। মুজাহিদ (রহঃ) হতে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) এ আয়াতটি পাঠ করলেনঃ ‘হজের (হজ্জের) সময়ে (ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে) তোমরা তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ তালাশ করলে দোষের কিছু নেই। (২ঃ ১৯৮) ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, (অন্যায় মনে করে) মিনায় কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতো না। তাদেরকে আরাফাত হতে ফেরার পর মিনায় ব্যবসা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।[1] সহীহ।
হাদিস 1732 — Sunan Abu Dawud 11:12
হাসানহাসানহাসান
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مِهْرَانَ أَبِي صَفْوَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَرَادَ الْحَجَّ فَلْيَتَعَجَّلْ " .
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ হজের (হজ্জের) ইচ্ছা করলে যেন তাড়াতাড়ি সম্পাদন করে।[1] হাসান।
। আবূ উমামাহ আত-তাইমী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন লোক যে, হজের (হজ্জের) সময় আমার পশু ভাড়ায় খাটাতাম। তাই কতিপয় লোক বললো, তোমার হজ (হজ্জ) হয় নি। ফলে আমি ইবনু ‘উমারের (রাযি.) সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, হে আবূ ‘আব্দুর রহমান! আমি এমন ব্যক্তি যে, হজের (হজ্জের) সফরে পশু ভাড়ায় খাটাই। কতিপয় লোক বলে, তোমার হজ (হজ্জ) হয় না। তখন ইবনু ‘উমার (রাযি.) বললেন, তুমি কি ইহরাম বেঁধেছো, তালবিয়া পাঠ করেছো, বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেছো, আরাফাত থেকে ঘুরে এসেছো এবং কংকর নিক্ষেপ করেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ, তিনি বললেন, তোমার হজ (হজ্জ) হয়ে গেছে। একদা এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে প্রশ্ন করলো যেরূপ তুমি আমাকে প্রশ্ন করলে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো বক্তব্য না দিয়ে কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। অবশেষে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ ‘‘এ ব্যাপারে তোমাদের কোনো দোষ নেই যদি (হজের (হজ্জের) মওসুমে) তোমরা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে তোমাদের রবের অনুগ্রহ তালাশ করো।’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত ব্যক্তিকে ডেকে পাঠিয়ে তাকে এ আয়াত পড়ে শুনালেন এবং বললেন, তোমার হজ (হজ্জ) হয়েছে।[1] সহীহ।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। প্রাথমিক কালে লোকেরা হজের (হজ্জের) মওসুমে মিনা, আরাফাত, যুল-মাজাযির বাজারে এবং হজের (হজ্জের) বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্থানগুলোতে ব্যবসা করতো, কিন্তু ইহরাম অবস্থায় এসব স্থানে ব্যবসা করা (জায়িজ কিনা) তাদের সংশয় হলো। তখন মহিয়ান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘তোমাদের কোনো অপরাধ নেই যদি (হজের (হজ্জের) সময়) তোমারা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে তোমাদের রবের অনুগ্রহ তালাশ করো, বিশেষ করে হজের (হজ্জের) অনুষ্ঠানের স্থানগুলোতে। ইবনু আবূ যিব বলেন, ‘উবাইদ ইবনু উমাইর আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)فِي مَوَاسِمِ الْحَجِّ এ বাক্যটি মূল কুরআনের মধ্যেই পাঠ করতেন।[1] সহীহ।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। প্রথম দিকে লোকেরা হজের (হজ্জের) মওসুমে কেনা-বেচা করতো। অতঃপর বর্ণনাকারীمَوَاسِمِ الْحَجِّ পর্যন্ত পূর্ব বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ, পূর্বেরটির দ্বারা।
হাদিস 1736 — Sunan Abu Dawud 11:16
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (1336)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالرَّوْحَاءِ فَلَقِيَ رَكْبًا فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ " مَنِ الْقَوْمُ " . فَقَالُوا الْمُسْلِمُونَ . فَقَالُوا فَمَنْ أَنْتُمْ قَالُوا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَفَزِعَتِ امْرَأَةٌ فَأَخَذَتْ بِعَضُدِ صَبِيٍّ فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ مِحَفَّتِهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ لِهَذَا حَجٌّ قَالَ " نَعَمْ وَلَكِ أَجْرٌ " .
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আর-রাওহা’ নামক স্থানে এক কাফেলার সাথে সাক্ষাত হলে তাদেরকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কোন কাফেলা? তারা বললো, আমরা মুসলিম। তারা জিজ্ঞেস করলো, তোমরা কারা? লোকেরা বললো, রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এ কথা শুনে এক মহিলা অস্থির হয়ে উঠলো এবং ‘হাওদা’ থেকে একটি শিশুর বাহু ধরে বের করে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ শিশুর হজ (হজ্জ) আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তবে সওয়াব তুমি পাবে।[1] সহীহ।
হাদিস 1737 — Sunan Abu Dawud 11:17
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1525) Sahih Muslim (1182)
। ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য ‘যূলহুলাইফা’, শামবাসীদের জন্য ‘আল-জুহফা’ এবং নজদবাসীদের জন্য ‘কারণ’ মীকাত হিসেবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন, এবং আমার কাছে এটাও পৌঁছেছে যে, তিনি ইয়ামেনবাসীদের জন্য ‘ইয়ালামলাম’ পর্বতকে মীকাত নির্দিষ্ট করেছেন।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) ও তাঊস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মীকাত নির্দিষ্ট করেন। এরপর বর্ণনাকারী পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণনা করেন। তাদের দু‘জনের একজন বলেন, ইয়ামেনবাসীদের জন্য ‘ইয়ালামলাম, একজন বলেছেন ‘আলামলাম।’ অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ এ স্থানগুলো সেখানকার অধিবাসীদের জন্য এবং যারা হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার উদ্দেশ্যে উক্ত স্থানগুলোর উপর দিয়ে অতিক্রম করবে তাদের জন্যও এ স্থানগুলো মীকাত গণ্য হবে, তারা এখানকার অধিবাসী না হলে। আর যারা মীকাতের অভ্যন্তরের অধিবাসী, ইবনু তাঊস বলেন, তারা যেখানে আছে সেখান থেকেই আরম্ভ করবেন। তিনি বলেন, অনুরূপভাবে মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে।[1] সহীহ।
হাদিস 1739 — Sunan Abu Dawud 11:19
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ بَهْرَامَ الْمَدَائِنِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعَافَى بْنُ عِمْرَانَ، عَنْ أَفْلَحَ، - يَعْنِي ابْنَ حُمَيْدٍ - عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَّتَ لأَهْلِ الْعِرَاقِ ذَاتَ عِرْقٍ .
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরাকবাসীদের জন্য ‘যাতু ইরক’-কে মীকাত নির্দিষ্ট করেছেন।[1] সহীহ।
হাদিস 1740 — Sunan Abu Dawud 11:20
দাঈফদাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ وَقَّتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَهْلِ الْمَشْرِقِ الْعَقِيقَ .
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাচ্যবাসীদের জন্য ‘আল-আক্বীক’-কে মীকাত নির্দিষ্ট করেছেন।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (৯২৫৩০), যঈফ সুনান তিরমিযী (৮৪০/১৪০)।