। ‘আতা ইবনু আবূ রাবাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) আমার নিকট উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে রয়েছেঃ তিনি অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমিই মুদাব্বার গোলামের মূল্যের পাওনাদার, আর আল্লাহ তা থেকে মুখাপেক্ষীহীন।[1] সহীহ।
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। আবূ মাযকূর নামক জনৈক আনসারীর ইয়াকূব নামে একটি কৃতদাস ছিলো। সে ঘোষণা করে যে, সে মনিব মারা গেলে কৃতদাস আযাদ। অথচ এ কৃতদাস ছাড়া তার অন্য কোনো সম্পদ ছিলো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে আনলেন এবং সাহাবীদের বলেনঃ কে একে কিনবে। নু‘আইম ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু নাহহাম গোলামটিকে আটশো দিরহামে কিনে নিলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অর্থ আনসারীকে দিয়ে বলেনঃ তোমাদের মাঝে কেউ দরিদ্র থাকলে সে প্রথমে নিজের জন্য ব্যয় করবে। তারপর প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকলে তা নিকট আত্মীয়ের জন্য ব্যয় করবে, এরপরও অবশিষ্ট থাকলে আল্লাহর পথে নেককাজে ব্যয় করবে।[1]’ সহীহ।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একজন মুমূর্ষ ব্যক্তি তার ছয়টি গোলামকে আযাদ করে দিলো। এগুলো ছাড়া তার অন্য কোনো সম্পদ ছিলো না। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলে তিনি সেই ব্যক্তিকে কঠোর ভাষায় ধমকালেন। অতঃপর গোলামদের ডেকে এনে তিন ভাগে ভাগ করে তাদের মাঝে লটারী দিলেন। লটারীর ভিত্তিতে দু’ জনকে আযাদ করে দিলেন এবং চারজনকে গোলাম হিসেবে রেখে দিলেন।[1] সহীহ।
। আবূ যায়িদ (রহঃ) সূত্রে জনৈক আনসারী সম্পর্কিত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি যদি তার দাফনের পূর্বে উপস্থিত হতাম, তাহলে তাকে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা হতো না।[1] সনদ সহীহ।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। মুমূর্ষ অবস্থায় এক ব্যক্তি তার ছয়টি কৃতদাসকে আযাদ করে দিলো। অথচ এগুলো ছাড়া তার অন্য কোনো সম্পদ ছিলো না। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলে তিনি তাদের মাঝে লটাকরী করে দু’ জনকে আযাদ করেন এবং চারজনকে দাস হিসেবে রেখে দেন।
। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ সম্পদশালী দাস আযাদ করলে, সে তার সম্পদ পাবে, যদি না মনিব এমন শর্ত করে যে, সম্পদ তারই থাকবে।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জারজ সন্তান তিনটি মন্দের অন্যতম। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর পথে চাবুক দ্বারা উপকৃত হওয়া আমার নিকট জারজ সন্তান আযাদ করার চেয়ে বেশী প্রিয়।[1] সহীহ।
। আল-গারীফ ইবনুদ দায়লামী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা‘ (রাঃ)-এর নিকট এসে তাকে বলি, আমাদের নিকট এমন একটি হাদীস বর্ণনা করুন, যাতে না বাড়তি কিছু আছে, না কমতি কিছু। একথা শুনে তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন, নিশ্চয়ই তোমাদের মাঝে এমন ব্যক্তি আছে, যে ঘরে তার কিতাব (আল-কুরআন) থেকে বাড়িয়ে-কমিয়ে পাঠ করে? আমরা বললাম, আমরা তো এরূপ হাদীসের আশা করেছি, যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছেন। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আমাদের এক মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে বললাম, হত্যার দায়ে যার উপর জাহান্নামের আগুন অবধারিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ তার পক্ষ থেকে তোমরা দাস মুক্ত করো, আল্লাহ দাসের প্রতিটি অঙ্গের পরিবর্তে মৃত ব্যক্তির প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিবে।[1] দুর্বল।
। আবূ নাজীহ আস-সুলামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তায়েফ দুর্গ অবরোধ করেছি। মু‘আয (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তায়েফ প্রাসাদ বা তায়েফ দুর্গ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছে, তার জন্য একটি মর্তবা রয়েছে। এ হাদীস এভাবে অগ্রসর হয়েছে। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে কোনো মুসলিম পুরুষ তার মুসলিম দাসকে মুক্ত করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন এ কৃতদাসের প্রতিটি হাড়ের বিনিময়ে মুক্তি দাতার প্রতিটি হাড়কে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। আর যে কোনো মুসলিম নারী তার মুসলিম কৃতদাসীকে মুক্ত করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ এ দাসীর প্রতিটি হাড়ের বিনিময়ে কিয়ামতের দিন মুক্তিদাত্রীর প্রতিটি হাড়কে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।[1] সহীহ।