হুমাইদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যাবার পর কোন ব্যক্তি কথা বললে তার সম্পর্কে আমি সাবিত বুনানীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত একটি হাদীস বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হয় এমন সময় এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলো এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের পরও তাঁকে কথার মধ্যে ব্যস্ত রাখল। (৬৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ الْحَسَنُ إِنْ مَنَعَتْهُ أُمُّهُ عَنِ الْعِشَاءِ فِي الْجَمَاعَةِ شَفَقَةً لَمْ يُطِعْهَا. হাসান বাসরী (রহ.) বলেন, কোনো মা যদি তার সন্তানের প্রতি স্নেহবশত ‘ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করতে নিষেধ করেন, তবে এ ক্ষেত্রে সন্তান তার মায়ের আনুগত্য করবে না। ৬৪৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দেই, অতঃপর সালাত কায়েমের আদেশ দেই, অতঃপর সালাতের আযান দেয়া হোক, অতঃপর এক ব্যক্তিকে লোকদের ইমামত করার নির্দেশ দেই। অতঃপর আমি লোকদের নিকট যাই এবং তাদের (যারা সালাতে শামিল হয়নি) ঘর জ্বালিয়ে দেই। যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! যদি তাদের কেউ জানত যে, একটি গোশ্তহীন মোটা হাড় বা ছাগলের ভালো দু’টি পা পাবে তাহলে অবশ্যই সে ‘ইশা সালাতের জামা‘আতেও হাযির হতো। (৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৬৫১, আহমাদ ৭৩৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 645 — Sahih al Bukhari 10:42
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلاَةَ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً ".
وَكَانَ الْأَسْوَدُ إِذَا فَاتَتْهُ الْجَمَاعَةُ ذَهَبَ إِلَى مَسْجِدٍ آخَرَ وَجَاءَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ إِلَى مَسْجِدٍ قَدْ صُلِّيَ فِيهِ فَأَذَّنَ وَأَقَامَ وَصَلَّى جَمَاعَةً জামা‘আত না পেলে আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.) অন্য মসজিদে চলে যেতেন। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) এমন এক মসজিদে গেলেন যেখানে আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিয়ে জামা‘আতে সালাত আদায় করলেন। ৬৪৫. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামা‘আতে সালাতের ফাযীলত একাকী আদায়কৃত সালাত অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশী। (৬৪৯; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৬৫০, আহমাদ ৫৩৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 646 — Sahih al Bukhari 10:43
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلاَةَ الْفَذِّ بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً ".
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তির জামা‘আতের সাথে সালাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণ এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করলো, অতঃপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশে মসজিদে রওয়ানা করল তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, মালাকগণ তার জন্য এ বলে দু‘আ করতে থাকেন - ‘‘হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।’’ আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়। (১৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
শু‘আয়ব (রহ.) বলেন, আমাকে নাফি‘ (রহ.) ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণনা করে শুনিয়েছেন যে, জামা‘আতের সালাতে একাকী সালাত হতে সাতাশ গুণ অধিক সওয়াব হয়। (৬৪৫; মুসলিম ৫/৪২, হাঃ ৬৫০, আহমাদ ৫৯২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১২ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬১৯ শেষাংশ)
উম্মুদ দারদা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ দারদা (রাযি.) ভীষণ রাগান্বিত অবস্থায় আমার নিকট এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কিসে তোমাকে রাগান্বিত করেছে? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উম্মাতের মধ্যে জামা‘আতে সালাত আদায় বাদ দিয়ে তাঁর তরীকার আর কিছুই দেখছি না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মসজিদ হতে) যে যত অধিক দূরত্ব অতিক্রম করে সালাতে আসে, তার তত অধিক পুণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, তার পুণ্য সে ব্যক্তির চেয়ে অধিক, যে একাকী সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে। (মুসলিম ৫/৫০, হাঃ ৬৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
অতঃপর আল্লাহর রাসূল বললেনঃ শহীদ পাঁচ প্রকার- ১. প্লেগে মৃত ব্যক্তি ২. কলেরায় মৃত ব্যক্তি ৩. পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি ৪. চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং ৫. আল্লাহর পথে (জিহাদে) শহীদ। তিনি আরও বলেছেনঃ মানুষ যদি আযান দেয়া এবং প্রথম কাতারে সালাত আদায় করার কী ফাযীলাত তা জানত আর কুরআহর মাধ্যমে ফায়সালা করা ছাড়া সে সুযোগ না পেতো, তাহলে কুরআহর মাধ্যমে হলেও তারা সে সুযোগ গ্রহণ করতো। (৭২০, ২৮২৯, ৫৭৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬২২ দ্বিতীয় অংশ)