। সুওয়াইদ ইবনু গাফালাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যায়িদ ইবনু সুহান এবং সালমান ইবনু রবী‘আহ এক সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। এ সময় আমি একটি চাবুক পাই। তারা দু‘জনেই আমাকে চাবুকটি ফেলে দিতে বললেন। তখন আমি বললাম, না, যদি এর মালিককে পাই (তাহলে তাকে এটি ফেরত দিবো), অন্যথায় আমি নিজে এটা ব্যবহার করবো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি হজ পালন শেষে মাদীনায় গিয়ে (এ বিষয়ে) উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি একটি থলে পেয়েছিলাম। যার মধ্যে একশো দীনার ছিলো। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। তিনি বললেনঃ এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দিয়ে যাও। আমি তাই করলাম। আমি (এক বছর পরে) পুনরায় তার কাছে আসলাম। তিনি আরো এক বছর ঘোষণা দিতে বললেন। ফলে আমি আরো এক বছর ঘোষণা দিলাম। অতঃপর তার কাছে এসে বললাম, আমি এর মালিকের সন্ধান পাই নি। তিনি বললেনঃ দীনারের সংখ্যা, থলি এবং থলির বাঁধন হিফাযাতে রাখো। যদি এর মালিক আসে (তাকে তা দিয়ে দিবে)। অন্যথায় তুমি এগুলো কাজে লাগাবে। বর্ণনাকারী সালামাহ ইবনু কুহাইল বলেন, আমার মনে নেই যে, সুওয়াইদ কি তিন বছর ঘোষণা দেয়ার কথা বলেছেন নাকি এক বছর।[1] সহীহ।
হাদিস 1702 — Sunan Abu Dawud 10:2
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (2426) Sahih Muslim (1723)
। শু‘বাহ হতে এই সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘‘এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দাও’’- তিনি এ কথাটি তিনবার বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি অবহিত নই যে, (সালামাহ) এক বছর ঘোষণা করার কথা বলেছেন নাকি তিন বছর।[1] সহীহ।
। সালামাহ ইবনু কুহাইল (রাঃ) সূত্রে এ সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণিত। তিনি ঘোষণা সম্পর্কে বলেন, দুই অথবা তিন বছর। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ (দীনারের) পরিমাণ, থলে এবং থলের বাঁধন চিনে রাখো। যদি এর মালিক আসে এবং এর সংখ্যা ও থলে চিনতে পারে তাহলে তাকে তা দিয়ে দিবে।[1] সহীহ।
হাদিস 1704 — Sunan Abu Dawud 10:4
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (2436) Sahih Muslim (1722)
। যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাস্তায় পড়ে থাকা জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ তুমি ঐ জিনিস সম্পর্কে এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দিতে থাকবে। অতঃপর তুমি এর থলি ও বাঁধন চিনে রাখবে। তারপর সেখান থেকে খরচ করবে। যদি এর মালিক এসে উপস্থিত হয় তবে তাকে তা ফেরত দিবে। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রসূল! পথহারা বকরীর বিধান কি? তিনি বললেন, তা ধরে রাখো। কেননা সেটা হয় তো তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের কিংবা বাঘের জন্য। লোকটি আবার বললো, হে আল্লাহর রসূল! পথহারা উটের বিধান কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে অসন্তুষ্ট হলেন এবং তাঁর চিবুক বা চেহারা লালবর্ণ ধারণ করলো। অতঃপর তিনি বললেনঃ এর (উটের) সাথে তোমার কি সম্পর্ক? কারণ এর পা আছে এবং পেটের ভেতর পানিও রয়েছে, যতক্ষণ না এর মালিক আসে (ততক্ষণ চলতে থাকবে)।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। মালিক (রহঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। এতে আরো রয়েছেঃ উটের পেটে পানি সংরক্ষিত আছে। সে পানি পানের স্থানে যেতে পারবে, ঘাস খেতে পারবে। কিন্তু এ হাদীসে হারিয়ে যাওয়া বকরী ধরে রাখার কথা নেই। তিনি লুক্বতাহ সম্পর্কে বলেন, এ ব্যাপারে এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দিতে হবে। এ সময়ের মধ্যে মালিক ফিরে এলে তাকে তা ফিরিয়ে দিবে, অন্যথায় তোমার যা ইচ্ছে করবে। এতে ‘ইসতানফিক্ব’ শব্দটি নেই। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সওরী, সুলায়মান ইবনু হিলাল এবং হাম্মাদ ইবনু সালামাহ (রাঃ) রবী‘আহ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু (হারানো বকরী) ‘‘ধরে রাখার কথা নেই।[1] সহীহ : মুসলিম।
। যায়িদ ইবনু খলিদ আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাস্তায় পড়ে থাকা বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা করবে। যদি এর মালিক এসে উপস্থিত হয় তাহলে তাকে তা ফিরিয়ে দিবে। অন্যথায় এর থলি ও বাঁধন চিনে রাখবে। অতঃপর তুমি তা থেকে ভোগ করবে। তবে (পরবর্তীতে) যদি এর মালিক এসে যায় তবে তাকে তা ফিরিয়ে দিবে।[1] সহীহ : মুসলিম, এর সানাদে অতিরিক্ত আছে, নাদর, সাঈদ হতে বুসর সূত্রে। এটাই সঠিক।
। যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো... অতঃপর রবী‘আহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। খালিদ বলেন, পড়ে থাকা বস্ত্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এক বছর যাবত এর ঘোষণা করবে। এর মালিক ফিরে আসলে তাকে তা ফেরত দিবে। নতুবা তুমি এর থলি ও বাঁধন চিনে রাখবে এবং তা তোমার মালের সাথে রেখে দিবে। আর এর মালিক ফিরে এলে তাকে তা দিয়ে দিবে।[1] সহীহ।
। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ ও রবী‘আহ কুতাইবাহর সানাদে এবং তার হাদীসের অর্থে বর্ণনা করেন। এতে আরো রয়েছেঃ যদি এর মালিক ফিরে আসে এবং এর থলি ও পরিমাণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেশ করে তাহলে তাকে তা দিয়ে দিবে। হাম্মাদ তার সানাদ পরম্পরায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ, সালামাহ ইবনু কুহাইল, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ এবং ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘উমারের হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা হলোঃ যদি এর মালিক ফিরে আসে এবং এর থলি ও বাঁধন চিনতে পারে তবে তাকে তা ফিরিয়ে দিবে।’’ এ বাক্যের মধ্যে ‘‘এর থলি ও বাঁধন চিনতে পারে’’ কথাটি সংরক্ষিত নয়। উক্ববাহ ইবনু সুওয়াইদ তার পিতা থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করে বলেনঃ ‘‘এক বছর ঘোষণা দিতে হবে।’’ এছাড়াও ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত হাদীসেও এক বছর ঘোষণা করার কথা আছে।[1] যায়িদ ইবনু খালিদের হাদীস-সহীহ। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমরের হাদীস-হাসান সহীহ। সুওয়াইদের হাদীস-সহীহ। ‘উমার ইবনুল খাত্তাবের হাদীস-সহীহ।
। ইয়াদ ইবনু হিমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাস্তায় পড়ে থাকা বস্তু পাবে, সে যেন একজন অথবা দুইজন সত্যবাদী লোককে এর সাক্ষী রাখে। বিষয়টি যেন সে গোপন না রাখে এবং আত্নসাৎ না করে। যদি সে এর মালিককে পায় তাহলে তাকে তা ফিরিয়ে দিবে। অন্যথায় মহান আল্লাহর মাল, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করে থাকেন।[1] সহীহ।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাছে ঝুলে থাকা ফল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ কেউ যদি তা নিরূপায় (অভাবী) হয়ে খায় এবং তা লুকিয়ে না নেয় তাহলে তার জন্য দোষণীয় নয়। আর যে ব্যক্তি এর বিপরীত করবে (লুকিয়ে নিবে) তাহলে তার জন্য এর দ্বিগুণ জরিমানা রয়েছে এবং সে শাস্তিও পাবে। আর যে ব্যক্তি খেজুর চুরি করে এরূপ অবস্থায় যে, তা গাছ থেকে কেটে শুকানোর জন্য আঙ্গিনায় রাখা হয়েছে, তাহলে চুরিকৃত জিনিসের মূল্য যুদ্ধের একটি ঢালের পরিমাণ হলে তার হাত কাটা হবে। বর্ণনাকারী পথহারা বকরী ও উটের কথাও উল্লেখ করেছেন যেমন বর্ণনা করেছেন অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ। তিনি বলেন, তাঁকে লুক্বতাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, জনসাধারণের চলাচলের পথে কিছু পাওয়া গেলে এক বছর যাবত তা ঘোষণা করতে থাকবে। যদি এর মালিক এসে যায় তাহলে তাকে তা দিয়ে দিবে। আর যদি না আসে তবে তা তোমার। আর যে জিনিস অনাবাদী এলাকায় (গুপ্তধনরূপে) পাওয়া যাবে তার এক-পঞ্চমাংশ (যাকাত) দিবে।[1] হাসান।