। কাতাদাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি হাসান বাসরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, ‘‘তোমার ব্যাপার তোমার হাতে’’ বললে তিন তালাক বর্তাবে।[1] সহীহ মাকতূ।’
হাদিস 2206 — Sunan Abu Dawud 13:32
দাঈফদাঈফদাঈফIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ الْكَلْبِيُّ أَبُو ثَوْرٍ، - فِي آخَرِينَ - قَالُوا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنِي عَمِّي، مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ نَافِعِ بْنِ عُجَيْرِ بْنِ عَبْدِ يَزِيدَ بْنِ رُكَانَةَ، أَنَّ رُكَانَةَ بْنَ عَبْدِ يَزِيدَ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ سُهَيْمَةَ الْبَتَّةَ فَأَخْبَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ وَقَالَ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ إِلاَّ وَاحِدَةً . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَاللَّهِ مَا أَرَدْتَ إِلاَّ وَاحِدَةً " . فَقَالَ رُكَانَةُ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ إِلاَّ وَاحِدَةً . فَرَدَّهَا إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَطَلَّقَهَا الثَّانِيَةَ فِي زَمَانِ عُمَرَ وَالثَّالِثَةَ فِي زَمَانِ عُثْمَانَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَوَّلُهُ لَفْظُ إِبْرَاهِيمَ وَآخِرُهُ لَفْظُ ابْنِ السَّرْحِ .
। নাফি‘ ইবনু উজাইর ইবনু ‘আবদে ইয়াযীদ ইবনু রুকানা (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। রুকানা ইবনু ‘আবদে ইয়াযীদ তার স্ত্রী সুহাইমাকে ‘আলবাত্তাতা’ শব্দের দ্বারা তালাক দিলেন। অতঃপর তিনি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন এবং বললেন, আমি এর দ্বারা এক তালাকের ইচ্ছা করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহর শপথ! তুমি কি এক তালাকের ইচ্ছা করেছিলে? রুকানা বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি কেবল এক তালাকেরই নিয়্যাত করেছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীকে তার কাছে ফেরত দিলেন। পরে তিনি তাকে ‘উমার (রাযি.)-এর যুগে দ্বিতীয় এবং উসমান (রাযি.)-এর যুগে তৃতীয় তালাক দিয়েছেন।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (৩২৮৩), যইফ সুনান ইবনু মাজাহ (৪৪৪/২০৫১), ইরওয়া (২০৬৩), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (২০৪/১১৯৩)।
। আব্দুল্লাহ ইবনু আলী ইবনু ইয়াযীদ ইবনু রুকানা (রহ.) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তার দাদা নিজ স্ত্রীকে ‘আলবাত্তা’ শব্দের দ্বারা তালাক দিয়েছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি ইচ্ছা করেছিলে? তিনি বললেন, এক তালাকের। তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ? তিনিও বললেন, আল্লাহর শপথ! অতঃপর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘তুমি যা নিয়্যাত করেছো তাই।[1] দুর্বলঃ ইরওয়া (২০৬৩)।
হাদিস 2209 — Sunan Abu Dawud 13:35
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (2528) Sahih Muslim (127)
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মাতের মনে যা উদয় হয় তা যতক্ষণ না সে মুখে বলে অথবা কার্যে পরিণত করে ততক্ষণ তা উপেক্ষা করেন।[1] সহীহ।
। আবূ তামীমাহ আল-হুজাইমী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বললো, হে আমার বোন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে কি তোমার বোন? তিনি তার এরূপ সম্বোধনরকে অপছন্দ করলেন এবং এরূপ করতে নিষেধ করলেন।[1] দুর্বল।
হাদিস 2211 — Sunan Abu Dawud 13:37
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ، - يَعْنِي ابْنَ حَرْبٍ - عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ قَوْمِهِ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ رَجُلاً، يَقُولُ لاِمْرَأَتِهِ " يَا أُخَيَّةُ " . فَنَهَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ عَنْ خَالِدٍ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ خَالِدٍ عَنْ رَجُلٍ عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। আবূ তামীমাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্বগোত্রীয় এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে শুনেছেন, তিনি এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীকে ‘হে আমার আদুরে বোন’ বলতে শুনে তাকে এরূপ সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন।[1] দুর্বল।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, ইবরাহীম (আঃ) কখনো মিথ্যা বলেননি, তিনবার মিথ্যা বলেছিলেন (যা মূলত মিথ্যা নয়)। তন্মধ্যে দু‘টি আল্লাহর সত্ত্বা সম্পর্কে। যেমন তাঁর কথাঃ ‘‘নিশ্চয় আমি অসুস্থ’’ (সূরা আস-সাফফাতঃ ৮৯) এবং তাঁর কথা, ‘‘বরং এদের এই বড় (মূর্তিটাই), এ কাজ করেছে’’ (সূরা আল-আম্বিয়াঃ ৬৩)। (আর তৃতীয়টি হচ্ছে ব্যক্তিগত) তা হলোঃ ইবরাহীম (আঃ) স্ত্রী সারাহকে নিয়ে এক অত্যাচারী শাসকের এলাকা সফর করছিলেন। তিনি এক স্থানে যাত্রাবিরতি করলে এক দূত ঐ অত্যাচারী শাসকের কাছে এসে বললো, এ স্থানে এক ব্যক্তি সাথে এক সুন্দরী নিয়ে আগমন করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন ঐ (শাসক) ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে জানতে চেয়ে লোক পাঠালো যে, তার সাথের মহিলাটি কে? তিনি বললেন, আমার বোন। যখন তিনি তার স্ত্রীর কাছে ফিরে গেলেন তখন তাঁকে বললেন, ঐ ব্যক্তি আমার কাছে তোমার পরিচয় জানতে চাইলে আমি তাকে বলেছি, তুমি আমার বোন। বিষয় তাই, কেননা এ স্থানে আমি আর তুমি ছাড়া কোনো মুসলিম নেই। আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী (মুসলিমগণ পরস্পর ভাইবোন বিধায়) তুমি আমার দীনি বোন। সুতরাং তার কাছে আমার কথাকে মিথ্যা বলো না। এরপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।
। সালামাহ ইবনু সাখর আল-বায়দী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নারীদের প্রতি এতো অধিক আসক্ত প্রবণ ব্যক্তি যে অন্য কেউ এরূপ আসক্ত নয়। যখন রমাযান মাস সমাগত হলো তখন আমার ভয় হলো যে, হয় তো আমি ভোর বেলায়ও স্ত্রীসঙ্গমে লিপ্ত থাকবো। তাই রমাযান মাস অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত আমি তার সাথে ‘যিহার’ করি। এক রাতে সে আমার খেদমত করছিলো। এমন সময় তার শরীরের এমন কিছু আমার সামনে খুলে গেলো যে, আমি স্থির থাকতে পারলাম না। আমি সহবাসে লিপ্ত হয়ে পড়লাম। ভোর হলে আমি আমার বংশের লোকদের কাছে গিয়ে তাদেরকে আমার ঘটনা জানিয়ে বললাম, তোমরা আমার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চলো। তারা বললো, না আল্লাহর শপথ! আমরা যাবো না। কাজেই আমি একাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে ঘটনাটি জানালাম। তিনি বললেনঃ এরূপ কান্ড কি তুমি করেছো হে সালামাহ? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমিই করেছি, হে আল্লাহর রাসূল! এভাবে দুইবার বলি। আর আপনি মহান আল্লাহর বিধান আমার উপর কার্যকর করুন আমি ধৈর্যশীল হবো। তিনি বললেনঃ তুমি একটি দাস মুক্ত করো। আমি বলি, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ! আমার কোনো দাস নেই, আমার নিজকে ছাড়া। এ কথা বলে আমি আমার গর্দানের উপর হাত রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে একাধারে দু‘মাস সওম পালন করো। সে বললো, সওম পালনের কারণেই তো এ সমস্যায় পড়েছি। তিনি বললেনঃ ‘এক ওয়াসক’ খেজুর ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াও। সে বললো, সেই সত্ত্বার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছে! গত রাত আমি এবং আমার পরিবার উপোস কাটিয়েছি। কারণ আমাদের কাছে খাবার নেই। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি বনু যুরাইকের যাকাত আদায়কারীর নিকট গিয়ে বলো, সে যেন তোমাকে তাদের সাদাকাহ দেয়। তা থেকে ‘এক ওয়াসক’ খেজুর ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াবে। আর যা বাকী থাকবে তা তুমি ও তোমার পরিবার খাবে। অতঃপর আমি আমার কওমের লোকদের নিকট ফিরে এসে বলি, আমি তোমাদের কাছে পেয়েছি সংকীর্ণতা ও মন্দ ব্যবহার, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পেয়েছি উদারতা ও উত্তম ব্যবহার। তিনি আমাকে তোমাদের সাদাকাহ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। ইবনুল ‘আলা অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, ‘বায়দাহ’ বনু যুরাইকের একটি শাখা।[1] হাসান।
। খুওয়ইলাহ বিনতু মালিক ইবনু ইবনু সা‘লাবাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সাথে আমার স্বামী আওস ইবনুস সামিত (রাযি.) যিহার করলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে অভিযোগ করলাম। তিনি আমার স্বামীর পক্ষ থেকে আমার সাথে বিতর্ক করলেন এবং বললেনঃ আল্লাহকে ভয় করো, সে তো তোমার চাচার ছেলে। মহিলাটি বলেন, আমি সেখান থেকে চলে না আসতেই কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ ঐ মহিলার কথা শুনতে পেয়েছেন, যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বিতর্ক করছে’’ (সূরা আল-মুজাদালাঃ ১) এখান থেকে কাফফারাহ পর্যন্ত অবতীর্ণ হলো। অতঃপর তিনি বললেনঃ সে একটি দাস মুক্ত করবে। মহিলাটি বলেন, তার সে সামর্থ নেই। তিনি বললেনঃ সে একাধারে দু‘মাস সওম পালন করবে। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সে খুবই বৃদ্ধ, সওম পালন করতে অক্ষম। তিনি বললেনঃ তবে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাবে। মহিলাটি বললেন, সাদাকাহ করার মতো পয়সা তার নেই। মহিলাটি বলেন, এ সময় সেখানে এক ঝুড়ি খুরমা আসলো। তখন আমি (মহিলা) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ পরিমাণ আর এক ঝুড়ি খুরমা আমি তাকে সহযোগিতা করবো। তিনি বললেনঃ তুমি ভালই বলেছো। তুমি এর দ্বারা তার পক্ষ থেকে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াও এবং তোমার চাচাতো ভাইয়ের কাছে ফিরে যাও। ইয়াহইয়া ইবনু আদম বলেন, ষাট সা‘তে এক ‘আরাক হয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, মহিলাটি তার স্বামীর নির্দেশ ছাড়াই তার পক্ষ থেকে কাফফারাহ আদায় করেছে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, আওস (রাযি.) ছিলেন ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযি.)-এর ভাই।[1] হাসান, তার এ কথাটি বাদেঃ ‘‘ষাট সা‘তে এক ‘আরাক।’’ ইরওয়া (২০৮)।