। হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে আমার ছেলে বেলায় জিজ্ঞেস করলাম, মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? ‘‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।’’ আমি মনে করি, কেউ এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) না করলে তার কোনো গুনাহ হবে না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, ‘কখনো নয়, তুমি এই আয়াতের যেরূপ ব্যাখ্যা করলে তা ঠিক হলে আয়াতটি হতো এরূপঃ ‘‘তার কোনো গুনাহ নেই যদি সে এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ না করে।’’ মূলতঃ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে আনসারদের সম্পর্কে। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তারা ‘‘মানাত’’ মূর্তির উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধতো। আর এ মানাত মূর্তি ‘‘কুদাইদ’’ পাহাড় বরাবরে অবস্থিত ছিলো। সুতরাং তারা সাফা মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করাকে আপত্তিকর ভাবতো। ইসলাম গ্রহণের পর এ বিষয়ে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলো। তখন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৫৮)[1] সহীহ।
হাদিস 1902 — Sunan Abu Dawud 11:182
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1600) Sahih Muslim (1332)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اعْتَمَرَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى خَلْفَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَهُ مَنْ يَسْتُرُهُ مِنَ النَّاسِ فَقِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ أَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْكَعْبَةَ قَالَ لاَ .
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আবূ আওফা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমরা করতে এসে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে মাকামে ইব্রাহীমের পেছনে দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। কাফিরদের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে তাঁকে রক্ষার্থে এ সময় তাঁর সাথে রক্ষীবাহিনী সাহাবীরা ছিলেন। কেউ ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলো, এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন কি না? তিনি বললেন, না।[1] সহীহ।
। ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনেছি। এতে আরো রয়েছেঃ অতঃপর তিনি সাফা ও মারওয়ায় এসে এর মাঝে সাতবার সাঈ করেন, অতঃপর মাথা মুন্ডন করেন।[1] সহীহ। তবে মুন্ডন কথাটি বাদে।
হাদিস 1904 — Sunan Abu Dawud 11:184
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ جُمْهَانَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنِّي أَرَاكَ تَمْشِي وَالنَّاسُ يَسْعَوْنَ قَالَ إِنْ أَمْشِ فَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْشِي وَإِنْ أَسْعَ فَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْعَى وَأَنَا شَيْخٌ كَبِيرٌ .
। কাসীর ইবনু জুমহান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝখানে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলো, হে আবূ ‘আব্দুর রহমান! আমি দেখতে পাচ্ছি আপনি সাফা-মারওয়ার মাঝে স্বাভাবিক গতিতে চলছেন, অথচ অন্য লোকেরা দৌড়াচ্ছে। তিনি বললেন, যদি আমি হাঁটি তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এখানে হাঁটতে দেখেছি। আর যদি আমি দৌড়াই (সাঈ করি), তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এখানে দৌড়াতেও দেখেছি। আর এখন তো আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি।[1] সহীহ।
। জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.)-এর নিকট যাই। আমরা তার নিকটবর্তী হলে তিনি (অন্ধ হওয়ার কারণে) আগন্তুকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন এবং এক পর্যায়ে আমরা কাছাকাছি এলে আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনু হুসাইন ইবনু ‘আলী (রাযি.)। আমার কথা শুনে তিনি আমার মাথার দিকে হাত বাড়ান, আমার জামার উপরের ও নীচের বোতাম খুলে তার হাতের তালু আমার বুকের উপর রাখলেন। তখন আমি ছিলাম যুবক। তিনি বললেন, মারহাবা! মুবারক হোক তোমার আগমন, স্বাগতম হে ভ্রাতুষ্পুত্র! যা ইচ্ছে জিজ্ঞাসা করতে পারো। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি ছিলেন অন্ধ। সালাতের সময় উপস্থিত হলে তিনি কাপড় পেচিয়ে নিজের জায়নামাযের উপর সালাতে দাঁড়ালেন কিন্তু তার কাপড় ছোট হওয়ায় তিনি যখনই কাঁধের উপর রাখছিলেন তখনই এর দু‘পাশ তার দিকে ফিরে আসছিল। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন, অথচ তার (বড়) চাদরটি আলনার উপর রক্ষিত ছিলো। আমি বললাম, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হজ (হজ্জ) সম্বন্ধে বলুন। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে নয় সংখ্যাটির কথা বললেন, অতঃপর বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বছর মদীনায় ছিলেন, এ সময় একবারও হজ (হজ্জ) করেননি। অতঃপর দশম বছরে লোকদের মধ্যে ঘোষণা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ (হজ্জ) করবেন। ফলে অসংখ্যা লোক মদীনায় আসলো এবং প্রত্যেকেই চাইলো যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করবে্ এবং তিনি যেসব কাজ করেন তারাও তাই করবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা হলে আমরাও তাঁর সাথে রওয়ানা হই। ‘যুল-হুলাইফা’ পর্যন্ত পৌঁছলে আসমা ‘বিনতু উমাইস (রাযি.) মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকরকে প্রসব করেন। কাজেই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে লোক মারফত জানতে চাইলেন, এখন আমার কি করণীয়? তিনি বললেনঃ তুমি গোসল করে (লজ্জাস্থানে) কাপড় বেঁধে ইহরাম বেঁধে নাও। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে সালাত আদায় করেন, অতঃপর উষ্ট্রী ‘কাসওয়া‘র উপর চড়েন। উষ্ট্রীটি যখন আল-বায়দা‘ উপত্যকায় দাঁড়ালো তখন জাবির (রাযি.) বলেন, তাঁর সম্মুখে আমার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত দেখতে পেলাম শুধু আরোহী ও পদাতিক জনসমুদ্র, তাঁর ডানে, বামে এবং পিছনে সবত্রই একই অবস্থা। এ সময় রাসূলুল্লাহ আমাদের মাঝে ছিলেন এবং তখন তাঁর উপর আহকাম সম্মলিত কুরআনের আয়াত নাযিল হচ্ছিল আর তিনি এর ব্যাখ্যা জানতেন। তিনি যা কিছু করতেন আমরাও অনুরূপ করতাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দিয়ে ইহরাম বেঁধে উচ্চস্বরে পড়লেনঃ ‘‘লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক।লাব্বায়িকা লা শারীকা লাকা লাববায়িক ইন্নাল- হামদা ওয়ান-নি‘মাতা লাকা ওয়াল-মুলক লা শারীকা লাকা।’’ তিনি যেভাবে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পড়েছেন, লোকেরাও সেভাবে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পড়লো। তাদের কোনো কাজকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্বীকৃতি দেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রাখলেন। জাবির (রাযি.) বলেন, আমরা শুধু হজের (হজ্জের) নিয়্যাত করেছিলাম। ‘উমরা’ সম্পর্কে আমরা জানতাম না। পরে আমরা তাঁর সাথে বায়তুল্লাহয় এসে পৌঁছলে তিনি রুকন অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদে চুমু খেলেন এবং তিনবার রমল এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে (তাওয়াফ) সম্পন্ন করলেন। অতঃপর মাকামে ইবরাহীমের দিকে অগ্রসর হয়ে পড়লেনঃ ‘‘এবং ইবরাহীমের দাঁড়ানোর স্থানকে তোমরা সালাতের স্থানরূপে নির্ধারণ করো’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১২৫) এবং তিনি মাকামে ইবরাহীম ও বায়তুল্লাহকে সামনে রাখলেন। জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, আমার পিতা বলেছেন, ইবনু নুফাইল এবং ‘উসমান বলেছেন, আমার মনে হয়, একথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। সুলাইমান বলেন, আমার ধারণা, জাবির বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাক‘আত সালাত ‘কুল হুআল্লাহু আহাদ’ এবং ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ দিয়ে পড়েছেন। আবার তিনি বায়তুল্লাহর নিকট গিয়ে রুকনে (হাজরে আসওয়াদ) চুমু খেলেন। অতঃপর (বায়তুল্লাহর) দরজা দিয়ে বেরিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে গেলেন। তিনি সাফার কাছে গিয়ে পাঠ করলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৫৯)। সুতরাং আমরা সেখান থেকে সাঈ শুরু করবো আল্লাহ যেখান থেকে শুরু করেছেন (অর্থাৎ প্রথমে সাফা থেকে পরে মারওয়া থেকে) এ বলে তিনি সাফা পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেন। সেখান থেকে বায়তুল্লাহ দেখে তাকবীর বললেন এবং তাঁর তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে বললেনঃ ‘‘তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব তাঁর। তিনি জীবন-মৃত্যুদানকারী। তিনি সকল প্রশংসার প্রকৃত হকদার এবং তিনি সবকিছু করতে সক্ষম ও ক্ষমতাবান। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একাই তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করে দেখিয়েছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সকল (বিদ্রোহী) বাহিনীকে বিতাড়িত ও পরাভূত করেছেন।’’ তিনি এর মধ্যে অনুরূপ তিনবার দু‘আ করলেন। অতঃপর সেখান থেকে নেমে মারওয়ায় গেলেন, তাঁর পদদ্বয় নিম্নভূমি স্পর্শ করলো, তিনি সমতল ভূমিতে রমল করলেন। সমতল ভূমি অতিক্রম করে মারওয়া পাহাড়ের নিকটে এসে স্বাভাবিক গতিতে হাটলেন এবং তারপর মারওয়া পাহাড়ে তাই করলেন যেরূপ করেছিলেন সাফা পাহাড়ে। পরে মারওয়ার সর্বশেষ তাওয়াফ সম্পন্ন করে বললেনঃ আমি যা পরে জেনে নেই তা যদি আগে জানতাম তাহলে কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে আসতাম এবং (হজের (হজ্জের)) ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করতাম। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই, তারা যেন ‘উমরা করার পর ইহরাম খুলে ফেলে এবং (তাওয়াফ, সাঈ ইত্যাদিকে) ‘উমরার কাজ হিসেবে করে নেয়। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিলো তারা ব্যতীত সকল লোক তাদের ইহরাম খুলে মাথার চুল ছেটে ফেললো। এসময় সুরাকাহ ইবনু জ‘শুম (রাযি.) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এরূপ কি শুধু আমাদের এ বছরের জন্য প্রযোজ্য, নাকি সর্বকালের জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাতের আঙ্গুল অন্য হাতের আঙ্গুলের মধ্যে ঢুকিয়ে বললেনঃ ‘উমরা হজের (হজ্জের) মধ্যে প্রবেশ করেছে, এভাবে তিনি দু‘বার বললেন, সর্বকালের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, এসময় আলী (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশু নিয়ে ইয়ামেন থেকে এলেন। তিনি দেখলেন, ফাতিমা (রাযি.) ইহরাম খুলে রঙ্গিন পোশাক পরে সুরমা লাগিয়েছেন। ‘আলী (রাযি.) এটা অপছন্দ করে বললেন, তোমাকে এরূপ করতে কে বলেছে? তিনি বললেন, আমার পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বর্ণনাকারী বলেন, এক সময় আলী (রাযি.) ইরাকে এ কথা বলেছেন, আমি ফাতিমাহর কৃতকর্মের জন্য রাগ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলাম। আমি তাঁকে জানালাম, আমি ফাতিমাহর এ কাজ অপছন্দ করেছি এবং সে বলেছে, আমার পিতা আমাকে এরূপ করতে আদেশ করেছেন। তিনি আমার কথা শুনে বললেনঃ সে সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। (হে আলী!) তুমি হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার ইহরাম বাঁধার সময় কি বলেছিলে? তিনি বললেন, আমি বলেছি, হে আল্লাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমার ইহরামও অনুরূপ। তিনি বললেনঃ আমার সাথে কুরবানীর পশু আছে। সুতরাং (আমার মতো) তুমিও ইহরাম খুলে হালাল হতে পারবে না। অপরদিকে ‘আলী (রাযি.)-এর ইয়ামেন থেকে নিয়ে আসা কুরবানীর পশু এবং মদীনা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়ে আসা কুরবানীর পশু, এগুলো মোট সংখ্যা ছিলো একশ‘টি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর ঐ সব সাহাবী যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিলো তারা ব্যতীত সকলেই ইহরাম খুলে হালাল হয়ে মাথার চুল খাটো করলো। বর্ণনাকারী বলেন, তারা যখন (অষ্টম তারিখ) তারবিয়ার দিনে মিনা দিকে রওয়ানা হলেন, তখন তারা হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে চড়লেন এবং মিনায় পৌঁছে আমাদেরকে যুহর, ‘আসর, মাগরিব, ‘ইশা এবং ফজর, মোট পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সেখানে আদায় করলেন এবং সূর্যদয় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন। তিনি তাঁর জন্য একখানা পশমের তাবু টানাতে নির্দেশ দিলেন এবং ‘নামিরা’ নামক স্থানে তা টানানো হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন। যাতে কুরাইশদের এরূপ সংশয় না করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাশ‘আরুল হারামের নিকটবর্তী মুযদালিফায় অবস্থান করবেন, যেরূপ কুরাইশরা জাহিলিয়াতের যুগে করতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে আরাফাতে আসলেন। এখানে এসে দেখলেন ‘নামিরায়’ তাঁর জন্য তাবু টানানো হয়েছে। পশ্চিমাকাশে সূর্য ঢলে পড়া পর্যন্ত তিনি ঐ তাবুতে অবস্থান করেন। অতঃপর সূর্য ঢলে পড়লে তিনি ‘কাসওয়া’ উষ্ট্রীটি উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। তা আনা হলে তিনি তাতে চড়ে বাতনুল ওয়াদীতে আসলেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত ও সম্পদ (পরস্পরের জন্য) আজকের এই দিন, এই মাস এবং এই শহরের মতোই সম্মানিত। সাবধান! জাহিলী যুগের সমস্ত কাজ ও প্রথা আমার দুই পায়ের নীচে পতিত হলো। জাহিলী যুগের রক্তের সকল দাবী বাতিল। আমি সর্বপ্রথম আমাদের (বনী হাশিমের) রক্তের দাবী পরিত্যাগ করলাম। বর্ণনাকারী ‘উসমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ আমি ইবনু রবী‘আহর রক্তের দাবী ও সুলাইমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ আমি রবী‘আহ ইবনু হারিস ইবনু ‘আব্দুল মুত্তালিবের রক্তের দাবী পরিত্যাগ করলাম। আর রবী‘আহ সা‘দ গোত্রের দুগ্ধপুষ্য থাকাকালীন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করেছিল। জাহিলী যুগের সুদও বাতিল হলো। আমি সর্বপ্রথম ‘আব্বাস ইবনু ‘আব্দুল মুত্তালিবের সুদের দাবী পরিহার করলাম। তা সম্পূর্ণরূপে বাতিল হলো। তোমরা নারীদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর বিধান মোতাবেক তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য হালাল করেছো। তাদের উপর তোমাদের অধিকার আছে, তারা যেন তোমাদের অপছন্দনীয় ব্যক্তিকে তোমার ঘরে স্থান না দেয়। তারা এরূপ করলে তাদেরকে খুবই হালকা মারধর করো। তাদের ভরণ-পোষনের দায়িত্বও তোমাদের উপর। তোমরা যা স্বাভাবিকভাবে আদায় করবে। সর্বপরই আমি তোমাদের মধ্যে এমন একটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব। (কিয়ামতের দিন) তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কি বলবে? তারা বললেন, আমরা সাক্ষ্য দিবো, আপনি আপনার দায়িত্ব যথাযথভাবে পৌঁছিয়েছেন, আপনার আমানতের হক আদায় করেছেন এবং ভালো কাজের উপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে তর্জনী তুলে ধরেন এবং মানুষের প্রতি ইঙ্গিত করে (তিনবার) বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। অতঃপর বিলাল (রাযি.) আযান অতঃপর ইকামাত দিলেন। তিনি যুহরের সালাত আদায় করলেন, পুনরায় ইকামাত দিলে আসরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু এ দুইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অন্য (নফল) সালাত পড়েননি। অতঃপর তিনি কাসওয়া উষ্ট্রীতে আরোহণ করে আরাফাতে অবস্থানের স্থানে এলেন এবং কাসওয়া উষ্ট্রীকে ‘জাবালে রহআতের’ পাদদেশে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে তিনি পাহাড়কে সামনে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়লেন। সূর্য ডুবে আকাশের লালিমা কিছুটা মুছে যাওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন। সূর্যের লালিমা বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি উসমানকে তাঁর পিছনে সওয়ারীতে বসিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে রওয়ানা হলেন এবং উষ্ট্রীর লাগাম শক্ত করে ধরলেন, ফলে উটের মাথা হাওদার সম্মুখভাগের সাথেই ছুটলে লাগলো। এসময় তিনি ডান হাতের ইশারায় বলতে লাগলেনঃ ধীর স্থিরভাবে পদ চলো, হে লোকেরা, ধীর স্থিরভাবে চলো, হে লোকজন! তিনি কোনো বালির টিলার নিকট এলে উষ্ট্রীর লাগাম সামান্য ঢিলা করতেন যাতে তা সহজে টিলায় উঠে সামনে অগ্রসর হতে পারে। অবশেষে তিনি ‘মুযদালিফায়’ উপস্থিত হলেন। এখানে এসে এক আযান ও দুই ইকামাতের মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন। এই দুই সালাতের মাঝখানে তিনি অন্য কোনো (নফল) সালাত পড়েননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ স্থানে ভোর পর্যন্ত বিশ্রাম করেন। ফযরের সময় হলে তিনি ফযরের সালাত আদায় করেন। তিনি এ সালাত আদায় করেছেন এক আযান ও এক ইকামাতে। অতঃপর তিনি কাসওয়া উষ্ট্রীর উপর চড়ে মাশ‘আরুল হারামে এসে তার উপর উঠেন। তারপর তিনি কিবলাহকে সামনে রেখে মহান আল্লাহর প্রশংসা, তাকবীর এবং তাহলীল পাঠ করেন। তিনি আল্লাহর একত্ববাদেরও ঘোষণা করেন এবং তিনি ভোর হওয়া পর্যন্ত এ স্থানে অবস্থান করেন। অতঃপর সূর্যদয়ের পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাদল ইবনু আব্বাস (রাযি.)-কে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়ে রওয়ানা হলেন। ফাদল ছিলেন কালো চুল ও সুন্দর চেহারার অধিকারী যুবক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চলার পথে জন্তুযানের অবস্থানকারী এক দল মহিলাও তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। আর ফাদল বারবার তাদের দিকে তাকাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাদলের মুখের উপর হাত রাখলেন। ফাদল অন্য দিকে ঘুরে তাদের দিকে দেখছিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাদলের মুখের উপর হাত দিয়ে তা অন্য দিকে ফিরালেন। এবার তিনি ‘মুহাসসার’ নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং তিনি উষ্ট্রীকে কিছুটা দ্রুত চালালেন। অতঃপর এখান থেকে রওয়ানা হয়ে জামরাতুল কুবরার দিকে মধ্যবর্তী পথ ধরে চললেন এবং সেখানে বৃক্ষের নিকটবর্তী জামরায় এসে উপস্থিত হয়ে তাতে সাতটি কংকর মারলেন আর প্রত্যেক কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর বললেন। কংকরগুলো ছিলো পাথরের ক্ষুদ্র টুকরার মতো এবং তা সমতল ভূমি থেকে নিক্ষেপ করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশু কুরবানীর স্থানে উপস্থিত হলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি উট কুরবানী করলেন। অতঃপর ‘আলী (রাযি.)-কে নির্দেশ দিলে তিনি অবশিষ্টগুলো যাবাহ করলেন। তিনি ‘আলী (রাযি.)-কে তাঁর কুরবানীতে অংশীদারও করেন। অতঃপর তিনি প্রত্যেকটি যাবাহকৃত পশু থেকে এক টুকরা করে গোশত তাঁকে দেয়ার আদেশ করলেন। সুতরাং তা নিয়ে একটি হাড়িতে পাকানো হলো। তাঁরা দু‘জনেই এ গোশত খেলেন এবং এর ঝোল পান করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উষ্ট্রীতে চড়ে খুব তাড়াতাড়ি রওয়ানা হয়ে বায়তুল্লাহয় উপস্থিত হলেন। তিনি মক্কায় এসেই যুহরের সালাত আদায় করলেন। পরে তিনি বনী ‘আব্দুল মুত্তালিবের নিকট গেলেন। এসময় তারা (লোকদের) যমযমের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি তাদেরকে বললেনঃ হে বনী আব্দুল মুত্তালিব! পানি উত্তোলন করতে থাকো। লোকদের অত্যাধিক ভিড় হওয়ার আশংকা যদি না থাকতো তাহলে আমিও তোমাদের সাথে পানি উত্তোলনে অংশগ্রহণ করতাম। এরপর লোকেরা তাঁকে পানির বালতি সরবারাহ করলে তিনি তা থেকে পান করেন।[1] সহীহ।
। জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার ময়দানে এক আযান ও দুই ইকামাতে যুহর ও ‘আসরের সালাত আদায় করেছেন। কিন্তু এই দুই সালাতের মধ্যখানে কোনো তাসবীহ পড়েননি। অনুরূপভাবে তিনি মুযদালিফায় এক আযান ও দুই ইকামাতে মাগরিব ও ‘ইশার সালাত আদায় করেছেন এবং দুই সালাতের মাঝখানে কোনো তাসবীহ পড়েননি।[1] সহীহঃ মুসলিম, জাবির সূত্রে। এটাই সঠিক। এর পূর্বের ১৯০৫ নং হাদীস। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, জাবির থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ ‘‘অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব ও ‘ইশা এক আযান ও এক ইকামাতে আদায় করেছেন।’’ দুর্বল।
। জাবির (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি এ স্থানে কুরবানী করেছি। আর মিনার পুরো এলাকাই কুরবানীর স্থান। তিনি আরাফার এক স্থানে অবস্থান করেছেন এবং বলেছেনঃ আমি এ স্থানে অবস্থান করেছি, আর আরাফার সম্পূর্ণ এলাকাই অবস্থানের স্থান। তিনি মুযদালিফার এক স্থানে অবস্থান করেছেন এবং বলেছেনঃ আমি এ স্থানে অবস্থান করেছি, আর মুযদালিফার পুরো এলাকাই অবস্থানের স্থান।[1] সহীহ।
। জাবির (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার হাদীসে একথাও রয়েছেঃ ‘‘আর তোমরা মাকাকে ইবরাহীমকে দাঁড়াবার স্থানকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।’’ জা‘ফর ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ স্থানে সালাত আদায়কালে সূরা ইখলাস ও সূরা কাফিরুন পাঠ করেছেন।[1] সহীহ।
হাদিস 1910 — Sunan Abu Dawud 11:190
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (4520) Sahih Muslim (1219)
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরাইশরা এবং তাদের ধর্মের অনুসারীরা মুযদালিফায় অবস্থান করতো এবং নিজেদের এরূপ আচরণকে বীরত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করতো। অথচ আরবের অন্যান্য লোকেরা আরাফায় অবস্থান করতো। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, ইসলামের আবির্ভাবের পর মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরাফায় গমনের ও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তোমরাও সেখান থেকে ফিরে যাও যেখান থেকে অন্যান্য লোক ফিরে আসে।[1] সহীহ।