ইয়াহ্ইয়া (রহ.) হতে এমনই বর্ণিত আছে। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেছেন, আমার কোনো ভাই আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মুআয্যিন যখন حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ বলল, তখন তিনি (মু‘আবিয়াহ (রাযি.) لاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِবললেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমরা এরূপ বলতে শুনেছি। (৬১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান শুনে দু‘আ করেঃ ‘হে আল্লাহ্-এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের মালিক, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ওয়াসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিন যার অঙ্গীকার আপনি করেছেন’-কিয়ামতের দিন সে আমার শাফা‘আত লাভের অধিকারী হবে।* (৪৭১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَيُذْكَرُ أَنَّ أَقْوَامًا اخْتَلَفُوا فِي الْأَذَانِ فَأَقْرَعَ بَيْنَهُمْ سَعْدٌ. উল্লেখ করা হয়েছে যে, একদল লোক আযান দেয়ার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করল। সা‘দ (রাযি.) তাঁদের মধ্যে কুরআহর (লটারী) মাধ্যমে নির্বাচন করলেন। ৬১৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আযানে ও প্রথম কাতারে কী (ফাযীলাত) রয়েছে, তা যদি লোকেরা জানত, কুরআহর মাধ্যমে বাছাই ব্যতীত এ সুযোগ লাভ করা যদি সম্ভব না হত, তাহলে অবশ্যই তারা কুরআহর মাধ্যমে ফায়সালা করত। যুহরের সালাত আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করার মধ্যে কী (ফাযীলাত) রয়েছে, যদি তারা জানত, তাহলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করত। আর ‘ইশা ও ফজরের সালাত (জামা‘আতে) আদায়ের কী ফাযীলাত তা যদি তারা জানত, তাহলে নিঃসন্দেহে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা হাজির হত। (৬৫৪, ৭২১, ২৬৮৯; মুসলিম ৪/২৮, হাঃ ৪৩৭, আহমাদ ৭২৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَتَكَلَّمَ سُلَيْمَانُ بْنُ صُرَدٍ فِي أَذَانِهِ وَقَالَ الْحَسَنُ لاَ بَأْسَ أَنْ يَضْحَكَ وَهُوَ يُؤَذِّنُ أَوْ يُقِيمُ. সুলাইমান ইব্নু সুরাদ (রহ.) আযানের মধ্যে কথা বলেছেন। হাসান বসরী (রহ.) বলেন, আযান বা ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়ার সময় হেসে ফেললে কোনো দোষ নেই। ৬১৬. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার বর্ষণ মুখর দিনে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) আমাদের উদ্দেশে খুত্বাহ দিচ্ছিলেন। এদিকে মুআয্যিন আযান দিতে গিয়ে যখন حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ -এ পৌঁছল, তখন তিনি তাকে এ ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিলেন যে, ‘লোকেরা যেন আবাসে সালাত আদায় করে নেয়।’ এতে লোকেরা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বললেন, তাঁর চেয়ে যিনি অধিক উত্তম ছিলেন (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তিনিই এরূপ করেছেন। অবশ্য জুমু‘আর সালাত ওয়াজিব। (তবে ওযরের কারণে নিজ আবাসস্থলে সালাত আদায় করার অনুমতি আছে)। (৬৬৮, ৯০১; মুসলিম ৬/৩, হাঃ ৬৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিলাল (রাযি.) রাত থাকতেই আযান দেন। কাজেই ইবনু উম্মে মাকতূম (রাযি.) আযান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা (সাহরীর) পানাহার করতে পার। ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) বলেন, ইবনু উম্মে মাকতূম (রাযি.) ছিলেন অন্ধ। যতক্ষণ না তাঁকে বলে দেওয়া হত যে, ‘ভোর হয়েছে, ভোর হয়েছে’-ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না। (৬২০, ৬২৩, ১৯১৮, ২৬৫৬, ৭২৪৮; মুসলিম ১৩/৮, হাঃ ১০৯২, আহমাদ ৪৫৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 618 — Sahih al Bukhari 10:16
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ أَخْبَرَتْنِي حَفْصَةُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اعْتَكَفَ الْمُؤَذِّنُ لِلصُّبْحِ وَبَدَا الصُّبْحُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ تُقَامَ الصَّلاَةُ.
হাফসাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মুআযযিন সুবহে সাদিকের প্রতীক্ষায় থাকত (ও আযান দিত) এবং ভোর স্পষ্ট হত- জামা‘আত দাঁড়ানোর পূর্বে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্ষেপে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে নিতেন। (১১৭৩, ১১৮১; মুসলিম ৬/১৪, হাঃ ৭২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 619 — Sahih al Bukhari 10:17
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ بَيْنَ النِّدَاءِ وَالإِقَامَةِ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ.
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মাঝে দু’ রাক‘আত সালাত সংক্ষেপে আদায় করতেন। (১১৫৯; মুসলিম ৬/১৪, হাঃ ৭২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 620 — Sahih al Bukhari 10:18
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ بِلاَلاً يُنَادِي بِلَيْلٍ، فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُنَادِيَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ ".
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিলাল (রাযি.) রাত থাকতে আযান দিয়ে থাকেন। কাজেই তোমরা (সাহরী) পানাহার করতে থাক; যতক্ষণ না ইবনু উম্মে মাক্তূম (রাযি.) আযান দেন।* (৬১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে। কেননা, সে রাত থাকতে আযান দেয়- যেন তোমাদের মধ্যে যারা তাহাজ্জুদের সালাতে রত তারা ফিরে যায় আর যারা ঘুমন্ত তাদেরকে জাগিয়ে দেয়। অতঃপর তিনি বললেনঃ ফজর বা সুবহে সদিক বলা যায় না- তিনি একবার আঙ্গুল উপরের দিকে উঠিয়ে নীচের দিকে নামিয়ে ইঙ্গিত করে বললেন, যতক্ষণ না এরূপ হয়ে যায়। বর্ণনাকারী যুহাইর (রহ.) তাঁর শাহাদাত আঙ্গুলদ্বয় একটি অপরটির উপর রাখার পর তাঁর ডানে ও বামে প্রসারিত করে দেখালেন।* (৫২৯৮, ৭২৪৭; মুসলিম ১৩/৮, হাঃ ১০৯৩, আহমাদ ৩৬৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 622 — Sahih al Bukhari #622
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ حَدَّثَنَا عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ،. وَعَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ. ح وَحَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ عِيسَى الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ، فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ ".
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযি.) রাত থাকতে আযান দিয়ে থাকেন। কাজেই, ইবনু উম্মু মাকতূম (রাযি.) যতক্ষণ আযান না দেয়, ততক্ষণ তোমরা (সাহারী) পানাহার করতে পার। (৬২২=১৯১৯) (৬২৩=৬১৭) (মুসলিম ১৩/৮, হাঃ ১০৯২, আহমাদ ২৪২২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)