ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী ইসরাঈলদের মাঝে কিসাসের বিধান কার্যকর ছিল। তাদের মাঝে রক্তপণের বিধান ছিল না। তবে আল্লাহ্ এ উম্মাতকে বললেনঃ নরহত্যার ক্ষেত্রে তোমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেয়া হয়েছে .... কিন্তু তার ভাইয়ের পক্ষ হতে কিছুটা ক্ষমা করা হলে পর্যন্ত- (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১৭৮)। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ক্ষমা করার অর্থ হলো ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার ক্ষেত্রে রক্তপণ গ্রহণ করা। তিনি বলেন, আর প্রচলিত প্রথার অনুসরণ করার অর্থ হচ্ছে, ন্যায়সঙ্গত দাবি ও দয়ার সঙ্গে দায়িত্ব আদায় করা। [৪৪৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত লোক হচ্ছে তিনজন। যে লোক হারাম শরীফে অন্যায় ও অপকর্মে লিপ্ত হয়। যে লোক ইসলামী যুগে জাহিলী যুগের রেওয়াজ অন্বেষণ করে। যে লোক ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া কারো রক্তপাত দাবি করে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন ইবলীস লোকদের মধ্যে চিৎকার দিয়ে বলল, হে আল্লাহর বান্দারা! পিছনের দলের ওপর আক্রমণ চালাও। ফলে তাদের সামনের লোকেরা পেছনের লোকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এমন কি তারা ইয়ামানকে হত্যা করে ফেলল। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আমার পিতা! আমার পিতা! কিন্তু তারা তাকে হত্যা করে ফেলল। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তোমাদের মাফ করুন। রাবী বলেন, মুশরিকদের একটি দল পরাজিত হয়ে তায়েফ চলে গিয়েছিল। [৩২৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
بَاب قَوْلِ اللهِ تَعَالَى (وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَقْتُلَ مُؤْمِنًا إِلاَّ خَطَأً وَمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا خَطَأً فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ إِلاَّ أَنْ يَصَّدَّقُوا فَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ عَدُوٍّ لَكُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ فَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ تَوْبَةً مِنْ اللهِ وَكَانَ اللهُ عَلِيمًا حَكِيمًا) ৮৭/১১. অধ্যায়: আল্লাহর বাণীঃ কোন মু’মিন ব্যক্তির জন্য অন্য মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয়। তবে ভুলবশত করলে সেটা আলাদা.....। (সূরা আন্-নিসা ৪/৯২) ৬৮৮৪. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক ইয়াহূদী একটি বালিকার মাথা দু’টি পাথরের মাঝে রেখে চূর্ণ করে দিল। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, কে তোমার সাথে এমন ব্যবহার করেছে? অমুক? না অমুক? শেষে ইয়াহূদী লোকটির নাম উল্লেখ করা হল। তখন সে তার মাথা দিয়ে (হ্যাঁ-সূচক) ইশারা করল। তখন ইয়াহূদী লোকটিকে আনা হল এবং সে স্বীকার করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে আদেশ করলেন, তাই তার মাথা একটি পাথর দিয়ে চূর্ণ করা হল, এবং হাম্মা (রহ.) বলেন, দু’টো পাথর দিয়ে। [২৪১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 6885 — Sahih al Bukhari 87:24
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَتَلَ يَهُودِيًّا بِجَارِيَةٍ قَتَلَهَا عَلَى أَوْضَاحٍ لَهَا.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ইয়াহূদীকে একজন বালিকার বদলে হত্যা করেছেন। সে রূপার গহনার লোভে মেয়েটিকে হত্যা করেছিল।[1] [২৪১৩; মুসলিম ২৮/৩, হাঃ ১৬৭২, আহমাদ ১৩৮৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 6886 — Sahih al Bukhari 87:25
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ لَدَدْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ فَقَالَ " لاَ تَلُدُّونِي ". فَقُلْنَا كَرَاهِيَةُ الْمَرِيضِ لِلدَّوَاءِ. فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ " لاَ يَبْقَى أَحَدٌ مِنْكُمْ إِلاَّ لُدَّ، غَيْرَ الْعَبَّاسِ فَإِنَّهُ لَمْ يَشْهَدْكُمْ ".
وَقَالَ أَهْلُ الْعِلْمِ يُقْتَلُ الرَّجُلُ بِالْمَرْأَةِ وَيُذْكَرُ عَنْ عُمَرَ تُقَادُ الْمَرْأَةُ مِنْ الرَّجُلِ فِي كُلِّ عَمْدٍ يَبْلُغُ نَفْسَهُ فَمَا دُونَهَا مِنْ الْجِرَاحِ وَبِهِ قَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَإِبْرَاهِيمُ وَأَبُو الزِّنَادِ عَنْ أَصْحَابِهِ وَجَرَحَتْ أُخْتُ الرُّبَيِّعِ إِنْسَانًا فَقَالَ النَّبِيُّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقِصَاصُ. ‘আলিমগণ বলেন, নারীর বদলে পুরুষকে হত্যা করা হবে। আর ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করা হয় যে, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যেক হত্যা বা আহত করার ক্ষেত্রে নারীর বদলে পুরুষকে কিসাসের বিধান মতে শাস্তি দেয়া হবে। এটাই ‘উমার ইবনু আবদুল ‘আযীয (রহ.), ইবরাহীম (রহ.) এবং আবূয যিনাদ (রহ.)-এর অভিমত তাদের আসহাব থেকে। রুবায়-এর বোন কোন এক লোককে আহত করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান হল ‘কিসাস’। ৬৮৮৬. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসুখের সময় তাঁর মুখের এক কিনারায় ঔষধ ঢেলে দিলাম। তিনি বললেন, তোমরা আমার মুখের কিনারায় ঔষধ দিও না। আমরা মনে করলাম, রোগী ঔষধ সেবন অপছন্দ করেই থাকে। যখন তাঁর হুশ ফিরে এলো, তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যেন এমন কেউ থাকে না, যার মুখের কিনারায় জোরপূর্বক ঔষধ ঢেলে দেয়া না হয় শুধুমাত্র ‘আব্বাস ব্যতীত। কেননা, সে তোমাদের কাছে হাযির ছিল না। [৪৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
উক্ত হাদীসের সূত্রে এও বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ যদি কেউ তোমার ঘরে তোমার অনুমতি ব্যতীত উঁকি মারে আর তুমি পাথর মেরে তার চক্ষু ফুটা করে দাও, তাতে তোমার কোন গুনাহ্ হবে না। [৬৭০২; মুসলিম ৩৮/৯, হাঃ ২১৫৮, আহমাদ ১৯৫৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
উক্ত হাদীসের সূত্রে এও বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ যদি কেউ তোমার ঘরে তোমার অনুমতি ব্যতীত উঁকি মারে আর তুমি পাথর মেরে তার চক্ষু ফুটা করে দাও, তাতে তোমার কোন গুনাহ্ হবে না। [৬৭০২; মুসলিম ৩৮/৯, হাঃ ২১৫৮, আহমাদ ১৯৫৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 6889 — Sahih al Bukhari 87:27
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ حُمَيْدٍ،، أَنَّ رَجُلاً، اطَّلَعَ فِي بَيْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَدَّدَ إِلَيْهِ مِشْقَصًا. فَقُلْتُ مَنْ حَدَّثَكَ قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ.
হুমায়দ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে উঁকি মারল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে চাকু নিক্ষেপ করতে উদ্যত হলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, (এ হাদীস) আপনাকে কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)। [৬২৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন যখন মুশরিকরা পরাজিত হয়ে গেল তখন ইব্লীস চিৎকার দিয়ে বলল, হে আল্লাহর বান্দাগণ! পিছনের দলের উপর আক্রমণ কর। তখন সামনের লোকেরা পেছনের লোকেদের উপর আক্রমণ করল ও পরস্পরে লড়াইয়ে লিপ্ত হল। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) তাকিয়ে দেখতে পেলেন যে তাঁর বাবা ইয়ামান আক্রান্ত হয়েছেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দাগণ! (এতো) আমার পিতা! আমার পিতা! তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তারা তাকে হত্যা না করে থামল না। হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন। ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন, এ কারণে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত না হওয়া পর্যন্ত হুযাইফাহ (রাঃ)-এর অন্তরে এই স্মৃতি জাগরুক ছিল। [৩২৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)