আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমার ও অন্যান্য মানুষের দৃষ্টান্ত হলো এমন যেমন কোন এক ব্যক্তি আগুন জ্বালাল এবং তাতে পতঙ্গ এবং পোকামাকড় ঝাঁকে ঝাঁকে পড়তে লাগল। (৬৪৮৩, মুসলিম ৪৩/৬ হাঃ ২২৮৪, আহমাদ ৮১২৩) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৮৩ প্রথমাংশ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমার ও অন্যান্য মানুষের দৃষ্টান্ত হলো এমন যেমন কোন এক ব্যক্তি আগুন জ্বালাল এবং তাতে পতঙ্গ এবং পোকামাকড় ঝাঁকে ঝাঁকে পড়তে লাগল। (৬৪৮৩, মুসলিম ৪৩/৬ হাঃ ২২৮৪, আহমাদ ৮১২৩) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৮৩ প্রথমাংশ)
‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের দ্বারা কলুষিত করেনি- (আল-আন‘আম ৮২)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আছে যে, নিজের ঈমানকে জুলুমের দ্বারা কলুষিত করেনি? তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ আল্লাহর সঙ্গে শরীক করো না। কেননা শির্ক হচ্ছে এক মহা জুলুম- (লুকমান ১৮)। (৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াতে কারীমা নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের দ্বারা কলুষিত করেনি। তখন তা মুসলিমদের পক্ষে কঠিন হয়ে গেল। তারা আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আছে যে নিজের উপর য়ুল্ম করেনি? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখানে অর্থ তা নয় বরং এখানে জুলুমের অর্থ হলো শির্ক। তোমরা কি কুরআনে শুননি লুকমান তাঁর ছেলেকে নাসীহাত দেয়ার সময় কী বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, ‘‘হে আমার বৎস! তুমি আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করো না। কেননা, নিশ্চয়ই শির্ক এক মহা জুলুম। (৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
بَابُ وَاضْرِبْ لَهُمْ مَثَلًا أَصْحٰبَ الْقَرْيَةِ الآية (يس : 13) الْآيَةَ فَعَزَّزْنَا ৬০/৪২. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ আপনি তাদের কাছে এক জনপদের সে সময়ের ঘটনা বর্ণনা করুন, যখন তাদের কাছে কয়েকজন রাসূল এসেছিলেন। (ইয়াসীন ১৩) قَالَ مُجَاهِدٌ شَدَّدْنَا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ طَائِرُكُمْ مَصَائِبُكُمْ মুজাহিদ(রহ.) বলেন, فَعَزَّزْنَا অর্থ আমি শক্তিশালী করলাম। আর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, طَائِرُكُمْ অর্থ তোমাদের বিপদসমূহ। ذِكْرُ رَحْمَةِ رَبِّكَ عَبْدَهচ زَكَرِيَّا إِذْ نَادٰى رَبَّهচ نِدَآءً خَفِيًّا قَالَ رَبِّ إِنِّيْ وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّيْ وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا إِلَى قَوْلِهِ لَمْ نَجْعَلْ لَّهُ مِنْ قَبْلُ سَمِيًّا (مريم : ১-২) এ হল আপনার রবের অনুগ্রহের বিবরণ যা তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি করা হয়েছে। ইতিপূর্বে আমি এ নামে কারও নামকরণ করিনি। (মারইয়াম ২-৭) قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِثْلًا يُقَالُ رَضِيًّا مَرْضِيًّا عُتِيًّا عَصِيًّا عَتَا يَعْتُو قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُوْنُ لِيْ غُلَامٌ وَّكَانَتِ امْرَأَتِيْ عَاقِرًا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا إِلَى قَوْلِهِ ثَلٰثَ لَيَالٍ سَوِيًّا وَيُقَالُ صَحِيْحًا فَخَرَجَ عَلٰى قَوْمِهٰ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحٰى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوْا بُكْرَةً وَّعَشِيًّا (مريم : ১০-১১) فَأَوْحَى فَأَشَارَ يٰيَحْيٰى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ إِلَى قَوْلِهِ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا حَفِيًّا لَطِيْفًا عَاقِرًا الذَّكَرُ وَالْأُنْثَى سَوَاءٌ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, سَمِيَّا অর্থ-সমতুল্য। তেমন বলা হয় رَضِيَّا অর্থ مَرْضِيَّا পছন্দনীয়। عِتِيَّا অর্থ عَصِيَّا অর্থাৎ অবাধ্য عَتَا يَعْتُوْ থেকে গৃহীত। যাকারিয়া বললেন, হে আমার প্রতিপালক! কেমন করে আমার সন্তান হবে? আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা? আর আমিও তো বার্ধক্যের চূড়ান্তে পৌঁছেছি। তিনি বললেন, তোমার নিদর্শন হলো তুমি সুস্থ অবস্থায় তিন দিন কারো সঙ্গে কথাবার্তা বলবে না। অতঃপর তিনি মিহরাব হতে বের হয়ে তাঁর কাউমের নিকট আসলেন, আর ইঙ্গিতে তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পড়তে বললেন। فَأَوْحَى অর্থ, অতঃপর তিনি ইশারা করে বললেন। (আল্লাহ্ বললেন,) হে ইয়াহ্ইয়া! এ কিতাব শক্তভাবে ধারণ কর। যে দিন তিনি জীবিত পুনরুত্থিত হবেন- (মারইয়াম ২-১৫)। حَفِيًّا لَطِيْفًا অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ অতিশয় অনুগ্রহশীল। عَاقِرًا (বন্ধ্যা) শব্দটি পুং ও স্ত্রী উভয় লিঙ্গেই ব্যবহৃত হয়। ৩৪৩০. মালিক ইবনু সা‘সা‘আহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণের নিকট মিরাজের রাত্রির বর্ণনায় বলেছেন, তারপর তিনি আমাকে নিয়ে উপরে চললেন, এমনকি দ্বিতীয় আকাশে এসে পৌঁছলেন এবং দরজা খুলতে বললেন, জিজ্ঞেস করা হলো কে? বললেন, আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন হলো। আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জিজ্ঞেস করা হলো। তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? উত্তর দিলেন হাঁ, অতঃপর আমরা যখন সেখানে পৌঁছলাম তখন সেখানে ইয়াহ্ইয়া ও ‘ঈসা (আঃ)-কে দেখলাম। তাঁরা উভয়ে খালাত ভাই ছিলেন। জিব্রাঈল বললেন, এঁরা হলেন, ইয়াহ্ইয়া এবং ‘ঈসা (আঃ)। তাদেরকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম দিলাম। তাঁরাও সালামের জবাব দিলেন। অতঃপর তাঁরা বললেন, নেক ভাই এবং নেক নবীর প্রতি মারহাবা। (৩২০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3431 — Sahih al Bukhari 60:102
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ بَنِي آدَمَ مَوْلُودٌ إِلاَّ يَمَسُّهُ الشَّيْطَانُ حِينَ يُولَدُ، فَيَسْتَهِلُّ صَارِخًا مِنْ مَسِّ الشَّيْطَانِ، غَيْرَ مَرْيَمَ وَابْنِهَا ". ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ {وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ }.
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِيًّا (مريم : 16) إِذْ قَالَتِ الْمَلٰٓئِكَةُ يٰمَرْيَمُ إِنَّ اللهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمٰةٍ (آل عمران : 45) إِنَّ اللهَ اصْطَفٰى اٰدَمَ وَنُوْحًا وَّاٰلَ إِبْرَاهِيْمَ وَاٰلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعٰلَمِيْنَ إِلَى قَوْلِهِ يَرْزُقُ مَنْ يَّشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ (آل عمران : 33) আর স্মরণ কর, কিতাবে মারিয়ামের ঘটনা। যখন তিনি স্বীয় পরিবার-পরিজন হতে পৃথক হলেন.....। (মারইয়াম ১৬) মহান আল্লাহর বাণীঃ স্মরণ কর, যখন ফেরেশতারা বললঃ হে মারইয়াম! নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর তরফ থেকে তোমাকে একটি কালিমার সুসংবাদ দিচ্ছেন। (আলে ইমরান ৪৫) মহান আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ্ আদম (আঃ), নূহ (আঃ) ও ইব্রাহীম (আঃ)-এর বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছেন.....বে-হিসাব দিয়ে থাকেন। (আলে ইমরান ৩৩-৩৭) قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَآلُ عِمْرَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ مِنْ آلِ إِبْرَاهِيْمَ وَآلِ عِمْرَانَ وَآلِ يَاسِيْنَ وَآلِ مُحَمَّدٍ يَقُوْلُ إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِإِبْرٰهِيْمَ لَلَّذِيْنَ اتَّبَعُوْهُ (آل عمران : 68) وَهُمْ الْمُؤْمِنُوْنَ وَيُقَالُ آلُ يَعْقُوْبَ أَهْلُ يَعْقُوْبَ فَإِذَا صَغَّرُوْا آلَ ثُمَّ رَدُّوْهُ إِلَى الأَصْلِ قَالُوْا أُهَيْلٌ ঈব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আলু-ইমরান অর্থাৎ মু’মিনগণ। যেমন, আলু-ইব্রাহীম, আলূ ইয়াসীন এবং আলু মুহাম্মাদ। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ সমস্ত মানুষের মধ্যে ইব্রাহীমের সব থেকে ঘনিষ্ঠ হলো তারা, যারা তাঁর অনুসরণ করে। আর তারা হলেন মু’মিনগণ। آلُ এর মূল হলো أَهْلُ আর أَهْلُ কে ছোট অর্থে করা হলে তা أُهَيْلٌ হয়। ৩৪৩১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এমন কোন আদম সন্তান নেই, যাকে জন্মের সময় শয়তান স্পর্শ করে না। জন্মের সময় শয়তানের স্পর্শের কারণেই সে চিৎকার করে কাঁদে। তবে মারইয়াম এবং তাঁর ছেলে (ঈসা) (আঃ)-এর ব্যতিক্রম। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ বলেন, ‘‘হে আল্লাহ্! নিশ্চয় আমি আপনার নিকট তাঁর এবং তাঁর বংশধরদের জন্য বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (৩২৮৬, মুসলিম ৪৩/৪০ হাঃ ২৩৬৬, আহমাদ ৭১৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3432 — Sahih al Bukhari 60:103
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ أَبِي رَجَاءٍ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ ابْنَةُ عِمْرَانَ، وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ ".
وَإِذْ قَالَتِ يٰمَرْيَمُ إِنَّ اللهَ اصْطَفَاكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفَاكِ عَلٰى نِسَآءِ الْعٰلَمِيْنَ يٰمَرْيَمُ اقْنُتِيْ لِرَبِّكِ وَاسْجُدِيْ وَارْكَعِيْ مَعَ الرَّاكِعِيْنَ ذٰلِكَ مِنْ أَنْبَآءِ الْغَيْبِ نُوْحِيْهِ إِلَيْكَ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُوْنَ أَقْلٰمَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يَخْتَصِمُوْنَ (آل عمران : 42) يُقَالُ يَكْفُلُ يَضُمُّ كَفَلَهَا ضَمَّهَا مُخَفَّفَةً لَيْسَ مِنْ كَفَالَةِ الدُّيُونِ وَشِبْهِهَا আর যখন ফেরেশতারা বলল, হে মারইয়াম! আল্লাহ তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছেন। আর তোমাকে বিশ্ব নারী সমাজের উর্দ্ধে মনোনীত করেছেন। হে মারইয়াম তোমার পালনকর্তার উপাসনা কর এবং রুকুকারীদেও সাথে সিজদা ও রুকু কর। এ হলো গায়েবী সংবাদ, যা আমি আপনাকে পাঠিয়ে থাকি। আর আপনি তো তাদেও কাছে ছিলেন না, যখন প্রতিযোগিতা করছিল যে, কে প্রতিপালন করবে মারইয়ামকে এবং আপনি তাদেও কাছে ছিলেন ন, যখন তারা ঝগড়া করছিলো। (আলে ইমরান ৪২-৪৪) বলা হয় يَكْفُلُ অর্থ يَضُمُّ অর্থাৎ নিজ তত্ত্বাবধানে নেয়া। كَفَّلَهَا অর্থ স্বীয় তত্ত্বাবধানে নিল। লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করা, ঋণ-করযের দায়িত্ব গ্রহণও এ ধরনের কিছু নয়। ৩৪৩২. ‘আলী (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, সমগ্র নারীদের মধ্যে ইমরানের কন্যা মারইয়াম হলেন সর্বোত্তম আর নারীদের সেরা হলেন খাদীজা (রাঃ)। (৩৮১৫, মুসলিম ৪৪/১২ হাঃ ২৪৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3433 — Sahih al Bukhari 60:104
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " فَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ، كَمَلَ مِنَ الرِّجَالِ كَثِيرٌ، وَلَمْ يَكْمُلْ مِنَ النِّسَاءِ إِلاَّ مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَآسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ ".
إِذْ قَالَتِ الْمَلٰٓئِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيْحُ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ إِلَى قَوْلِهِ فَإِنَّمَا يَقُوْلُ لَه” كُنْ فَيَكُوْنُ (آل عمران : 45-47) يُبَشِّرُكِ وَ يَبْشُرُكِ وَاحِدٌ وَجِيْهًا شَرِيْفًا وَقَالَ إِبْرَاهِيْمُ المَسِيْحُ الصِّدِّيقُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْكَهْلُ الْحَلِيْمُ وَالْأَكْمَهُ مَنْ يُبْصِرُ بِالنَّهَارِ وَلَا يُبْصِرُ بِاللَّيْلِ وَقَالَ غَيْرُهُ مَنْ يُوْلَدُ أَعْمَى স্মরণ কর, যখন ফেরেশতারা বললঃ হে মারইয়াম! নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর তরফ থেকে তোমাকে একটি কালিমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, তার নাম মাসীহ ঈসা ইবনু মারইয়াম ...হও অমনি তা হয়ে যায়।’’ (আলে ইমরান ৪৫) يُبَشِّرُكِ আর يَبْشُرُكِ উভয়ের একই অর্থ। وَجِيْهًا অর্থ সম্মানিত আর ইব্রাহীম (রহ.) বলেন, মসীহ শব্দের অর্থ সিদ্দীক। মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, الْكَهْلُ অর্থ الْحَلِيْمُ অর্থ, সহনশীল আর الأَكْمَهُ অর্থ হলো, রাতকানা যে দিনে দেখে আর রাতে দেখতে পায় না। অন্যেরা বলেন, যে অন্ধ হয়ে জন্মেছে (সে হলো الأَكْمَهُ)। ৩৪৩৩. আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল নারীর উপর ‘আয়িশাহর মর্যাদা এমন, যেমন সকল খাদ্যের উপর সারীদের মর্যাদা। পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণাঙ্গতা অর্জন করেছেন। কিন্তু নারীদের মধ্যে ইমরানের কন্যা মারইয়াম এবং ফির‘আউনের স্ত্রী আছিয়া ছাড়া কেউ পূর্ণাঙ্গতা অর্জন করতে পারেনি। (৩৪১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৮০ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৮৯ প্রথমাংশ)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কুরাইশ বংশীয়া নারীরা উটে আরোহণকারী সকল নারীদের তুলনায় উত্তম। এরা শিশু সন্তানের উপর অধিক স্নেহশীলা হয়ে থাকে আর স্বামীর সম্পদের প্রতি খুব যত্নবান হয়ে থাকে। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেছেন, ইমরানের কন্যা মারইয়াম কখনও উটে আরোহণ করেননি। ইবনু আখী যুহরী ও ইসহাক কালবী (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৫০৮২, ৫৩৬৫, মুসলিম ৪৪/৪৯ হাঃ ২৫২৭, আহমাদ ৭৬৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৮০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৮৯ শেষাংশ)
يٰٓأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوْا فِيْ دِيْنِكُمْ وَلَا تَقُوْلُوْا عَلَى اللهِ إِلَّا الْحَقَّ إِنَّمَا الْمَسِيْحُ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُوْلُ اللهِ وَكَلِمٰتُهُ أَلْقٰهَا إِلٰى مَرْيَمَ وَرُوْحٌ مِّنْهُ فَاٰمِنُوْا بِاللهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُوْلُوْا ثَلٰثَةٌ اِنْتَهُوْا خَيْرًا لَّكُمْ إِنَّمَا اللهُ إِلٰهٌ وَّاحِدٌ سُبْحٰنَه” أَنْ يَّكُوْنَ لَه” وَلَدٌ لَه” مَا فِي السَّمٰوٰتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفٰى بِاللهِ وَكِيْلًا (النساء : 171) قَالَ أَبُوْ عُبَيْدٍ كَلِمٰتُهُ كُنْ فَكَانَ وَقَالَ غَيْرُهُ وَرُوْحٌ مِنْهُ أَحْيَاهُ فَجَعَلَهُ رُوْحًا وَلَا تَقُوْلُوْا ثَلَاثَةٌ ‘‘হে আহলে কিতাব! তোমরা তোমাদের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না.....অভিভাবক হিসেবে।’’ (আন্-নিসা ১৭১) আবূ উবাইদাহ (রহ.) বলেন আল্লাহর كَلِمَتُهُ হচ্ছে ‘‘হও, অমনি তা হয়ে যায়। আর অন্যরা বলেন وَرُوْحٌ منه অর্থ তাকে আয়ু দান করলেন তাই তাকে وَرُوْحٌ নাম দিলেন। وَلَا تَقُوْلُوْا ثَلَاثَةٌ তোমরা তিন ইলাহ বল না। ৩৪৩৫. ‘উবাদাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল আর নিশ্চয়ই ‘ঈসা (আঃ) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর সেই কালিমাহ যা তিনি মারইয়ামকে পৌঁছিয়েছেন এবং তাঁর নিকট হতে একটি রূহ মাত্র, আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার ‘আমল যাই হোক না কেন। ওয়ালীদ (রহ.)....জুনাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত হাদীসে জুনাদাহ অতিরিক্ত বলেছেন যে, জান্নাতে আট দরজার যেখান দিয়েই সে চাইবে। (মুসলিম ১/১০ হাঃ ২৮, আহমাদ ২২৭৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)