حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، حَدَّثَنَا وَاقِدٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَوِ ابْنِ عَمْرٍو شَبَّكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَصَابِعَهُ.
ইবনু ‘উমার বা ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাতের আঙ্গুল আর এক হাতের আঙুলে প্রবেশ করান। (৪৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আসিম ইবনু ‘আলী (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) বলেনঃ আমি এ হাদীস আমার পিতা হতে শুনেছিলাম, কিন্তু আমি তা স্মরণ রাখতে পারিনি। পরে এ হাদীসটি আমাকে ঠিকভাবে বর্ণনা করেন ওয়াকিদ (রহ.) তাঁর পিতা হতে। তিনি বলেনঃ আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযি.) বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর! যখন তুমি নিকৃষ্ট লোকদের সাথে অবস্থান করবে, তখন তোমার কী অবস্থা হবে? (৪৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৮ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৪ শেষাংশ)
হাদিস 481 — Sahih al Bukhari 8:128
حَدَّثَنَا خَلاَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْمُؤْمِنَ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ، يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا ". وَشَبَّكَ أَصَابِعَهُ.
আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন মু’মিন আরেকজন মু‘মিনের জন্যে ইমারতস্বরূপ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে থাকে। এ ব’লে তিনি তার হাতের আঙুলগুলো একটার মধ্যে আরেকটা প্রবেশ করালেন। (২৪৪৬, ৬০২৬; মুসলিম ৫৪/১৭, হাঃ ২৫৮৫, আহমাদ ১৯৬৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাদের বিকালের এক সালাতে ইমামত করলেন। ইবনু সীরীন (রহ.) বলেনঃ আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) সালাতের নাম বলেছিলেন, কিন্তু আমি তা ভুলে গেছে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেনঃ তিনি আমাদের নিয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। অতঃপর মসজিদে রাখা এক টুকরা কাঠের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। তাঁকে রাগান্বিত মনে হচ্ছিল। তিনি তাঁর ডান হাত বাঁ হাতের উপর রেখে এক হাতের আঙুল অপর হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন। আর তাঁর ডান গাল বাম হাতের পিঠের উপর রাখলেন। যাঁদের তাড়া ছিল তাঁরা মসজিদের দরজা দিয়ে বাইরে চলে গেলেন। সাহাবীগণ বললেনঃ সালাত কি সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে? উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আবূ বাকর (রাযি.) এবং ‘উমার (রাযি.)-ও ছিলেন। কিন্তু তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেলেন। আর লোকজনের মধ্যে লম্বা হাত বিশিষ্ট এক ব্যক্তি ছিলেন, যাঁকে ‘যুল-ইয়াদাইন’ বলা হতো, তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি সালাত সংক্ষেপ করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ আমি ভুলিনি এবং সালাত সংক্ষেপও করা হয়নি। অতঃপর (অন্যদের) জিজ্ঞেস করলেনঃ যুল-ইয়াদাইনের কথা কি ঠিক? তাঁরা বললেনঃ হাঁ। অতঃপর তিনি এগিয়ে এলেন এবং সালাতের বাদপড়া অংশটুকু আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরালেন ও তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সিজদা’র মতো বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর মাথা উঠালেন। পরে পুনরায় তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সিজদা’র মত বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর মাথা উঠালেন। লোকেরা প্রায়ই ইবনু সীরীন (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করতো, ‘‘পরে কি তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন?’’ তখন ইবনু সীরীন (রহ.) বলতেনঃ আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযি.) আমাকে খবর দিয়েছেন যে,ঃ অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন। (৭১৪, ৭১৫, ১২২৭, ১২২৯, ৬০৫১, ৭২৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)-কে রাস্তার বিশেষ বিশেষ স্থান অনুসন্ধান করে সে সব স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তিনি বর্ণনা করতেন যে, তাঁর পিতাও এসব স্থানে সালাত আদায় করতেন। আর তিনিও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এসব স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রহ.) বলেনঃ নাফি‘ (রহ.)-ও আমার নিকট ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সেসব স্থানে সালাত আদায় করতেন। অতঃপর আমি সালিম (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করি। আমার জানামতে তিনিও সেসব স্থানে সালাত আদায়ের ব্যাপারে নাফি’ (রহ.)-এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; তবে ‘শারাফুর-রাওহা’ নামক স্থানের মাসজিদটির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। (১৫৩৫, ২৩৩, ৭৩৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমারাহ ও হাজ্জের জন্যে রওয়ানা হলে ‘যুল-হুলায়ফা’য় অবতরণ করতেন, বাবলা গাছের নীচে ‘যুল হুলায়ফা’র মসজিদের স্থান। আর যখন কোন যুদ্ধ হতে অথবা হাজ্জ বা ‘উমারাহ করে সেই পথে ফিরতেন, তখন উপত্যকার মাঝখানে অবতরণ করতেন। যখন উপত্যকার মাঝখান হতে উপরের দিকে আসতেন, তখন উপত্যকার তীরে অবস্থিত পূর্ব নিম্নভূমিতে উট বসাতেন। সেখানে তিনি শেষ রাত হতে ভোর পর্যন্ত বিশ্রাম করতেন। এ স্থানটি পাথরের উপর নির্মিত মসজিদের নিকট নয় এবং যে মাসজিদ টিলার উপর, তার নিকটেও নয়। এখানে ছিল একটি ঝিল, যার পাশে ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) সালাত আদায় করতেন। এর ভিতরে কতগুলো বালির স্তূপ ছিল। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানেই সালাত আদায় করতেন। অতঃপর নিম্নভূমিতে পানির প্রবাহ হয়ে ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) যে স্থানে সালাত আদায় করতেন তা সমান করে দিয়েছে। (১৫৩২, ১৫৩৩, ১৭৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 485 — Sahih al Bukhari 8:132
وَأَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى حَيْثُ الْمَسْجِدُ الصَّغِيرُ الَّذِي دُونَ الْمَسْجِدِ الَّذِي بِشَرَفِ الرَّوْحَاءِ، وَقَدْ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَعْلَمُ الْمَكَانَ الَّذِي كَانَ صَلَّى فِيهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ثَمَّ عَنْ يَمِينِكَ حِينَ تَقُومُ فِي الْمَسْجِدِ تُصَلِّي، وَذَلِكَ الْمَسْجِدُ عَلَى حَافَةِ الطَّرِيقِ الْيُمْنَى، وَأَنْتَ ذَاهِبٌ إِلَى مَكَّةَ، بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمَسْجِدِ الأَكْبَرِ رَمْيَةٌ بِحَجَرٍ أَوْ نَحْوُ ذَلِكَ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) [নাফি’ (রহ.)-কে] বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘শারাফুর-রাওহা’র মসজিদের নিকট ছোট মসজিদের স্থানে সালাত আদায় করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে সালাত আদায় করেছিলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) সে স্থানের পরিচয় দিতেন এই বলে যে, যখন তুমি মসজিদে সালাতে দাঁড়াবে তখন তা তোমার ডানদিকে। আর সেই মাসজিদটি হলো যখন তুমি (মদ্বীনা হতে) মক্কা্ যাবে তখন তা ডানদিকের রাস্তার এক পাশে থাকবে। সে স্থান ও বড় মসজিদের মাঝখানে ব্যবধান হলো একটি ঢিল নিক্ষেপ পরিমাণ অথবা তার কাছাকাছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ৪৬২ দ্বিতীয় অংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ দ্বিতীয় অংশ)
আর ইবনু ‘উমার (রাযি.) ‘রাওহা’র শেষ মাথায় ‘ইরক’ (ছোট পাহাড়)-এর নিকট সালাত আদায় করতেন। সেই ‘ইরক’-এর শেষ প্রান্ত হলো রাস্তার পাশে মসজিদের কাছাকাছি মক্কা যাওয়ার পথে রাওহা ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে একটি মাসজিদ নির্মিত হয়েছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) এই মসজিদে সালাত আদায় করতেন না, বরং সেটাকে তিনি বামদিকে ও পেছনে ফেলে অগ্রসর হয়ে ‘ইরক’-এর নিকটে সালাত আদায় করতেন। আর ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) রাওহা হতে বেরিয়ে ঐ স্থানে পৌঁছার পূর্বে যুহরের সালাত আদায় করতেন না। সেখানে পৌঁছে যোহর আদায় করতেন। আর মক্কা্ হতে আসার সময় এ পথে ভোরের এক ঘণ্টা পূর্বে বা শেষ রাতে আসলে সেখানে অবস্থান করে ফজরের সালাত আদায় করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২ তৃতীয় অংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ তৃতীয় অংশ)
‘আবদুল্লাহ (রাযি.) আরো বর্ণনা করেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘রুওয়ায়ছা’র নিকটে রাস্তার ডানদিকে রাস্তা সংলগ্ন প্রশস্ত সমতল ভূমিতে একটা বিরাট গাছের নীচে অবস্থান করতেন। অতঃপর তিনি ‘রুওয়ায়ছা’র ডাকঘরের দু’মাইল দূরে ঢিলার পাশ দিয়ে রওয়ানা হতেন। বর্তমানে গাছটির উপরের অংশ ভেঙে গিয়ে মাঝখানে ঝুঁকে গেছে। গাছের কান্ড এখনো দাঁড়িয়ে আছে। আর তার আশেপাশে অনেকগুলো বালির স্তূপ বিস্তৃত রয়েছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬২ চতুর্থ অংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ চতুর্থ অংশ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) আরো বর্ণনা করেছেনঃ ‘আরজু’ গ্রামের পরে পাহাড়ের দিকে যেতে যে উচ্চভূমি আছে, তার পাশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন। এই মসজিদের পাশে দু’তিনটি কবর আছে। এসব কবরে পাথরের বড় বড় খন্ড পড়ে আছে। রাস্তার ডান পাশে গাছের নিকটেই তা অবস্থিত। দুপুরের পর সূর্য ঢলে পড়লে ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) ‘আর্জ’-এর দিক হতে এসে গাছের মধ্য দিয়ে যেতেন এবং ঐ মসজিদে যুহরের সালাত আদায় করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ৪৬২ পঞ্চম অংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮ পঞ্চম অংশ)