হজের মানাসিক ও বিধিবিধান (কিতাবুল মানাসিক ওয়াল হজ্জ)
325 হাদিস · #1721–2045
হাদিস 1771 — Sunan Abu Dawud 11:51
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1541) Sahih Muslim (1186)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ بَيْدَاؤُكُمْ هَذِهِ الَّتِي تَكْذِبُونَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا مَا أَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ عِنْدِ الْمَسْجِدِ يَعْنِي مَسْجِدَ ذِي الْحُلَيْفَةِ .
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, এই হচ্ছে তোমাদের ‘বায়দা’ যেখানে তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে অনুমানে কথা বলছো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলহুলাইফার মাসজিদ থেকেই ইহরাম বেঁধেছেন।[1] সহীহ।
হাদিস 1772 — Sunan Abu Dawud 11:52
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (166) Sahih Muslim (1187)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُرَيْجٍ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ رَأَيْتُكَ تَصْنَعُ أَرْبَعًا لَمْ أَرَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِكَ يَصْنَعُهَا . قَالَ مَا هُنَّ يَا ابْنَ جُرَيْجٍ قَالَ رَأَيْتُكَ لاَ تَمَسُّ مِنَ الأَرْكَانِ إِلاَّ الْيَمَانِيَيْنِ وَرَأَيْتُكَ تَلْبَسُ النِّعَالَ السِّبْتِيَّةَ وَرَأَيْتُكَ تَصْبُغُ بِالصُّفْرَةِ وَرَأَيْتُكَ إِذَا كُنْتَ بِمَكَّةَ أَهَلَّ النَّاسُ إِذَا رَأَوُا الْهِلاَلَ وَلَمْ تُهِلَّ أَنْتَ حَتَّى كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَمَّا الأَرْكَانُ فَإِنِّي لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمَسُّ إِلاَّ الْيَمَانِيَيْنِ وَأَمَّا النِّعَالُ السِّبْتِيَّةُ فِإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلْبَسُ النِّعَالَ الَّتِي لَيْسَ فِيهَا شَعْرٌ وَيَتَوَضَّأُ فِيهَا فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَلْبَسَهَا وَأَمَّا الصُّفْرَةُ فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْبُغُ بِهَا فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَصْبُغَ بِهَا وَأَمَّا الإِهْلاَلُ فَإِنِّي لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُهِلُّ حَتَّى تَنْبَعِثَ بِهِ رَاحِلَتُهُ .
। ‘উবাইদ ইবনু জুরাইজ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে বলেন, হে আবূ ‘আব্দুর রহমান! আমি আপনাকে এমন চারটি আমল করতে দেখি, যা আপনার অন্য কোনো সাথীকে করতে দেখি না। তিনি বললেন, হে ইবনু জুরাইজ! সেগুলো কি? তিনি বললেন, আপনি দুই রুকনে ইয়ামেনী ছাড়া অন্য কোনো রুকন স্পর্শ করেন না। আপনি সিবতী চামড়ার জুতা পরেন। আপনি হলুদ রঙ ব্যবহার করেন এবং আপনি মক্কাতে থাকাবস্থায় লোকজন যিলহজ (হজ্জ) মাসের চাঁদ দেখে ইহরমা বাঁধে, কিন্তু আপনি ‘তারবিয়ার দিন’ না আসা পর্যন্ত ইহরাম বাঁধেন না। অতঃপর এর জবাবে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুই রুকুনে ইয়ামেনী ছাড়া অন্য কোনো রুকুন স্পর্শ করতে দেখিনি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পশমহীন জুতা পরতে দেখেছি, তিনি সেটা পরা অবস্থায় উযুও করতেন। সুতরাং আমি তা পরতে পছন্দ করি। হলুদ রং- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হলদে রং ব্যবহার করতে দেখেছি। কাজেই আমি তা পছন্দ করি। আর ইহরাম বাঁধা- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সওয়ারী সফরের উদ্দেশ্যে না দাঁড়ানো পর্যন্ত ইহরাম বাঁধতে দেখিনি।[1] সহীহ।
হাদিস 1773 — Sunan Abu Dawud 11:53
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1546) Sahih Muslim (690)
। আনাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় যুহরের চার রাক‘আত সালাত আদায় করেন এবং যুলহুলাইফায় পৌঁছে ‘আসরের সালাত আদায় করেন দুই রাক‘আত। তিনি সেখানেই রাত যাপন করেন এবং সকালে সওয়ারীতে চড়ে সফর শুরু করার সময় ‘তালবিয়া’ পাঠ করেন।[1] সহীহ।
হাদিস 1774 — Sunan Abu Dawud 11:54
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ رَكِبَ رَاحِلَتَهُ فَلَمَّا عَلاَ عَلَى جَبَلِ الْبَيْدَاءِ أَهَلَّ .
। সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আল-ফুর‘আ নামক স্থানের দিকে যেতেন তখন সওয়ারীর পিঠে চড়া মাত্রই তালবিয়া পড়তেন। তিনি যখন উহুদের পথে রওয়ানা হতেন, তখন আল-বায়দা পর্বতে উঠার সময় তালবিয়া পড়তেন।[1] দুর্বল।
। ইবনু আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। একদা যুবায়র ইবনু ‘আব্দুল মুত্তালিবের মেয়ে-দবা‘আহ (রাযি.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হজের (হজ্জের) ইচ্ছা করেছি। এতে কোনো শর্ত করতে পারবো কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। দবা‘আহ বলেন, তা কিভাবে? তিনি বলেনঃ তুমি বলোঃ ‘আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত, পথে যেখানেই তুমি আমাকে আটক করবে সেটাই আমার ইহরাম ভঙ্গের স্থান।[1] হাসান সহীহ।
হাদিস 1777 — Sunan Abu Dawud 11:57
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (1211)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْرَدَ الْحَجَّ .
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহজ (হজ্জ) মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কিছু আগে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হলাম। তিনি যুল-হুলাইফায় পৌঁছে বললেনঃ কেউ হজের (হজ্জের) ইহরাম বাঁধতে চাইলে বাঁধুক। আর কেউ ‘উমরার ইহরাম বাঁধতে চাইলে সে যেন ‘উমরার ইহরাম বাঁধে। উহাইব থেকে মূসা বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেছেনঃ যদি আমার সাথে কুরবানীর পশু না আনতাম তাহলে ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধতাম। হাম্মাদ ইবনু সালামাহর হাদীসে রয়েছে, আমি হজের (হজ্জের) ইহরাম বেঁধেছি, কারণ আমার সাথে কুরবানীর পশু আছে। তারপর উভয় বর্ণনাকারী একইরূপ বর্ণনা করেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যারা শুধু ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলো, আমি তাদের দলভুক্ত ছিলাম। পথিমধ্যে আমি হায়েয আরম্ভ হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন, এ সময় আমি কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কাঁদছো কেন? আমি বললাম, কতই না ভালো হতো আমি যদি এ বছর (ঘর থেকে) বের না হতাম। তিনি বললেনঃ তুমি ‘উমরা ত্যাগ করো, মাথার খোপা খুলে ফেলো, চুল আঁচড়িয়ে নাও। মূসার বর্ণনায় রয়েছেঃ এবং হজের (হজ্জের) জন্য ইহরাম বাঁধো। সুলাইমান বলেন, মুসলিমরা হজে (হজ্জে) যেসব অনুষ্ঠান পালন করে তুমিও তা করো। অতঃপর (মক্কা থেকে) ফেরার রাত এলো ‘আব্দুর রহমানকে নির্দেশ করলে তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে ‘তানঈমে’ নিয়ে যান। মূসার বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ তিনি পূর্বের ‘উমরার স্থানে ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন, বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করলেন। ফলে আল্লাহ তাঁর উমরা ও হজ (হজ্জ) উভয়টিই পূর্ণ করলেন। হিশামের বর্ণনায় রয়েছেঃ কিন্তু এরূপ করার কারণে তাকে কাফফারাহ হিসেবে কুরবানী দিতে হয়নি। আবূ দাঊদ বলেন, হাম্মাদ ইবনু সালামাহর হাদীসে মূসা বর্ধিত করলেন যে, অতঃপর ‘বাতহা’ উপত্যকায় প্রবেশের রাতে ‘আয়িশাহ (রাঃ) পবিত্র হন।[1] সহীহ।
হাদিস 1779 — Sunan Abu Dawud 11:59
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1562) Sahih Muslim (1211)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَأَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْحَجِّ فَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ أَوْ جَمَعَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَلَمْ يَحِلُّوا حَتَّى كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ .
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজের (হজ্জের) বছরের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আমাদের মধ্যকার কেউ ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলো, কেউ হজ (হজ্জ) ও ‘উমরার দু'টির ইহরাম বেঁধেছিলো এবং কেউ শুধুমাত্র হজের (হজ্জের) ইহরাম বেঁধেছিলো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু হজের (হজ্জের) ইহরাম বেঁধেছিলেন। যারা শুধু হজ (হজ্জ) কিংবা হজ (হজ্জ) ও ‘উমরা উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন তারা কুরবানীর দিন পর্যন্ত ইহরাম খুলতে পারেননি।[1] সহীহ।
হাদিস 1780 — Sunan Abu Dawud 11:60
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1562) Sahih Muslim (1211)