। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মানত করেছি যে, আপনার মাথার উপর দফ বাজাবো। তিনি বললেনঃ তোমার মানত পূর্ণ করো। মহিলাটি আবার বললেন, আমি অমুক অমুক স্থানে যাবাহ করার মানত করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, ঐসব স্থানে জাহিলী যুগে কুরবানী করা হতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, তোমার এ কুরবানী কি কোনো মূর্তির জন্য? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমার মানত পূর্ণ করো।
হাদিস 3313 — Sunan Abu Dawud 22:72
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قِلاَبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي ثَابِتُ بْنُ الضَّحَّاكِ، قَالَ : نَذَرَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْحَرَ إِبِلاً بِبُوَانَةَ، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَنْحَرَ إِبِلاً بِبُوَانَةَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " هَلْ كَانَ فِيهَا وَثَنٌ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ " . قَالُوا : لاَ . قَالَ : " هَلْ كَانَ فِيهَا عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ " . قَالُوا : لاَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " أَوْفِ بِنَذْرِكَ، فَإِنَّهُ لاَ وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلاَ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ " .
। সাবিত ইবনু দাহহাক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক ব্যক্তি মানত করে যে, সে বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট যাবাহ করবে। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, আমি বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট কুরবানী করার মানত করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সেখানে কি জাহিলী যুগের কোনো মূর্তি রয়েছে? লোকেরা বললো, না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ সেখানে কি তাদের কোনো মেলা বসতো? লোকেরা বললো, না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার মানত পূর্ণ করতে পারো। কেননা আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজের জন্য কৃত মানত পূর্ণ করা জায়িয নয় এবং আদম সন্তান যে জিনিসের মালিক নয় তারও কোনো মানত নেই।
। কারদাম- কন্যা মাইমুনাহ (রাঃ) বলেনঃ আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিদায় হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হই। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেলাম। আমি যখন লোকজনকে বলতে শুনলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমি এক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার পিতা তাঁর কাছে গেলেন, তখন তিনি তাঁর উষ্ট্রীতে আরোহিত ছিলেন। তাঁর সাথে সচিবের চাবুকের মতো একটি চাবুক ছিলো। আমি লোকদেরকে এবং বেদুঈনদের বলতে শুনলাম, চাবুক, চাবুক। আমার পিতা তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর পা ধরলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা তাঁর নাবুওয়াতের স্বীকারোক্তি করলেন এবং তাঁর কথা শুনলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মানত করেছিলাম, আমার একটি পুত্র সন্তান হলে আমি বুওয়ানার শেষ প্রান্তে পাহাড়ের পাদদেশে কিছু সংখ্যক মেষ যাবাহ করবো। অধস্তন বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় মাইমূনাহ (রাঃ) পঞ্চাশটি বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ সেখানে কি কোনো প্রতিমা আছে? তিনি বললেন, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি আল্লাহর নামে কৃত মানত পূর্ণ করতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার মেষগুলো একত্র করে যাবাহ করতে লাগলেন। তার মধ্য থেকে একটি মেষ ছুটে পালালে তিনি এই বলতে বলতে তার পিছু ধাওয়া করেনঃ ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার পক্ষ থেকে আমার মানত পূর্ণ করুন।’ সুতরাং তিনি সেটিকে ধরে ফেলেন এবং যাবাহ করেন।
। কারদাম ইবনু সুফিয়ান- কন্যা মাইমূনাহ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত, কিন্তু সংক্ষিপ্তভাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ সেখানে কোনো প্রতিমা আছে কি না? অথবা জাহিলী যুগে কোনো মেলা বসতো কি না? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, এ আমার মা, তার একটি মানত পবব্রজে (হজ (হজ্জ)) করার ইচ্ছা আছে। আমি কি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল-আদবা নামক উটটি আক্বীল গোত্রের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিলো। এ উট হাজীদের কাফেলার আগে আগে চলতো। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটিকে বনদী করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়ে চাদর জড়িয়ে একটি গাধার পিঠে বসে ছিলেন। আল-আদবার মালিক বললো, হে মুহাম্মাদ! আমাকে এবং হাজীদের আগে আগে চলা আমার উষ্ট্রীকে কোনো অপরাধে গ্রেপ্তার করলেন? তিনি বললেনঃ তোমাকে তোমার বন্ধুগোত্র সাক্বীফদের অপরাধের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, সাক্বীফ গোত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’জন সাহাবীকে বন্দী করে রেখেছিলো। আল-আদবার মালিক বললো, আমি মুসলিম অথবা সে বললো, আমি ইসলাম কবূল করেছি। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন আমি এ কথাগুলো মুহাম্মাদ ইবনু ঈসার কাছ থেকে শিখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কিছুদূর অগ্রসর হলেন তখন লোকটি উচ্চস্বরে হে মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ বলে ডাকলো। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অনুগ্রহকারী ও সহানুভূতিশীল। তিনি তার ডাকে ফিরে এসে বললেন, তোমার কি হয়েছে? সে বললো, আমি মুসলিম। তিনি বললেনঃ তুমি বন্দী হওয়ার আগে এ কথা বললে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যেতে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অতঃপর আমি সুলাইমানের বর্ণিত হাদীসে প্রত্যাবর্তন করি। লোকটি বললো, হে মুহাম্মাদ! আমি ক্ষুধার্ত আমাকে খাদ্য দিন, আমি পিপাসার্ত, আমাকে পান করান। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটাই তোমার উদ্দেশ্য অথবা এটাই তার উদ্দেশ্য। বর্ণনাকারী বলেন, এ বন্দীর বিনিময়ে মুসলিম বন্দীদ্বয়কে মুক্ত করে আনা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-আদবা নামক উষ্ট্রীটি নিজের সওয়ারী হিসেবে রাখলেন। অতঃপর মুশরিকরা মদীনায় এসে উপকণ্ঠে হামলা করে আদবা উটকে লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় এবং একজন মুসলিম মহিলাকেও বন্দী করে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, তারা রাতের বেলা উটগুলোকে ময়দানে ছেড়ে দিতো। এক রাতে তারা গভীর ঘুমে থাকলে মুসলিম বন্দী মহিলাটি গিয়ে যে উটের গায়েই হাত দিলেন সেটা আওয়াজ করলো। এভাবে তিনি আল-আদবার কাছে পৌঁছে গেলেন। তিনি একটি অনুগত ও সুদক্ষ উষ্ট্রীর কাছে পৌঁছে গেলেন। তিনি তার পিঠে চড়লেন, এবং আল্লাহর নামে মানত করলেন, আল্লাহ যদি মুশরিকদের কবল থেকে তাকে মুক্তি দেন তাহলে তিনি এ পশুটি যাবাহ করবেন। অতঃপর তিনি মদীনায় আসলে ঐ উটনীকে চেনা গেলো যে, এটি ছিলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উটনী। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ খবর দেয়া হলো। তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন। অতঃপর তাকে নিয়ে আসা হলো এবং তার মানত সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানানো হলো। তিনি বললেনঃ তুমি উটনীকে খুবই নির্মম প্রতিদান দিতে চেয়েছো। আল্লাহ তাকে যে উটনীর সাহায্যে মুক্তি দিলেন সে তাকে যাবাহ করতে চায়। আল্লাহর নাফরমানীর কাছে মানত করলে তা পূরণ করা জায়িয নয় এবং আদম সন্তান যার মালিক নয় তার মানত করা ও তা পূর্ণ করা জায়িয নয়। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ মহিলা আবূ যার (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন।
। কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তওবা কবূল হওয়ায় আমি আমার সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো এবং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য দান করে দিবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার সম্পদের কিছু অংশে নিজের জন্য রেখে দেয়াই তোমার জন্য উত্তম হবে। কা‘ব (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, খায়বারে প্রাপ্ত আমার অংশ নিজের জন্য রেখে দিলাম।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তার তওবা কবূল হওয়ার পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন, আমি আমার সমস্ত সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো ... ‘তোমার জন্য উত্তম হবে’ পর্যন্ত পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
। ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বা আবূ লুবাবাহ কিংবা আল্লাহর ইচ্ছায় অপর কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন, আমার তওবা কবূল হওয়ায় আমি আমার গোত্রের যে বাড়িতে অপরাধের শিকার হয়েছি তা ত্যাগ করবো এবং আমার সমস্ত সাদাকাহ করে দিবো। তিনি বললেনঃ এক-তৃতীয়াংশ সাদাকাহ করাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
। ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, আবূ লূবাবাহ (রাঃ) ছিলেন ... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত। ঘটনাটি আবূ লুবাবাহ (রাঃ) সংশ্লিষ্ট। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইউনুস ইবনু শিহাব থেকে তিনি বনু সায়িব ইবনু আবূ লুবাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
। কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তওবা কবূল হওয়ায় আমি আমার সমস্ত সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো এবং আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথে খরচ করবো। তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক সম্পদ? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি বললাম, খায়বারে প্রাপ্ত সম্পদ আমার নিজের জন্য রেখে দিলাম।