। আনাস (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তিনি বলেন, তাদের আলামত হচ্ছে, তারা মাথা মুড়ানো ও টাকপড়া হবে। অতঃপর তোমরা তাদেরকে দেখলে হত্যা করবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আত-তাসবীদ অর্থ হলো চুল উপড়ে ফেলা।[1] সহীহ।
হাদিস 4767 — Sunan Abu Dawud 42:172
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (3611) Sahih Muslim (1066)
। সুওয়াইদ ইবনু গাফালাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) বলেন, যখন আমি তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করি, তখন তাঁর উপর মিথ্যা আরোপ করার চেয়ে আমার আকাশ থেকে পড়ে যাওয়া অধিক পছন্দনীয়। আর যখন আমি আমার ও তোমাদের মধ্যকার বিষয়ে আলাপ করি তখন বুঝবে যে ‘‘যুদ্ধ হলো কৌশল।’’ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ শেষ যুগে এমন লোকদের আত্মপ্রকাশ ঘটবে যারা হবে বয়সে নবীন এবং প্রতিজ্ঞাহীন বোকা। তারা সমগ্র সৃষ্টিকূলের মধ্যে সর্বোত্তম কথা বলবে, তীর যেভাবে ধনুক থেকে বেরিয়ে যায় তারাও সেভাবে দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে, তাদের ঈমান কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তোমরা যেখানেই এ ধরণের লোকের দেখা পাবে সেখানেই তাদেরকে হত্যা করবে। কারণ যারা এদেরকে হত্যা করবে কিয়ামতের দিন তারা সাওয়াব লাভ করবে।[1] সহীহ।
। সালামাহ ইবনু কুহাইল (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়িদ ইবনু ওয়াহব আল-জুহানী (রহঃ) জানিয়েছেন যে, তিনি আলী (রাঃ)-এর সঙ্গে সেই সৈন্যদলের সঙ্গে ছিলেন, যারা খারিজীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন। আলী (রাঃ) বলেন, হে জনতা! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মাতের মধ্য থেকে এমন একটি গোত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটবে যাদের কুরআন পাঠের সামনে তোমাদের তিলাওয়াত কিছুই নয়, তোমাদের সালাত তাদের সালাতের তুলনায় কিছুই নয় এবং তোমাদের সিয়াম তাদের সিয়ামের তুলনায় কিছুই নয়। তারা কুরআন পড়বে নেকী লাভের আশায়, কিন্তু পরিণতি হবে তার বিপরীত। তাদের সালাত তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তীর যেভাবে ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়, তারাও ঠিক সেভাবে ইসলাম থেকে দূরে সরে যাবে। যেসব সৈন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তারা যদি সেই সাওয়াবের কথা জানতে পারে যা তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ মুখে তাদের জন্য বলেছেন, তাহলে তারা অন্যান্য আমল করা ছেড়ে দিবে এবং এরই উপর নির্ভর করে বসে থাকবে। এ দলের নিদর্শন হলো, তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি থাকবে যার বাহু থাকবে কিন্তু হাত থাকবে না এবং তার বাহুর উপর স্তনের বোঁটার ন্যায় একটি বোঁটা থাকবে এবং তার উপর সাদা লোম থাকবে। তোমরা কি তোমাদের ছেলেমেয়ে ও ধন-সম্পদ এদের আয়ত্তে রেখে মু‘আবিয়াহ ও সিরিয়াবাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যেতে চাও? আল্লাহর কসম! আমার ধারণা যে, এরাই সেই গোত্রের। কেননা এরা হারামভাবে রক্ত প্রবাহিত করছে এবং চারণভূমি থেকে মানুষের পশু লুট করছে। অতএব তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে বের হও। সালামাহ ইবনু কুহাইল (রহঃ) বলেন, আমার কাছে যায়িদ ইবনু ওয়াহব খারিজীদের নিকট গমনের ঘটনা পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করে বলেন, অবশেষে আমরা একটি পুল অতিক্রম করে যখন দু’ দল মুখামুখী হলাম, আর খারিজীদের সেনাপ্রধান ছিলো আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াহব আর-বাসিবী। সে তাদেরকে বললো, তোমরা বল্লম ছুঁড় এবং খাপ থেকে তরবারি বের করো। এমন যেন না হয় যে, তারা তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়ে বলবে যেমন হারূরার দিবসে তারা ওয়াদা দিয়েছিল। তিনি বলেন, অতঃপর তারা বল্লম নিক্ষেপ করতে লাগলো ও খাপ থেকে তরবারি বের করলো এবং মুসলিমরা বল্লম ছুঁড়ে তাদেরকে প্রতিরোধ করলো এবং একের পর এক তারা নিহত হতে থাকলো। তিনি বলেন, ঐদিন আলী (রাঃ)-এর পক্ষের দু’ ব্যক্তি শহীদ হলো। আলী (রাঃ) বলেন, তোমরা নিহতদের মধ্যে ছোট হাতবিশিষ্ট ব্যক্তিকে খোঁজ করো; কিন্তু তারা তাকে পেলো না। বর্ণনাকারী বলেন এরপর আলী (রাঃ) নিজে উঠে পরস্পরের উপর পড়ে থাকা লাশের নিকট এসে বললেন, এদেরকে বের করো। তারা তাকে ভূলুণ্ঠিত অবস্থায় পেয়ে গেলে তিনি আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করে বললেন, আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং তাঁর রাসূলও। এরপর উবাইদাহ আস-সালমানী তাঁর নিকট দাঁড়িয়ে বললেন, হে আমীরুল মু‘মিনীন! সেই আল্লাহর কসম যিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই! আপনি কি একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, সেই আল্লাহর কসম! যিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। উবাইদাহ তিনবার কসম করে তার নিকট প্রশ্ন করলে তিনিও তিনবার কসম করে একই জবাব দেন।[1] সহীহ।
। আবুল ওয়াদী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আলী (রাঃ) বললেন, তোমরা মুখদাজকে (ছোট হাতবিশিষ্ট ব্যক্তিকে) খুঁজে বের করো। অতঃপর পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। এরপর তারা তাকে ভুলুণ্ঠিত লাশগুলোর নীচ থেকে বের করলো। আবুল ওয়াদী আরো বলেন, তাকে দেখে আমার মনে হলো সে যেন হাবসী লোক, তার পরিধানে জুব্বা ছিলো। আর এক হাতের উপর মেয়েলোকের স্তনের বোঁটার মত একটি বোঁটা ছিলো এবং তাতে ইয়ারবু‘র লেজের লোমের ন্যায় লোম ছিলো।[1] সনদ সহীহ।
। আবূ মারইয়াম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঐ (মুখদাজ) খোঁড়া হাতবিশিষ্ট সে সময় আমাদের সঙ্গে মসজিদে দিনরাত উঠা-বসা করতো এবং সে ছিলো ফকীর। আমি তাকে লোকদের সঙ্গে আলী (রাঃ)-এর আহারে অংশগ্রহণ করতে দেখেছি। আমি তাকে আমার একটি আলখাল্লা দান করেছিলাম। আবূ মারইয়াম বলেন, মুখদাজকে নাফি‘ বোঁটাধারী নাম দিয়েছিলেন। আর তার হাতে নারীর স্তনের বোঁটার মত একটি বোঁটা ছিলো এবং বিড়ালের লোমের মতো লোম ছিলো।[1] সনদ দুর্বল।
। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উপক্রম হলে এবং সে তা প্রতিরোধ করতে গিয়ে হত্যা হলে সে শহীদ বলে গণ্য হবে।[1] সহীহ।
। সাঈদ ইবনু যায়িদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হলে সে শহীদ। একইভাবে কেউ তার পরিবার-পরিজন ও জীবন অথবা ধর্ম রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হলে সেও শহীদ।[1] সহীহ।