। মা‘মার (রহঃ) বলেন, ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেছেন, উল্লেখিত বর্ণের পার্থক্য এক একটি বর্ণে সীমিত (অর্থাৎ তা কেবল আক্ষরিক পার্থক্য), এখানে হালাল-হারাম সম্পর্কে কোন বিভেদ নেই।[1] সহীহ মাক্বতূ‘ : মুসলিম।
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে উবাই! আমাকে কুরআন শিখানো হয়েছে। আমাকে বলা হলো, এক হরফে নাকি দু’ হরফে? তখন আমার সঙ্গী ফিরিশতা বললেন, বলুন, দু’ হরফে। আমি বললাম, দু’ হরফে। অতঃপর আমাকে বলা হলো, দু’ হরফে নাকি তিন হরফে? আমার সঙ্গী ফিরিশতা বললেন, বলুন, তিন হরফে। তখন আমি বললামঃ আমি তিন হরফে (রীতিতে) পাঠ করতে চাই। এভাবে পর্যায়ক্রমে সাত হরফে পৌঁছে। অতঃপর ফিরিশতা বললেন, এর যে কোনো রীতিতে পাঠ করা মুর্খতার নিরাময় এবং সালাতের জন্য যথেষ্ট। অতঃপর বললেন, আপনি সামী‘আন, ‘আলীমান, ‘আযীযান, হাকীমান-এর স্থলে অন্য কোনো সিফাত পরিবর্তন করে পাঠ করলে দোষ নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত ‘আযাবের আয়াতকে রহমত দিয়ে এবং রহমতের আয়াতকে ‘আযাবের আয়াত দিয়ে পরিবর্তন না করা হয়।[1] সহীহ।
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু গিফারের কূপ বা ঝর্ণার নিকট অবস্থানকালে জিবরাঈল (আ) এসে বললেন, আল্লাহ আপনার উম্মাতকে এক হরফে (রীতিতে) কুরআন পড়ানোর জন্য আপনাকে আদেশ করেছেন। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর কাছে তাঁর ক্ষমা ও উদারতা কামনা করি যে, আমার উম্মাত (ভাষা ও আঞ্চলিকতার বিভিন্নতার দরুন) এই এক হরফে পাঠ করতে সক্ষম হবে না। অতঃপর জিবরাঈল দ্বিতীয়বার এসে আগের মতই বললেন। অবশেষে সাত হরফ পর্যন্ত পৌঁছে বললেন, আল্লাহ আপনার উম্মাতকে সাত হরফে কুরআন পড়াতে আপনাকে আদেশ করেছেন। আপনার উম্মাত এর যে কোনো হরফে পড়লেই তাদের পড়া নির্ভুল হবে।[1] সহীহ।
হাদিস 1479 — Sunan Abu Dawud 8:64
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ يُسَيْعٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ { قَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ } " .
। সা‘দ (রাঃ) এর এক পুত্রের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার আব্বা আমাকে বলতে শুনলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত, তার সমস্ত নিয়ামাত ও আনন্দদায়ক বস্ত্ত চাই এবং ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের আগুন হতে ও তথাকার শক্ত শিকল ও হাতকড়া বেড়ী হতে, এবং ইত্যাদি।’ তিনি বললেন, হে আমার পুত্র! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ শীঘ্রই এমন জাতির আবির্ভাব হবে যারা দু‘আর মধ্যে সীমালঙ্ঘন করবে। সাবধান! তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ো না। তোমাকে জান্নাত দেয়া হলে সমগ্র জান্নাত ও তার যাবতীয় কল্যণকর সম্পদও তোমাকে দেয়া হবে। আর যদি জাহান্নামের আগুন হতে রেহাই পাও তাহলে তথাকার যাবতীয় অমঙ্গল ও কষ্টদায়ক সব কিছু হতেই রেহাই পাবে।[1] হাসান সহীহ : অনুরূপ গত হয়েছে (৯৬৫)।
হাদিস 1481 — Sunan Abu Dawud 8:66
সহিহসহিহসহিহIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ، حُمَيْدُ بْنُ هَانِئٍ أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ، عَمْرَو بْنَ مَالِكٍ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يَدْعُو فِي صَلاَتِهِ لَمْ يُمَجِّدِ اللَّهَ تَعَالَى وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَجِلَ هَذَا " . ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَحْمِيدِ رَبِّهِ جَلَّ وَعَزَّ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَدْعُو بَعْدُ بِمَا شَاءَ " .
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ফাদালাহ ইবনু ‘উবাইদ (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে সালাতের মধ্যে দু‘আকালে আল্লাহর বড়ত্ব ও গুণাবলী বর্ণনা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি দরূদ পাঠ করতে শুনলেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ ব্যক্তি তাড়াহুড়া করেছে। অতঃপর তিনি ঐ ব্যক্তিকে অথবা অন্য কাউকে বললেনঃ তোমাদের কেউ সালাত আদায়কালে যেন সর্বপ্রথম তার প্রভূর মহত্ব ও প্রশংসা বর্ণনা করে এবং পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরূপ পাঠ করে, অতঃপর ইচ্ছানুযায়ী দু‘আ করে।[1] সহীহ।
হাদিস 1482 — Sunan Abu Dawud 8:67
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ شَيْبَانَ، عَنْ أَبِي نَوْفَلٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَحِبُّ الْجَوَامِعَ مِنَ الدُّعَاءِ وَيَدَعُ مَا سِوَى ذَلِكَ .
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিপূর্ণ বাক্যে দু‘আ করা পছন্দ করতেন (যে দু‘আয় দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের কথা থাকে), এছাড়া অন্যান্য দু‘আ ত্যাগ করতেন।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে, হে আল্লাহ! তোমার ইচ্ছা হলে আমাকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! তোমার ইচ্ছা হলে আমার প্রতি অনুগ্রহ করো। বরং যা চাওয়ার দৃঢ়তার সাথে চাইবে। কেননা তাঁর উপর কারোর প্রভাব চলে না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 1484 — Sunan Abu Dawud 8:69
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (6340) Sahih Muslim (2735)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ فَيَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের দু‘আ কবুল হয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে এবং বলে, আমি তো দু‘আ করেছি, অথচ কবুল হয়নি?[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের ঘরের দেয়ালগুলো পর্দায় আবৃত করো না। যে ব্যক্তি বিনা অনুমতিতে তার ভাইয়ের চিঠিতে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো, সে যেন জাহান্নামের আগুনের দিকে তাকালো। তোমরা হাতের পৃষ্ঠের দ্বারা নয় বরং হাতের তালুর দ্বারা আল্লাহর কাছে চাইবে। অতঃপর দু‘আ শেষে তোমাদের হাতের তালু দিয়ে নিজের চেহারা মুছবে।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু কা‘ব হতে বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। এর সবগুলো সূত্রই নিকৃষ্ট। তবে এ সূত্রের বর্ণনাটি ভালো, কিন্তু এটাও দুর্বল।