حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَكُنَّا إِذَا أَشْرَفْنَا عَلَى وَادٍ هَلَّلْنَا وَكَبَّرْنَا ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُنَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا أَيُّهَا النَّاسُ، ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، فَإِنَّكُمْ لاَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا، إِنَّهُ مَعَكُمْ، إِنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ، تَبَارَكَ اسْمُهُ وَتَعَالَى جَدُّهُ ".
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন কোন উপত্যকায় আরোহণ করতাম, তখন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বলতাম। আর আমাদের আওয়াজ অতি উঁচু হয়ে যেত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও। তোমরা তো বধির বা অনুপস্থিত কাউকে ডাকছ না। বরং তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই আছেন, তিনি তো শ্রবণকারী ও নিকটবর্তী। (৪২০২, ৬৩৮৪, ৬৪০৯, ৬৬১০, ৭৩৮৬) (মুসলিম ৪৮/১৩ হাঃ ২৭০৪, আহমাদ ১৯৬১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন কোন উঁচু স্থানে আরোহণ করতাম, তখন তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করতাম আর যখন কোন উপত্যকায় অবতরণ করতাম, সে সময় সুবহানাল্লাহ্ বলতাম। (২৯৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 2994 — Sahih al Bukhari 56:203
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ جَابِرٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنَّا إِذَا صَعِدْنَا كَبَّرْنَا، وَإِذَا تَصَوَّبْنَا سَبَّحْنَا.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন উঁচুস্থানে আরোহণ করতাম, তখন আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করতাম আর যখন নিম্ন ভূখন্ডে অবতরণ করতাম, সে সময় সুবহানাল্লাহ্ বলতাম। (২৯৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হজ্জ কিংবা ‘উমরাহ থেকে ফিরতেন, বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না, নাকি এরূপ বলেছেন যে, যখন জিহাদ থেকে ফিরতেন, তখন তিনি ঘাঁটি অথবা প্রস্তরময় ভূমিতে পৌঁছে তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন। অতঃপর এ দু‘আ পাঠ করতেন, ‘‘আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই; তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, কর্তৃত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান। আমরা সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকারী, গুনাহ থেকে তাওবাকারী, ‘ইবাদাতকারী, সিজদাকারী, আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাহকে সাহায্য করেছেন, কাফির সৈন্যদলকে তিনি একাই পরাস্ত করেছেন।’’ সালেহ (রহ.) বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আবদুল্লাহ্ কি ইনশাআল্লাহ্ বলেননি? তিনি বললেন, না। (১৭৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ ইসমাঈল আসসাকসাকী বলেন, আবূ বুরদাহ্-কে বলতে শুনেছি, তিনি এবং ইয়াযিদ ইবনু আবূ কাবশা (রাঃ) সফরে ছিলেন। আর ইয়াযিদ (রাঃ) মুসাফির অবস্থায় রোযা রাখতেন। আবূ বুরদাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমি আবূ মূসা (আশ‘আরী) (রাঃ)-কে একাধিকবার বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন বান্দা পীড়িত হয় কিংবা সফরে থাকে, তখন তার জন্য তা-ই লেখা হয়, যা সে আবাসে সুস্থ অবস্থায় ‘আমল করত। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 2997 — Sahih al Bukhari 56:206
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ نَدَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ، فَانْتَدَبَ الزُّبَيْرُ، ثُمَّ نَدَبَهُمْ فَانْتَدَبَ الزُّبَيْرُ، ثُمَّ نَدَبَهُمْ فَانْتَدَبَ الزُّبَيْرُ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ حَوَارِيًّا، وَحَوَارِيَّ الزُّبَيْرُ ". قَالَ سُفْيَانُ الْحَوَارِيُّ النَّاصِرُ.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের দিন লোকদেরকে ডাক দিলেন। যুবাইর (রাঃ) সে ডাকে সাড়া দিলেন, পুনরায় তিনি লোকদেরকে ডাক দিলেন, আবারও যুবাইর (রাঃ) সে ডাকে সাড়া দিলেন। পুনরায় তিনি লোকদেরকে ডাকলেন, এবারও যুবাইর (রাঃ) সে ডাকে সাড়া দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘প্রত্যেক নবীর জন্য একজন বিশেষ সাহায্যকারী থাকে আর আমার বিশেষ সাহায্যকারী হচ্ছে যুবাইর।’ সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, হাওয়ারী সাহায্যকারীকে বলা হয়। (২৮৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 2998 — Sahih al Bukhari 56:207
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي الْوَحْدَةِ مَا أَعْلَمُ مَا سَارَ رَاكِبٌ بِلَيْلٍ وَحْدَهُ ".
ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি লোকেরা একা সফরে কী ক্ষতি আছে তা জানত, যা আমি জানি, তবে কোন আরোহী রাতে একাকী সফর করত না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 2999 — Sahih al Bukhari 56:208
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، سُئِلَ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ ـ رضى الله عنهما ـ كَانَ يَحْيَى يَقُولُ وَأَنَا أَسْمَعُ فَسَقَطَ عَنِّي ـ عَنْ مَسِيرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، قَالَ فَكَانَ يَسِيرُ الْعَنَقَ، فَإِذَا وَجَدَ فَجْوَةً نَصَّ. وَالنَّصُّ فَوْقَ الْعَنَقِ.
قَالَ أَبُوْ حُمَيْدٍ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنِّيْ مُتَعَجِّلٌ إِلَى الْمَدِيْنَةِ فَمَنْ أَرَادَ أَنْ يَتَعَجَّلَ مَعِيْ فَلْيُعَجِّلْ আবূ হুমাইদ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি দ্রুত মদিনা্য় পৌঁছতে চাই, কাজেই যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে জলদি যেতে চায় সে যেন জলদি চলে। ২৯৯৯. হিশাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন যে, উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, বিদায় হজ্জে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমন গতিতে পথ চলেছিলেন। রাবী ইয়াহয়া (রাঃ) বলতেন, ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন, ‘‘আমি শুনতেছিলাম, তবে আমার বর্ণনায় তা ছুটে গেছে। উসামাহ (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহজ দ্রুতগতিতে চলতেন আর যখন প্রশস্ত ফাঁকা জায়গা পেতেন, তখন দ্রুত চলতেন। নাস হচ্ছে সহজ গতির চেয়ে দ্রুততর চলা। (১৬৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3000 — Sahih al Bukhari 56:209
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي زَيْدٌ ـ هُوَ ابْنُ أَسْلَمَ ـ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ بِطَرِيقِ مَكَّةَ، فَبَلَغَهُ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ شِدَّةُ وَجَعٍ، فَأَسْرَعَ السَّيْرَ حَتَّى إِذَا كَانَ بَعْدَ غُرُوبِ الشَّفَقِ، ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعَتَمَةَ، يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا، وَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ وَجَمَعَ بَيْنَهُمَا.
আসলাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কার পথে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। পথে তাঁর নিকট সাফিয়্যাহ বিনতু আবূ ‘উবাইদ (রাঃ)-এর ভীষণ অসুস্থতার সংবাদ পৌঁছে। তখন তিনি দ্রতগতিতে চলতে থাকেন। এমনকি যখন সূর্যাস্তের পরে লালিমা কেটে গেল, তখন তিনি উট থেকে নেমে মাগরিব ও এশার সালাত একত্রে আদায় করেন। আর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, যখন তাঁর দ্রুত গতিতে চলার প্রয়োজন দেখা দিত, তখন তিনি মাগরিবকে বিলম্বিত করে মাগরিব ও এশার উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন। (১০৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3001 — Sahih al Bukhari 56:210
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ، يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ نَوْمَهُ وَطَعَامَهُ وَشَرَابَهُ، فَإِذَا قَضَى أَحَدُكُمْ نَهْمَتَهُ فَلْيُعَجِّلْ إِلَى أَهْلِهِ ".
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সফর আযাবের একটি অংশ। যা তোমাদেরকে নিদ্রা, আহার ও পান থেকে বিরত রাখে। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন নিজের কাজ সেরে তার পরিজনের নিকট দ্রুত চলে আসে। (১৮০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)