উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হতে আমাদেরকে নিষেধ করা হত। তবে স্বামী মারা গেলে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে হবে এবং আমরা যেন সুরমা খুশবু ব্যবহার না করি আর রঙিন কাপড় যেন না পরি তবে হালকা রঙের ছাড়া। আমাদের কেউ যখন হায়িয শেষে গোসল করে পবিত্র হয়, তখন (দুর্গন্ধ দূর করার জন্য) আযফার নামক স্থানের সুগন্ধি ব্যবহার করার আমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আমাদেরকে জানাযার অনুসরণ করতে নিষেধ করা হতো। [৩১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
উম্মু আতিয়্যাহ ( হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেনঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল হবে না।। সুরমা ও রঙিন কাপড়ও ব্যবহার করতে পারবে না। তবে সূতাগুলো একত্রে বেঁধে হালকা রং লাগিয়ে তা দিয়ে কাপড় বুনলে তা ব্যবহার করা যাবে। [১৩১৩] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হাদিস 5343 — Sahih al Bukhari 68:88
وَقَالَ الأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، حَدَّثَتْنَا حَفْصَةُ، حَدَّثَتْنِي أُمُّ عَطِيَّةَ، نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَلاَ تَمَسَّ طِيبًا إِلاَّ أَدْنَى طُهْرِهَا إِذَا طَهُرَتْ، نُبْذَةً مِنْ قُسْطٍ وَأَظْفَارٍ ". قَالَ أَبُو عَبْد اللَّهِ الْقُسْطُ وَالْكُسْتُ مِثْلُ الْكَافُورِ وَالْقَافُورِ
উম্মু আতিয়্যাহ ( হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন শোক পালনকারিণী যেন সুগন্ধি না মাখে। তবে হায়িয থেকে পবিত্র হলে (দুর্গন্ধ দূর করার জন্য) কাফূরের ‘কুস্ত’ ও ‘আযফার’ সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে। [১৩১৩] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবিদেরকে রেখে মারা যাবে’’ সূরাহ আল-বাক্বরাহ ২ঃ ২৪০) তিনি এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, স্বামীর বাড়ীতে অবস্থান করে এ ইদ্দাত পালন করা মহিলার জন্য ওয়াজিব ছিল। পরে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবিদেরকে রেখে মারা যাবে, তারা বিবিদের জন্য অসিয়ত করবে যেন এক বৎসরকাল সুযোগ-সুবিধা পায় এবং গৃহ হতে বের করে দেয়া না হয়, তবে যদি তারা নিজেরাই বের হয়ে যায়, তবে তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই তারা নিজেদের ব্যাপারে বৈধভাবে কিছু করলে।’’ (সূরাহ আল-বাক্বরাহ ২ঃ ২৪০)। মুজাহিদ বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা সাত মাস বিশ রাতকে তার জন্য পূর্ণ বছর সাব্যস্ত করেছেন। মহিলা ইচ্ছা করলে ওসিয়ত অনুসারে থাকতে পারে, আবার চাইলে চলেও যেতে পারে। এ কথাই আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘বের না করে, তবে যদি স্বেচ্ছায় বের হয়ে যায় তবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই’’ তাই মহিলার উপর ইদ্দাত পালন করা যথারীতি ওয়াজিব আছে। আবূ নাজীহ এ কথাগুলো মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ‘আত্বা বলেন, ইবনু ‘আব্বাস বলেছেনঃ এ আয়াতটি স্বামীর বাড়ীতে ইদ্দাত পালন করার নির্দেশকে রহিত করে দিয়েছে। অতএব, সে যেখানে ইচ্ছা ইদ্দাত পালন করতে পারে। ‘আত্বা বলেনঃ ইচ্ছা হলে ওয়াসিয়াত অনুযায়ী সে স্বামীর পরিবারে অবস্থান করতে পারে। আবার ইচ্ছা হলে অন্যত্রও ইদ্দাত পালন করতে পারে। কেননা, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ ‘‘তারা নিজেদের জন্য বিধিমত যা করবে, তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই।’’ আত্বা বলেন, এরপর মিরাসের আয়াত অবতীর্ণ হলে ‘বাসস্থান দেয়ার’ হুকুমও রহিত হয়ে যায়। এখন সে যেখানে মনে চায় ইদ্দাত পালন করতে পারে, তাকে বাসস্থান দেয়া জরুরী নয়। [৪৫৩১] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উম্মু হাবীবাহ বিনত আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন তাঁর কাছে তার পিতার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছল, তখন তিনি সুগন্ধি আনিয়ে তার উভয় হাতে লাগালেন এবং বললেনঃ সুগন্ধি ব্যবহারে কোন দরকার আমার নেই। কিন্তু যেহেতু আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন নারীর জন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হালাল হবে না। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে হবে। [১২৮০] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হাদিস 5346 — Sahih al Bukhari 68:91
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ، وَحُلْوَانِ الْكَاهِنِ، وَمَهْرِ الْبَغِيِّ.
وَقَالَ الْحَسَنُ إِذَا تَزَوَّجَ مُحَرَّمَةً وَهُوَ لاَ يَشْعُرُ فُرِّقَ بَيْنَهُمَا وَلَهَا مَا أَخَذَتْ وَلَيْسَ لَهَا غَيْرُه“ ثُمَّ قَالَ بَعْدُ لَهَا صَدَاقُهَا. হাসান (রহ.) বলেছেন, যদি কেউ অজান্তে কোন মুহাররাম (যার সাথে বিয়ে করা অবৈধ) মহিলাকে বিয়ে করে ফেলে, তবে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। মহিলা নির্দিষ্ট মাহর ব্যতীত অন্য কিছু পাবে না। তিনি পরবর্তীতে বলেছেন, সে মাহরে মিসাল পাবে। ৫৩৪৬. আবূ মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, গণকের পারিশ্রমিক এবং পতিতার উপার্জন গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। [২২৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 5347 — Sahih al Bukhari 68:92
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَعَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْوَاشِمَةَ، وَالْمُسْتَوْشِمَةَ، وَآكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ، وَنَهَى عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ، وَكَسْبِ الْبَغِيِّ، وَلَعَنَ الْمُصَوِّرِينَ.
আওন ইবন আবূ জুহাইফাহ এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা‘নাত করেছেন উল্কি অঙ্কণকারিণী, উল্কি গ্রহণকারিণী, সুদ গ্রহিতা ও সুদ দাতাকে। তিনি কুকুরের মূল্য ও পতিতার উপার্জন ভোগ করতে নিষেধ করেছেন। চিত্রাঙ্কণকারীদেরকেও তিনি লা‘নাত করেছেন। [২০৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 5348 — Sahih al Bukhari 68:93
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ كَسْبِ الإِمَاءِ.
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, দাসীর অবৈধ উপার্জন ভোগ করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। [২২৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমারকে জিজ্ঞেস করলামঃ যদি কেউ তার স্ত্রীকে অপবাদ দেয়? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজলান গোত্রের এক দম্পতির বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ জানেন তোমাদের দু’জনের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমাদের কেউ কি তওবা করবে? তারা উভয়ে অস্বীকার করল। তিনি আবার বললেনঃ আল্লাহ জানেন তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। কাজেই তোমাদের মধ্যে তওবা করতে কে প্রস্তুত? তারা কেউ রাযী হল না। এরপর তিনি তাদের মধ্য বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন। আইয়ূব বলেনঃ আমর ইবনু দ্বীনার আমাকে বললেন, হাদীসে আরো কিছু কথা আছে, আমি তা তোমাকে বর্ণনা করতে দেখছি না। রাবী বলেন, লোকটি তখন বলল, আমার মাল প্রদত্ত মাহর) ফেরত পাব না? তিনি বললেনঃ তুমি কোন মাল পাবে না। যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে তো তুমি তার সাথে সহবাস করেছ। আর যদি মিথ্যাচারী হও, তাহলে মাল ফেরত পাওয়া তো বহু দূরের ব্যাপার। [৫৩১১] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
وَلَمْ يَذْكُرِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمُلاَعَنَةِ مُتْعَةً حِينَ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا আর লি‘আনকারিণীকে তার স্বামী ত্বলাক (তালাক)্ব দেয়ার সময় নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য মুত‘আর [তাকে উপভোগের বিনিময় হিসাবে] কিছু দিয়ে দেয়ার কথা উল্লেখ করেননি। ৫৩৫০. ইবনু ‘উমার হতে বর্ণিত আছে যে, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামলি‘আনকারী স্বামী-স্ত্রীকে বলেছিলেন, আল্লাহই তোমাদের হিসাব নিবেন। তোমাদের একজন মিথ্যাবাদী। তার মহিলার) উপর তোমার কোন অধিকার নেই। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাল? তিনি বললেনঃ তোমার জন্যে কোন মাল নেই। তুমি যদি সত্যি কথা বলে থাক, তাহলে এ মাল তার লজ্জাস্থানকে হালাল করার বিনিময়ে হবে। আর যদি মিথ্যা বলে থাক, তবে এটা তুমি মোটেই চাইতে পার না, তুমি তো তার থেকে অনেক দূরে। [৫৩১১; মুসলিম ১৯/হাঃ ১৪৯৩, আহমাদ ৪৫৮৭] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন