। উসাইদের কন্যা উম্মু হাকীম (রহ.) তার মায়ের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তার স্বামী মারা যান। তখন তার চোখে অসুখ থাকায় তিনি ইসমিদ সুরমা ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে তিনি তার এক দাসীকে উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর নিকট প্রেরণ করে তাকে ইসমিদ সুরমা ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘তুমি কোনো সুরমাই লাগাবে না। একান্তই প্রয়োজন হলে রাতের বেলা সুরমা লাগাবে এবং দিনের বেলায় তা মুছে ফেলো। উম্মু সালামাহ (রাযি.) বলেন, (আমার প্রাক্তন স্বামী) আবূ সালামাহ মারা গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন। এ সময় আমি চোখে ‘সিবর’ (গাছের রস) লাগিয়েছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ হে উম্মু সালামাহ! এটা কি? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এটা ‘সিবর।’ এতে কোনো খোশবু নেই। তিনি বললেনঃ এটা চেহারাকে রঞ্জিত করে। কাজেই তুমি তা কেবলমাত্র রাতের বেলা ব্যবহার করবে এবং দিনের বেলা তা মুছে ফেলবে। আর মাথার চুলে কোনো সুগন্ধি মেখে আঁচড়াবে না এবং মেহেদি লাগাবে না, কারণ এটাও এক প্রকার খিযাব। তিনি (উম্মু সালামাহ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তবে আমি মাথায় কি ব্যবহার করে চুল আঁচড়াবো হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তোমার মাথায় কুল পাতা লেপে নিবে।[1] দুর্বলঃ যঈফ সুনান নাসায়ী (২৩০/৩৫৩৭)।
হাদিস 2306 — Sunan Abu Dawud 13:132
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (3991) Sahih Muslim (1484)
। ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তার পিতা উমার ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আরকাম আয-যুহরীকে এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করেন যে, তিনি যেন আল-হারিস আল-আসলামীর মেয়ে সুবাইয়ার নিকট গিয়ে তাকে তার হাদীসের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন, এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফতোয়া জানতে চাইলে তিনি তাকে কি উত্তর দিয়েছিলেন তাও যেন জিজ্ঞেস করেন। উমার ইবনু আব্দুল্লাহ (রহ.) আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহকে জানালেন, সুবাইয়া (রাযি.) তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি সা‘দ ইবনু খাওলাহ্ (রাযি.)-এর বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। আর তিনি ছিলেন ‘আমির ইবনু লুয়াঈ গোত্রের লোক এবং অন্যতম বদরী সাহাবী। তিনি গর্ভবতী অবস্থায় তার স্বামী বিদায় হজের (হজ্জের) সময় মারা যান। তার মৃত্যুর কিছু দিন পরে তার সন্তান প্রসব হয়। তিনি নিফাসমুক্ত হওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাবের আশায় সাজসজ্জা করেন। তখন ‘আবদুদ-দার গোত্রীয় আবুস সানাবিল ইবনু বা‘কাক তার নিকট এসে বললো, আমি যে তোমাকে সুসজ্জি দেখছি, তুমি কি বিয়ের ইচ্ছা করো? আল্লাহর শপথ! চার মাস দশ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তুমি কোথাও বিয়ে করতে পারবে না। সুবাইয়া (রাযি.) বলেন, তিনি আমাকে একথা বললে আমি আমার পোশাক গুটিয়ে সন্ধ্যার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গমন করে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করি। তিনি আমাকে বললেন, ‘আমি তখনই হালাল হয়েছি যখন আমি সন্তান জন্ম দিয়েছি। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি ইচ্ছা করলে বিয়ে বসতে পারি। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, সন্তান প্রসবের পর তার বিয়ে বসাতে আমি কোনো দোষ দেখি না, যদিও তার নিফাসের রক্ত চালু রয়েছে। তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তার স্বামী তার সাথে সহবাস করবে না।[1] সহীহ।
। আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি লি‘আন করতে চায় আমি তার সাথে তা করতে প্রস্তুত আছি। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে, সূরা আন-নিসা যা তালাকের সূরা হিসেবেও পরিচিত, ‘‘চার মাস দশ দিন’’ সম্পর্কিত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরেই অবতীর্ণ হয়।[1] সহীহ।
। আমর ইবনুল ‘আস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতকে আমাদের জন্য সংশয়পূর্ণ করো না। ইবনুল মুসান্না (রহ.) বলেন, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত অনুযায়ী উম্মু ওয়ালাদের ইদ্দাতকালও চার মাস দশ দিন।[1] সহীহ।
হাদিস 2309 — Sunan Abu Dawud 13:135
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ - يَعْنِي ثَلاَثًا - فَتَزَوَّجَتْ زَوْجًا غَيْرَهُ فَدَخَلَ بِهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يُوَاقِعَهَا أَتَحِلُّ لِزَوْجِهَا الأَوَّلِ قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَحِلُّ لِلأَوَّلِ حَتَّى تَذُوقَ عُسَيْلَةَ الآخَرِ وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَهَا " .
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেয়, ফলে ঐ মহিলা অন্য এক পুরুষকে বিয়ে করলে সে তার নির্জনবাস করার পর সঙ্গম না করেই তাকে তালাক প্রদান করেছে। এখন ঐ মহিলা কি তার প্রথম স্বামীর জন্য বৈধ? তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘সে প্রথম স্বামীর জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত হালাল নয় যতক্ষণ পরস্পর পরস্পরের মধুর স্বাদ গ্রহণ (সহবাস) না করবে।[1] সহীহ।
হাদিস 2310 — Sunan Abu Dawud 13:136
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (6001) Sahih Muslim (141)
। আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সবচেয়ে বড় পাপ কি? তিনি বলেনঃ আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ তোমার সন্তান তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে এ ভয়ে তাকে হত্যা করা। তিনি বলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার যিনা করা। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার সমর্থনে অবতীর্ণ করা হয়ঃ ‘‘যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে আহবান করে না এবং আল্লাহর হারাম করা কোনো প্রাণকে অকারণে হত্যা করে না এবং যিনা করে না। তবে যারা এরূপ করে, তারা তাদের পাপের ফল ভোগ করবে।’’[1] সহীহ।
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযি.) বলেন, ‘মুসাইকাহ’ নামক এক আনসারী সাহাবীর দাসী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমার মনিব আমাকে ব্যভিচারে বাধ্য করে। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘তোমরা তোমাদের দাসীদেরকে ব্যভিচার করতে বাধ্য করো না’’ (সূরা আন-নূরঃ ৩৩)।[1] সহীহ।
। মু'তামির (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। ‘‘আর তাদের মধ্যে যে অপছন্দনীয় কাজ করে, নিশ্চয় আল্লাহ মহা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু’’ (সূরা আন-নূরঃ ৩৩)। সাঈদ ইবনু আবুল হাসান (রহ.) বলেন, যারা বাধ্য হয়ে এ অপকর্ম করে, আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল।[1] সহীহ মাকতূ’।