বিষয়ে ইদ্দাতের আয়াত অবতীর্ণ করলেন। তিনি হলেন সর্বপ্রথম নারী যাকে কেন্দ্র করে তালাকপ্রাপ্তা মহিলার ইদ্দাতের বিধান অবতীর্ণ হয়।[1] হাসান।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আল্লাহর বাণীঃ) ‘‘তালাকপ্রাপ্তা তিন হায়িয পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবে’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ২২৮); এবং ‘‘তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের আর ঋতুবতী হওয়ার আশা নেই তাদের ইদ্দাত সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করলে তাদের ইদ্দাতকাল হবে তিন মাস’’ (সূরা আত-তালাকঃ ৪)। এর দ্বিতীয় বিধানটি রহিত হয়ে গেছে। অতঃপর আল্লাহ বলেছেনঃ ‘‘যদি তোমরা তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দাও তাহলে তোমাদের জন্য তাদের পালনীয় কোনো ইদ্দাত নেই যা তোমরা গণনা করবে’’ (সূরা আল-আহযাবঃ ৪৯)।[1] হাসান।
। ফাতিমাহ বিনতু কায়িস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। আবূ আমর ইবনু হাফস (রাযি.) অনুপস্থিত থাকা অবস্থায়ই তাকে চূড়ান্ত তালাক দেন। তিনি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে তার নিকট সামান্য কিছু যব (খোরাকী) পাঠালেন। এতে ফাতিমাহ (রাযি.) রাগান্বিত হলেন। প্রতিনিধি লোকটি বললো, আল্লাহর শপথ! আপনার জন্য আমাদের উপর নেই। অতঃপর ফাতিমাহ (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেনঃ তার থেকে তুমি খোরাকী পাওয়ার অধিকারী নও। তিনি তাকে উম্মু শারীকের ঘরে ইদ্দাত পালনের নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ তার ঘরে তো আমার সাহাবীদের আসা-যাওয়ার একটা ভীড় থাকে। তুমি বরং ইবনু উম্মে মাকতূমের ঘরে অবস্থান করো। কারণ সে অন্ধ মানুষ। তোমার পোশাক বদলাতে অসুবিধা হবে না। তোমার ইদ্দাতকাল শেষ হলে আমাকে জানাবে। ফাতিমাহ (রাযি.) বলেন, আমার ইদ্দাতকাল শেষ হলে আমি তাঁকে জানালাম, মুআবিয়াহ ইবনু আবূ সুফিয়ান ও আবূ জাহম উভয়ে আমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই যে আবূ জাহম, তার কাঁধ থেকে লাঠি কখনো নীচে নামে না। আর মুআবিয়াহ! তার তো কোনো সম্পদ নেই। তুমি বরং উসামাহ বিনতু যায়িদকে বিয়ে করো। ফাতিমাহ বলেন, প্রথমে আমি তাঁর এ প্রস্তাবকে অপছন্দ করি। কিন্তু তিনি পনুরায় বললেনঃ তুমি উসামাহ বিনতু যায়িদকে বিয়ে করো। সুতরাং আমি তাকে বিয়ে করলাম। মহান আল্লাহ আমাদের এ দাম্পত্য জীবনের মধ্যে যে বরকত দান করেছেন, তাতে আমি অন্যের ইর্ষার পাত্র হয়েছি।[1] সহীহ।