। আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহ ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযি.)-এর নিকট এক ব্যক্তি পূর্বোক্ত হাদীসের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা এ বিষয়ে এক মাস ধরে বা অনেকবার মতভেদ করেন। অতঃপর ইবনু মাসঊদ বললেন, ঐ নারীর ব্যাপারে আমার বক্তব্য হচ্ছে, সে তার বংশের নারীর সমপরিমাণ মোহর পাবে, এতে কমবেশি করবে না, সে মীরাসের অংশও পাবে এবং তাকে ইদ্দাত পালন করতে হবে। এ হলো আমার অভিমত, এটা নির্ভুল হলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আর ভুল হলে তা আমার ও শয়তানের পক্ষ থেকে। তবে এ ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সম্পূর্ণ নির্দোষ। অতঃপর আশজা‘ গোত্রের আল-জাররাহ ও আবূ সিনান (রাযি.)-সহ কতিপয় লোক দাঁড়িয়ে বললেন, হে ইবনু মাসঊদ! আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, উতবাহ (রাযি.) আমাদের মাঝে হেলাল ইবনু মুররার স্ত্রী বিরওয়াআ‘ বিনতু ওয়াশিকের ব্যাপারে অনুরূপ ফতোয়া দিয়েছিলেন যেরূপ আপনি দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ যখন দেখলেন যে, তার ফতোয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফতোয়ার অনুরূপ, তখন তিনি খুবই খুশি হলেন।[1] সহীহ।
। ‘উকবাহ ইবনু আমির (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেনঃ আমি তোমার সাথে অমুক মহিলার বিয়ে দিতে চাই, তুমি কি এতে খুশি আছো? সে বললো, হ্যাঁ। এরপর তিনি উক্ত মহিলাকে বললেনঃ আমি তোমাকে অমুক পুরুষের সাথে বিয়ে দিলে তুমি কি রাজি হবে? সে বললো, হ্যাঁ। সুতরাং তারা একে অপরকে বিয়ে করলো। তারপর লোকটি তার সাথে সঙ্গম করলো, কিন্তু তার জন্য কোনো মোহরানা নির্ধারণ করেনি এবং তাকে নগদ কিছু প্রদান করেনি। লোকটি হুদায়বিয়াতে উপস্থিত ছিলো। হুদায়বিয়ায় উপস্থিত সকলকে খায়বারের এক এক অংশ দেয়া হয়েছিল। অতঃপর লোকটি মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে সে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে অমুক মহিলার বিয়ে দিয়েছিলেন, অথচ আমি তার জন্য কোনো মোহর নির্ধারণ করিনি এবং তাকে নগদ কিছুই দেইনি। সুতরাং আমি আপনাদের সাক্ষী করছি যে, আমার খায়বারের অংশটুকু আমি তাকে মোহরানা বাবদ প্রদান করলাম। অতঃপর মহিলাটি (স্ত্রী) তা গ্রহণ করে এবং তা এক লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করে দেয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, হাদীসের শুরুতে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে বিবাহ সহজে সম্পন্ন হয় তাই উত্তম বিবাহ। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ লোককে বললেন,...। অতঃপর বাকী অংশটুকু একইরূপ বর্ণনা করেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, আমি আশংকা করি, এ হাদীসের সংযোজন হয়েছে। কেননা বিষয়টি ব্যতিক্রম।[1] সহীহ।
। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বিবাহের খুৎবা শিক্ষা দিয়েছেনঃ ‘‘সমস্ত প্রশংসার এক আল্লাহর জন্যই। আমরা তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি আমাদের দেহ ও আত্মার সকল অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, কেউ তাকে হিদায়াত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তোমাদের পরস্পরের মধ্যে চাওয়া-নেওয়া এবং আত্মীয়দের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।’’ (সুরা নিসাঃ ১) ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যথাযথভাবে আল্লাহকে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মরো না।’’ (সূরা আলে ‘ইমরানঃ ১০১) ‘‘হে ঈমানদারগণ! সঠিক কথা বলো। তাহলে তিনি তোমাদের কাজকর্ম সংশোধ করে দিবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে মহাসাফল্য লাভ করবে’’ (সূরা আহযাবঃ ৭০-৭১)।[1] সহীহ।
। ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুৎবা দিতেন। অতঃপর পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেনঃ ‘‘তিনি তাঁকে সত্য সহ কিয়ামতের পূর্বে পাঠিয়েছেন সুসংবাদ প্রদানকারী এবং ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে সে সঠিক পথের সন্ধান পাবে। আর যে ব্যক্তি তাঁদের উভয়ের অবাধ্য হবে সে শুধু নিজেই অমঙ্গল ডেকে আনবে, কিন্তু আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’’[1] দুর্বল।
। বনু সুলাইমের এক ব্যক্তি সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উমামাহ বিনতু আব্দুল মুত্তালিবকে প্রস্তাব পাঠালে তিনি খুৎবা ছাড়াই আমাকে বিয়ে করান।
হাদিস 2121 — Sunan Abu Dawud 12:76
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (3896) Sahih Muslim (1422)
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সাত বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ে করেন। সুলাইমানের বর্ণনায় রয়েছে ছয় বছর। আর তিনি আমার সাথে বাসর যাপন করেন আমার নয় বছর বয়সে।[1] সহীহ। এর দীর্ঘ মাতান সামনে আসছে। (হা/৪৯৩৩)।
। উম্মু সালামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সালামাকে বিয়ে করে তার কাছে তিন রাত অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি তোমার পরিজনের কাজে অবহেলিত নও। তুমি চাইলে আমি তোমার সাথে সাত রাত অবস্থান করবো। তবে তোমাকে সাত রাত দিলে আমার অন্যান্য স্ত্রীদের সাথেও সাত রাত অবস্থান করতে হবে।[1] সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাফিয়্যাহ (রাযি.)-কে বিয়ে করলেন তখন তিনি তার সাথে তিন দিন অবস্থান করেন। বর্ণনাকারী উসমান বলেন, তিনি বিধবা ছিলেন।[1] সহীহ।
হাদিস 2124 — Sunan Abu Dawud 12:79
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (5213) Sahih Muslim (1461)
। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি স্ত্রী থাকা অবস্থায় কেউ কুমারী মেয়ে বিয়ে করলে সে যেন কুমারী স্ত্রীর কাছে সাত রাত অতিবাহিত করে। আর যদি কেউ বিধবাকে বিয়ে করে তাহলে সে বিধবার কাছে যেন তিন রাত অতিবাহিত করে। বর্ণনাকারী আবূ কিলাবাহ বলেন, আমি যদি বলি, আনাস (রাযি.) হাদীসটি মারফুভাবে বর্ণনা করেছেন, তা সঠিক হবে। তবে তিনি বলেছেন, এরূপ করাই সুন্নাত।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আলী (রাযি.) ফাতিমাহ (রাযি.)-কে বিয়ে করেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তাকে কিছু প্রদান করো। তিনি বললেন, আমার নিকট কিছুই নেই। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমার হুতামীয়া বর্মটি কোথায়? (সেটাই দাও)।[1] সহীহ।