। যুবায়র ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু যুবায়র ইবনু মুতইম তার পিতা থেকে তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! লোকজন খুব কষ্ট করছে, পরিবার-পরিজন, ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, ধন-সম্পদ হ্রাস পাচ্ছে এবং জীব-জন্তু মারা যাচ্ছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্য মহান আল্লাহর নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করুন। কেননা আমরা আপনার সুপারিশ নিয়ে আল্লাহর নিকট যাই এবং আল্লাহর সুপারিশ নিয়ে আপনার নিকট আসি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়, তুমি কি জানো! তুমি কি বলছো? অতঃপর তিনি তাসবীহ পড়তে থাকলেন, এমন কি তাঁর সাহাবীদের মধ্যেও এর (অসন্তুষ্টির) চিহ্ন পরিলক্ষিত হলো। তিনি আবার বললেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়। আল্লাহর সুপারিশ নিয়ে তাঁর কোনো সৃষ্টির নিকট যাওয়া যায় না। আল্লাহর মর্যাদা এর চেয়ে অনেক উর্ধ্বে, অনেক মহান। তোমার জন্য দুঃখ হয়! তুমি কি জানো আল্লাহ কে? তাঁর আরশ আসমানের উপর এভাবে আছে। তিনি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বললেন, তার উপর রয়েছে গম্বুজ সদৃশ ছাদ। তা সত্ত্বেও তা (আরশ) তাকে নিয়ে গোঙ্গানীর মতো শব্দ করে, যেমনটি করে আরোহীর কারণে জীনপোষ। ইবনু বাশশার তার হাদীসে বলেন, মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে এবং তাঁর আরশ আসমানসমূহের উপরে। অতঃপর হাদীসটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে।[1] দুর্বলঃ মিশকাত হা/ ৫৭২৭।
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ যে সকল ফিরিশতা আরশ বহন করেন, তাদের একজনের সঙ্গে আলাপ করার জন্য আমাকে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তার কানের লতি থেকে কাঁধ পর্যন্ত স্থানের দূরত্ব হলো সাতশ বছরের দূরত্বের সমান।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর মুক্তদাস আবূ ইউনুস সুলাইম ইবনু জুবায়র (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে এ আয়াতটি পড়তে শুনেছিঃ ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আমানতসমূহ তার প্রাপকের নিকট পৌঁছিয়ে দিতে আদেশ করছেন ... আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’’ (সূরা আন-নিসাঃ ৫৮) পর্যন্ত। আবূ হুরাইরা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলকে কানে এবং তরজনীকে দু’ চোখের উপর রাখতে দেখেছি। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (আয়াতটি) পড়তে দেখেছি এবং তাঁর আঙ্গুল দু’টি রাখতে দেখেছি। ইবনু ইউনুস বলেন, আল-মুকরী বলেছেন, অর্থাৎ ‘‘আল্লাহ নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা’’- এর অর্থ হলো, আল্লাহর শ্রবণশক্তি ও দর্শনশক্তি আছে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এতে জাহমিয়াদের মতবাদ বাতিল হয়ে যায়।[1] সনদ সহীহ।
হাদিস 4729 — Sunan Abu Dawud 42:134
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (4851) Sahih Muslim (633)
। জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি চৌদ্দ তারিখের রাতে পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ অচিরেই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে যেমন তোমরা এ চাঁদকে দেখছো, আর একে দেখতে তোমাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। যদি তোমরা সূর্যদয়ের ও সূর্যাস্তের পূর্বে সালাত আদায়ে পরাভূত না হও তাহলে তা আদায় করে নাও। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ ‘‘সূর্যদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করো।’’[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখতে পাবো? তিনি বললেন, মেঘহীন দুপুরে তোমাদের কি সূর্য দেখতে কষ্ট হয়? সাহাবীগণ বললেন, না। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, মেঘহীন নির্মল আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোনো অুসবিধা হয়? তারা বললেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সেই, মহান সত্ত্বার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমরা এর একটি (চাঁদ বা সূর্য) যেভাবে নির্বিঘ্নে দেখতে পাও সেভাবে তাঁকে তোমরা দেখবে।[1] সহীহ।
। আবূ রাযীন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের প্রত্যেকেই কি কিয়ামতের দিন তার রবকে দেখতে পাবে? তাঁর সৃষ্টির মাঝে এর কোনো নিদর্শন আছে কি? তিনি বললেন, হে আবূ রাযীন! তোমাদের প্রত্যেকে কি পূর্ণিমার রাতের চাঁদ দেখে না, (অর্থাৎ চৌদ্দ তারিখের নির্মল আকাশে)? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে আল্লাহ তো মহান। ইবনু মু‘আয বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তা (চাঁদ) তো আল্লাহর সৃষ্টিকূলের মধ্যকার একটি সৃষ্টি। আর আল্লাহ তো মহিমান্বিত ও সুমহান।[1] হাসান।
। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ কিয়ামতের দিন আসমানসমূহকে গুটিয়ে তাঁর ডান হাতে নিয়ে বললেবন, আমি সর্বময় কর্তা ও মালিক, স্বৈরাচারীরা ও অহংকারকারীরা কোথায়? অতঃপর পৃথিবীসমূহকে গুটিয়ে অপর হাতে নিয়ে বলবেন, আমি মালিক স্বৈরাচারীরা ও অহংকারীরা কোথায়?[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের মহান রব দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে এসে বলতে থাকেনঃ ওহে কে আছো আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিবো, কে আছো আমার নিকট কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দিবো, কে আছো আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো।[1] সহীহ।
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষ একত্রিত হওয়ার স্থানে (আরাফা ময়দানে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে নিজেকে পেশ করে বলতেনঃ এমন কোনো ব্যক্তি আছে কি যে আমাকে তাঁর গোত্রের কাছে নিয়ে যাবে? কেননা কুরাইশ গোত্রের লোকেরা আমাকে আমার রবের বাণী পৌঁছিয়ে দিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।[1] সহীহ।
। ইবনু শিহাব (রহঃ) বর্ণনা করেন, আমাকে উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব, আলকামাহ ইবনু ওয়াক্কাস ও উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) আইশাহ (রাঃ)-এর হাদীস সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নিজেকে এই পর্যায়ের মনে করতাম না যে, মহান আল্লাহ আমার সম্পর্কে এমন কথা বলবেন যা তিলাওয়াত করা হবে।[1] সহীহ।