حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ أَخَذَ أَبُو طَلْحَةَ بِيَدِي فَانْطَلَقَ بِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَنَسًا غُلاَمٌ كَيِّسٌ فَلْيَخْدُمْكَ. قَالَ فَخَدَمْتُهُ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ، فَوَاللَّهِ مَا قَالَ لِي لِشَىْءٍ صَنَعْتُهُ، لِمَ صَنَعْتَ هَذَا هَكَذَا وَلاَ لِشَىْءٍ لَمْ أَصْنَعْهُ لِمَ لَمْ تَصْنَعْ هَذَا هَكَذَا
وَيُذْكَرُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ بَعَثَتْ إِلَى مُعَلِّمِ الْكُتَّابِ ابْعَثْ إِلَيَّ غِلْمَانًا يَنْفُشُونَ صُوفًا وَلاَ تَبْعَثْ إِلَيَّ حُرًّا বর্ণিত আছে যে, উম্মু সালামাহ (রাঃ) একটি পাঠশালার শিক্ষকের কাছে খবর পাঠালেন যে, আমার কাছে কতিপয় বালক পাঠিয়ে দিন, যারা পশমের জট ছাড়াবে। তবে কোন আযাদ (বালক) পাঠাবেন না। ৬৯১১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় আসলেন, তখন আবূ ত্বল্হা (রাঃ) আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আনাস একজন হুঁশিয়ার ছেলে। সে যেন আপনার খেদমত করে। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি মুকীম এবং সফরকালে তাঁর খেদমত করেছি। আল্লাহর কসম! যে কাজ আমি করেছি এর জন্য তিনি আমাকে কোন দিন এ কথা বলেননি, এটা এমন কেন করেছ? আর যে কাজ আমি করিনি এ জন্য এ কথা বলেননি, এটা এরকম কেন করনি? [২৭৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন পশু কাউকে আহত করলে, কূপে বা খণিতে পড়ে কেউ নিহত বা আহত হলে তাতে কোন দন্ড বা রক্তপণ নেই। আর কেউ গুপ্তধন পেলে তার প্রতি এক-পঞ্চমাংশ দেয়া ওয়াজিব। [১৪৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 6913 — Sahih al Bukhari 87:51
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْعَجْمَاءُ عَقْلُهَا جُبَارٌ، وَالْبِئْرُ جُبَارٌ، وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ، وَفِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ ".
وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ كَانُوا لاَ يُضَمِّنُونَ مِنْ النَّفْحَةِ وَيُضَمِّنُونَ مِنْ رَدِّ الْعِنَانِ وَقَالَ حَمَّادٌ لاَ تُضْمَنُ النَّفْحَةُ إِلاَّ أَنْ يَنْخُسَ إِنْسَانٌ الدَّابَّةَ وَقَالَ شُرَيْحٌ لاَ تُضْمَنُ مَا عَاقَبَتْ أَنْ يَضْرِبَهَا فَتَضْرِبَ بِرِجْلِهَا وَقَالَ الْحَكَمُ وَحَمَّادٌ إِذَا سَاقَ الْمُكَارِي حِمَارًا عَلَيْهِ امْرَأَةٌ فَتَخِرُّ لاَ شَيْءَ عَلَيْهِ وَقَالَ الشَّعْبِيُّ إِذَا سَاقَ دَابَّةً فَأَتْعَبَهَا فَهُوَ ضَامِنٌ لِمَا أَصَابَتْ وَإِنْ كَانَ خَلْفَهَا مُتَرَسِّلاً لَمْ يَضْمَنْ ইবনে সীরীন (রহ.) বলেন, তাদের সময়ে পশুর লাথির আঘাতের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ফায়সালা দিতেন না। এবং লাগাম টানার দরুন কোন ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের ফায়সালা দিতেন। হাম্মাদ (রহ.) বলেন, লাথির আঘাতের কারণে দায়ী করা যাবে না। তবে যদি কেউ পশুটিকে খোঁচা মারে। শুরায়হ্ (রহ.) বলেন, প্রতিশোধমূলক আঘাতের কারণে পশুকে দায়ী করা যাবে না। যেমন কেউ কোন পশুকে আঘাত করল, তখন পশুটিও তাকে পা দিয়ে আঘাত করল। হাকাম (রহ.) ও হাম্মাদ (রহ.) বলেন, যদি ভাড়া-করা ব্যক্তি গাধাকে হাঁকিয়ে নেয়, যে গাধার উপর কোন মহিলা উপবিষ্ট থাকে আর মহিলাটি গাধা থেকে পড়ে যায়, তাহলে তার উপর কিছু বর্তিবে না। শা‘বী (রহ.) বলেন, যদি কেউ কোন পশু চালায় এবং তাকে ক্লান্ত করে ফেলে, তাহলে তার উপর ক্ষতিপূরণ বর্তিবে। আর যদি ধীরে চালায় তাহলে বর্তিবে না। ৬৯১৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পশু আহত করলে, খণি বা কূপে পড়ে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাতে কোন ক্ষতিপূরণ নেই। গুপ্তধনের এক-পঞ্চমাংশ দেয়া ওয়াজিব। [১৪৯৯; মুসলিম ২৯/১১, হাঃ ১৭১০, আহমাদ ৭২৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি প্রদত্ত কোন লোককে হত্যা করে, সে ব্যক্তি জান্নাতের সুগন্ধির ঘ্রাণ নিতে পারবে না। অথচ তার সুগন্ধ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।[1] [৩১৬৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ জুহাইফাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাদের কাছে এমন কিছু আছে কি যা কুরআনে নেই? তিনি বললেন, দিয়াতের বিধান, বন্দী-মুক্তির বিধান এবং (এ বিধান যে) কাফেরের বদলে কোন মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না। [১১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 6916 — Sahih al Bukhari 87:54
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُخَيِّرُوا بَيْنَ الأَنْبِيَاءِ ".
رَوَاهُ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ এ সম্পর্কে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। ৬৯১৬. আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা নবীদের একজনকে অন্য জনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। [২৪১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহূদী, যার মুখে চপেটাঘাত করা হয়েছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনার জনৈক আন্সারী সাহাবী আমার মুখে চপেটাঘাত করেছে। তিনি বললেন, তোমরা তাকে ডেকে আন। তারা তাকে ডেকে আনল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাকে কেন চড় মারলে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এক ইয়াহূদীর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমি তাকে বলতে শুনলাম যে, ঐ সত্তার কসম! যিনি মূসাকে মানবকুলের উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তখন আমি বললাম, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপরেও কি? অতঃপর আমার ভীষণ রাগ এসে গেল। ফলে আমি তাকে চড় মেরে দেই। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাকে নবীদের মাঝে কারোউপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। কেননা সকল মানুষই কিয়ামতের দিন বেহুঁশ হয়ে পড়বে। তখন আমিই হব প্রথম ব্যক্তি যে হুঁশ ফিরে পাবে। কিন্তু আমি তখন মূসা (আঃ)-কে এমন অবস্থায় পাব যে, তিনি আরশের খুঁটিগুলো থেকে একটি খুঁটি ধরে আছেন। আমি বুঝতে পারব না যে, তিনি আমার আগে হুঁশ ফিরে পেলেন, না তূর পর্বতে বেহুঁশ হবার প্রতিদান দেয়া হয়েছে (যে জন্য তিনি পুনরায় বেহুঁশই হননি)? [২৪১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)