Qurani·قرآني
বাংলা

তাফসীর

504 হাদিস · #4474–4977

হাদিস 4694 — Sahih al Bukhari 65:216
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ تَلِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ مُضَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَرْحَمُ اللَّهُ لُوطًا، لَقَدْ كَانَ يَأْوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ، وَلَوْ لَبِثْتُ فِي السِّجْنِ مَا لَبِثَ يُوسُفُ لأَجَبْتُ الدَّاعِيَ، وَنَحْنُ أَحَقُّ مِنْ إِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ لَهُ ‏{‏أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي‏}‏‏"‏
(فَلَمَّا جَآءَهُ الرَّسُوْلُ قَالَ ارْجِعْ إِلٰى رَبِّكَ فاسْأَلْهُ مَا بَالُ النِّسْوَةِ الّٰتِيْ قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ طإِنَّ رَبِّيْ بِكَيْدِهِنَّ عَلِيْمٌ قَالَ مَا خَطْبُكُنَّ إِذْ رَاوَدْتُّنَّ يُوْسُفَ عَنْ نَّفْسِهٰطقُلْنَ حَاشَ لِلهِ) আর বাদশাহ বললঃ তোমরা ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তারপর দূত যখন তার কাছে এলো তখন সে বললঃ তুমি ফিরে যাও তোমার মনিবের কাছে এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, ঐ রমণীদের কী অবস্থা যারা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল। আমার রব অবশ্যই তাদের চক্রান্ত খুব অবগত আছেন। বাদশাহ রমণীদের বললঃ তোমাদের ঘটনা কী? তোমরা যখন ইউসুফকে তোমাদের কামনা চরিতার্থ করার জন্য ফুসলিয়েছিলে? তারা বললঃ অদ্ভূত আল্লাহর মাহাত্ম্য! তার মধ্যে কোন দোষ আছে বলে আমরা জানতে পারিনি। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৫০-৫১) وَحَاشَ وَحَاشَى تَنْزِيْهٌ وَاسْتِثْنَاءٌ (حَصْحَصَ) وَضَحَ. حَاشَوَحَاشَى এটা تَنْزِيْهٌ এবং اسْتِثْنَاءٌ এর জন্য। حَصْحَصَ প্রকাশ হয়ে গেল। ৪৬৯৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা লূত (আঃ)-এর উপর রহম করুন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের চরম শত্রুতায় বাধ্য হয়ে, নিজের নিরাপত্তার জন্য শক্ত খুঁটি অর্থাৎ আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত ইউসুফ (আঃ) (বন্দীখানায়) ছিলেন, আমি যদি এভাবে বন্দীখানায় থাকতাম, তবে মুক্তি পাবার ডাকে অবশ্যই সাড়া দিতাম [1]। আমরা (সন্দেহভঞ্জন করার ব্যাপারে) ইব্রাহীম (আঃ)-এর চেয়েও আগে বেড়ে যেতাম [2] যখন আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? জবাবে তিনি বললেন, হাঁ। তবে আমার মনের প্রশান্তির জন্য। [৩৩৭২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4695 — Sahih al Bukhari 65:217
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ لَهُ وَهُوَ يَسْأَلُهَا عَنْ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ‏{‏حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ‏}‏ قَالَ قُلْتُ أَكُذِبُوا أَمْ كُذِّبُوا قَالَتْ عَائِشَةُ كُذِّبُوا‏.‏ قُلْتُ فَقَدِ اسْتَيْقَنُوا أَنَّ قَوْمَهُمْ كَذَّبُوهُمْ فَمَا هُوَ بِالظَّنِّ قَالَتْ أَجَلْ لَعَمْرِي لَقَدِ اسْتَيْقَنُوا بِذَلِكَ‏.‏ فَقُلْتُ لَهَا وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا قَالَتْ مَعَاذَ اللَّهِ لَمْ تَكُنِ الرُّسُلُ تَظُنُّ ذَلِكَ بِرَبِّهَا‏.‏ قُلْتُ فَمَا هَذِهِ الآيَةُ‏.‏ قَالَتْ هُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ الَّذِينَ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَصَدَّقُوهُمْ، فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْبَلاَءُ، وَاسْتَأْخَرَ عَنْهُمُ النَّصْرُ حَتَّى اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ مِمَّنْ كَذَّبَهُمْ مِنْ قَوْمِهِمْ وَظَنَّتِ الرُّسُلُ أَنَّ أَتْبَاعَهُمْ قَدْ كَذَّبُوهُمْ جَاءَهُمْ نَصْرُ اللَّهِ عِنْدَ ذَلِكَ‏.‏
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ حَتَّىٓ إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, এ আয়াতে শব্দটা أَكُذِبُوْا ‘না’[1]كُذِّبُوْا ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, اَكُذِّبُوْا আমি জিজ্ঞেস করলাম, যখন আম্বিয়ায়ে কিরাম পূর্ণ বিশ্বাস করে নিলেন, এখন তাদের সম্প্রদায় তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করবে, তখন الظَّن[2] ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম! তারা পূর্ণ বিশ্বাস করেই নিয়েছিলেন। আমি তাঁকে বললাম ظَنُّوْآ أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوْا অর্থ কী দাঁড়ায়? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, মা‘আযাল্লাহ![3] রাসূলগণ কখনও আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা করতে পারেন না। আমি বললাম, তবে আয়াতের অর্থ কী হবে? তিনি বললেন, তারা রাসূলদের অনুসারী, যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলদের সত্য বলে স্বীকার করেছে, তারপর তাদের প্রতি দীর্ঘকাল ধরে (কাফেরদের) নির্যাতন চলেছে এবং আল্লাহর সাহায্য আসতেও অনেক দেরী হয়েছে, এমনকি যখন রাসূলগণ তাঁদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে তাঁদের প্রতি মিথ্যারোপকারীদের ঈমান আনা সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছেন এবং রাসূলদের এ ধারণা জন্মেছে যে, এখন তাঁদের অনুসারীরাও[4] তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করতে শুরু করবে, এমন সময় তাঁদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এল। [৩৩৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৪) أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ فَقُلْتُ لَعَلَّهَا كُذِبُوْا مُخَفَّفَةً قَالَتْ مَعَاذَ اللهِ نَحْوَهُ
হাদিস 4696 — Sahih al Bukhari 65:218
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، فَقُلْتُ لَعَلَّهَا ‏{‏كُذِبُوا‏}‏ مُخَفَّفَةً‏.‏ قَالَتْ مَعَاذَ اللَّهِ‏ نَحْوَهُ
‘উরওয়াহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললাম সম্ভবত كُذِبُوْا (তাখফীফ সহ)। তিনি বললেন, মা‘আযাল্লাহ! ঐরূপ (كُذُّبُوْا)। [৩৩৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4697 — Sahih al Bukhari 65:219
حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَفَاتِيحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ لاَ يَعْلَمُهَا إِلاَّ اللَّهُ لاَ يَعْلَمُ مَا فِي غَدٍ إِلاَّ اللَّهُ، وَلاَ يَعْلَمُ مَا تَغِيضُ الأَرْحَامُ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ يَعْلَمُ مَتَى يَأْتِي الْمَطَرُ أَحَدٌ إِلاَّ اللَّهُ، وَلاَ تَدْرِي نَفْسٌ بِأَىِّ أَرْضٍ تَمُوتُ، وَلاَ يَعْلَمُ مَتَى تَقُومُ السَّاعَةُ إِلاَّ اللَّهُ ‏"‏‏.‏
سُوْرَةُ الرَّعْدِ সূরাহ (১৩) : আর্-রা‘দ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ) مَثَلُ الْمُشْرِكِ الَّذِيْ عَبَدَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ غَيْرَهُ كَمَثَلِ الْعَطْشَانِ الَّذِيْ يَنْظُرُ إِلَى ظِلِّ خَيَالِهِ فِي الْمَاءِ مِنْ بَعِيْدٍ وَهُوَ يُرِيْدُ أَنْ يَتَنَاوَلَهُ وَلَا يَقْدِرُ وَقَالَ غَيْرُهُ (سَخَّرَ) ذَلَّلَ (مُتَجَاوِرَاتٌ) مُتَدَانِيَاتٌ. [وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (مُتَجَاوِرَاتٌ) طَيِّبُها عَذْبُها وخَبِيْثُها السِّباخُ (الْمَثُلَاتُ) وَاحِدُهَا مَثُلَةٌ وَهِيَ الْأَشْبَاهُ وَالأَمْثَالُ وَقَالَ (إِلَّا مِثْلَ أَيَّامِ الَّذِيْنَ خَلَوْا بِمِقْدَارٍ) بِقَدَرٍ يُقَالُ (مُعَقِّبَاتٌ) مَلَائِكَةٌ حَفَظَةٌ تُعَقِّبُ الْأُوْلَى مِنْهَا الْأُخْرَى وَمِنْهُ قِيْلَ الْعَقِيْبُ أَيْ عَقَّبْتُ فِيْ إِثْرِهِ (الْمِحَالِ) الْعُقُوْبَةُ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ) لِيَقْبِضَ عَلَى الْمَاءِ (رَابِيًا) مِنْ رَبَا يَرْبُوْ (أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ) مِثْلُهُ الْمَتَاعُ مَا تَمَتَّعْتَ بِهِ (جُفَاءً) يُقَالُ أَجْفَأَتْ الْقِدْرُ إِذَا غَلَتْ فَعَلَاهَا الزَّبَدُ ثُمَّ تَسْكُنُ فَيَذْهَبُ الزَّبَدُ بِلَا مَنْفَعَةٍ فَكَذَلِكَ يُمَيِّزُ الْحَقَّ مِنَ الْبَاطِلِ (الْمِهَادُ) الْفِرَاشُ (يَدْرَءُوْنَ) يَدْفَعُوْنَ دَرَأْتُهُ عَنِّيْ دَفَعْتُهُ (سَلَامٌ عَلَيْكُمْ) أَيْ يَقُوْلُوْنَ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ (وَإِلَيْهِ مَتَابِ) تَوْبَتِيْ (أَفَلَمْ يَيْئَسْ) أَفَلَمْ يَتَبَيَّنْ (قَارِعَةٌ) دَاهِيَةٌ (فَأَمْلَيْتُ) أَطَلْتُ مِنَ الْمَلِيِّ وَالْمِلَاوَةِ وَمِنْهُ (مَلِيًّا) وَيُقَالُ لِلْوَاسِعِ الطَّوِيْلِ مِنَ الْأَرْضِ مَلًى مِنَ الْأَرْضِ (أَشَقُّ) أَشَدُّ مِنَ الْمَشَقَّةِ (مُعَقِّبَ) مُغَيِّرٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مُتَجَاوِرَاتٌ) طَيِّبُهَا وَخَبِيْثُهَا السِّبَاخُ (صِنْوَانٌ)النَّخْلَتَانِ أَوْ أَكْثَرُ فِيْ أَصْلٍ وَاحِدٍ (وَغَيْرُ صِنْوَانٍ) وَحْدَهَا (بِمَآءٍ وَّاحِدٍ) كَصَالِحِ بَنِيْ آدَمَ وَخَبِيْثِهِمْ أَبُوْهُمْ وَاحِدٌ (السَّحَابُ الثِّقَالُ) الَّذِيْ فِيْهِ الْمَاءُ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ) يَدْعُو الْمَاءَ بِلِسَانِهِ وَيُشِيْرُ إِلَيْهِ بِيَدِهِ فَلَا يَأْتِيْهِ أَبَدًا. (سَالَتْ أَوْدِيَةٌمبِقَدَرِهَا) تَمْلَا بَطْنَ كُلِّ وَادٍ (زَبَدًا رَابِيًا) الزَّبَدُ زَبَدُ السَّيْلِ زَبَدٌ مِثْلُهُ خَبَثُ الْحَدِيْدِ وَالْحِلْيَةِ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)বলেন, كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ যেমন, কেউ হাত বাড়িয়ে দেয়। এটি মুশরিকের দৃষ্টান্ত যারা ‘ইবাদাতে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যকে শরীক করে। যেমন পিপাসার্ত ব্যক্তি যে দূর থেকে পানি পাওয়ার আশা করে, অথচ পানি সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় না। অন্যেরা বলেন, سَخَّرَসে অনুগত হল।’’ مُتَجَاوِرَاتٌ পরস্পর নিকটবর্তী হল। الْمَثُلَاتُ (উপমা, দৃষ্টান্ত) مَثُلَةٌ-এর বহুবচন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন, ‘ওরা কি ওদের পূর্বে যা ঘটেছে তারই অনুরূপ ঘটনারই প্রতীক্ষা করে? بِمِقْدَارٍনির্দিষ্ট পরিমাণ। مُعَقِّبَاتٌ ফেরেশ্তা, যারা একের পর এক সকাল-সন্ধ্যায় বদলি হয়ে থাকে। যেমন عَقِيْبُপিছনে (বদলি)। যেমন বলা হয় عَقَّبْتُ فِيْٓ إِثْرِهِ আমি তার পরে (বদলি) এসেছি। الْمِحَالِ শাস্তি كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ সে তৃষ্ণার্তের মত, যে নিজের দুই হাত পানির দিকে বাড়িয়ে দেয়, পানি পাওয়ার জন্য। رَابِيًا (বর্ধনশীল) رَبَايَرْبُوْ থেকে গঠিত। زَبَدٌ ফেনা, সর। الْمَتَاعُ যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, যা উপভোগ করা হয়। جُفَاءً বলা হয়, গোশতের পাতিল যখন উত্তপ্ত করা হয়, তখন তার ওপরে ফেনা জমে। এরপর ঠান্ডা হয় এবং ফেনার বিলুপ্তি ঘটে। সেরূপ সত্য, বাতিল (মিথ্যা) থেকে আলাদা হয়ে থাকে।’’ الْمِهَادُ বিছানা يَدْرَءُوْنَ তারা প্রতিহত করে। دَرَأْتُهُ ও دَفَعْتُهُ আমি তাকে দূরে হটিয়ে দিলাম। মালায়িকাহ বলবেন, سَلَامٌعَلَيْكُمْ তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। وَإِلَيْهِ مَتَابِ আমি তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করছি। أَفَلَمْيَيْئَسْ-এটা কি তাদের কাছে প্রকাশ পায়নি, قَارِعَةٌ আকস্মিক বিপদ فَأَمْلَيْتُ আমি অবকাশ দিয়েছি। مَلِيِّ ও مِلَاوَةٌ হতে পঠিত। সে অর্থে مَلِيًّا ব্যবহৃত। প্রশস্ত ও দীর্ঘ যমীনকে مَلًى مِنَ الْأَرْضِ বলা হয়। أَشَقُّ (অধিক কঠিন) اِسْمِ تَفْضِيْلَ-مَشَقَّةِ থেকে গঠিত। مُعَقِّبَ পরিবর্তনশীল। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتَجَاوِرَاتٌ অর্থ, কিছু জমি কৃষি উপযোগী এবং কিছু জমি কৃষির অনুপযোগী। আর তাতে একটা থেকে দুই বা ততোধিক খেজুর গাছ উৎপন্ন হয় এবং কতিপয় যমীনে পৃথক পৃথকভাবে উৎপন্ন হয়। সেরূপ অবস্থা আদম (আঃ)-এর সন্তানদের। কেউ নেক্কার আর কেউ বদকার, অথচ সকলেই আদমের সন্তান। السَّحَابُ الثِّقَالُ পানিতে পূর্ণ মেঘমালা। كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি মুখ দিয়ে পানি চায় এবং হাত দিয়ে পানির দিকে ইশারা করে। তারপর সে সর্বদা তা থেকে বঞ্চিত থাকে। سَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا নানাসমূহ তার পরিমাণ মাফিক প্রবাহিত হয়ে ‘‘বাতনে ওয়াদী’’[1] কে ভরে দেয়। زَبَدًا رَابِيًا প্রবাহিত ফেনা। লোহা ও অলংকার উত্তপ্ত করা হলে যেমন ময়লা বের হয়ে আসে। ৪৬৯৭. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ইল্ম গায়েব-এর চাবিকাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ্ ভিন্ন কেউ জানে না। তা হলোঃ আগামী দিন কী হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। মায়ের জরায়ুতে কী আছে, তা আল্লাহ্ ভিন্ন আর কেউ জানে না। বৃষ্টি কখন আসবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। কোন ব্যক্তি জানে না তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কবে সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। [১০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4698 — Sahih al Bukhari 65:220
حَدَّثَنِي عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ أَخْبِرُونِي بِشَجَرَةٍ تُشْبِهُ أَوْ كَالرَّجُلِ الْمُسْلِمِ لاَ يَتَحَاتُّ وَرَقُهَا وَلاَ وَلاَ وَلاَ، تُؤْتِي أُكْلَهَا كُلَّ حِينٍ ‏"‏‏.‏ قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَوَقَعَ فِي نَفْسِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ، وَرَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ لاَ يَتَكَلَّمَانِ، فَكَرِهْتُ أَنْ أَتَكَلَّمَ، فَلَمَّا لَمْ يَقُولُوا شَيْئًا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هِيَ النَّخْلَةُ ‏"‏‏.‏ فَلَمَّا قُمْنَا قُلْتُ لِعُمَرَ يَا أَبَتَاهُ وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَ وَقَعَ فِي نَفْسِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَكَلَّمَ قَالَ لَمْ أَرَكُمْ تَكَلَّمُونَ، فَكَرِهْتُ أَنْ أَتَكَلَّمَ أَوْ أَقُولَ شَيْئًا‏.‏ قَالَ عُمَرُ لأَنْ تَكُونَ قُلْتَهَا أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ كَذَا وَكَذَا‏.‏
سُوْرَةُ إِبْرَاهِيْمَ সূরাহ (১৪) : ইবরাহীম قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (هَادٍ) دَاعٍ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (صَدِيْدٌ) قَيْحٌ وَدَمٌ وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ (اذْكُرُوْا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ) أَيَادِيَ اللهِ عِنْدَكُمْ وَأَيَّامَهُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مِنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوْهُ) رَغِبْتُمْ إِلَيْهِ فِيْهِ (يَبْغُوْنَهَاعِوَجًا) يَلْتَمِسُوْنَ لَهَا عِوَجًا (وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ) أَعْلَمَكُمْ آذَنَكُمْ (رَدُّوْآ أَيْدِيَهُمْ فِيْٓأَفْوَاهِهِمْ)هَذَا مَثَلٌ كَفُّوْا عَمَّا أُمِرُوْا بِهِ (مَقَامِيْ) حَيْثُ يُقِيْمُهُ اللهُ بَيْنَ يَدَيْهِ (مِنْ وَّرَآئِهٰ) قُدَّامَهُ جَهَنَّمُ (لَكُمْ تَبَعًا) وَاحِدُهَا تَابِعٌ مِثْلُ غَيَبٍ وَغَائِبٍ (بِمُصْرِخِكُمْ) اسْتَصْرَخَنِي اسْتَغَاثَنِيْ يَسْتَصْرِخُهُ مِنْ الصُّرَاخِ (وَلَا خِلَالَ) مَصْدَرُ خَالَلْتُهُ خِلَالًا وَيَجُوْزُ أَيْضًا جَمْعُ خُلَّةٍ وَخِلَالٍ (اجْتُثَّتْ) اسْتُؤْصِلَتْ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَادٍ আহবানকারী। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صَدِيْدٌ পুঁজ ও রক্ত। ইবনু ‘উয়াইনাহ বলেন, اذْكُرُوْا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ আল্লাহর যেসব নিয়ামত তোমাদের উপর আছে এবং যা কিছু ঘটছে (তা স্মরণ কর)। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مِنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوْهُ তোমরা যা কিছু আল্লাহর কাছে চেয়েছিলে যাতে তোমাদের আগ্রহ ছিল। يَبْغُوْنَهَاعِوَجًا তারা এর অপব্যাখ্যা তালাশ করছে। إِذْ تَأَذَّنَرَبُّكُمْ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জানিয়েছেন, তোমাদের অবহিত করেছেন। رَدُّوْا أَيْدِيَهُمْ فِيْأَفْوَاهِهِمْ এটা একটা প্রবাদ বাক্য, যার অর্থ, তাদের যে বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়েছিল তা থেকে তারা বিরত রয়েছে। مَقَامِيْ সে স্থান তাকে যেখানে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর সামনে দাঁড় করাবেন। مِنْوَرَآئِهٰ তার সম্মুখে لَكُمْ تَبَعًا এর একবচন تَابِعٌ যেমন غَائِبٌ -এর বহুবচন غَائِبٍ। اسْتَصْرَخَنِيْ সে আমার কাছে সাহায্য চেয়েছে। يَسْتَصْرِخُهُ এটা الصُّرَاخِ থেকে গঠিত। وَلَاخِلَالَ আর কোন বন্ধুত্ব নয়। এটা خَالَلْتُهُخِلَالًا এর মাসদার আর خُلَّةٍ-خِلَالٍ এর বহুবচনও হতে পারে। اجْتُثَّتْ মূলোচ্ছেদ করা হয়েছে। (كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَّفَرْعُهَا فِي السَّمَآءِ ... كُلَّ حِيْنٍ). তা একটি পবিত্র বৃক্ষের মত যার শিকড় সুদৃঢ় এবং যার শাখা-প্রশাখা ঊর্ধ্বে উত্থিত, সে বৃক্ষ স্বীয় রবের আদেশে প্রত্যেক মওসুমে তার ফলদান করে। (সূরাহ ইবরাহীম ১৪/২৪-২৫) ৪৬৯৮. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, বল তো সেটা কোন বৃক্ষ, যা কোন মুসলিম ব্যক্তির মত, যার পাতা ঝরে না, এরূপ নয়, এরূপ নয় [1] এবং এরূপও নয় যা সর্বদা খাদ্য প্রদান করে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমার মনে হল, এটা খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু আমি দেখলাম আবূ বাকর (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ) কথা বলছেন না। তাই আমি এ ব্যাপারে বলা পছন্দ করিনি। শেষে যখন কেউ কিছু বললেন না, তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেটা খেজুর গাছ। পরে যখন আমরা উঠে গেলাম, তখন আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বললাম, হে আব্বা! আল্লাহর কসম! আমার মনেও হয়েছিল, তা খেজুর বৃক্ষ। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এ কথা বলতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? বললেন, আমি আপনাদেরকে কথা বলতে দেখলাম না, তাই আমি কথা বলতে এবং আমার মত ব্যক্ত করতে অপছন্দ করি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, অবশ্য যদি তুমি বলতে, তবে তা আমার নিকট এত এত[2] থেকে অধিক প্রিয় হত। [৬১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4699 — Sahih al Bukhari 65:221
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَلْقَمَةُ بْنُ مَرْثَدٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ الْمُسْلِمُ إِذَا سُئِلَ فِي الْقَبْرِ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ ‏{‏يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ‏}‏‏"‏
বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কবরে মুসলিমকে যখন প্রশ্ন করা হবে, তখন সে সাক্ষ্য দিবেঃ ‘‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াআন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্’’ আল্লাহর বাণীতে এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাণীটি হলো এইঃ ‘‘যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন’’- (সূরা ইবরাহীম ১৪/২৭)। [১৩৬৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4700 — Sahih al Bukhari 65:222
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، ‏{‏أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَةَ اللَّهِ كُفْرًا‏}‏ قَالَ هُمْ كُفَّارُ أَهْلِ مَكَّةَ‏.‏
أَلَمْ تَرَ أَلَمْ تَعْلَمْ كَقَوْلِهِ أَلَمْ تَرَ كَيْفَ (أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ خَرَجُوا الْبَوَارُ) الْهَلَاكُ بَارَ يَبُوْرُ قَوْمًا بُوْرًا هَالِكِيْنَ. أَلَمْ تَرَ (আপনি কি জানেন না) أَلَمْ تَعْلَمْ এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, أَلَمْ تَرَ كَيْفَ অথবা أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ خَرَجُوْا আয়াতে এ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। الْبَوَارُ ধ্বংস। এটা بَارَيَبُوْرُ থেকে গঠিত। قَوْمًامبُوْرًا ধ্বংসশীল সম্প্রদায়। ৪৭০০. ‘আত্বা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ بَدَّلُوْا نِعْمَةَ اللهِ كُفْرًا তারা হল মক্কার কাফিরগণ। [৩৯৭৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4701 — Sahih al Bukhari 65:223
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ فِي السَّمَاءِ ضَرَبَتِ الْمَلاَئِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا خُضْعَانًا لِقَوْلِهِ كَالسِّلْسِلَةِ عَلَى صَفْوَانٍ ـ قَالَ عَلِيٌّ وَقَالَ غَيْرُهُ صَفْوَانٍ ـ يَنْفُذُهُمْ ذَلِكَ فَإِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ، قَالُوا لِلَّذِي قَالَ الْحَقَّ وَهْوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ، فَيَسْمَعُهَا مُسْتَرِقُو السَّمْعِ، وَمُسْتَرِقُو السَّمْعِ هَكَذَا وَاحِدٌ فَوْقَ آخَرَ ـ وَوَصَفَ سُفْيَانُ بِيَدِهِ، وَفَرَّجَ بَيْنَ أَصَابِعِ يَدِهِ الْيُمْنَى، نَصَبَهَا بَعْضَهَا فَوْقَ بَعْضٍ ـ فَرُبَّمَا أَدْرَكَ الشِّهَابُ الْمُسْتَمِعَ، قَبْلَ أَنْ يَرْمِيَ بِهَا إِلَى صَاحِبِهِ، فَيُحْرِقَهُ وَرُبَّمَا لَمْ يُدْرِكْهُ حَتَّى يَرْمِيَ بِهَا إِلَى الَّذِي يَلِيهِ إِلَى الَّذِي هُوَ أَسْفَلُ مِنْهُ حَتَّى يُلْقُوهَا إِلَى الأَرْضِ ـ وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى الأَرْضِ ـ فَتُلْقَى عَلَى فَمِ السَّاحِرِ، فَيَكْذِبُ مَعَهَا مِائَةَ كَذْبَةٍ فَيَصْدُقُ، فَيَقُولُونَ أَلَمْ يُخْبِرْنَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا يَكُونُ كَذَا وَكَذَا، فَوَجَدْنَاهُ حَقًّا لِلْكَلِمَةِ الَّتِي سُمِعَتْ مِنَ السَّمَاءِ ‏"‏‏.‏ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ‏.‏ وَزَادَ الْكَاهِنِ‏.‏ وَحَدَّثَنَا سُفْيَانُ فَقَالَ قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ وَقَالَ عَلَى فَمِ السَّاحِرِ‏.‏ قُلْتُ لِسُفْيَانَ قَالَ سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ‏.‏ قَالَ نَعَمْ‏.‏ قُلْتُ لِسُفْيَانَ إِنَّ إِنْسَانًا رَوَى عَنْكَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَيَرْفَعُهُ أَنَّهُ قَرَأَ فُزِّعَ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ هَكَذَا قَرَأَ عَمْرٌو‏.‏ فَلاَ أَدْرِي سَمِعَهُ هَكَذَا أَمْ لاَ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ وَهْىَ قِرَاءَتُنَا‏.‏
سُوْرَةُ الْحِجْرِ সূরাহ (১৫) : হিজর وَقَالَ مُجَاهِدٌ (صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيْمٌ) الْحَقُّ يَرْجِعُ إِلَى اللهِ وَعَلَيْهِ طَرِيْقُهُ (وَإِنَّهُمَا لَبِإِمَامٍ مُّبِيْنٍ)عَلَى الطَّرِيْقِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لَعَمْرُكَ) لَعَيْشُكَ (قَوْمٌ مُنْكَرُوْنَ) أَنْكَرَهُمْ لُوْطٌ وَقَالَ غَيْرُهُ (كِتَابٌمَعْلُوْمٌ) أَجَلٌ (لَوْ مَا تَأْتِيْنَا) هَلَّا تَأْتِيْنَا (شِيَعٌ) أُمَمٌ وَلِلْأَوْلِيَاءِ أَيْضًا شِيَعٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (يُهْرَعُوْنَ) مُسْرِعِيْنَ (لِلْمُتَوَسِّمِيْنَ) لِلنَّاظِرِيْنَ (سُكِّرَتْ) غُشِّيَتْ (بُرُوْجًا) مَنَازِلَ لِلشَّمْسِ وَالْقَمَرِ (لَوَاقِحَ)مَلَاقِحَ مُلْقَحَةً (حَمَإٍ) جَمَاعَةُ حَمْأَةٍ وَهُوَ الطِّيْنُ الْمُتَغَيِّرُ وَالْمَسْنُوْنُ الْمَصْبُوْبُ (تَوْجَلْ) تَخَفْ (دَابِرَ) آخِرَ لَبِإِمَامٍ مُبِيْنٍ الإِمَامُ كُلُّ مَا ائْتَمَمْتَ وَاهْتَدَيْتَ بِهِ (الصَّيْحَةُ) الْهَلَكَةُ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيْمٌ সঠিক পথ যা আল্লাহ্ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে এবং তাঁর দিকে রয়েছে এ রাস্তা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, لَعَمْرُكَ তোমার জীবনের কসম। قَوْمٌ مُنْكَرُوْنَ এমন সম্প্রদায়, যাদের লূত (আঃ) চিনেননি। অন্যেরা বলেন, كِتَابٌ مَعْلُوْمٌ নির্দিষ্ট সময়। لَوْ مَا تَأْتِيْنَا কেন আমার কাছে আসে না। شِيَعٌ বহু সম্প্রদায়। বন্ধুবর্গকেও شِيَعٌ বলা হয়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, يُهْرَعُوْنَ তারা দ্রুতগতিতে ছুটে চলছে। لِلْمُتَوَسِّمِيْنَ প্রত্যক্ষকারীদেরকে জন্য سُكِّرَتْ ঢেকে দেয়া হয়েছে। চন্দ্র-সূর্যের মনযিল। بُرُوْجًا অর্থাৎ (ভার-গর্ভ মেঘমালা), এটার একবচন مُلْقَحَةً حَمَإٍ جَمَاعَةُ এর বহুবচন পচা কাদামাটি। وَالْمَسْنُوْنُ ঢেলে দেয়া হয়েছে। تَوْجَلْ ভীত হও। دَابِرَ অর্থ-শেষাংশ। الْإِمَامُ যার তুমি অনুসরণ করেছ, এবং যার দ্বারা সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছ। الصَّيْحَةُ ধ্বংস। ৪৭০১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা আকাশে কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন মালায়িকাহ তাঁর কথা শোনার জন্য অতি বিনয়ের সঙ্গে নিজ নিজ পালক ঝাড়তে থাকে মসৃণ পাথরের উপর জিঞ্জিরের শব্দের মত। ‘আলী (রাঃ) বলেন, صَفْوَانِ এর মধ্যে فَا সাকিন যুক্ত এবং অন্যরা বলেন, فَا ফাতাহ্ যুক্ত। এভাবে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বাণী মালায়িকাহ্কে পৌঁছান। ‘‘যখন মালায়িকাহর অন্তর থেকে ভয় দূর হয়, তখন তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রভু কী বলেছেন? তখন তারা বলে, যা সত্য তিনি তাই বলেছেন, এবং তিনি অতি উচ্চ মহান।’’ চুরি করে কান লাগিয়ে (শায়ত্বনরা) তা শুনে নেয়। শোনার জন্য শায়ত্বনগুলো একের ওপর এক এভাবে থাকে। সুফ্ইয়ান ডান হাতের আঙ্গুলের ওপর অন্য আঙ্গুল রেখে হাতের ইশারায় ব্যাপারটি প্রকাশ করলেন। তারপর কখনও অগ্নি স্ফুলিঙ্গ শ্রবণকারীকে তার সাথীর কাছে এ কথাটি পৌঁছানোর আগেই আঘাত করে এবং তাকে জ্বালিয়ে দেয়। আবার কখনও সে ফুলকি প্রথম শ্রবণকারী শায়ত্বন পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই সে তার নিচের সাথীকে খবরটি জানিয়ে দেয়। এমনি করে এ কথা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। কখনও সুফ্ইয়ান বলেছেন, এমনি করে পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর তা জাদুকরের মুখে ঢেলে দেয়া হয় এবং সে তার সঙ্গে শত মিথ্যা মিশিয়ে প্রচার করে। তাই তার কথা সত্য হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলতে থাকে, এ জাদুকর আমাদের কাছে অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছিল;। বস্তুত আসমান থেকে শুনে নেয়ার কারণেই আমরা তা সত্যরূপে পেয়েছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪০) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন আল্লাহর তা‘আলা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন....এ বর্ণনায় كَاهِنِ (জ্যোতির্বিদ কথাটি) অতিরিক্ত। ..... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ বর্ণনায় عَلٰى فَمِ السَّاحِرِ (জাদুকরের মুখের ওপর) উল্লেখ করেছেন। ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ বলেন, আমি সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি ‘আমর থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি ইকরামাহ থেকে শুনে এবং তিনি (ইকরামাহ) বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে শুনেছি। সুফ্ইয়ান বলেন, হ্যাঁ। ‘আলী বলেন, আমি সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, এক ব্যক্তি আপনার থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, ‘আমর ইকরামাহ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করেছেন। সুফ্ইয়ান বললেন, আমি ‘আমরকে এভাবে পড়তে শুনেছি। তবে আমি জানি না, তিনি এভাবেই শুনেছেন কিনা; তবে এ-ই আমাদের পাঠ। [৪৮০০, ৭৪৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4702 — Sahih al Bukhari 65:224
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَصْحَابِ الْحِجْرِ ‏ "‏ لاَ تَدْخُلُوا عَلَى هَؤُلاَءِ الْقَوْمِ إِلاَّ أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَلاَ تَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَهُمْ ‏"‏‏.‏
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরবাসীগণ [1] সম্পর্কে সহাবায়ে কিরামদের বললেন, তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতিরেকে এ জাতির এলাকায় প্রবেশ করবে না। যদি তোমাদের ক্রন্দন না আসে, তবে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশই করবে না। হয়ত, তাদের ওপর যা ঘটেছিল তা তোমাদের ওপরও ঘটতে পারে। [৪৩৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4703 — Sahih al Bukhari 65:225
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلَّى، قَالَ مَرَّ بِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أُصَلِّي فَدَعَانِي فَلَمْ آتِهِ حَتَّى صَلَّيْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ فَقَالَ ‏"‏ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَأْتِيَ ‏"‏‏.‏ فَقُلْتُ كُنْتُ أُصَلِّي‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ ‏{‏يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ‏}‏ ثُمَّ قَالَ أَلاَ أُعَلِّمُكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ ‏"‏ فَذَهَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ فَذَكَّرْتُهُ فَقَالَ ‏"‏‏{‏الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ‏}‏ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُهُ ‏"‏‏.‏
আবূ সা‘ঈদ ইবনু মু‘য়াল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পার্শ্ব দিয়ে গেলেন, তখন আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি আমাকে ডাক দিলেন। আমি সালাত শেষ না করে আসিনি। তারপর আমি আসলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে আসতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল। আমি বললাম, আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কি এ কথা বলেননি, ‘‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ এবং রাসূলের ডাকে সাড়া দাও?’’ তারপর তিনি বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগেই কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরাটি শিখিয়ে দেব না। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলেন, আমি তাকে কথাটি মনে করিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, সে সূরাটি হল, ‘‘আল্ হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।’’ এটি হল, বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহা কুরআন[1] যা আমাকে দেয়া হয়েছে। [৪৪৭৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।