حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُرْقِبُوا وَلاَ تُعْمِرُوا فَمَنْ أُرْقِبَ شَيْئًا أَوْ أُعُمِرَهُ فَهُوَ لِوَرَثَتِهِ " .
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা পুনরায় ফেরত পাবার আশায় এরূপ (বলে) দান করবে না যে, যদি আমি আগে মরে যাই তবে এটা তোমার; আর যদি তুমি আগে মরে যাও তবে এটা আমার। অথবা যতদিন তুমি বেঁচে থাকবে এটা তোমার। যাকে রুকবা অথবা জীবনস্বত্ব দান করা হয় সেটা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য হয়ে যায়।
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক আনসারী মহিলাকে তার পুত্র কর্তৃক দান করা একটি খেজুর বাগান সম্পর্কে ফায়সালা দিয়েছিলেন। অতঃপর মহিলাটি মারা গেলে তার ছেলে বললো, আমি তাকে তার জীবিত থাকাকালীন সময়ের জন্যই দান করেছিলাম। ছেলেটির আরো কয়েকটি ভাই ছিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জীবিত ও মৃত্যু উভয় অবস্থায়ই বাগানটি তার হয়ে গেছে। ছেলেটি বললো, বাগানটি আমি তাকে সাদাকাহ স্বরূপ দিয়েছিলাম। তিনি বললেনঃ তাহলে তো এটা তোমার থেকে দূরে সরে গেছে।
হাদিস 3558 — Sunan Abu Dawud 24:143
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ صلى الله عليه وسلم " الْعُمْرَى جَائِزَةٌ لأَهْلِهَا وَالرُّقْبَى جَائِزَةٌ لأَهْلِهَا " .
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকে জীবনস্বত্ব দেয়া হয় সেটা তারই হয়ে যায়। রুকবা যাকে দেয়া সে-ই হয় এর স্বতাধিকারী।
হাদিস 3559 — Sunan Abu Dawud 24:144
হাসান Sahih Isnaadহাসান Sahih IsnaadহাসানIsnaad Sahih
। যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ কাউকে জীবনস্বত্বরূপে কিছু দান করে তাহলে যাকে তা দান করা হয়েছে সে-ই হবে জীবনে-মরণে এর স্বতাধিকারী। তোমরা রুকবা করো না। কেউ রুকবা করলে তা গ্রহীতার মালিকানায় চলে যায়।
। মুজাহিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জীবনস্বত্ব হলোঃ কোনো ব্যক্তি কাউকে বললো, যতদিন তুমি বেঁচে থাকবে এটা তোমার। দাতা এরূপ বললে এটা গ্রহীতার হয়ে যাবে এবং তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিসরা এর স্বতাধিকার হবে। আর রুকবা হলোঃ কোনো ব্যক্তির এরূপ বলা, যদি আমি আগে মারা যাই তবে এটা তোমার; আর যদি তুমি আগে মারা যাও তবে এটা আমার।
। সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হাত দিয়ে গৃহীত জিনিস (ধার) গ্রহণকারী তা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত তার যামিন থাকবে। বর্ণনাকারী হাসান (রহঃ) পরবর্তীকালের এ হাদীসটি ভুলে যান। অতঃপর বলেন, ধার গ্রহীতা আমানতদার। সুতরাং তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।
। সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। হুনাইনের যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার লৌহবর্মসমূহ ধার হিসেবে গ্রহণ করলে সাফওয়ান বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি জোরপূর্বক নিলেন? তিনি বললেনঃ না, বরং ধার হিসেবে, এর কোনো ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
হাদিস 3563 — Sunan Abu Dawud 24:148
সহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ أُنَاسٍ، مِنْ آلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَا صَفْوَانُ هَلْ عِنْدَكَ مِنْ سِلاَحٍ " . قَالَ عَارِيَةً أَمْ غَصْبًا قَالَ " لاَ بَلْ عَارِيَةً " . فَأَعَارَهُ مَا بَيْنَ الثَّلاَثِينَ إِلَى الأَرْبَعِينَ دِرْعًا وَغَزَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُنَيْنًا فَلَمَّا هُزِمَ الْمُشْرِكُونَ جُمِعَتْ دُرُوعُ صَفْوَانَ فَفَقَدَ مِنْهَا أَدْرَاعًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِصَفْوَانَ " إِنَّا قَدْ فَقَدْنَا مِنْ أَدْرَاعِكَ أَدْرَاعًا فَهَلْ نَغْرَمُ لَكَ " . قَالَ لاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لأَنَّ فِي قَلْبِي الْيَوْمَ مَا لَمْ يَكُنْ يَوْمَئِذٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَانَ أَعَارَهُ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ ثُمَّ أَسْلَمَ .
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সাফওয়ান এর পরিবারের কিছু ব্যক্তি সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে সাফওয়ান! তোমার নিকট যুদ্ধাস্ত্র আছে কি? সে বললো, ধার চাচ্ছেন না জোরপূর্বক নিবেন? তিনি বললেনঃ না, বরং ধার হিসেবে। সাফওয়ান তাঁকে তিরিশ থেকে চল্লিশটি লৌহবর্ম ধার দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের যুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করলেন। মুশরিকরা পরাজিত হলে সাফওয়ানের লৌহবর্মগুলো একত্র করে দেখা গেলো, কয়েকটি বর্ম হারিয়ে গেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফওয়ানকে বললেনঃ ‘আমরা তোমার কয়েকটি বর্ম হারিয়ে ফেলেছি। ‘আমরা তোমাকে এর ক্ষতিপূরণ দিবো কি? সে বললো, না, হে আল্লাহর রাসূল! কারণ তখন আমার মনের অবস্থা যেমন ছিলো আজ তেমন নেই। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, তিনি ইসলাম কবূলের আগে এগুলো ধার দিয়েছিলেন, পরে ইসলাম কবূল করেন।
হাদিস 3564 — Sunan Abu Dawud 24:149
দাঈফসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رُفَيْعٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ نَاسٍ، مِنْ آلِ صَفْوَانَ قَالَ اسْتَعَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .
। সাফওয়ানের পরিবারের লোকদের সূত্রে বর্ণিত। তারা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধার হিসেবে ... অতঃপর উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
। আবূ উমামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার হক প্রদান করেছেন। কাজেই উত্তরাধিকারীদের জন্য কোনো ওয়াসিয়াত নেই। স্বামীর বিনা অনুমতিতে কোনো স্ত্রী তার ঘরের কিছু খরচ করবে না। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! খাদ্যদ্রব্যও নয়? তিনি বললেনঃ এটা তো আমাদের সর্বোত্তম সম্পদ। অতঃপর তিনি বললেনঃ ধারকৃত বস্তু ফেরত দিতে হবে; দুগ্ধবতী পশুর দুধ পান শেষ হলে তা ফেরত দিতে হবে; ঋণ পরিশোধ করতে হবে এবং জামিনদার দায়বদ্ধ থাকবে।