حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي قَبِيصَةُ بْنُ ذُؤَيْبٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَخَالَتِهَا وَبَيْنَ الْمَرْأَةِ وَعَمَّتِهَا .
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো মহিলাকে তার খালার সাথে এবং কোনো মহিলাকে তার ফুফুর সাথে একত্রে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
হাদিস 2067 — Sunan Abu Dawud 12:22
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا خَطَّابُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَرِهَ أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَ الْعَمَّةِ وَالْخَالَةِ وَبَيْنَ الْخَالَتَيْنِ وَالْعَمَّتَيْنِ .
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন দুই মহিলাকে একত্রে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন যাদের পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে ফুফু ও ভাতিজী এবং খালা ও ভাগ্নী। অনুরূপভাবে তিনি এমন দু‘জন মহিলাকেও একত্রে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন যারা পরস্পর খালা বা ফুফু।[1] দুর্বল।
হাদিস 2068 — Sunan Abu Dawud 12:23
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (5064) Sahih Muslim (3018)
। ইবনু শিহাব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উরওয়াহ ইবনুয যুবায়ের (রহ.) আমাকে বলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে এ আয়াতের অর্থ জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ ‘‘তোমরা যদি ভয় করো, ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমরা তোমাদের পছন্দ অনুযায়ী অন্য মহিলা বিয়ে করো।’’ (সূরা আন-নিসাঃ ৩)। তিনি বললেন, হে আমার ভাগ্নে! এ আয়াত ঐসব ইয়াতীম বালিকা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা কারো তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সে তার সম্পদের অংশীদার। সে তার সৌন্দর্য ও সম্পদকেও পছন্দ করে। এমতাবস্থায় সে তাকে বিয়ে করতে আগ্রহী, কিন্তু অন্য মহিলাকে তার অনুরূপ মোহর আদায় করতে অনিচ্ছুক। এরূপ অভিবাকদেরকে ঐ ইয়াতীম বালিকাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে যতক্ষণ না তারা পূর্ণ মোহর দেয় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। আর তাদেরকে নিজেদের পছন্দ মতো অন্য মহিলা বিয়ে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, পরবর্তীতে লোকেরা এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইয়াতীম বালিকাদের বিষয়ে ফতোয়া চাইলে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ ও আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, আল্লাহ তাদের সম্পর্কে তোমাদেরকে সমাধান দিয়েছেন। এ কিতাবের মাধ্যমে শুনানো হচ্ছে হুকুমগুলো এই যে, তাদের জন্য যে মোহর নির্ধারিত তোমরা তা আদায় করো না অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে আগ্রহী।’’ (নিসাঃ ১২৭)। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, এ বিষয়ে মহান আল্লাহর কিতাবের মধ্যে তাদের উপর যা অবতীর্ণ করেছেন তা হচ্ছে, প্রথমের সে আয়াতটি যেখানে আল্লাহ বলেছেন, ‘‘তোমরা যদি ভয় করো যে, ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ করতে পারবে না তাহলে তোমরা নিজেদের পছন্দ মোতাবেক অন্য নারী বিয়ে করো।’’ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেছেন, ইয়াতীম বালিকা সুন্দরী এবং সম্পদশালী না হলে অভিভাবকরা এর কমতি দেখিয়ে তাদেরকে বাদ দিয়ে অন্য নারী বিয়ে করতো। সুতরাং তাদেরকে বলা হয়েছে, স্বার্থের বেলায় পূর্ণ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করো এবং পুরো মোহর আদায় করা ছাড়া এসব ইয়াতীমকে বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ তারা এসব ইয়াতীমের হক আদায় করতে চাইতো না। ইউনুস বলেন, রাবী‘আহ, আল্লাহর বাণীঃ (وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى) এর অর্থ করেছেন, তোমরা যদি ভয় করো যে, ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ করতে পারবে না, তবে তাদেরকে পরিত্যাগ করো। কেননা আমি তোমাদের জন্য চারজন মহিলা পর্যন্ত বিয়ে করা হালাল করেছি।[1] সহীহ।
হাদিস 2069 — Sunan Abu Dawud 12:24
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (3110) Sahih Muslim (2449)
। ইবনু শিহাব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। আলী ইবনুল হুসাইন (রহ.) তাকে বর্ণনা করেন যে, হুসাইন ইবনু আলী (রাযি.)-এর শাহাদাতের পর যখন তারা ইয়াযীদ ইবনু মু‘আবিয়াহর নিকট থেকে মদীনায় আসলেন, তখন আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাযি.) তার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, আপনি আমার উপর কোনো কাজের দায়িত্ব অর্পণ করবেন কি? তিনি বললেন, না। এরপর মিসওয়ার বললেন, আপনি কি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তলোয়ারখানি দিবেন? কেননা আমার আশংকা হচ্ছে, লোকেরা আপনার উপর প্রভাব বিস্তার করবে। আল্লাহর শপথ! আপনি আমাকে তা দান করলে কেউ আমার দেহকে নিঃশেষ না করা পর্যন্ত তা ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযি.) ফাতিমাহ (রাযি.) বর্তমান থাকতে আবূ জাহলের কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই মিম্বারের উপর লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে শুনেছি। তখন আমি যুবক ছিলাম। তিনি বলেছেনঃ ফাতিমাহ আমার দেহের একটি অংশ। আর আমার ভয় হচ্ছে, সে দীনি ফ্যাসাদে পতিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বনি ‘আবদি শাম্সের সাথে শ্বশুর-জামাতার সম্পর্কে আলাপ করলেন। আর উক্ত শ্বশুর সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ভূয়সী প্রশংসাই করলেন। তিনি বলেনঃ সে (জামাতা) আমার সাথে যে কথা দিয়েছিল তা সত্যে পরিণত করেছে এবং যে ওয়াদা করেছিল তাও পূরণ করেছে। কোনো হালাল জিনিসকে হারাম এবং হারাম জিনিসকে হালাল করার অধিকার আমার নেই। তবে আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূলের কন্যা এবং আল্লাহর দুশমনের কন্যা কখনো এক জায়গায় একত্র হতে পারে না।[1] সহীহ।
। আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাযি.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মসজিদের মিম্বারের উপর বলতে শুনেছিঃ হিশাম ইবনুল মুগীরাহর বংশের লোকেরা তাদের বংশের এক কন্যাকে আলী ইবনু আবূ তালিবের বিয়ে দিতে অনুমতি চাইছে। কিন্তু আমি অনুমতি দিবো না, তারপরও আমি অনুমতি দিবো না, অনুমতি দিবো না। অবশ্য আবূ তালিবের পুত্র আমার কন্যাকে তালাক দিলে সে তাদের কন্যা বিয়ে করতে পারবে। কারণ আমার কন্যা আমার দেহেরই একটি অংশ। যেটা তার অপছন্দ, সেটা আমার অপছন্দ এবং তাকে যা দুঃখ দেয়, তা আমাকেও দুঃখ দেয়। আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, হাদীসের এই অংশটি ইমাম আহমাদ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত।[1] সহীহ।
। আয-যুহরী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা উমার ইবনু আব্দুল আযীয (রহ.)-এর নিকট ছিলাম। তখন আমরা নারীদের মুত‘আহ (সাময়িক) বিয়ে নিয়ে আলাপ করলাম। রাবী‘ ইবনু সাবুরাহ নামক জনৈক ব্যক্তি বললেন, আমি আমার পিতা সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি বর্ণনা করেছেন, বিদায় হজের (হজ্জের) সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত‘আহ নিষিদ্ধ করে দেন।[1] শায। মাহফূয হচ্ছেঃ মক্কা বিজয়ের সময়। ইরওয়া
হাদিস 2073 — Sunan Abu Dawud 12:28
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (1406)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ رَبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَرَّمَ مُتْعَةَ النِّسَاءِ .
। রাবী‘ ইবনু সাবুরাহ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সাথে মুত‘আহ বিয়ে হারাম করেছেন।[1] সহীহ।
হাদিস 2074 — Sunan Abu Dawud 12:29
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Bukhari (5112) Sahih Muslim (1415)
। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিগার নিষিদ্ধ করেছেন। মুসাদ্দাদ (রহ.) তার বর্ণনায় বলেন, আমি নাফি‘ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করি, শিগার কি? তিনি বললেন, ‘‘কোনো ব্যক্তি নিজের কন্যাকে অন্য ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিবে এ শর্তে যে, ঐ ব্যক্তিও তার কাছে তার কন্যা বিয়ে দিবে মোহর ছাড়া। অথবা কোনো ব্যক্তি নিজের বোনকে অন্য এক ব্যক্তির নিকট বিয়ে দিবে এ শর্তে যে, তার বোনকে এ ব্যক্তি বিয়ে করবে মোহর ছাড়া।’’[1] সহীহ।
। আব্দুর রহমান ইবনু হুরযুম আল-আ‘রাজ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। আল-‘আব্বাস ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল ‘আব্বাস (রহ.) তার কন্যাকে আব্দুর রহমান হাকামের সাথে বিয়ে দেন আবার আব্দুর রহমান তার কন্যাকে আল-আব্বাসের কাছে বিয়ে দেন। তারা উভয়ে এই পারস্পরিক বিয়েকে মোহর গণ্য করেন। এ খবর শুনে মু‘আবিয়াহ (রাযি.) তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে মাওয়ানের কাছে নির্দেশনামা পাঠান। তিনি তার ফরমানে বলেন, এটা শিগার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতে নিষিদ্ধ করেছেন।[1] হাসান।