আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে, তখন যেন সে সংক্ষেপ করে। কেননা, তাদের মাঝে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ রয়েছে। আর যদি কেউ একাকী সালাত আদায় করে, তখন ইচ্ছামত দীর্ঘ করতে পারে। (মুসলিম ৪/৩৭, হাঃ ৪৬৭, আহমাদ ৭৪৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ أَبُو أُسَيْدٍ طَوَّلْتَ بِنَا يَا بُنَيَّ. আবূ উসাইদ (রহ.) তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, বেটা! তুমি আমাদের সালাত দীর্ঘায়িত করে ফেলেছ। ৭০৪. আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তির জন্য আমি ফজরের সালাতে অনুপস্থিত থাকি। কেননা, তিনি আমাদের সালাত খুব দীর্ঘায়িত করেন। এ শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন। আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) বলেন, নাসীহাত করতে গিয়ে সে দিন তিনি যেমন রাগান্বিত হয়েছিলেন, সে দিনের মত রাগান্বিত হতে তাঁকে আর কোন দিন দেখিনি। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে লোকেরা! তোমাদের মধ্যে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ লোকদের ইমামাত করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোকেরা রয়েছে। (৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক সাহাবী দু’টি উটের পিঠে পানি নিয়ে আসছিলেন। রাতের অন্ধকার তখন ঘনীভূত হয়ে এসেছিল। এ সময় তিনি মু‘আয (রাযি.)-কে সালাত আদায়রত পান, তিনি তার উট দু’টি বসিয়ে দিয়ে মু‘আয (রাযি.)-এর দিকে (সালাত আদায় করতে) এগিয়ে এলেন। মু‘আয (রাযি.) সূরাহ্ বাক্বারাহ বা সূরাহ্ আন-নিসা পড়তে শুরু করেন। এতে সাহাবী (জামা‘আত ছেড়ে) চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন যে, মু‘আয (রাযি.) এ জন্য তার সমালোচনা করেছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে মু‘আয (রাযি.)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মু‘আয! তুমি কি লোকদের ফিতনায় ফেলতে চাও? বা তিনি বলেছিলেন, তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তিনি একথা তিনবার বলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا এবং وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى (সূরাহ্) দ্বারা সালাত আদায় করলে না কেন? কারণ, তোমার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোক সালাত আদায় করে থাকে। [শু‘বাহ (রহ.) বলেন] আমার ধারণা শেষোক্ত বাক্যটিও হাদীসের অংশ। সায়ীদ ইবনু মাসরূক, মিসওআর এবং শাইবানী (রহ.)-ও অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। ‘আমর, ‘উবাইদুল্লাহ্ ইবনু মিকসাম এবং আবূ যুবাইর (রহ.) জাবির (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, মু‘আয (রাযি.) ‘ইশার সালাতে সূরাহ্ বাকারাহ পাঠ করেছিলেন। আ‘মাশ (রহ.) ও মুহারিব (রহ.) সূত্রে এরূপই রিওয়ায়াত করেন। (৭০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 706 — Sahih al Bukhari 10:101
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُوجِزُ الصَّلاَةَ وَيُكْمِلُهَا.
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত সংক্ষেপে এবং পূর্ণভাবে আদায় করতেন। (৮৬৮; মুসলিম ৪/৩৭ হাঃ ৪৬৯, আহমাদ ১১৯৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবু ক্বাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি অনেক সময় দীর্ঘ করে সালাত আদায়ের ইচ্ছা নিয়ে দাঁড়াই। পরে শিশুর কান্নাকাটি শুনে সালাত সংক্ষেপ করি। কারণ শিশুর মাকে কষ্টে ফেলা আমি পছন্দ করি না। বিশ্র ইবনু বাকর, বাকিয়্যাহ ও ইবনু মুবারাক আওযায়ী (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৮৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ সালাত আর কোন ইমামের পিছনে আদায় করিনি। আর তা এজন্য যে, তিনি শিশুর কান্না শুনতে পেতেন এবং তার মায়ের ফিতনায় পড়ার আশংকায় সংক্ষেপ করতেন। (মুসলিম ৪/৩৭, হাঃ ৪৭ আহমাদ ১২০৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি। কিন্তু পরে শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, শিশু কাঁদলে মায়ের মন যে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তা আমি জানি। (৭১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 710 — Sahih al Bukhari 10:105
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنِّي لأَدْخُلُ فِي الصَّلاَةِ فَأُرِيدُ إِطَالَتَهَا، فَأَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ، فَأَتَجَوَّزُ مِمَّا أَعْلَمُ مِنْ شِدَّةِ وَجْدِ أُمِّهِ مِنْ بُكَائِهِ ". وَقَالَ مُوسَى حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ.
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি এবং শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, আমি জানি শিশু কান্না করলে মায়ের মন খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। (৭০৯) আনাস (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 711 — Sahih al Bukhari 10:106
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو النُّعْمَانِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَأْتِي قَوْمَهُ فَيُصَلِّي بِهِمْ.
জাবির (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু‘আয (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাত আদায় করে নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে তাদের ইমামাত করতেন। (৭০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 712 — Sahih al Bukhari 10:107
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ لَمَّا مَرِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَرَضَهُ الَّذِي مَاتَ فِيهِ أَتَاهُ بِلاَلٌ يُؤْذِنُهُ بِالصَّلاَةِ فَقَالَ " مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ ". قُلْتُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ أَسِيفٌ، إِنْ يَقُمْ مَقَامَكَ يَبْكِي فَلاَ يَقْدِرُ عَلَى الْقِرَاءَةِ. قَالَ " مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ ". فَقُلْتُ مِثْلَهُ فَقَالَ فِي الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ " إِنَّكُنَّ صَوَاحِبُ يُوسُفَ، مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ ". فَصَلَّى وَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُهَادَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ، كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ يَخُطُّ بِرِجْلَيْهِ الأَرْضَ، فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ يَتَأَخَّرُ، فَأَشَارَ إِلَيْهِ أَنْ صَلِّ، فَتَأَخَّرَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ وَقَعَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى جَنْبِهِ، وَأَبُو بَكْرٍ يُسْمِعُ النَّاسَ التَّكْبِيرَ. تَابَعَهُ مُحَاضِرٌ عَنِ الأَعْمَشِ.
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে আক্রান্ত থাকাকালে একবার বিলাল (রাযি.) তাঁর নিকট এসে সালাতের (সময় হওয়ার) সংবাদ দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ বাকরকে বল, যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন] আমি বললাম, আবূ বাকর (রাযি.) কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি আপনার স্থানে দাঁড়ালে কেঁদে ফেলবেন এবং কিরাআত পড়তে পারবেন না। তিনি আবার বললেনঃ আবূ বাকরকে বল, সালাত আদায় করতে। আমি আবারও সেকথা বললাম। তখন তৃতীয় বা চতুর্থবারে তিনি বললেন, তোমরা তো ইউসুফের (‘আ.)-সাথী রমণীদেরই মত। আবূ বাকর (রাযি.)-কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আবূ বাকর (রাযি.) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন, ইতোমধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জন লোকের কাঁধে ভর করে বের হলেন। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন]ঃ আমি যেন এখনও সে দৃশ্য দেখতে পাই, তিনি দু’ পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়িয়ে যান। আবূ বাকর (রাযি.) তাঁকে দেখতে পেয়ে পিছনে সরে আসতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিতে তাঁকে সালাত আদায় করতে বললেন, (তবুও) আবূ বাকর (রাযি.) পিছনে সরে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পাশে বসলেন, আবূ বাকর (রাযি.) তাকবীর শুনাতে লাগলেন। মুহাযির (রহ.) আমাশ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু দাঊদ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)