। ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা (খারিজী নেতা) নাজদাহ কিছু বিষয় উল্লেখ করে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট চিঠি লিখলো। তাতে এও ছিলো যে, ক্রীতদাস কি ‘ফাই’-এর অংশ পাবে? নারীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে যেতো কিনা এবং তাদেরকে কি গানীমাতের অংশ দেয়া হতো কি না? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, সে আহাম্মকী করে বসবে (এরূপ আশঙ্কা না হলে) আমি তার চিঠির উত্তর দিতাম না। অতঃপর তিনি চিঠির উত্তরে লিখলেন, গোলামকে গানীমাতের অংশ দেয়া হতো, নারীরা আহতদের সেবা করতো এবং সৈনিকদের জন্য পানি সরবরাহ করতো।
। ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হারূরার খারিজী নেতা নাজদাহ কয়েকটি প্রশ্ন করে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট চিঠি লিখলো। (তা হলো) নারীরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে যোগদান করতো কি না? উত্তরে জানালাম, নারীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে আসতো। তবে তিনি তাদের জন্য গানীমাতের অংশ নির্ধারণ করতেন না, অবশ্য উপঢৌকন হিসেবে কিছু দিতেন।
। হাশরাজ ইবনু যিয়াদ (রহঃ) তার পিতার মা অর্থাৎ তার দাদীর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি (দাদী) পাঁচজন মহিলাসহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খায়বারের যুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পেয়ে আমাদেরকে ডেকে পাঠান। ‘আমরা এসে তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ লক্ষ্য করি। তিনি বললেনঃ তোমরা কার সাথে এবং কার হুকুমে রওয়ানা হয়েছো? ‘আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! ‘আমরা এজন্য বেরিয়েছি যে, ‘আমরা দড়ি পাকাবো এবং তা দিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করবো, আহতদের চিকিৎসার জন্য আমাদের কাছে ঔষধপত্র রয়েছে, ‘আমরা সৈন্যদের তীর-ধনুক এগিয়ে দিবো এবং তাদেরকে ছাতু তৈরী করে দিবো। তিনি বললেনঃ ঠিক আছে, চলো। আল্লাহ তাঁর রাসূলকে খায়বারের যুদ্ধে বিজয় দান করলেন। তিনি পুরুষদের ন্যায় আমাদেরকেও গানীমাতের অংশ দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে দাদী! ভাগে কি ছিলো? তিনি বললেন, খেজুর।
। আবুল লাহমের আযাদকৃত গোলাম উমাইর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার মনিবের সাথে খায়বারের যুদ্ধে গমন করি। তারা আমার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আলাপ করলে তাঁর নির্দেশ মোতাবেক আমার কোমরে তরবারি ঝুলানো হলো। তা আমি যমীনে হেঁচড়িয়ে চলতাম। তিনি পরে অবহিত হলেন যে, আমি মুক্তদাস। তিনি আমাকে কিছু জিনিসপত্র দেয়ার নির্দেশ দিলেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গানীমাতের অংশ দেননি। আবূ দাঊদ (রহঃ) আরো বলেন, আবূ ‘উবাইদ (রহঃ) বলেছেন, তিনি তার জন্য গোশত ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেন। সেজন্য তার নাম আবুল লাহম (গোশতের পিতা)।
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক মুশরিকদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের ইচ্ছে করলে তিনি বললেনঃ তুমি ফিরে যাও। ‘আমরা মুশরিকদের সাহায্য চাই না।
হাদিস 2733 — Sunan Abu Dawud 15:257
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih Sahih Bukhari (2863) Sahih Muslim (1762)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْهَمَ لِرَجُلٍ وَلِفَرَسِهِ ثَلاَثَةَ أَسْهُمٍ سَهْمًا لَهُ وَسَهْمَيْنِ لِفَرَسِهِ .
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৈনিক ও তার ঘোড়ার জন্য তিন ভাগ গানীমাত নির্ধারণ করেন। এক ভাগ সৈনিকের এবং দু’ ভাগ ঘোড়ার।
হাদিস 2734 — Sunan Abu Dawud 15:258
সহিহসহিহদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي الْمَسْعُودِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو عَمْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعَةَ نَفَرٍ وَمَعَنَا فَرَسٌ فَأَعْطَى كُلَّ إِنْسَانٍ مِنَّا سَهْمًا وَأَعْطَى لِلْفَرَسِ سَهْمَيْنِ .
। আবূ ‘আমরাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, ‘আমরা চার ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম। আমাদের সাথে একটি ঘোড়াও ছিলো। তিনি আমাদের প্রত্যেককে গানীমাত থেকে এক ভাগ করে দিলেন, আর ঘোড়ার জন্য দু’ ভাগ দিলেন।
। আবূ ‘আমরাহ (রহঃ) এ সূত্রে বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেন। তবে তিনি এ বর্ণনায় তিনজনের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, ঘোড়া সাওয়ারীর জন্য ছিলো তিন ভাগ।
। মুজাম্মি ইবনু জারিয়াহ আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ছিলেন অন্যতম কারী। তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হুদায়বিয়াতে ছিলাম। ‘আমরা সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করলে লোকেরা তাদের উটগুলোকে এক স্থানে সমবেত হওয়ার জন্য দ্রুত হাঁকাতে লাগলো। লোকেরা পরস্পর বলাবলি করলো, দ্রুত হাঁকানোর কারণ কি? পরে তারা জানতে পারলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অহী অবতীর্ণ হয়েছে। অন্যান্য লোকের সাথে ‘আমরাও জলদি করে ছুটলাম। ‘আমরা ‘কুরাউল গামীন’ নামক স্থানে পৌঁছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সওয়ারীতে বসা দেখতে পেলাম। লোকেরা তাঁর কাছে সমবেত হলে তিনি তাদেরকে ‘‘ইন্না ফাতাহনা লাকা ফাতহাম মুবীনা’’ নামক সূরা পড়ে শুনালেন। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি বিজয়? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, ঐ সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এটাই বিজয়। যারা হুদায়বিয়ায় যোগদান করেছে তাদের মাঝে খায়বারের গানীমাত বণ্টন করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাপ্ত গানীমাত আঠার ভাগে বিভক্ত করেন। যোদ্ধা ছিলো পনের শত এবং এর মধ্যে অশ্বারোহী ছিলো তিনশো। তিনি অশ্বারোহীদের দু’ ভাগ এবং পদাতিকদের এক ভাগ করে গানীমাত প্রদান করলেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আবূ মু‘আবিয়াহ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসটি অধিক সহীহ। এ হাদীসের উপরই আমল করা হয়। আমার মতে মুজাম্মি (রহঃ)-এর হাদীসে ভুল আছে। কারণ তিনি বলেছেন, অশ্বারোহী ছিলো তিনশো, অথচ অশবারোহী ছিলো দু’শো।