। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানের সত্তরটিরও বেশী শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো এ সাক্ষ্য দেয় যে, ‘‘আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই।’’ আর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে হাড় অপসারণ করা এবং লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আব্দুল কাইস গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলে তিনি তাদেরকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দেন। তিনি বললেন, তোমরা কি জানো এক আল্লাহর উপর ঈমান আনা কী? তারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বেশী জানেন। তিনি বললেন, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এর সাক্ষ্য দেয়া, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া এবং রমযান মাসের সিয়াম পালন করা। এছাড়া তোমরা গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ জমা দিবে।[1] সহীহ।
হাদিস 4678 — Sunan Abu Dawud 42:83
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلاَةِ " .
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা ও কুফর এর মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত ছেড়ে দেয়া।[1] সহীহ।
। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বুদ্ধি ও দীনদারীতে অপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বুদ্ধিমান পুরুষকে হতভম্ব করে দেয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের (মহিলাদের) কোনো একজনের চেয়ে অধিক পারদর্শী আর কাউকে আমি দেখিনি। এক মহিলা বললেন, বদ্ধি ও দীনের ক্ষেত্রে অপূর্ণতা কি? তিনি বললেন, বুদ্ধির অপূর্ণতা হলো, দু’ জন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আর দীনের অপূর্ণতা হলো, তোমাদের কেউ কেউ রমযানের সওম ভঙ্গ করে থাকে আর একাধারে কিছুদিন সালাত পড়া থেকে বিরত থাকে।[1] সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার দিকে নিবিষ্ট হলে সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে সালাত পড়া অবস্থায় মারা গেছে তাদের কি হবে? তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন, ‘‘আল্লাহ তোমাদের ঈমান (সালাত) বিনষ্ট করবেন না।’’ (সূরা বাকারাঃ ১৪৩)।[1] সহীহ।
। আবূ উমামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তির ভালোবাসা ও শত্রুতা দান করা ও না করা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হয়ে থাকে সে ব্যক্তিই পূর্ণ ঈমানদার।[1] সহীহ।
হাদিস 4682 — Sunan Abu Dawud 42:87
হাসান Sahihহাসান SahihহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ মু‘মিন ঈমানে পরিপূর্ণ যার চরিত্র সর্বোকৃষ্ট।[1] হাসান সহীহ।
হাদিস 4683 — Sunan Abu Dawud 42:88
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (27) Sahih Muslim (150)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، قَالَ وَأَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رِجَالاً وَلَمْ يُعْطِ رَجُلاً مِنْهُمْ شَيْئًا فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْطَيْتَ فُلاَنًا وَفُلاَنًا وَلَمْ تُعْطِ فُلاَنًا شَيْئًا وَهُوَ مُؤْمِنٌ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَوْ مُسْلِمٌ " . حَتَّى أَعَادَهَا سَعْدٌ ثَلاَثًا وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَوْ مُسْلِمٌ " . ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي أُعْطِي رِجَالاً وَأَدَعُ مَنْ هُوَ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْهُمْ لاَ أُعْطِيهِ شَيْئًا مَخَافَةَ أَنْ يُكَبُّوا فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ " .
। আমির ইবনু সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক লোককে দিলেন এবং কিছু সংখ্যক লোককে কিছুই দিলেন না। সা‘দ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুক অমুককে দিলেন অথচ অমুক অমুককে মু‘মীন হওয়া সত্ত্বেও দিলেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অথবা মুসলিম। এভাবে সা‘দ (রাঃ) তিনবার বললেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও বলতে থাকলেনঃ অথবা মুসলিম। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি এমন সব লোককে দিয়ে থাকি এবং তাদের চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয় লোকদেরকে বঞ্চিত করে থাকি এ ভয়ে যে, যদি না দেয়া হয় তাহলে তাদেরকে (দীন ত্যাগের কারণে) অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।[1] সহীহ।
হাদিস 4684 — Sunan Abu Dawud 42:89
সহিহ Isnaad Maqtuসহিহ Isnaad MaqtuMaqtuIsnaad Sahih
। মা‘মার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুহরী (রহঃ) বলেছেন, আল্লাহর বাণীঃ ‘‘(হে নবী!) আপনি বলুন, তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি’’ (সূরা হুজুরাতঃ ১৪)। এর তাৎপর্য আমরা বুঝেছি ইসলাম হলো কালেমা শাহাদাত আর ঈমান হলো আমল করা।[1] সনদ সহীহ মাকতু।
। আমির ইবনু সা‘দ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু মালামাল বণ্টন করছিলেন। আমি তাঁর নিকট অনুরোধ করলাম যে, অমুক ব্যক্তিকে দিন, কেননা সে মু‘মিন। তিনি বললেন, অথবা মুসলিম। আমি ঐ ব্যক্তিকে কোনো অনুদান দেয়ার চেয়ে সেই সব লোকদেরকে দেয়া পছন্দ করি যাদেরকে না দিলে (মুরতাদ হয়ে যাবে) পরিণামে তাকে মুখের উপর হেঁচড়িয়ে টেনে নেয়া হবে (জাহান্নামে যাবে)।[1] সহীহ।