حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ قُرِئَ عَلَى مَالِكٍ وَأَنَا حَاضِرٌ، قَالَ مَالِكٌ عَرَضَ عَلَىَّ نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ جَارِيَةً تَعْتِقُهَا فَقَالَ أَهْلُهَا نَبِيعُكِهَا عَلَى أَنَّ وَلاَءَهَا لَنَا . فَذَكَرَتْ عَائِشَةُ ذَاكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لاَ يَمْنَعُكِ ذَلِكَ فَإِنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ " .
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) মুক্ত করার জন্য একটি দাসী কেনার ইচ্ছা করলেন। বাঁদীর মালিক বললো, ‘আমরা তাকে আপনার নিকট এ শর্তে বিক্রি করতে পারি যে, তার 'ওয়ালাআ' (মৃত্যুর পর পরিত্যক্ত সম্পদের মালিক) ‘আমরা হবো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উত্থাপন করলে তিনি বলেনঃ সে তোমাকে এর থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। কারণ দাসীর সম্পদের মালিক তার মুক্তকারী হবে।
হাদিস 2916 — Sunan Abu Dawud 19:32
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (6754)
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْطَى الثَّمَنَ وَوَلِيَ النِّعْمَةَ " .
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুক্তদাসের পরিত্যক্ত সম্পদ ঐ ব্যক্তি পাবে যে মূল্য পরিশোধ করেছে এবং সদয় ব্যবহার করেছে।
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রিয়াব ইবনু হুযাইফাহ জনৈক মহিলাকে বিবাহ করে এবং তার গর্ভে তিনটি সন্তান জন্ম হয়। অতঃপর তাদের মা মারা গেলে তারা তার পরিত্যক্ত বাড়ি ও আযাদকৃত দাসের সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) ছিলেন তাদের আত্মীয়। পরবর্তী সময় তিনি তাদেরকে সিরিয়ায় প্রেরণ করেন। তারা সেখানে মৃত্যু বরণ করে। পরে ‘আমর ইবনুল ‘আস সেখানে যান। তখন ঐ মহিলার মুক্তদাস কিছু মালপত্র রেখে মারা যায়। মহিলার ভাইয়েরা আমরের বিরুদ্ধে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট অভিযোগ করলে ‘উমার (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পিতা বা পুত্র যে ওয়ালাআ সঞ্চয় করলো সেগুলো তার আসাবা পাবে। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) আমাকে একটি রায় লিখেন। এতে ‘আব্দুর রাহমান ইবনু ‘আওফ, যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) ও অন্য এক লোক সাক্ষী হন। ‘আব্দুল মালিক যখন (৬৮৫ খৃঃ) খলীফা হলেন, তখন হিশাম ইবনু ইসমাঈল বা ইসমাঈল ইবনু হিশামের নিকট অনুরূপ একটি অভিযোগ করা হয়। তিনি বিষয়টি আব্দুল মালিকের নিকট পাঠিয়ে দেন। ‘আব্দুল মালিক বলেন, আমার মনে হয় এর ফায়সালা ইতিপূর্বে আমার নজড়ে পড়েছে। তিনি বলেন, তিনি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর রায় অনুসারেই রায় দিলেন। আর সেই ওয়ালাআর সম্পত্তি এখনো আমাদের অধিকারে রয়েছে।
। তামীম আদ-দারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! (বর্ণনাকারী) ইয়াযীদের বর্ণনায় রয়েছে, হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের হাতে ইসলাম কবূল করেছে তার ব্যাপারে কি বিধান? তিনি বললেনঃ ঐ মুসলিম ব্যক্তি তার জীবন ও মরণে ঘণিষ্ঠ বন্ধু।
হাদিস 2919 — Sunan Abu Dawud 19:35
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (2535) Sahih Muslim (1506)
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضى الله عنهما قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْوَلاَءِ وَعَنْ هِبَتِهِ .
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালাআ বিক্রয় এবং হেবা করতে নিষেধ করেছেন।
হাদিস 2920 — Sunan Abu Dawud 19:36
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اسْتَهَلَّ الْمَوْلُودُ وُرِّثَ " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শিশু ভূমিষ্ঠ হয়ে কান্নার শব্দ করে মারা গেলে তাকে ওয়ারিস গণ্য করবে।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন (আল্লাহর বাণীঃ) ‘‘যাদের সাথে তোমরা ওয়াদাবদ্ধ তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করো।’’[সূরা আন-নিসাঃ ৩৩] পূর্ব যুগের লোকেরা পারস্পরিক চুক্তি বা শপথের মাধ্যমে একে অপরের ওয়ারিস হতো, অথচ তাদের মধ্যে বংশীয় বা আত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক থাকতো না। এ সুযোগ রহিত হয় সূরা আল-আনফালের এ আয়াত দ্বারাঃ ‘‘আল্লাহর বিধানে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়রা একে অন্যের চেয়ে অধিক হকদার।’’
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে মহান আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে বর্ণিতঃ ‘‘যাদের সাথে তোমরা ওয়াদাবদ্ধ তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করো।’’[সূরা আন-নিসাঃ ৩৩] তিনি বলেন, মুহাজিরগণ হিজরাত করে মদীনায়হ আসার পর, আত্মীয়তার বন্ধন ছাড়াই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের মাঝে প্রতিষ্ঠিত ভ্রাতৃ-বন্ধনের ভিত্তিতে আনসারদের মীরাস পান। যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ ‘‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়রা যে সম্পদ রেখে যাবে, ‘আমরা এর প্রত্যেকটির হকদার নির্দিষ্ট করে দিয়েছি...[সূরা আন-নিসাঃ ৩৩] তিনি বলেন, ‘‘যাদের সাথে তোমরা ওয়াদাবদ্ধ তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করো।’’ উপরের আয়াত দ্বারা রহিত। কিন্তু সাহায্য, উপদেশ, ওসিয়াত ইত্যাদি করার নির্দেশ বহাল আছে, কিন্তু ওয়ারিস হওয়ার প্রথা বাতিল।
। দাঊদ ইবনুল হুসাইন (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রবী‘র কন্যা এবং সা‘দের মায়ের নিকট কুরআন পড়তাম। সা‘দের মা ছিলেন ইয়াতীম। তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-এর তত্ত্বাবধানে লালিত হন। যখন আমি এ আয়াত পড়িঃ ‘‘যাদের সাথে তোমরা ওয়াদাবদ্ধ তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করো।’’ তিনি বললেন, ‘‘যাদের সাথে তোমাদের চুক্তি রয়েছে...।’’ এ আয়াত পাঠ করো না। কেননা এ আয়াত আবূ বাকর (রাঃ) ও তার ছেলে ‘আব্দুর রাহমানের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। সে ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করায় আবূ বাকর (রাঃ) শপথ করে বলেন, সে তার উত্তরাধিকারী হবে না। অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আব্দুর রাহমানকে মীরাসের অংশ দেয়ার জন্য আবূ বাকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী ‘আব্দুল আযীয বর্ণনা করেন, তরবারী তাকে ইসলাম গ্রহণের বাধ্য করার পূর্বে সে ইসলাম গ্রহণ করেনি।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। (আল্লাহর বাণীঃ) ‘‘যারা ঈমান এনেছে, হিজরাত করেছে এবং নিজেদের জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য করেছে তারা পরস্পরের বন্ধু। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরাত করেনি, তাদের সাথে তোমাদের বন্ধুত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতার সম্পর্ক নেই- যতক্ষণ তারা হিজরাত না করে।’’[সূরা আন-আনফলঃ ৭২] বেদুঈনরা মুহাজিরদের ওয়ারিসত হতো না এবং মুহাজিরগণও তাদের ওয়ারিস হতেন না। উপরের আয়াত রহিত হয় এ আয়াত দ্বারাঃ ‘‘আল্লাহর কিতাবে রক্তের আত্মীয়গণ পরস্পরের মাঝে অধিক হকদার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু অবহিত।’’ (সূরা আন-আনফালঃ)