। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অচিরেই মুসলিমদেরকে মদীনাতে অবরোধ করা হবে, এমন কি তাদের দূরতম যুদ্ধক্ষেত্র হবে ‘সালাহ।’[1] সহীহ।
। সাওবান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ (অথবা) আমার রব পৃথিবীকে আমার জন্য সংকুচিত করে দিয়েছেন এবং আমাকে এর পূর্ব ও পশ্চিম সীমানা দেখানো হয়েছে। আর যুতটুকু আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছে, ততটুকুতে অচিরেই আমার উম্মাতের রাজত্ব বিস্তার লাভ করবে। আমাকে লাল ও সাদা (স্বর্ণ ও রূপার) দু’টি ধনভান্ডার দেয়া হয়েছে। আর আমি আমার মহান প্রতিপালকের নিকট আমার উম্মাতের জন্য এই কথার আবেদন করছি যে, তিনি তাদের সবাইকে যেন দুর্ভিক্ষে ধ্বংস না করেন এবং তাদের নিজেদের ব্যতীত কোনো শত্রু যেন তাদের উপর কর্তৃত্ব করতে না পারে যারা তাদের ধ্বংস করে দিবে। নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যা ফায়সালা করি, তা বাতিল হয় না। তবে আমি তাদের সবাইকে একসঙ্গে দুর্ভিক্ষে ধ্বংস করবো না এবং তাদের নিজেদের ছাড়া দিকবিদিক থেকে আগত তাদের সমূলে বিনাশকারী বিধর্মী শত্রুকে তাদের উপর কর্তৃত্ব করতে দিবো না, তবে তাদের কতক অপরদের ধ্বংস করবে এবং কতক অপরাধে বন্দী করবে। আর আমি আমার উম্মাতের পথভ্রষ্ট নেতাদের ব্যাপারে শঙ্কিত। আমার উম্মত যখন পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হবে, তখন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা বিরত হবে না। আর আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক মুশরিকদের সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আমার উম্মাতের কতিপয় গোত্র মূর্তি পূজায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। অবিলম্বে আমার উম্মাতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে, তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নবী বলে দাবী করবে। অথচ আমিই সর্বশেষ নবী এবং আমার পরে আর কোনো নবী আসবে না। তবে আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদা সত্যের উপর অটল থাকবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, এমন কি এ অবস্থায় আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) এসে যাবে।[1] সহীহ।
। আবূ মালিক আল-আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন., রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তিনটি বিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তা হলো (১) তোমাদের নবী তোমাদের অভিশাপ দিবেন না, অন্যথায় তোমরা সকলেই ধ্বংস হয়ে যেতে। (২) বাতিলপন্থী কখনো সত্যপন্থীদের উপর বিজয়ী হবে না এবং (৩) তোমরা সকলে এক সাথে পথভ্রষ্ট হবে না।[1] দুর্বল, কিন্তু তৃতীয় বাক্যটি সহীহ। যঈফাহ হা/ ১৫১০, সহীহাহ হা/ ১৩৩১।
। আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইসলামের চাকা (হুকুমাত) পয়ত্রিশ, ছত্রিশ বা সাইত্রিশ বছর চালু থাকবে। এ সময়ে তারা ধ্বংস হলে তাদের পথ হবে তাদের পূর্ববর্তীদের মতো। আর এ সময় যদি তাদের দীন প্রতিষ্ঠিত থাকে তবে সত্তর বছর পর্যন্ত তা প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, এর গণনা কি অতীত থেকে না এখন থেকে শুরু হবে? তিনি বললেন, অতীত থেকে শুরু হবে।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সময় ছোট হয়ে আসবে, দীনি জ্ঞান হ্রাস পাবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে, কৃপণতা মানুষের অন্তর দখল করবে, হারাজ বেড়ে যাবে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘হারাজ’ কি? তিনি বলেন, গণহত্যা।[1] সহীহ।
। মুসলিম ইবনু অবূ বাকরাহ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই ফিতনা আসবে। তখন বসে থাকা ব্যক্তির চেয়ে শয়নকারী এবং দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে হেঁটে চলা ব্যক্তি উত্তম হবে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কি নির্দেশ দেন? তিনি বললেন, যার উট আছে, সে যেন তার উটের সঙ্গে, যার বকরী আছে, সে তার বকরীর সঙ্গে এবং যার জমি আছে সে তার জমি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তিনি প্রশ্ন করলেন, যার এসবের কিছুই নেই? তিনি বললেন, সে যেন তার তলোয়ারের দিকে মনোনিবেশ করে এবং পাথরের আঘাতে তরবারির ধার চূর্ণ করে দেয়, অতঃপর যথাসাধ্য চেষ্টা করে সেই ফিতনা থেকে মুক্তি পাওয়ার।[1] সহীহ।
হাদিস 4257 — Sunan Abu Dawud 37:18
সহিহসহিহসহিহহাসান
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُفَضَّلٌ، عَنْ عَيَّاشٍ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَشْجَعِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ دَخَلَ عَلَىَّ بَيْتِي وَبَسَطَ يَدَهُ لِيَقْتُلَنِي قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُنْ كَابْنَىْ آدَمَ " . وَتَلاَ يَزِيدُ { لَئِنْ بَسَطْتَ إِلَىَّ يَدَكَ } الآيَةَ .
। সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উপরে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কি মত, যদি কেউ আমার ঘরে ঢুকে পড়ে এবং আমাকে হত্যা করার জন্য তার হাত প্রসারিত করে? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তখন আদম (আঃ)-এর পুত্রের মতো (হাবীলের) হয়ে যাও। অতঃপর বর্ণনাকারী ইয়াযীদ এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ ‘‘তুমি যদি আমাকে হত্যা করতে হাত প্রসারিত করো...’’ (সূরা আল-মায়িদাহঃ ২৮)।[1] সহীহ।
। ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ... অতঃপর তিনি আবূ বাকরাহ বর্ণিত হাদীসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করে বলেন, ঐ ফিতনায় নিহত সকল লোকই জাহান্নামী হবে। তিনি তাতে বলেন, আমি বললাম, হে ইবনু মাস‘ঊদ! ঐ পরিস্থিতি কখন হবে? তিনি বললেন, সেই মারামারিরর যুগে কোনো ব্যক্তি তার বন্ধুর নিকটেও নিরাপদ থাকবে না। আমি বললাম, সেই যুগ যদি আমাকে পেয়ে বসে, তাহলে আমাকে কি করতে আদেশ করেন? তিনি বললেন তোমার জিহ্বা নিয়ন্ত্রণে রাখবে, হাত গুটিয়ে রাখবে আর তুমি তোমার ঘরের বাইরে বের হবে না। অতঃপর যখন উসমান (রাঃ) শহীদ হলেন, তখন আমার ফিতনার কথা স্মরণ হলো। সুতরাং আমি যাত্রা করে দামিশকে চলে এলাম এবং খুরাইম ইবনু ফাতিক (রাঃ)-এর সাক্ষাতে এ হাদীস বর্ণনা করলাম। তিনি যেই সত্তা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই সেই আল্লাহর কসম করে বললেন, আমি তাঁর নিকট ইবনু মাস‘ঊদের যে হাদীস বর্ণনা করেছি, অনুরূপ হাদীস তিনিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন।[1] সনদ দুর্বল।
। আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় বিপদ আসতে থাকবে। তখন সকালবেলা যে ঈমানদার ছিলো, সন্ধ্যাকালে সে কাফির হয়ে যাবে। আর সন্ধ্যাবেলা যে ঈমানদার ছিলো, সে সকালবেলা কাফির হয়ে যাবে। তখন দাঁড়ানো ব্যক্তির চাইতে বসা ব্যক্তি এবং হেঁটে চলার লোক দৌঁড়ে চলা লোকের চাইতে উত্তম হবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুকগুলো ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলো, ধনুকের ছিলাগুলো কেটে ফেলো এবং তরবারিগুলো পাথরে আঘাত করে চূর্ণ-বিচূর্ণ করো। তবুও যদি তোমাদের কারো কারো নিকট কেউ এসে পড়ে, তবে যেন সে আদম (আঃ)-এর দু‘পুত্রের মধ্যে উত্তমটির (হাবীলের) মতো হয়।[1] সহীহ।