حَدَّثَنَا أَصْبَغُ بْنُ الْفَرَجِ، أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ يَقْدَمُ مَكَّةَ، إِذَا اسْتَلَمَ الرُّكْنَ الأَسْوَدَ أَوَّلَ مَا يَطُوفُ يَخُبُّ ثَلاَثَةَ أَطْوَافٍ مِنَ السَّبْعِ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা্য় উপনীত হয়ে তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদ ইসতিলাম (চুম্বন, স্পর্শ- করতে এবং সাত চক্করের মধ্যে প্রথম তিন চক্করে রামল করতে দেখেছি। (১৬০৪, ১৬১৬, ১৬১৭, ১৬৪৪, মুসলিম ১৫/৩৯, হাঃ ১২৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1604 — Sahih al Bukhari 25:90
حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ سَعَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَةَ أَشْوَاطٍ وَمَشَى أَرْبَعَةً فِي الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ. تَابَعَهُ اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ فَرْقَدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ এবং ‘উমরাহ’র তাওয়াফে (প্রথম) তিন চক্করে রামল করেছেন, অবশিষ্ট চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে চলেছেন। লাইস (রহ.) হাদীস বর্ণনায় সুরাইজ ইবনু নু‘মান (রহ.)-এর অনুসরণ করে বলেন, কাসীর ইবনু ফারকাদ (রহ.)...ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। (১৬০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1605 — Sahih al Bukhari 25:91
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لِلرُّكْنِ أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لاَ تَضُرُّ وَلاَ تَنْفَعُ، وَلَوْلاَ أَنِّي رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَلَمَكَ مَا اسْتَلَمْتُكَ. فَاسْتَلَمَهُ، ثُمَّ قَالَ فَمَا لَنَا وَلِلرَّمَلِ إِنَّمَا كُنَّا رَاءَيْنَا بِهِ الْمُشْرِكِينَ، وَقَدْ أَهْلَكَهُمُ اللَّهُ. ثُمَّ قَالَ شَىْءٌ صَنَعَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلاَ نُحِبُّ أَنْ نَتْرُكَهُ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে! আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিতরূপে জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। এরপর তিনি চুম্বন করলেন। পরে বললেন, আমাদের রামল করার উদ্দেশ্য কী ছিল? আমরা তো রামল করে মুশরিকদেরকে আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। আল্লাহ এখন তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন। এরপর বললেন, যেহেতু এই (রামল) কাজটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন, তাই তা পরিত্যাগ করা পছন্দ করি না। (১৫৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1606 — Sahih al Bukhari 25:92
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ مَا تَرَكْتُ اسْتِلاَمَ هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ فِي شِدَّةٍ وَلاَ رَخَاءٍ، مُنْذُ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَلِمُهُمَا. قُلْتُ لِنَافِعٍ أَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَمْشِي بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ قَالَ إِنَّمَا كَانَ يَمْشِي لِيَكُونَ أَيْسَرَ لاِسْتِلاَمِهِ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (তাওয়াফ করার সময়) এ দু’টি রুকন ইসতিলাম (চুমু) করতে দেখেছি, তখন হতে ভীড় থাকুক বা নাই থাকুক কোন অবস্থাতেই এ দু’-এর ইসতিলাম (চুমু) করা বাদ দেইনি। [রাবী ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) বলেন] আমি নাফি‘ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ইবনু ‘উমার (রাঃ) কি ঐ ‘দু’ রুকনের মধ্যবর্তী স্থানে স্বাভাবিক গতিতে চলতেন? তিনি বললেন, সহজে ইসতিলাম করার উদ্দেশে তিনি (এতদুভয়ের মাঝে) স্বাভাবিকভাবে চলতেন। (১৬১১, মুসলিম ১৫/৪০, হাঃ ১২৬৮, আহমাদ ৪৮৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1607 — Sahih al Bukhari 25:93
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَيَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ طَافَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ عَلَى بَعِيرٍ، يَسْتَلِمُ الرُّكْنَ بِمِحْجَنٍ. تَابَعَهُ الدَّرَاوَرْدِيُّ عَنِ ابْنِ أَخِي الزُّهْرِيِّ عَنْ عَمِّهِ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উটের পিঠে আরোহণ করে তাওয়াফ করার সময় ছড়ির মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন। দারাওয়ার্দী (রহ.) হাদীস বর্ণনায় ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করে ইবনু আবিয যুহরী (রহ.) সূত্রে তার চাচা (যুহরী) (রহ.) হতে রিওয়ায়াত করেছেন। (১৬১২, ১৬৩, ১৬৩২, ৫২৯৩, মুসলিম ১৫/৪২, হাঃ ১২৭২), আহমাদ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1608 — Sahih al Bukhari 25:94
وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، أَنَّهُ قَالَ وَمَنْ يَتَّقِي شَيْئًا مِنَ الْبَيْتِ، وَكَانَ مُعَاوِيَةُ يَسْتَلِمُ الأَرْكَانَ، فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ إِنَّهُ لاَ يُسْتَلَمُ هَذَانِ الرُّكْنَانِ. فَقَالَ لَيْسَ شَىْءٌ مِنَ الْبَيْتِ مَهْجُورًا، وَكَانَ ابْنُ الزُّبَيْرِ ـ رضى الله عنهما ـ يَسْتَلِمُهُنَّ كُلَّهُنَّ.
আবুশ-শা‘সা (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কে আছে বায়তুল্লাহর কোন অংশ (কোন রুকনের ইস্তিলাম) ছেড়ে দেয়; মু‘আবিয়াহ (রাঃ) (চার) রুকনের ইস্তিলাম করতেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমরা এ দু’রুকন-এর চুম্বন করি না। তখন মু‘আবিয়াহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, বায়তুল্লাহর কোন অংশই বাদ দেয়া যেতে পারে না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) সব কয়টি রুকন ইস্তিলাম করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ)
হাদিস 1609 — Sahih al Bukhari 25:95
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ لَمْ أَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَلِمُ مِنَ الْبَيْتِ إِلاَّ الرُّكْنَيْنِ الْيَمَانِيَيْنِ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কেবল ইয়ামানী দু’ রুকনকে ইস্তিলাম করতে দেখেছি। (১৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1610 — Sahih al Bukhari 25:96
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا وَرْقَاءُ، أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ قَبَّلَ الْحَجَرَ وَقَالَ لَوْلاَ أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَكَ مَا قَبَّلْتُكَ.
আসলাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে দেখেছি। আর তিনি বললেন, যদি আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমায় চুম্বন করতাম না। (১৫৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ,১৫০৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1611 — Sahih al Bukhari 25:97
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَرَبِيٍّ، قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ ابْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ اسْتِلاَمِ الْحَجَرِ،. فَقَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَلِمُهُ وَيُقَبِّلُهُ. قَالَ قُلْتُ أَرَأَيْتَ إِنْ زُحِمْتُ أَرَأَيْتَ إِنْ غُلِبْتُ قَالَ اجْعَلْ أَرَأَيْتَ بِالْيَمَنِ، رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَلِمُهُ وَيُقَبِّلُهُ.
যুবাইর ইবনু ‘আরাবী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে ইবনু ‘উমর (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তার স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। সে ব্যক্তি বলল, যদি ভীড়ে আটকে যাই বা অপরাগ হই তাহলে (চুম্বন করা, না করা সম্পর্কে) আপনার অভিমত কী? তিনি (ইবনু ‘উমার) বললেন, আপনার অভিমত কী? এ কথাটি ইয়ামানে রেখে দাও। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। (১৬০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1612 — Sahih al Bukhari 25:98
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ طَافَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْبَيْتِ عَلَى بَعِيرٍ، كُلَّمَا أَتَى عَلَى الرُّكْنِ أَشَارَ إِلَيْهِ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে (আরোহণ করে) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছু দিয়ে তার প্রতি ইঙ্গিত করতেন। (১৬০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)