حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ إِذَا دَخَلَ أَدْنَى الْحَرَمِ أَمْسَكَ عَنِ التَّلْبِيَةِ، ثُمَّ يَبِيتُ بِذِي طُوًى، ثُمَّ يُصَلِّي بِهِ الصُّبْحَ وَيَغْتَسِلُ، وَيُحَدِّثُ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ.
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) হারামের নিকটবর্তী স্থানে পৌছলে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতেন। অতঃপর যী-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। এরপর সেখানে ফজরের সালাত আদায় করতেন ও গোসল করতেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন। (১৫৫৩, মুসলিম ১৫/৩৮, হাঃ ১২৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1574 — Sahih al Bukhari 25:60
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ بَاتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِذِي طُوًى حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ دَخَلَ مَكَّةَ. وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ يَفْعَلُهُ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোর পর্যন্ত যী-তুয়ায় রাত যাপন করেন, অতঃপর মক্কায় প্রবেশ করেন। (রাবী নাফি‘ বলেন) ইবনু ‘উমার (রাঃ)-ও এরূপ করতেন। (১৫৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1575 — Sahih al Bukhari 25:61
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَعْنٌ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ مِنَ الثَّنِيَّةِ الْعُلْيَا، وَيَخْرُجُ مِنَ الثَّنِيَّةِ السُّفْلَى.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সানিয়্যাতুল ‘উলয়া (হারামের উত্তর-পূর্বদিকে কাদা নামক স্থান দিয়ে) মক্কা্য় প্রবেশ করতেন এবং সানিয়্যা সুফলা (হারামের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কুদা নামক স্থান) দিয়ে বের হতেন। (১৫৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাত্হায় অবস্থিত সানিয়্যা ‘উলয়ার কাদা নামক স্থান দিয়ে মক্কা্য় প্রবেশ করেন এবং সানিয়্যা সুফ্লার দিক দিয়ে বের হন। (১৫৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1577 — Sahih al Bukhari 25:63
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا جَاءَ إِلَى مَكَّةَ دَخَلَ مِنْ أَعْلاَهَا وَخَرَجَ مِنْ أَسْفَلِهَا.
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা্য় আসেন তখন এর উচ্চ স্থান দিয়ে প্রবেশ করেন এবং নীচু স্থান দিয়ে ফিরার পথে বের হন। (১৫৭৮, ১৫৭৯, ১৫৮০, ১৫৮১, ৪২৯০, ৪২৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1578 — Sahih al Bukhari 25:64
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَامَ الْفَتْحِ مِنْ كَدَاءٍ، وَخَرَجَ مِنْ كُدًا مِنْ أَعْلَى مَكَّةَ.
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর কাদা-র পথে (মক্কা্য়) প্রবেশ করেন এবং বের হন কুদা-র পথে যা মক্কার উঁচু স্থানে অবস্থিত। (১৫৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1579 — Sahih al Bukhari 25:65
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرٌو، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَامَ الْفَتْحِ مِنْ كَدَاءٍ أَعْلَى مَكَّةَ. قَالَ هِشَامٌ وَكَانَ عُرْوَةُ يَدْخُلُ عَلَى كِلْتَيْهِمَا مِنْ كَدَاءٍ وَكُدًا، وَأَكْثَرُ مَا يَدْخُلُ مِنْ كَدَاءٍ، وَكَانَتْ أَقْرَبَهُمَا إِلَى مَنْزِلِهِ.
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর কাদা নামক স্থান দিয়ে মক্কার উঁচু ভূমির দিক হতে মক্কা্য় প্রবেশ করেন। রাবী হিশাম (রহ.) বলেন, (আমার পিতা) ‘উরওয়া (রহ.) কাদা ও কুদা উভয় স্থান দিয়ে (মক্কা্য়) প্রবেশ করতেন। তবে অধিকাংশ সময় কুদা দিয়ে প্রবেশ করতেন, কেননা তাঁর বাড়ি এ পথে অধিক নিকটবর্তী ছিল। (১৫৭৭, মুসলিম ১৫/৩৭, হাঃ ১২৫৭, আহমাদ ৪৮৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৫ সম্পূর্ণ নেই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1580 — Sahih al Bukhari 25:66
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ عُرْوَةَ، دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ مِنْ كَدَاءٍ مِنْ أَعْلَى مَكَّةَ. وَكَانَ عُرْوَةُ أَكْثَرَ مَا يَدْخُلُ مِنْ كَدَاءٍ وَكَانَ أَقْرَبَهُمَا إِلَى مَنْزِلِهِ.
‘উরওয়া (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর মক্কার উঁচু ভূমি কাদা দিয়ে (মক্কা্য়) প্রবেশ করেন। [রাবী হিশাম (রহ.) বলেন] ‘উরওয়া (রহ.) অধিকাংশ সময় কুদা’র পথে প্রবেশ করতেন, কেননা তাঁর বাড়ি এ পথের অধিক নিকটবর্তী ছিল। (১৫৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1581 — Sahih al Bukhari 25:67
حَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ مِنْ كَدَاءٍ. وَكَانَ عُرْوَةُ يَدْخُلُ مِنْهُمَا كِلَيْهِمَا وَأَكْثَرُ مَا يَدْخُلُ مِنْ كَدَاءٍ أَقْرَبِهِمَا إِلَى مَنْزِلِهِ. قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ كَدَاءٌ وَكُدًا مَوْضِعَانِ.
‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্ বিজয়ের বছর কাদা-র পথে মক্কা্য় প্রবেশ করেন। [রাবী হিশাম (রহ.) বলেন] ‘উরওয়াহ উভয় পথেই প্রবেশ করতেন, তবে কুদা-র পথে তাঁর বাড়ি নিকটবর্তী হওয়ার কারণে সে পথেই অধিকাংশ সময় প্রবেশ করতেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, ‘কাদা’ ও ‘কুদা’ দু’টি স্থানের নাম। (১৫৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 1582 — Sahih al Bukhari 25:68
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ لَمَّا بُنِيَتِ الْكَعْبَةُ ذَهَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعَبَّاسٌ يَنْقُلاَنِ الْحِجَارَةَ فَقَالَ الْعَبَّاسُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اجْعَلْ إِزَارَكَ عَلَى رَقَبَتِكَ. فَخَرَّ إِلَى الأَرْضِ، وَطَمَحَتْ عَيْنَاهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ " أَرِنِي إِزَارِي ". فَشَدَّهُ عَلَيْهِ.
وَقَوْلِهِ تَعَالَى : (وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنْ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ قَالَ وَمَنْ كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلاً ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنْ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ) এবং মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘এবং সেই সময়কে স্মরণ করুন যখন কা‘বাঘরকে মানব জাতির মিলন কেন্দ্র ও নিরাপত্তা স্থল করেছিলাম এবং বলেছিলাম, তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়াবার স্থানকেই সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর এবং ইব্রাহীম ও ইসমা‘ঈলকে তাওয়াফকারী, ই‘তিকাফকারী, রুকূ ও সিজদাকারীদের জন্য আমার ঘরকে পবিত্র রাখতে আদেশ দিয়েছিলাম। স্মরণ করুন, যখন ইব্রাহীম বলেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক! একে নিরাপদ শহর করুন আর এ অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী তাদেরকে ফলমূল হতে জীবিকা প্রদান করুন। তিনি বললেন, যে কেউ কুফরী করবে তাকেও কিছুকালের জন্য জীবনোপভোগ করতে দিব। অতঃপর তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করব এবং তা কত নিকৃষ্ট পরিণাম! স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম ও ইসমা‘ঈল কা’বা ঘরের প্রাচীর তুলছিলেন তখন তারা বলেছিলেন, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এ কাজ গ্রহণ করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর হতে আপনার এক অনুগত উম্মাত করুন। আমাদেরকে ‘ইবাদাতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হন, আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ (আল-বাকারাঃ ১২৫-১২৮) ১৫৮২. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কা‘বা ঘর পুনর্নির্মাণের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ‘আব্বাস (রাঃ) পাথর বহন করছিলেন। ‘আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, তোমার লুঙ্গিটি কাঁধের ওপর দিয়ে নাও। তিনি তা করলে মাটিতে পড়ে গেলেন এবং তাঁর উভয় চোখ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল। তখন তিনি বললেনঃ আমার লুঙ্গি দাও এবং তা বেঁধে নিলেন। (৩৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)