। আয-যুহরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুযাইনাহ গোত্রের জনৈক ব্যক্তিকে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব (রহঃ) সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণিত হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, একজোড়া বিবাহিত ইয়াহুদী নারী-পুরুষ যেনা করে। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরাত করে মদীনায় আসেন। যেনার শাস্তির ব্যাপারে তাওরাত কিতাবে রজমের বিধান বিদ্যমান ছিলো, কিন্তু ইয়াহুদীরা তা পরিত্যাগ করে ‘তাজবীহ’ নামক শাস্তি চালু করে। তাজবীহ হলো, পাকানো রশি দিয়ে একশোবার প্রহার করা এবং মুখমন্ডলে চুন-কালি মেখে গাধার উপর এমনভাবে বসিয়ে দেয়া যে, অপরাধীর মুখ গাধার পিছন দিকে থাকে। এমনিভাবে তাকে এলাকা জুড়ে চক্কর দেয়া। অতঃপর তাদের ‘আলিমদের একটি দল একত্র হলো এবং অপর একটি দলকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠিয়ে দিলো এবং তাদের বলে দিলো যে, তাঁকে গিয়ে যেনার শাস্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। এভাবে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসে আরো আছেঃ যারা তাঁর ধর্মের অনুসারী নয়, তিনি তাদের মাঝেও ফায়সালা করতেন। অতঃপর এ ব্যাপারে তাঁকে স্বাধীনতা দিয়ে আল্লাহ বলেনঃ ‘‘তারা যদি আপনার নিকট আসে, তবে আপনি তাদের বিচার মীমাংসা করুন অথবা তাদের উপেক্ষা করুন’’ (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৪২)।[1] দুর্বল।
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদল ইয়াহুদী তাদের মধ্যকার যেনার অপরাধী পুরুষ-নারীকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলো। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যকার সব চাইতে বিজ্ঞ দু’ জন লোক নিয়ে এসো। অতএব তারা ‘সূরিয়ার’ দু’ পুত্রকে তাঁর নিকট হাযির করলো। তিনি তাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে প্রশ্ন করেনঃ তোমরা এদের ব্যাপারে তাওরাতে কিরূপ বিধান দেখতে পাও? তারা বললো, আমরা তাওরাতে দেখতে পাই, চারজন সাক্ষী যদি সাক্ষ্য দেয় যে, তারা পুরুষটির গুপ্তাঙ্গ স্ত্রী গুপ্তাঙ্গে এরূপভাবে ঢুকানো অবস্থায় দেখেছে, যেরূপ সুরমা শলাকা সুরমাদানিতে ঢুকানো হয়। তাহলে তাদের উভয়কে রজম করা হবে। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তাহলে কোন্ জিনিসটা তোমাদেরকে তাদেরকে রজম করতে বাঁধা দিচ্ছে? তারা উভয়ে বললো, আমাদের শাসনক্ষমতা লোপ পেয়েছে। সুতরাং হত্যা করাকে আমরা অনুমোদন করি না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষীদের নিয়ে আসতে ডাকলেন। তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে এলো। তারা সাক্ষ্য দিলো যে, সুরমা শলাকা যেরূপ সুরমাদানির ভিতরে ঢুকে যায় ঠিক সেরূপই তারা পুরুষটির গুপ্তাঙ্গ স্ত্রী লোকটির গুপ্তাঙ্গের মধ্যে ঢুকানোর অবস্থায় দেখেছে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের রজম করার নির্দেশ দেন।[1] সহীহ।
হাদিস 4453 — Sunan Abu Dawud 40:103
সহিহসহিহ Lighairihiদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ هُشَيْمٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، وَالشَّعْبِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ لَمْ يَذْكُرْ فَدَعَا بِالشُّهُودِ فَشَهِدُوا .
। ইবরাহীম ও আশ-শা‘বী (রহঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তবে এতে ‘‘তিনি সাক্ষীদের হাযির করতে বললেন। অতএব তারা এসে সাক্ষী দিলো’’- এ কথাটি উল্লেখ নেই।[1] সহীহ।
। আল-বারা‘আ ইবন আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার একটি হারানো উট খোঁজ করতে বেরিয়েছি, এমন সময় একদল আরোহী অথবা অশ্বারোহী আমার সামনে এসে উপস্থিত হয়। তাদের নিকট একটি পতাকা ছিলো। এই বেদুঈনরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় পাত্র হিসেবে আমার চারদিকে ঘুরতে থাকে। যখন তারা একটি গম্বুজ সদৃশ স্থাপনার নিকট এসে এর ভিতর থেকে একটি লোককে বের করে হত্যা করে তখন আমি তাদেরকে তার সম্পর্কে বললাম। তারা বললো, লোকটি তার পিতার স্ত্রীকে (সৎ মাকে) সঙ্গম করেছিল।[1] সহীহ।
। ইয়াযীদ ইবনু বারাআ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তখন তার সঙ্গে একটি ঝান্ডা ছিলো। আমি তাকে বলি, কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এক ব্যক্তির নিকট পাঠিয়েছেন, যে তার পিতার স্ত্রীকে (সৎ মাকে) বিয়ে করেছে। তিনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন তাকে হত্যা করতে এবং তার সম্পদ নিয়ে আসতে।[1] সহীহ।
। হাবিব ইবনু সালিম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আব্দুর রাহমান ইবনু হুনাইন নামক জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করে। বিষয়টি কূফার গভর্ণর নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ)-এর নিকট পেশ করা হলে তিনি বলেন, আমি অবশ্যই তোমার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফায়সালার মতোই ফায়সালা করবো। তোমার স্ত্রী যদি এ বাঁদীকে তোমার জন্য বৈধ করে দিয়ে থাকে, তবে আমি তোমাকে একশো বেত্রাঘাত করবো, আর যদি তোমার জন্য বৈধ না করে থাকে তাহলে তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবো। পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে, তার স্ত্রী বাঁদীকে তার জন্য বৈধ করে দিয়েছেন। কাজেই তিনি তাকে একশো বেত্রাঘাত করেন। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, আমি হাবিব ইবনু সালিমের নিকট চিঠি লিখলে তিনি এ হাদীসটি লিখে পাঠান।[1] দুর্বল।
। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করলে, তার স্ত্রী যদি তাকে তার জন্য বৈধ করে দিয়ে থাকে তবে একশো বেত্রাঘাত করা হবে; আর যদি বৈধ করে না দিয়ে থাকে, তবে তাকে আমি রজম করবো।[1] দুর্বল।
। সালামাহ ইবনুল মুহাব্বিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে ফায়সালা দিলেন, সে যদি তার সঙ্গে জোরপূর্বক এ কাজ করে থাকে, তাহলে দাসী আযাদ এবং তার কর্তব্য হলো, তার মতো একটি দাসী তার মনিবকে (স্ত্রীকে) দেয়া। আর যদি আপোষে তা হয়ে থাকে, তাহলে সে তার মালিকানায় চলে যাবে এবং দাসীর মনিবকে তার মতো একটি দাসী প্রদান করা স্বামীর কর্তব্য হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইউনুস ইবনু উবাইদ, আমর ইবনু দীনার, মানসূর ইবনু যাযান ও সাল্লাম (রহঃ) আল হাসান সূত্রে এ হাদীস পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণনা করেন। ইউনুস ও মানসুর (রহঃ) কাবীসাহর (রাঃ) উল্লেখ করেননি।[1] দুর্বল।