। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের তিন দিনের অধিক সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা উচিৎ নয়। অতঃপর সে তার দেখা পেয়ে তাকে তিনবার সালাম দিলে সে যদি একবারও উত্তর না দেয় তবে সে তার গুনাহসহ প্রত্যাবর্ত করলো।[1] হাসান।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মুসলিমের জন্য তার অপর ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তিন দিনের বেশি থাকা হালাল নয়। অতঃপর সে ব্যক্তি তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখা অবস্থায় মারা গেলো, সে জাহান্নামে প্রবেশ করলো।[1] সহীহ।
। আবূ খিরাশ আস-সুলামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে তার ভাইয়ের সঙ্গে এক বছর সম্পর্ক ছিন্ন রাখলো সে যেন তাকে হত্যা করলো।[1] [সহীহ]
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়। অতঃপর ঐদিন আল্লাহর সাথে শিরককারী ও দু’ ভাইয়ে শত্রুতা পোষণকারীরা ছাড়া সকলকেই ক্ষমা করা হয়। বলা হয়, তোমরা এ দু’ জনকে শত্রুতা ত্যাগ করার সুযোগ দাও। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চল্লিশ দিন যাবত তাঁর কোনো এক স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। ইবনু উমার (রাঃ) আমৃত্যু তার এক পুত্রের সঙ্গে সম্পর্কছিন্ন অবস্থায় ছিলেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সম্পর্কচ্ছেদ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকলে তাতে গুনাহ নেই। উমার ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) এক ব্যক্তি থেকে তার চেহারা আঁড়াল করে রেখেছেন।[1] সহীহ।
হাদিস 4917 — Sunan Abu Dawud 43:145
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (6066) Sahih Muslim (2563)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ وَلاَ تَحَسَّسُوا وَلاَ تَجَسَّسُوا " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! তোমরা সন্দেহ করা থেকে মুক্ত থাকো। কারণ সন্দেহ করা হচ্ছে সবচেয়ে বড় মিথ্যাচার। পরস্পরের বিরুদ্ধে তথ্যা তালাশ করো না এবং গোয়েন্দাগিরী করো না।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মু‘মিন অপর মু‘মিনের জন্য আয়নাস্বরূপ এবং এক মু‘মিন অপর মু‘মিনের ভাই। তারা একে অপরকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং তার অনুপস্থিতিতে তাকে রক্ষা করে।[1] হাসান।
। আবূ দারদা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে সিয়াম, সালাত ও সাদাকাহর চেয়েও ফাযীলাতপূর্ণ কাজের কথা বলবো না? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ পরস্পরের মধ্যে মীমাংসা করা। আর পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া বাধানো ধ্বংসের কারণ।[1] সহীহ।
হাদিস 4920 — Sunan Abu Dawud 43:148
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (2692) Sahih Muslim (2605)
। হুমাইদ ইবনু আব্দুর রাহমান (রহঃ) থেকে তার মায়ের সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে মিথ্যাবাদী নয় যে দু’ জনের মধ্যে মীমাংসার জন্য কিছু কথা বাড়িয়ে বলে। আহমাদ ও মুসাদ্দাদ (রহঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছেঃ যে ব্যক্তি লোকদের মধ্যে মীমাংসার জন্য কিছু উত্তম কথা বলে এবং কিছু বাড়িয়ে বলে, সে মিথ্যুক নয়।[1] সহীহ।
। উম্মু কুলসুম বিনতু ‘উকবাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, শুধু তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোথাও মিথ্যা বলার অনুমতি দিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি শুনিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ যে ব্যক্তি সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যেসব কথা বলে থাকে সে কারণে তাকে আমি মিথ্যাবাদী মনে করি না। অনুরূপভাবে যুদ্ধের সময় কৌশল হিসেবে যেসব কথা বলা হয় এবং স্বামী স্ত্রীকে যা বলে এবং স্ত্রী স্বামীকে যা বলে।[1] সহীহ।
। মু‘আব্বিয ইবনু আফরা (রাঃ)-এর কন্যা রুবাঈ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বাসর রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আমার বিছানায় এমনভাবে বসলেন, যেমনটি তুমি (খালিদ) বসে আছো। অতঃপর কয়েকটি বালিকা তাদের দফ বাজিয়ে বদর যুদ্ধে শহীদ আমার পিতা ও চাচার সুনাম করছিল। এক পর্যায়ে একটি বালিকা বললো, ‘‘আমাদের মাঝে এমন একজন নবী রয়েছেন, যিনি জানেন আগামীকাল কি হবে।’’ একথা শুনে তিনি বললেনঃ এটা বর্জন করো, বরং আগে যা বলেছিলে তাই বলো।[1] সহীহ।