। আবূ বুরদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে অনুরূপ ঘটনা বর্ণিত। বর্ণনাকারী বলেন, উমার (রাঃ) আবূ মূসা (রাঃ)-কে বললেন, নিশ্চয়ই আমি আপনাকে অপবাদ দিচ্ছি না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্র হাদীস বর্ণনা করার বিষয়টি খুবই গুরুতর।[1] সহীহ।
। রাবী‘আহ ইবনু আবূ আব্দুর রাহমান (রহঃ) এবং তাদের একাধিক আলিমের সূত্রে এ ঘটনাটি বর্ণিত। উমার (রাঃ) আবূ মূসা (রাঃ)-কে বলেন, জেনে রাখুন! আমি আপনাকে অপবাদ দিচ্ছি না। কিন্তু আমি ভয় করছি যে, মানুষ হয় তো দায়িত্বহীনভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস বর্ণনা করবে।[1]’ সনদ সহীহ।
হাদিস 5185 — Sunan Abu Dawud 43:413
দাঈফ Isnaadদাঈফ Isnaadদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا هِشَامٌ أَبُو مَرْوَانَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، - الْمَعْنَى - قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَبِي كَثِيرٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَسْعَدَ بْنِ زُرَارَةَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ زَارَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَنْزِلِنَا فَقَالَ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ " . فَرَدَّ سَعْدٌ رَدًّا خَفِيًّا . قَالَ قَيْسٌ فَقُلْتُ أَلاَ تَأْذَنُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ ذَرْهُ يُكْثِرْ عَلَيْنَا مِنَ السَّلاَمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ " . فَرَدَّ سَعْدٌ رَدًّا خَفِيًّا ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ " . ثُمَّ رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاتَّبَعَهُ سَعْدٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ أَسْمَعُ تَسْلِيمَكَ وَأَرُدُّ عَلَيْكَ رَدًّا خَفِيًّا لِتُكْثِرَ عَلَيْنَا مِنَ السَّلاَمِ . قَالَ فَانْصَرَفَ مَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ لَهُ سَعْدٌ بِغِسْلٍ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ نَاوَلَهُ مِلْحَفَةً مَصْبُوغَةً بِزَعْفَرَانٍ أَوْ وَرْسٍ فَاشْتَمَلَ بِهَا ثُمَّ رَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ وَهُوَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ اجْعَلْ صَلَوَاتِكَ وَرَحْمَتَكَ عَلَى آلِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ " . قَالَ ثُمَّ أَصَابَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الطَّعَامِ فَلَمَّا أَرَادَ الاِنْصِرَافَ قَرَّبَ لَهُ سَعْدٌ حِمَارًا قَدْ وَطَّأَ عَلَيْهِ بِقَطِيفَةٍ فَرَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَعْدٌ يَا قَيْسُ اصْحَبْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ قَيْسٌ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ارْكَبْ " . فَأَبَيْتُ ثُمَّ قَالَ " إِمَّا أَنْ تَرْكَبَ وَإِمَّا أَنْ تَنْصَرِفَ " . قَالَ فَانْصَرَفْتُ . قَالَ هِشَامٌ أَبُو مَرْوَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَسْعَدَ بْنِ زُرَارَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ وَابْنُ سَمَاعَةَ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ مُرْسَلاً وَلَمْ يَذْكُرَا قَيْسَ بْنَ سَعْدٍ .
। কাইস ইবনু সা‘দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আমাদের বাড়িতে আসলেন। তিনি বললেনঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ। বর্ণনাকারী বলেন, সা‘দ (রাঃ) আস্তে সালামের উত্তর দিলেন। কাইস (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রবেশের অনুমতি দিবেন না? তিনি বললেন, থামো, তাঁকে বেশী বেশী আমাদেরকে সালাম দিতে দাও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সা‘দ (রাঃ) এবারও আস্তে সালামের জবাব দিলেন। পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ বললেন। অতঃপর তিনি ফিরে যেতে থাকলেন। সা‘দ (রাঃ) তাঁর পিছনে পিছনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আমি আপনার সালাম শুনতে পাচ্ছিলাম এবং চুপে চুপে আপনার সালামের জবাব দিচ্ছিলাম। যাতে আপনি বেশী বেশী আমাদেরকে সালাম দেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সঙ্গে ফিরে আসলেন এবং সা‘দ (রাঃ) তাঁর গোসলের জন্য পানি এনে দিতে নির্দেশ দিলেন, অতঃপর তিনি গোসল করলেন। এরপর তাঁকে জাফরান বা ওয়ারস দ্বারা রঞ্চিত একটি চাদর দিলেন। তিনি তা পরিধান করলেন। অতঃপর দু’হাত তুলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি সা‘দ ইবনু উবাদাহর পরিবার-পরিজনের উপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খাবার দেয়া হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন রওয়ানা করার জন্য প্রস্তুত হলেন, তখন সা‘দ (রাঃ) পিঠে মখমলের চাদর বা গদি বিছানো একটি সুসজ্জিত গাধা এনে তাঁর নিকটবর্তী করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে আরোহণ করলেন। সা‘দ (রাঃ) বললেন, হে কাইস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যাও। কাইস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আরোহণ করো। কিন্তু আমি সম্মত হলাম না। অতঃপর তিনি বললেনঃ আরোহণ করো, নতুনা ফিরে যাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ফিরে এলাম। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, উমার ইবনু আব্দুল ওয়াহিদ ও ইবনু সাম‘আহ (রহঃ) আল-আওয়াঈর (রহঃ) হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন এবং তারা উভয়ে কাইস ইবনু সা‘দ (রাঃ)-এর উল্লেখ করেননি।[1] দুর্বল।
। আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কওমের দরবারে এলে সরাসরি দরজায় মুখ করে দাঁড়াতেন না, বরং দরজার ডান অথবা বাম পাশে সরে দাঁড়িয়ে বলতেনঃ ‘‘আসসালামু আলাইকুম, আসসালামু আলাইকুম।’ কারণ, সে যুগে দরজায় পর্দা টানানো থাকতো না।[1] সহীহ।
হাদিস 5187 — Sunan Abu Dawud 43:415
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (6250) Sahih Muslim (2155)
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি তার পিতার রেখে যাওয়া ঋণ সম্পর্কে আলোচনার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যান। আমি (জাবির) দরজা খটখট করলে তিনি বললেনঃ কে? আমি বললাম, আমি। তিনি বললেনঃ আমি! আমি! মনে হলো, তিনি এরূপ বলা অপছন্দ করেছেন।[1] সহীহ।
। নাফি‘ ইবনু আব্দুর হারিস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হয়ে এক বাগানে প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ দরজা বন্ধ করে রাখো। পরে দরজায় আঘাত করা হলে আমি বললাম, কে? অতঃপর বাকি অংশ আবূ মূসা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ)-এর হাদীস। তাতে রয়েছেঃ সে দরজা খটখট করলো।[1] সনদ হাসান।
হাদিস 5189 — Sunan Abu Dawud 43:417
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حَبِيبٍ، وَهِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رَسُولُ الرَّجُلِ إِلَى الرَّجُلِ إِذْنُهُ " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তিকে ডেকে আনার জন্য কোনো লোক পাঠালে তা তার অনুমতি হিসেবে ধর্তব্য।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোনো ব্যক্তি পানাহারের জন্য আমন্ত্রিত হয় এবং সে আমন্ত্রণকারীর প্রতিনিধির সঙ্গে আসে, তবে তার জন্য এটাই অনুমতি।[1] সহীহ।
। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদ সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, অধিকাংশ লোকই অনুমতি গ্রহণ সম্পর্কিত আয়াতের উপর আমল করে না। আমি তো আমার এই দাসীকে আমার নিকট আসতে অনুমতি নেয়ার আদেশ দিয়েছি। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আতা ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে এমনটিই বর্ণনা করেছেন, তিনি অনুমতি নেয়ার আদেশ দিতেন।[1] সনদ সহীহ মাওকুফ।
। ইকরিমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইরাকের অধিবাসী একদল লোক ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করলো, হে ইবনু আব্বাস! এ আয়াত সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তাতে আমাদেরকে যা নির্দেশ দেয়া হয়েছে, কিন্তু কেউই সে মোতাবেক আমল করে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়োপ্রাপ্ত হয়নি তারা যেন তোমাদের ঘরে প্রবেশ করতে তিন সময়ে অনুমতি নেয়, ফাজর সালাতের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখো এবং ইশার সালাতের পর- এ তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তা অবলম্বনের সময়। এ তিন সময় ছাড়া অন্য সময় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে তোমাদের জন্য এবং তাদের জন্য কোনো দোষ নেই। তোমাদের একজনকে অপরজনের নিকট যাতায়াত করতে হয়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের নিকট তাঁর নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। তোমাদের সন্তান-সন্ততি বয়োপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন তোমাদের বয়োজ্যেষ্ঠাদের মতো অনুমতি গ্রহণ করে। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’’ (সূরা নূরঃ ৫৮-৫৯)। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ মু‘মিনদের প্রতি সহনশীল, পরম দয়ালু। তিনি গোপনীয়তা ভালোবাসেন। লোকজনের ঘরে কোনোরূপ পর্দার ব্যবস্থা ছিলো না। ফলে কখনো ঘরে স্বামী-স্ত্রী অবস্থানকালে তার খাদেম বা বালক-বালিকারা ঢুকে পড়তো। এজন্যই আল্লাহ গোপনীয়তা অবলম্বনের এ সময়গুলোতে অনুমতি চাওয়ার নির্দেশ দেন। অতএব আল্লাহ তাদের জন্য গোপনীয়তা অবলম্বন ও কল্যাণকর ব্যবস্থা দিয়েছেন। অথচ আমি কাউকে তদনুসারে আমল করতে দেখি না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) (রহঃ) বলেন, উবাইদুল্লাহ ও আতা (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস এ হাদীসে দুর্বল করে।[1] সনদ হাসান মাওকুফ।