حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِقَوْمٍ عَذَابًا، أَصَابَ الْعَذَابُ مَنْ كَانَ فِيهِمْ، ثُمَّ بُعِثُوا عَلَى أَعْمَالِهِمْ ".
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ্ কোন কাওমের উপর আযাব অবতীর্ণ করেন তখন সেখানে বসবাসরত সকলের উপরই সেই আযাব পতিত হয়। অবশ্য পরে প্রত্যেককে তার ‘আমল অনুযায়ী উঠানো হবে।[1] [মুসলিম ৫১/১৯, হাঃ ২৮৭৯, আহমাদ ৪৯৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাসান বাসরী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ) সেনাবাহিনী নিয়ে মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রওনা হলেন, তখন ‘আমর ইবনু ‘আস (রাঃ) মুআবিযা (রাঃ)-কে বললেন, আমি এমন এক সেনাবাহিনী দেখছি, যারা বিপক্ষকে না ফিরিয়ে যাবে না। মু‘আবিয়াহ (রাঃ) বললেন, তাহলে মুসলিমদের সন্তান-সন্ততির দেখাশুনা কে করবে? ‘আমর ইবনু ‘আস (রাঃ) বললেন, আমি। এ সময় ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আমির (রাঃ) ও ‘আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ) বললেন, আমরা তার সঙ্গে দেখা করব এবং তাকে সন্ধির কথা বলব। হাসান বস্রী (রহ.) বলেন, আমি আবূ বকরাহ (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিচ্ছিলেন। এমন সময় হাসান (রাঃ) আসলেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখে) বললেনঃ আমার এ দৌহিত্র সরদার আর সম্ভবত আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর মাধ্যমে মুসলিমদের দু’টি দলের মাঝে মীমাংসা করে দেবেন। [২৭০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
উসামাহ (রাঃ)-এর গোলাম হারমালাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসামাহ (রাঃ) আমাকে ‘আলী (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন। আর তিনি বলে দিলেন যে, সেখানে যাওয়ার পরই [‘আলী (রাঃ)] তোমাকে জিজ্ঞেস করবেন যে, তোমার সাথীকে (আমার সহযোগিতা থেকে) কিসে ফিরিয়ে রেখেছে? তুমি তাঁকে বলবে, তিনি আপনার কাছে এ কথা বলে পাঠিয়েছেন যে, যদি আপনি সিংহের মুখে পড়েন, তবুও আমি আপনার সঙ্গে সেখানে থাকাকে ভাল মনে করব। তবে এ বিষয়টি (অর্থাৎ মুসলিমদের মধ্যে) আমি ভাল মনে করছি না। (হারমালাহ বলেন) তিনি (‘আলী (রাঃ) আমাকে কিছুই দিলেন না। এরপর আমি হাসান, হুসাইন ও ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু জা‘ফর (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তাঁরা আমার বাহন বোঝাই করে দিলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
নাফি' (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মাদ্বীনাহর লোকেরা ইয়াযীদ ইবনু মু‘আবিয়াহ (রাঃ) এর বাই‘আত ভঙ্গ করল, তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাঁর বিশেষ ভক্তবৃন্দ ও সন্তানদের একত্রিত করলেন এবং বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি করে ঝান্ডা (পতাকা) উঠানো হবে। আর আমরা এ লোকটির (ইয়াযীদের) প্রতি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বর্ণিত শর্তানুযায়ী বাই‘আত গ্রহণ করেছি। বস্তুত কোন একজন লোকের প্রতি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দেয়া শর্ত মুতাবিক বাই‘আত গ্রহণ করার পর তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করার চেয়ে বড় কোন বিশ্বাসঘাতকতা আছে বলে আমি জানি না। ইয়াযীদের বাই‘আত ভঙ্গ করেছে, কিংবা তার আনুগত্য করছে না আমি যেন কারো সম্পর্কে জানতে না পাই। তা না হলে তার ও আমার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। [৩১৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবু মিনহাল (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু যিয়াদ ও মারওয়ান যখন সিরিয়ার শাসনকর্তা নিযুক্ত ছিলেন এবং ইবনু যুবায়র (রাঃ) মক্কার শাসন ক্ষমতা দখল করেন, আর ক্বারী নামধারীরা (খারেজীরা) বসরায় ক্ষমতায় চেপে বসল, তখন একদিন আমি আমার পিতার সাথে আবূ বারযা আসলামী (রাঃ)-এর উদ্দেশে রওনা করে আমরা তাঁর ঘরে প্রবেশ করলাম। এ সময় তিনি তাঁর বাঁশের তৈরি ঘরের ছায়ায় উপবিষ্ট ছিলাম। আমরা তাঁর কাছে বসলাম। আমার পিতা তাঁর নিকট হতে কিছু হাদীস শুনতে চাইলেন। পিতা বললেন, হে আবূ বারযা! লোকেরা কী ভীষণ বিপদে পড়েছে তা কি আপনি দেখছেন না? সর্বপ্রথম যে কথাটি তাঁকে বলতে শুনলাম তা হল, আমি যে কুরাইশের গোত্রগুলোর প্রতি বিরূপ ভাব পোষণ করি, এজন্য আল্লাহর কাছে অবশ্যই সওয়ারের আশা করি। হে আরববাসীরা! তোমরা যে কেমন ভ্রষ্টতা, অভাব-অনটন ও লাঞ্ছনার মধ্যে ছিলে তা তোমরা জান। মহান আল্লাহ্ তা‘আলা ইসলাম ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে সে অবস্থা থেকে মুক্ত করে তোমাদের বর্তমান অবস্থায় পৌঁছিয়েছেন, যা তোমরা দেখছ। আর এ পার্থিব দুনিয়াই তোমাদের মাঝে গোলযোগের সৃষ্টি করেছে। ঐ যে লোকটা সিরিয়ায় (ক্ষমতা বসে আছে) আছে, আল্লাহর কসম! কেবল পার্থিব স্বার্থ ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশে সে লড়াই করেনি।[1] [৭২৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7113 — Sahih al Bukhari 92:60
حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَاصِلٍ الأَحْدَبِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ الْيَوْمَ شَرٌّ مِنْهُمْ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانُوا يَوْمَئِذٍ يُسِرُّونَ وَالْيَوْمَ يَجْهَرُونَ.
হুযাইফাহ ইবনু ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বর্তমান কালের মুনাফিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কালের মুনাফিকদের চেয়েও জঘন্য। কেননা, সে কালে তারা (মুনাফিকী) করত গোপনে আর আজ করে প্রকাশ্যে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7114 — Sahih al Bukhari 92:61
حَدَّثَنَا خَلاَّدٌ، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ إِنَّمَا كَانَ النِّفَاقُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَّا الْيَوْمَ فَإِنَّمَا هُوَ الْكُفْرُ بَعْدَ الإِيمَانِ.
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিফাক বস্তুত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ছিল। আর এখন হল তা ঈমান গ্রহণের পর কুফরী। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7115 — Sahih al Bukhari 92:62
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ ".
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ কোন লোক অন্য লোকের কবরের পাশ দিয়ে যাবার সময় না বলবে হায়! যদি আমি তার স্থলে হতাম। [৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7116 — Sahih al Bukhari 92:63
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَخْبَرَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ عَلَى ذِي الْخَلَصَةِ ". وَذُو الْخَلَصَةَ طَاغِيَةُ دَوْسٍ الَّتِي كَانُوا يَعْبُدُونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ.
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ ‘যুল্খালাসাহর’ পাশে দাওস গোত্রীয় মহিলাদের নিতম্ব দোলায়িত না হবে। ‘যুলখালাসাহ’ হলো দাওস গোত্রের একটি মূর্তি। জাহিলী যুগে তারা এর ইবাদাত করত। [মুসলিম ৫২/১৭, হাঃ ২৯০৬, আহমাদ ৭৬৮১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7117 — Sahih al Bukhari 92:64
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ رَجُلٌ مِنْ قَحْطَانَ يَسُوقُ النَّاسَ بِعَصَاهُ ".
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না কাহতান গোত্র থেকে এমন এক লোক বের হবে, যে মানুষকে লাঠি দিয়ে তাড়িয়ে দেবে। [৩৪১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)