। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু দায়লামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইয়া‘লা ইবনু মুনইয়া (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের জন্য আহবান জানালেন। তখন আমি খুবই বৃদ্ধ ছিলাম এবং আমার কোনো খাদেম ছিলো না। তাই আমি এমন একজন শ্রমিক খোঁজ করলাম যে আমার সহায়তা করতে সক্ষম এবং আমি তাকে (গানীমাতের) অংশ প্রদানেরও চিন্তা করলাম। অতঃপর আমি এমন এক ব্যক্তিকে পেয়েও গেলাম। যুদ্ধে যাবার সময় ঘনিয়ে এলে সে এসে আমাকে বললো, আমি সৈনিকের প্রাপ্য অংশ সম্পর্কে কিছুই অবহিত নই এবং আমাকে কি পরিমাণ প্রাপ্য দেয়া হবে তাও আমি জানি না, কাজেই আমার মজুরী নির্ধারণ করুন। আমি তার জন্য তিন দীনার মজুরী নির্ধারণ করলাম। অতঃপর গামীমাত বন্টনের সময় উপস্থিত হলে আমি তাকে এর একটি অংশ দেয়ার ইচ্ছা করলাম। এমতাবস্থায় দীনারের কথা স্মরণ হলো। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি বললেনঃ আমি যুদ্ধের বিনিময়ে দুনিয়া এবং আখিরাতে তার জন্য নির্ধারিত (দীনার) ছাড়া আর কিছুই দেখছি না।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, আমি আপনার কাছে হিজরাতের বাই‘আত নিতে এসেছি এবং আমার মাতা-পিতাকে কান্নারত অবস্থায় রেখে এসেছি। তিনি বললেনঃ তুমি ফিরে যাও। তাদেরকে যেভাবে কাঁদিয়েছ ঐভাবে তাদেরকে হাসাও।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জিহাদ করবো। তিনি বললেনঃ তোমার পিতা-মাতা আছেন কি? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাদের সেবা করো, এটাই তোমার জন্য জিহাদ হিসেবে গণ্য হবে।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি ইয়ামেন থেকে হিজরাত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ ইয়ামেনে তোমার কেউ আছেন কি? জবাবে সে বললো, আমার পিতা-মাতা আছেন। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ তারা তোমাকে জিহাদের অনুমতি দিয়েছেন কিনা? সে বললো, না। তিনি বলেনঃ তবে তুমি ফিরে গিয়ে তাদের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করো। তারা তোমাকে অনুমতি দিলে জিহাদে অংশগ্রহণ করবে, অন্যথায় তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
হাদিস 2531 — Sunan Abu Dawud 15:55
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (1810)
حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ مُطَهِّرٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِأُمِّ سُلَيْمٍ وَنِسْوَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ لِيَسْقِينَ الْمَاءَ وَيُدَاوِينَ الْجَرْحَى .
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সুলাইমকে এবং কতিপয় আনসার মহিলাকে যুদ্ধে নিয়ে যেতেন। তারা মুজাহিদদের পানি সরবরাহ করতেন এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি বিষয় ঈমানের মূলের অন্তর্ভুক্ত। (এক) যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পড়বে তার ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা, কোনো গুনাহের কারণে তাকে কুফরীর দিকে ঠেলে না দেয়া এবং (শারী‘আত বিরোধী) কোনো কাজের কারণে তাকে ইসলাম থেকে বহিষ্কার না করা। (দুই) আমাকে (রাসূল করে) প্রেরণের সময় থেকে জিহাদ চালু রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। অবশেষে উম্মাতের জিহাদকারী সর্বশেষ দল দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। কোনো অত্যাচারি শাসকের অত্যাচার অথবা কোনো ন্যায়পরায়ণ শাসকের ইনসাফ এটাকে রহিত করতে পারবে না। (তিন) তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস রাখা।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক শাসকের নেতৃত্বে জিহাদ করা তোমাদের ওপর ওয়াজিব- চাই সে সৎ হোক বা অসৎ। প্রত্যেক মুসলিমের পিছনে সালাত আদায় তোমাদের ওপর ওয়াজিব, চাই সে সৎ হোক বা অসৎ, এমন কি সে কবীরাহ গুনাহ করলেও। প্রত্যেক (মৃত) মুসলিমের জানাযা পড়া ওয়াজিব, চাই সে নেককার হোক অথবা পাপী, এমন কি সে কবীরাহ গুনাহ করলেও।
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, একদা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুদ্ধে বের হওয়ার সময় বললেনঃ ‘হে মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়! তোমাদের ভাইদের মধ্যে এমন কিছু লোকও রয়েছে, যাদের যুদ্ধে খরচ করার নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য নেই এবং তাদেরকে সহযোগিতা করার মতো কোনো আত্মীয়-স্বজনও নেই। তোমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ (বাহন ও আহারে) তাদের দু’ কিংবা তিনজনকে শামিল করে নেয়া।’ তখন আমাদের কারো সাথে একের অধিক মালবাহী সাওয়ারী ছিলো না, পালা করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিলো না। জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাদের দু’ বা তিনজনকে আমার সঙ্গে মিলিয়ে নিলাম। জাবির বলেন, আমার মাত্র একটি উট ছিলো। ‘আমিও অন্যদের মতো তাতে পালা করে আরোহন করি।
। দামরাহ ইবনু যুগব আল-ইয়াদী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আব্দুল্লাহ ইবনু হাওয়ালা আল-আযদী (রাঃ) আমার মেহমান হলেন। তিনি আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পদাতিক বাহিনীকে গানীমাত লাভের উদ্দেশ্যে যুদ্ধে প্রেরণ করলেন। ‘আমরা ফিরে এলাম, অথচ কোনো গানীমাত পেলাম না। তিনি আমাদের চেহারায় ক্লান্তির ছাপ লক্ষ্য করলেন। তিনি আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! তাদের ক্লান্তি দূর করতে তাদেরকে আমার দিকে সোপর্দ করো না। এবং তাদেরকে তাদের দিকেও সোপর্দ করো না, তাহলে লোকেরা তাদের উপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে।’’ (ইবনু হাওয়ালা বলেন), এরপর তিনি আমার মাথা বা মাথার তালুতে হাত রেখে বললেনঃ হে ইবনু হাওয়ালা! যখন তুমি দেখবে যে, বাইতুল মাকদিসে (সিরিয়ার) ভূমিতে খিলাফাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন মনে করবে অধিক ভূমিকম্প, বিপদ-আপদ, মহা দূর্ঘটনা ও পেরেশানী সন্নিকটে। কিয়ামত তখন মানুষের এতই নিকটবর্তী হবে, যেমন আমার এ হাত তোমার মাথার যত নিকটে রয়েছে।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের মহান রব ঐ ব্যক্তির প্রতি সন্তুষ্ট হবেন, যে মহান আল্লাহর পথে জিহাদে লিপ্ত হয়েছে। তার সাথীরা পালিয়ে গেছে, কিন্তু সে জানতে পারলো তার উপর আল্লাহর হক রয়েছে। কাজেই সে পুনরায় (যুদ্ধের ময়দানে) ফিরে গেলো। অতঃপর তার রক্ত বয়ে দিয়ে শহীদ হলো। মহান আল্লাহ তাঁর ফিরিশতাদের বলেন, আমার বান্দার দিকে তাকিয়ে দেখো, সে আমার কাছে সাওয়াবের আশা নিয়ে এবং আমার ‘আযাবকে ভয় করে (যুদ্ধের ময়দানে) ফিরে গিয়ে নিজের রক্ত প্রবাহিত করেছে।