وَقَالَتْ عَائِشَةُ وَأَسْمَاءُ صَنَعْنَا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ سُفْرَةً. আবূ বাকরের কন্যা ‘আয়িশাহ ও আসমা (রাঃ) বলেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকরের জন্য (হিজরতের প্রাক্কালে) পথের খাবার তৈরি করে দিয়েছিলাম। ৫৪২৩. ‘আবিস (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কুরবানীর গোশ্ত তিন দিনের অধিক সময় খেতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেনঃ সেই বছরেই কেবল নিষেধ করেছিলেন, যে বছর মানুষ অনাহারের কবলে পড়েছিল। তখন তিনি চেয়েছিলেন যেন ধনীরা গরীবদের খাওয়ায়। আমরা তো বকরীর পায়াগুলো তুলে রাখতাম এবং পনের দিন পর তা খেতাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলঃ কিসে আপনাদের এগুলো খেতে বাধ্য করত? তিনি হেসে বললেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবার পূর্ব পর্যন্ত তাঁর পরিবার পরিজন এক নাগাড়ে তিনদিন তরকারীসহ গমের রুটি পেট ভরে খাননি। অন্য সনদে ইবনু কাসীর বলেছেন, সুফ্ইয়ান (রহ.) ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আবিস সূত্রে উক্ত হাদীসটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। [৫৪২৮, ৫৫৭০, ৬৬৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা কুরবানীর গোশ্ত মদিনা পর্যন্ত সফরের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতাম। মুহাম্মাদ (রহ.) ইবনু ‘উয়াইনাহ থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। ইবনু জুরাইয বলেন, আমি ‘আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, জাবির (রাঃ) কি এ কথা বলেছেন যে, ‘এমন কি আমরা মদিনা পর্যন্ত এলাম’। তিনি বললেনঃ না। [১৭১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ ত্বলহাকে বললেনঃ তোমাদের ছেলেদের মধ্য থেকে একটি ছেলে খুঁজে আন, যে আমার খিদমত করবে। আবূ ত্বলহা আমাকেই তাঁর সাওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নিয়ে আসলেন। তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করতে থাকলাম। যখনই তিনি কোন মনযিলে অবতরণ করতেন, আমি তাকে প্রায়ই বলতে শুনতাম, আয় আল্লাহ! আমি তোমার কাছে, অস্বস্তি, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা, ঋণের ভার এবং মানুষের আধিপত্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমি সর্বদা তাঁর খিদমতে নিয়োজিত ছিলাম। এই অবস্থায় আমরা খাইবার থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম। তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] গনীমত হিসাবে প্রাপ্ত সফিয়্যা বিন্ত হুয়ায়কে সঙ্গে নিয়ে ফিরলেন। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি তাঁর সাওয়ারীর পেছনের দিকে তাঁর চাদর দিয়ে ঘিরে সেখানে তাঁর পিছনে তাঁকে সাওয়ার করলেন। এভাবে যখন ‘আমর সাহবা নামক স্থানে হাজির হলাম, তখন তিনি চামড়ার দস্তরখানে হাইস তৈরী করলেন। তারপর তিনি আমাকে পাঠালেন। আমি লোকজনকে দাওয়াত করলাম। তারা এসে) আহার করল। এই ছিল তাঁর সঙ্গে তাঁর বাসর যাপন। তারপর তিনি এগিয়ে চললেন। ওহুদ পর্বত নজরে পড়ল, তিনি বললেনঃ এ পর্বতটি আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি।[1] তারপর যখন মদিনা তাঁর নজরে পড়ল, তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ! আমি এর দু’ পর্বতের মধ্যবর্তী এলাকাকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করছি, যেভাবে ইবরাহীম আঃ) মক্কাকে হরম (সম্মানিত) বলে ঘোষণা করেছিলেন। হে আল্লাহ! এর অধিবাসীদের মুদ্ ও সা‘ এর মধ্যে তুমি বারাকাত দাও। [৩৭১; মুসলিম ১৫/৮৫, হাঃ ১৩৬৫, আহমাদ ১২৬১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার তাঁরা হুযাইফাহ -এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পানি পান করতে চাইলে এক অগ্নি উপাসক তাঁকে পানি এনে দিল। সে যখনই পাত্রটি তাঁর হাতে রাখল, তিনি সেটি ছুঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, আমি যদি একবার বা দু’বারের অধিক তাকে নিষেধ না করতাম, তাহলেও হতো। অর্থাৎ তিনি বলতে চাইলেন, তা হলেও আমি এমন করতাম না। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা রেশম বা রেশম জাত কাপড় পরিধান করো নাএবং সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর বাসনে আহার করো না।[1] কেননা দুন্ইয়াতে এগুলো কাফিরদের জন্য আর আখিরাতে তোমাদের জন্য। [৫৬৩২, ৫৬৩৩, ৫৮৩১, ৫৮৩৭; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৭, আহমাদ ২৩৩৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠকারী মু’মিনের দৃষ্টান্ত কমলার মত, যার ঘ্রাণও চমৎকার স্বাদও মজাদার। যে মু’মিন কুরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের মত, যার কোন সুঘ্রাণ নেই তবে এর স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ রায়হানার মত, যার সুঘ্রাণ আছে তবে স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হন্যালা ফলের ন্যায়, যার সুঘ্রাণও নাই, স্বাদও তিক্ত। [৫০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 5428 — Sahih al Bukhari 70:56
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ ".
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমস্ত খাদ্যের মধ্যে ‘সারীদের’ যেমন মর্যাদা আছে, তেমনি স্ত্রীলোকদের মধ্যে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মর্যাদা আছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 5429 — Sahih al Bukhari 70:57
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ، يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ نَوْمَهُ وَطَعَامَهُ، فَإِذَا قَضَى نَهْمَتَهُ مِنْ وَجْهِهِ فَلْيُعَجِّلْ إِلَى أَهْلِهِ ".
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফর হলো ‘আযাবের একটা টুকরা, যা তোমাদের সফরকারীকে নিদ্রা ও আহার থেকে বিরত রাখে। তাই তোমাদের কারো প্রয়োজন পূরণ হয়ে গেলে সে যেন শীঘ্র তার পরিবারের কাছে ফিরে আসে। [১৮০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার ঘটনায় শরীয়তের তিনটি বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘আয়িশাহ (রাঃ)তাকে ক্রয় করে মুক্ত করতে চাইলে তার মালিকেরা বলল, ‘ওলা’ উত্তরাধিকার) আমাদের থাকবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ)বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তুমি ইচ্ছে করলে তাদের জন্য ওলীর শর্ত মেনে নাও। কারণ, প্রকৃতপক্ষে ওলীর অধিকারী হল মুক্তিদাতা। তাকে আযাদ করে এখ্তিয়ার দেয়া হলো, ইচ্ছে হলে পূর্ব স্বামীর সংসারে থাকতে কিংবা ইচ্ছে করলে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ‘আয়িশাহর গৃহে প্রবেশ করলেন। সে সময় চুলার উপর ডেকচি ফুটছিল। তিনি সকালের খাবার আনতে বললে তাঁর কাছে রুটি ও ঘরের কিছু তরকারী আনা হল। তিনি বললেন, আমি কি গোশ্ত দেখিনি? তাঁরা বললেনঃ হাঁ, (গোশত রয়েছে) হে আল্লাহর রাসূল! কিন্তু তা ঐ গোশ্ত যা বারীরাহ্কে সদাকাহ করা হয়েছিল। এরপর সে তা আমাদের হাদিয়া দিয়েছে। তিনি বললেনঃ এটা তার জন্য সদাকাহ, কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া স্বরূপ। [৪৫৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হাদিস 5431 — Sahih al Bukhari 70:59
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ.
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাল্ওয়া ও মধু ভালবাসতেন। [1] [৪৯১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পেট ভরার জন্য যা পেতাম তাতে সন্তুষ্ট হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সব সময় লেগে থাকতাম। সে সময় রুটি খেতে পেতাম না, রেশমী কাপড় পরতাম না, কোন চাকর-চাকরাণীও আমার খিদমতে ছিল না। আমি পাথরের সঙ্গে পেট লাগিয়ে রাখতাম। আয়াত জানা সত্ত্বেও কাউকে তা পাঠ করার জন্য বলতাম, যাতে সে আমাকে ঘরে নিয়ে যায় এবং আহার করায়। মিসকীনদের প্রতি অত্যন্ত দরদী ব্যক্তি ছিলেন জা‘ফর ইবনু আবূ তালিব। তিনি আমাদের নিয়ে যেতেন এবং ঘরে যা থাকত তাই আমাদের খাওয়াতেন। এমনকি তিনি আমাদের কাছে ঘি’র পাত্রটিও বের করে আনতেন, যাতে ঘি থাকত না। আমরা ওটাই ফেড়ে ফেলতাম আর যা থাকত তাই চাটতাম। [৩৭০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)