حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنِ الأَعْلَمِ ـ وَهْوَ زِيَادٌ ـ عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهْوَ رَاكِعٌ، فَرَكَعَ قَبْلَ أَنْ يَصِلَ إِلَى الصَّفِّ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلاَ تَعُدْ ".
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এমন অবস্থায় পৌঁছলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন রুকূ‘তে ছিলেন। তখন কাতার পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই তিনি রুকূ‘তে চলে যান। এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ব্যক্ত করা হলে, তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিন। তবে এ রকম আর করবে না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 784 — Sahih al Bukhari 10:179
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ صَلَّى مَعَ عَلِيٍّ ـ رضى الله عنه ـ بِالْبَصْرَةِ فَقَالَ ذَكَّرَنَا هَذَا الرَّجُلُ صَلاَةً كُنَّا نُصَلِّيهَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. فَذَكَرَ أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ كُلَّمَا رَفَعَ وَكُلَّمَا وَضَعَ.
قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيهِ مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ. এ ব্যাপারে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে মালিক ইবনু হুওয়ারিস (রাযি.) হতেও রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। ৭৮৪. ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বসরায় ‘আলী (রাযি.)-এর সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, ইনি [‘আলী (রাযি.)] আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আদায়কৃত সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আর তিনি উল্লেখ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবার (মাথা) উঠাতে ও নামাতে তাকবীর বলতেন। (৭৮৬, ৮২৬; মুসলিম ৪/১০, হাঃ ৩৯৩, আহমাদ ১৯৯৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ সালামাহ ... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি তাদের সঙ্গে সালাত আদায় করতেন এবং প্রতিবার উঠা বসার সময় তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে আমার সালাতই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। (৭৮৯, ৭৯৫, ৮০৩ মুসলিম ৪/১০, হাঃ ৩৯২ আহমাদ ৮২২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 786 — Sahih al Bukhari 10:181
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَا وَعِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ،، فَكَانَ إِذَا سَجَدَ كَبَّرَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ كَبَّرَ، وَإِذَا نَهَضَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ كَبَّرَ، فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ أَخَذَ بِيَدِي عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ فَقَالَ قَدْ ذَكَّرَنِي هَذَا صَلاَةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم. أَوْ قَالَ لَقَدْ صَلَّى بِنَا صَلاَةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم.
মুতাররিফ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) ‘আলী ইবনু তালিব (রাযি.)-এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন সিজদা্য় গেলেন তখন তাকবীর বললেন, সিজদা্ হতে যখন মাথা উঠালেন তখনও তাকবীর বললেন, আবার দু’ রাক‘আতের পর যখন দাঁড়ালেন তখনও তাকবীর বললেন। তিনি যখন সালাত শেষ করলেন তখন ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযি.) আমার হাত ধরে বললেন, ইনি [‘আলী (রাযি.)] আমাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বা তিনি বলেছিলেন, আমাদের নিয়ে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করেছেন। (৭৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৪২ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 787 — Sahih al Bukhari 10:182
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ رَأَيْتُ رَجُلاً عِنْدَ الْمَقَامِ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ خَفْضٍ وَرَفْعٍ وَإِذَا قَامَ وَإِذَا وَضَعَ، فَأَخْبَرْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ أَوَلَيْسَ تِلْكَ صَلاَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ أُمَّ لَكَ.
‘ইকরিমাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাকামে (ইব্রাহীমের নিকট) এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে, প্রতিবার উঠা ও ঝুঁকার সময় এবং দাঁড়ানো ও বসার সময় তাকবীর বলছেন। আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে এ কথা জানালে তিনি বললেন, তুমি মাতৃহীন হও,* একি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত নয়? (৭৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘ইকরিমাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা্য় এক বৃদ্ধের পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি বাইশবার তাকবীর বললেন। আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে বললাম, লোকটি তো আহাম্মক। তিনি বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। এ যে আবুল কাসিম-এর সুন্নাত। মূসা (রহ.) বলেন, আবান (রহ.) ক্বাতাদাহ্ (রহ.) সূত্রেও ‘ইকরিমাহ (রাযি.) হতে এ হাদীসটি সরাসরি বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আরম্ভ করার সময় দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন। অতঃপর রুকূ‘তে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন, আবার যখন রুকূ‘ হতে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে قَائِمٌ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলতেন। অতঃপর সিজদা্য় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। এবং যখন মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। আবার (দ্বিতীয়) সিজদা্য় যেতে তাকবীর বলতেন এবং পুনরায় মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। এভাবেই তিনি পুরো সালাত শেষ করতেন। আর দ্বিতীয় রাক‘আতের বৈঠক শেষে যখন (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর বলতেন। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু সালিহ্ (রহ.) লাইস (রহ.) সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করতে وَلَكَ الْحَمْدُ উল্লেখ করেছেন। (৭৮৫; মুসলিম ৪/১০, হাঃ ৩৯২, আহমাদ ৮২৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ فِي أَصْحَابِهِ أَمْكَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ. আবূ হুমায়দ (রাযি.) তাঁর সঙ্গীদের সামনে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রুকূ‘র সময়) দু’ হাত দিয়ে উভয় হাঁটুতে ভর দিতেন। ৭৯০. মুস‘আব ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আমার পিতার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলাম। এবং (রুকু‘র সময়) দু’ হাত জোড় করে উভয় উরুর মাঝে রাখলাম। আমার পিতা আমাকে এমন করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, আগে আমরা এমন করতাম; পরে আমাদেরকে এ হতে নিষেধ করা হয়েছে এবং হাত হাঁটুর উপর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (মুসলিম ৫/৫, হাঃ ৫৩৫, আহমাদ ১৫৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
যায়দ ইবনু ওয়াহব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফা (রাযি.) এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে রুকূ‘ ও সিজদা্ ঠিকমত আদায় করছে না। তিনি তাকে বললেন, তোমার সালাত হয়নি। যদি তুমি (এই অবস্থায়) মারা যাও, তাহলে আল্লাহ্ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যে আদর্শ দিয়েছেন সে আদর্শ হতে বিচ্যুত অবস্থায় তুমি মারা যাবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 792 — Sahih al Bukhari 10:187
حَدَّثَنَا بَدَلُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي الْحَكَمُ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كَانَ رُكُوعُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَسُجُودُهُ وَبَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ وَإِذَا رَفَعَ مِنَ الرُّكُوعِ، مَا خَلاَ الْقِيَامَ وَالْقُعُودَ، قَرِيبًا مِنَ السَّوَاءِ.
بَاب اسْتِوَاءِ الظَّهْرِ فِي الرُّكُوعِ ১০/১২০. অধ্যায়: রুকূ‘তে পিঠ সোজা রাখা। আবূ হুমাইদ (রাযি.) তাঁর সাথীদের সামনে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ করতেন এবং রুকূ‘তে পিঠ সোজা রাখতেন। ৭৯২. বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে দাঁড়ানো ও বসা অবস্থা ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রুকূ‘, সিজদা্ এবং দু’ সিজদার মধ্যবর্তী সময় এবং রুকূ‘ হতে উঠে দাঁড়ানো, এগুলো প্রায় সমপরিমাণ ছিল। (৮০১, ৮২০; মুসলিম ৪/৩৮ হাঃ ৪৭১, আহমাদ ১৮৬২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)