حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ زَيْنَبَ ابْنَةِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ شَكَوْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِّي أَشْتَكِي. فَقَالَ " طُوفِي مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ وَأَنْتِ رَاكِبَةٌ ". فَطُفْتُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي إِلَى جَنْبِ الْبَيْتِ، وَهْوَ يَقْرَأُ بِالطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ.
উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেনঃ তুমি সওয়ার হয়ে লোকেদের পিছন দিক দিয়ে তাওয়াফ করে নাও। তাই আমি তাওয়াফ করছিলাম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার পাশে সালাত আদায় করছিলেন ও সূরা (الطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ) (الطور : 1-2ِ) (আত্-তূর) তিলাওয়াত করছিলেন। (৪৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1634 — Sahih al Bukhari 25:117
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا أَبُو ضَمْرَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ اسْتَأْذَنَ الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ـ رضى الله عنه ـ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَبِيتَ بِمَكَّةَ لَيَالِيَ مِنًى مِنْ أَجْلِ سِقَايَتِهِ، فَأَذِنَ لَهُ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হাজীদের পানি পান করানোর উদ্দেশে মিনায় অবস্থানের রাতগুলো মক্কা্য় কাটানোর অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দেন। (১৬৪৩, ১৬৪৪, ১৬৪৫, মুসলিম ১৫/৬০, হাঃ ১৩১৫, আহমাদ ৬৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1635 — Sahih al Bukhari 25:118
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَ إِلَى السِّقَايَةِ، فَاسْتَسْقَى، فَقَالَ الْعَبَّاسُ يَا فَضْلُ اذْهَبْ إِلَى أُمِّكَ، فَأْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَرَابٍ مِنْ عِنْدِهَا. فَقَالَ " اسْقِنِي ". قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُمْ يَجْعَلُونَ أَيْدِيَهُمْ فِيهِ. قَالَ " اسْقِنِي ". فَشَرِبَ مِنْهُ، ثُمَّ أَتَى زَمْزَمَ، وَهُمْ يَسْقُونَ وَيَعْمَلُونَ فِيهَا، فَقَالَ " اعْمَلُوا، فَإِنَّكُمْ عَلَى عَمَلٍ صَالِحٍ ـ ثُمَّ قَالَ ـ لَوْلاَ أَنْ تُغْلَبُوا لَنَزَلْتُ حَتَّى أَضَعَ الْحَبْلَ عَلَى هَذِهِ ". ـ يَعْنِي عَاتِقَهُ ـ وَأَشَارَ إِلَى عَاتِقِهِ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করার স্থানে এসে পানি চাইলেন, ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে ফায্ল! তোমার মার নিকট যাও। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য তার নিকট হতে পানীয় নিয়ে এসো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখান হতেই পান করান। ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা এই পানিতে হাত রাখে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখান হতেই দিন এবং এই পানি হতেই পান করলেন। এরপর যমযম কূপের নিকট এলেন। লোকেরা পানি তুলে (হাজীদের) পান করাচ্ছিল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কাজ করে যাও। তোমরা নেক কাজে রত আছ। এরপর তিনি বললেনঃ তোমরা পরাভূত হয়ে যাবে এ আশঙ্কা না থাকলে আমি নিজেই নেমে (বালতির) রশি এখানে নিতাম; এ বলে তিনি আপন কাঁধের প্রতি ইঙ্গিত করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1636 — Sahih al Bukhari 25:119
وَقَالَ عَبْدَانُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ كَانَ أَبُو ذَرٍّ ـ رضى الله عنه ـ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فُرِجَ سَقْفِي وَأَنَا بِمَكَّةَ، فَنَزَلَ جِبْرِيلُ ـ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ـ فَفَرَجَ صَدْرِي، ثُمَّ غَسَلَهُ بِمَاءِ زَمْزَمَ، ثُمَّ جَاءَ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ مُمْتَلِئٍ حِكْمَةً وَإِيمَانًا، فَأَفْرَغَهَا فِي صَدْرِي، ثُمَّ أَطْبَقَهُ، ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِي فَعَرَجَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا. قَالَ جِبْرِيلُ لِخَازِنِ السَّمَاءِ الدُّنْيَا افْتَحْ. قَالَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرِيلُ ".
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি মক্কায় অবস্থানকালে ঘরের ছাদ ফাঁক করা হল এবং জিবরাঈল (‘আ.) অবতরণ করলেন। এরপর তিনি আমার বক্ষ বিদারণ করলেন এবং তা যমযমের পানি দ্বারা ধুলেন, এরপর ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ একটি সোনার পেয়ালা নিয়ে এলেন এবং তা আমার বুকে ঢেলে দিয়ে জোড়া লাগিয়ে দিলেন। অতঃপর আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে দুনিয়ার আসমানে গেলেন এবং জিবরাঈল (‘আ.) এই আসমানের তত্ত্বাবধানকারী ফেরেশ্তাকে বললেন, (দরজা) খোল। তিনি বললেন কে? তিনি বললেন, আমি জিব্রাঈল। (৩৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
হাদিস 1637 — Sahih al Bukhari 25:120
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ ـ هُوَ ابْنُ سَلاَمٍ ـ أَخْبَرَنَا الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ حَدَّثَهُ قَالَ سَقَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ زَمْزَمَ فَشَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ. قَالَ عَاصِمٌ فَحَلَفَ عِكْرِمَةُ مَا كَانَ يَوْمَئِذٍ إِلاَّ عَلَى بَعِيرٍ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যমযমের পানি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পেশ করলাম। তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করলেন। (রাবী’) ‘আসিম বলেন, ‘ইকরিমা (রাঃ) হলফ করে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উটের পিঠে আরোহী অবস্থায়ই ছিলেন। (৫৬১৭, মুসলিম ৩৬/১৫, হাঃ ২০২৭, আহমাদ ২৬০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1638 — Sahih al Bukhari 25:121
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ، ثُمَّ قَالَ " مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيُهِلَّ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ ثُمَّ لاَ يَحِلُّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا ". فَقَدِمْتُ مَكَّةَ، وَأَنَا حَائِضٌ، فَلَمَّا قَضَيْنَا حَجَّنَا أَرْسَلَنِي مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِلَى التَّنْعِيمِ، فَاعْتَمَرْتُ، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم " هَذِهِ مَكَانَ عُمْرَتِكِ ". فَطَافَ الَّذِينَ أَهَلُّوا بِالْعُمْرَةِ، ثُمَّ حَلُّوا، ثُمَّ طَافُوا طَوَافًا آخَرَ، بَعْدَ أَنْ رَجَعُوا مِنْ مِنًى، وَأَمَّا الَّذِينَ جَمَعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ طَافُوا طَوَافًا وَاحِدًا.
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বের হলাম এবং ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার সাথে হাদী-এর জানোয়ার আছে সে যেন হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধে নেয়। অতঃপর উভয় কাজ সমাপ্ত না করা পর্যন্ত সে হালাল হবে না। আমি মক্কা্য় উপনীত হয়ে ঋতুমতী হলাম। যখন আমরা হাজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে আমাকে তান‘ঈম প্রেরণ করলেন। এরপর আমি ‘উমরাহ পালন করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ হলো তোমার পূর্ববর্তী (অসমাপ্ত) ‘উমরাহ’র স্থলবর্তী। ঐ হাজ্জের সময় যাঁরা (কেবল) ‘উমরাহ’র নিয়্যাতে ইহরাম বেঁধে এসেছিলেন, তাঁরা তাওয়াফ করে হালাল হয়ে গেলেন। এরপর তাঁরা মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন। আর যাঁরা একসাথে ‘উমরাহ ও হাজ্জের নিয়্যাত করেছিলেন, তাঁরা একবার তাওয়াফ করলেন। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1639 — Sahih al Bukhari 25:122
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ دَخَلَ ابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَظَهْرُهُ فِي الدَّارِ، فَقَالَ إِنِّي لاَ آمَنُ أَنْ يَكُونَ الْعَامَ بَيْنَ النَّاسِ قِتَالٌ، فَيَصُدُّوكَ عَنِ الْبَيْتِ، فَلَوْ أَقَمْتَ. فَقَالَ قَدْ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَالَ كُفَّارُ قُرَيْشٍ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ، فَإِنْ حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ أَفْعَلُ كَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} ثُمَّ قَالَ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ مَعَ عُمْرَتِي حَجًّا. قَالَ ثُمَّ قَدِمَ فَطَافَ لَهُمَا طَوَافًا وَاحِدًا.
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাঁর ছেলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ-এর নিকট গেলেন, যখন তাঁর (হাজ্জ যাত্রার) বাহন প্রস্তুত, তখন তাঁর ছেলে বললেন, আমার আশঙ্কা হয় এ বছর মানুষের মধ্যে লড়াই হবে, তারা আপনাকে কা‘বায় যেতে বাধা দিবে। কাজেই এবার নিবৃত্ত হওয়াটাই উত্তম। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা রওনা হয়েছিলেন, কুরায়শ কাফিররা তাঁকে বাইতুল্লাহ যেতে বাধা দিয়েছিল। আমাকেও যদি বাইতুল্লাহ বাধা দেয়া হয়, তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন, আমিও তাই করব। ‘‘কেননা, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’’- (আল-আহযাব ২১)। এরপর তিনি বললেন, তোমরা সাক্ষী থেকো, আমি ‘উমরাহ’র সাথে হাজ্জ-এর সংকল্প করছি। (রাবী) নাফি‘ (রহ.) বলেন, তিনি মক্কায় উপনীত হয়ে উভয়টির জন্য মাত্র একটি তাওয়াফ করলেন। (১৬৪০, ১৬৯৩, ১৭০৮, ১৭২৯, ১৮০৬, ১৮০৭, ১৮০৮, ১৮১০, ১৮১২, ১৮১৩, ৪১৮৩, ৪১৮৪, ৪১৮৫, মুসলিম ১৫/২৬, হাঃ ১২৩০, আহমাদ ১৮১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য মক্কা্য় আসেন, ঐ বছর ইবনু ‘উমার (রাঃ) হাজ্জের এরাদা করেন। তখন তাঁকে বলা হলো, (বিবদমান দু’ দল) মানুষের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে। আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে যে, আপনাকে তারা বাধা দিবে। তিনি বললেন, ‘‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে’’- (আহযাব : ২১)। কাজেই এমন কিছু হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন আমিও তাই করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি ‘উমরাহ’র সঙ্কল্প করলাম। এরপর তিনি বের হলেন এবং বায়দার উঁচু অঞ্চলে পৌঁছার পর তিনি বললেন, হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র বিধান একই, আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি ‘উমরাহ’র সঙ্গে হাজ্জেরও নিয়্যাত করলাম এবং তিনি কুদায়দ হতে ক্রয় করা একটি হাদী পাঠালেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি। এরপর তিনি কুরবানী করেননি এবং ইহরামও ত্যাগ করেন নি এবং মাথা মুন্ডন বা চুল ছাঁটা কোনটাই করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী কররেন, মাথা মুন্ডালেন। তাঁর অভিমত হলো, প্রথম তাওয়াফ-এর মাধ্যমেই তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের তাওয়াফ সেরে নিয়েছেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই করেছেন। (১৬৩৯, মুসলিম ১৫/২৬, হাঃ ১২৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মুহাম্মদ ইবনু ‘আবদুর রাহমান ইবনু নাওফাল কুরাশী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘উরওয়া ইবনু যুবাইর (রহ.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাজ্জ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাজ্জ-এর বিষয়টি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে এরূপে বর্ণনা দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন। তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। পরে আবূ বাকার (রাঃ) হাজ্জ করেছেন, তিনিও হাজ্জের প্রথম কাজ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতেন, তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। তাঁরপর ‘উমার (রাঃ)-ও অনুরূপ করতেন। এরপর ‘উসমান (রাঃ) হাজ্জ করেন। আমি তাঁকেও (হাজ্জের কাজ) বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতে দেখেছি, তাঁর এই তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মু‘আবিয়া এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) (অনুরূপ করেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইবনু ‘আওয়াম (রাঃ)-এর সঙ্গে হাজ্জ করলাম। তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হতেই শুরু করেন, আর তাঁর এ তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ (রাঃ)-কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। তাদের সে তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। সবশেষে আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি। তিনিও সে তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ হিসেবে করেননি। ইবনু ‘উমর (রাঃ) তো তাঁদের নিকটেই আছেন তাঁর কাছে জেনে নিন না কেন? সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা অতীত হয়ে গেছেন তাঁদের কেউই মসজিদে হারামে প্রবেশ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সমাধান করার পূর্বে অন্য কোন কাজ করতেন না এবং তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করতেন না। আমার মা (আসমা) ও খালা (‘আয়িশাহ) (রাযি.)-কে দেখেছি, তাঁরা উভয়ে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাওয়াফ সমাধা করেন, কিন্তু তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করেননি। (১৬১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মুহাম্মদ ইবনু ‘আবদুর রাহমান ইবনু নাওফাল কুরাশী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘উরওয়া ইবনু যুবাইর (রহ.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাজ্জ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাজ্জ-এর বিষয়টি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে এরূপে বর্ণনা দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন। তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। পরে আবূ বাকার (রাঃ) হাজ্জ করেছেন, তিনিও হাজ্জের প্রথম কাজ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতেন, তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। তাঁরপর ‘উমার (রাঃ)-ও অনুরূপ করতেন। এরপর ‘উসমান (রাঃ) হাজ্জ করেন। আমি তাঁকেও (হাজ্জের কাজ) বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতে দেখেছি, তাঁর এই তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মু‘আবিয়া এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) (অনুরূপ করেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইবনু ‘আওয়াম (রাঃ)-এর সঙ্গে হাজ্জ করলাম। তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হতেই শুরু করেন, আর তাঁর এ তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ (রাঃ)-কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। তাদের সে তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। সবশেষে আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি। তিনিও সে তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ হিসেবে করেননি। ইবনু ‘উমর (রাঃ) তো তাঁদের নিকটেই আছেন তাঁর কাছে জেনে নিন না কেন? সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা অতীত হয়ে গেছেন তাঁদের কেউই মসজিদে হারামে প্রবেশ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সমাধান করার পূর্বে অন্য কোন কাজ করতেন না এবং তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করতেন না। আমার মা (আসমা) ও খালা (‘আয়িশাহ) (রাযি.)-কে দেখেছি, তাঁরা উভয়ে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাওয়াফ সমাধা করেন, কিন্তু তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করেননি। (১৬১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)