। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ অবস্থায় মক্কায় আসেন। এ সময় তিনি তাঁর সাওয়ারীতে চড়ে তাওয়াফ করেন। তিনি রুকনের নিকট আসলে লাঠির সাহায্যে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করতেন। তাওয়াফ শেষ করার পর তিনি উটকে বসিয়ে দেন এবং দু‘রাক‘আত সালাত আদায় করেন।[1] দুর্বল।
হাদিস 1882 — Sunan Abu Dawud 11:162
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (464) Sahih Muslim (1276)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ شَكَوْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِّي أَشْتَكِي فَقَالَ " طُوفِي مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ وَأَنْتِ رَاكِبَةٌ " . قَالَتْ فَطُفْتُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَئِذٍ يُصَلِّي إِلَى جَنْبِ الْبَيْتِ وَهُوَ يَقْرَأُ بِـ { الطُّورِ * وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ } .
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেন, তুমি সাওয়ারীতে চড়ে লোকদের পেছন থেকে তাওয়াফ করবে। তিনি বলেন, আমি এরূপই তাওয়াফ করি। আর তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর এক পাশে সালাত আদায় করছিলেন এবং তিনি ‘‘ওয়াত-তূরি ওয়া কিতাবিম মাসতূর’’ সূরাটি পাঠ করেছিলেন।[1] সহীহ।
হাদিস 1883 — Sunan Abu Dawud 11:163
হাসানহাসানহাসান Sahihদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ يَعْلَى، عَنْ يَعْلَى، قَالَ طَافَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُضْطَبِعًا بِبُرْدٍ أَخْضَرَ .
। ইয়ালা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবুজ রঙ এর একখানা চাদর বগলের নীচ থেকে নিয়ে কাঁধের উপর রাখা অবস্থায় (বায়তুল্লাহ) তাওয়াফ করেছেন।[1] হাসান।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ আল-জিই‘ররানা নামক স্থান থেকে ‘উমরার ইহরাম বাঁধেন এবং তাঁরা বায়তুল্লাহ তাওয়াফের সময় রমল করেন (দ্রুত পদে হাটেন)। এসময় তাঁরা নিজেদের চাদর বগলের নীচে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রেখে দেন।[1] সহীহ।
হাদিস 1885 — Sunan Abu Dawud 11:165
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الْغَنَوِيُّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ عَبَّاسٍ يَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ رَمَلَ بِالْبَيْتِ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ . قَالَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا . قُلْتُ وَمَا صَدَقُوا وَمَا كَذَبُوا قَالَ صَدَقُوا قَدْ رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَبُوا لَيْسَ بِسُنَّةٍ إِنَّ قُرَيْشًا قَالَتْ زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ دَعُوا مُحَمَّدًا وَأَصْحَابَهُ حَتَّى يَمُوتُوا مَوْتَ النَّغَفِ . فَلَمَّا صَالَحُوهُ عَلَى أَنْ يَجِيئُوا مِنَ الْعَاِمِ الْمُقْبِلِ فَيُقِيمُوا بِمَكَّةَ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْمُشْرِكُونَ مِنْ قِبَلِ قُعَيْقِعَانَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِهِ " ارْمُلُوا بِالْبَيْتِ ثَلاَثًا " . وَلَيْسَ بِسُنَّةٍ . قُلْتُ يَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ عَلَى بَعِيرِهِ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ فَقَالَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا . قُلْتُ مَا صَدَقُوا وَمَا كَذَبُوا قَالَ صَدَقُوا قَدْ طَافَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ عَلَى بَعِيرِهِ وَكَذَبُوا لَيْسَ بِسُنَّةٍ كَانَ النَّاسُ لاَ يُدْفَعُونَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ يُصْرَفُونَ عَنْهُ فَطَافَ عَلَى بَعِيرٍ لِيَسْمَعُوا كَلاَمَهُ وَلِيَرَوْا مَكَانَهُ وَلاَ تَنَالَهُ أَيْدِيهِمْ .
। আবুত তুফাইল (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে বললাম, আপনার সম্প্রদায়ের ধারণা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহ তাওয়াফের সময় দ্রুতপদে হেটেছেন এবং এরূপ করা সুন্নাত। তিনি বললেন, তারা সত্য বলেছে এবং মিথ্যাও বলেছে। আমি বললাম, তারা কি সত্য বলেছে এবং কি মিথ্যা বলেছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘রমল’ করেছেন, একথা সত্য কিন্তু একে সুন্নাত বলা মিথ্যা। হুদায়বিয়ার সময় কুরাইশগণ মুসলিমদেরকে তিরস্কারস্বরূপ বলেছিল যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথীদের এভাবেই থাকতে দাও। এমন কি তারা উট ও বকরীর মতো মৃত্যু বরণ করে নিঃশেষ হবে। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সন্ধি চুক্তি করলো, মুসলিমরা আগামী বছর এসে মক্কায় তিন দিন অবস্থান করবে। সুতরাং পরবর্তী বছর রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। মুশরিকরা ‘কুয়াইকিয়ান পাহাড়ের পাদদেশে সমবেত হলো (মুসলিমদের অবস্থান লক্ষ্য করতে)। এসময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন যে, তাওয়াফের মধ্যে তিনবার রমল করো। সুতরাং তারা তাই করলেন। এরূপ করা মূলতঃ সুন্নাত নয়। আমি আবার বললাম, আপনার সম্প্রদায়ের ধারণা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটে চড়েই সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন, আর এরূপ নাকি সুন্নাত। তিনি বললেন, তারা সত্যও বলেছে এবং মিথ্যাও বলেছে। আমি বললাম, তারা কি সত্য বলেছে এবং কি মিথ্যা বলেছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটে সাওয়ারী হয়ে সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন তাদের এ কথা সত্য। কিন্তু এটাকে সুন্নাত বলা মিথ্যা। প্রকৃত ব্যাপার হলো, তখন লোকদের অবস্থা এরূপ ছিলো যে, তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে সরানো যেতো না এবং তিনিও তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারতেন না। সুতরাং তিনি উটে আরোহী অবস্থায় তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন, যাতে প্রতিটি লোক তাঁর কথা শুনতে পায়, তাঁকে সরাসরি দেখতে পায় এবং তাদের হাত তাঁর শরীরে না লাগে।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় মক্কায় এলেন যে, ইয়াসরিবের ভাইরাস জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছিল। মুশরিকরা বললো, তোমাদের কাছে এমন এক দল লোক আসছে যাদেরকে ভাইরাস জ্বর দুর্বল করেছে। কাজেই এখন তারা (মুসলিামরা) বিপদগ্রস্ত। মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুশরিকদের কথাগুলো জানিয়ে দিলেন। তাই তিনি মুসলিমদেরকে তাওয়াফের সময় তিন চক্করে রমল করতে এবং উভয় রুকন (ইয়ামেনী ও হাতিম)-এর মাঝে স্বাভাবিক গতিতে চলার নির্দেশ দিলেন। মুশরিকরা যখন দেখলো যে, মুসলিমগণ ‘রমল’ করছেন তখন তারা বলাবলি করলো, এরাই তো তারা যাদের সম্বন্ধে তোমরা মন্তব্য করেছিলে যে, ইয়াসরিবের ভাইরাস জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে ফেলেছে! অথচ এরা তো আমাদের চাইতেও শক্তিশালী। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, তিনি তাদেরকে (মুসলিমদের) সমস্ত চক্করে ‘রমল’ করতে নির্দেশ দেননি।[1] সহীহ।
। যায়িদ ইবনু আসলাম (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি, রমল করা এবং কাঁধ খোলা রাখা এখন তেমন গুরুত্ববহ নয়। কেননা মহান আল্লাহ ইসলামকে বিজয়ী ও শক্তিশালী করেছেন এবং কুফর ও কাফির দু‘টোই নির্মূল করেছেন। তথাপি আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে যে কাজ করেছি তা কখনো বর্জন করবো না।[1] হাসান সহীহ।
হাদিস 1888 — Sunan Abu Dawud 11:168
দাঈফদাঈফহাসান SahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا جُعِلَ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَرَمْىُ الْجِمَارِ لإِقَامَةِ ذِكْرِ اللَّهِ " .
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মূলতঃ বায়তুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ এবং জামরায় কংকর নিক্ষেপ ইত্যাদি প্রবর্তিত হয়েছে আল্লাহর যিকির প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (২০৫৬), মিশকাত (২৬২৪), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১৫৪/৯১০)।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় বগলের নীচ দিয়ে চাদর নিয়ে কাঁধের উপর ছেড়ে দিয়েছেন, হাজরে আসওয়াদে চুমু খেয়েছেন, তাকবীর বলেছেন অতঃপর তিন চক্করে রমল করেছেন। তাঁরা যখন রুকনে ইয়ামেনের কাছে পৌঁছতেন এবং কুরাইশদের চোখের আড়াল হতেন, তখন স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতেন। আর যখন তাদের সম্মুখে এসে যেতেন তখন আবার রমল করতেন। তাঁদেরকে দেখে কুরাইশরা বলতো, ওরা যেন হরিণ। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, ফলে রমল করা সুন্নাতে পরিণত হয়।[1] সহীহ।
হাদিস 1890 — Sunan Abu Dawud 11:170
সহিহসহিহসহিহIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ اعْتَمَرُوا مِنَ الْجِعْرَانَةِ فَرَمَلُوا بِالْبَيْتِ ثَلاَثًا وَمَشَوْا أَرْبَعًا .
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ আল-জিই‘ররানা নামক স্থান থেকে ইহরমা বেঁধে ইহরাম করেছেন এবং বায়তুল্লাহর তিন চক্করে রমল এবং চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হেঁটেছেন।[1] সহীহ।