حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَجْنِي الْكَبَاثَ، وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَلَيْكُمْ بِالأَسْوَدِ مِنْهُ، فَإِنَّهُ أَطْيَبُهُ ". قَالُوا أَكُنْتَ تَرْعَى الْغَنَمَ قَالَ " وَهَلْ مِنْ نَبِيٍّ إِلاَّ وَقَدْ رَعَاهَا ".
مُتَبَّرٌ خُسْرَانٌ وَلِيُتَبِّرُوْا يُدَمِّرُوْا مَا عَلَوْا مَا غَلَبُوْا مُتَبَّرٌ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত وَلِيُتَبِّرُوْا অর্থ যেন তারা ধ্বংস হয় مَا عَلَوْاঅর্থ যা অধিকারে এনেছিল। ৩৪০৬. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ‘কাবাস’ (পিলু) গাছের পাকা ফল বেছে বেছে নিচ্ছিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর মধ্যে কালোগুলো নেয়াই তোমাদের উচিত। কেননা এগুলোই অধিক সুস্বাদু। সাহাবীগণ বললেন, আপনি কি ছাগল চরিয়েছিলেন? তিনি বললেন, প্রত্যেক নবীই তা চরিয়েছেন। (৫৪৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3407 — Sahih al Bukhari 60:80
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ أُرْسِلَ مَلَكُ الْمَوْتِ إِلَى مُوسَى ـ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ ـ فَلَمَّا جَاءَهُ صَكَّهُ، فَرَجَعَ إِلَى رَبِّهِ، فَقَالَ أَرْسَلْتَنِي إِلَى عَبْدٍ لاَ يُرِيدُ الْمَوْتَ. قَالَ ارْجِعْ إِلَيْهِ، فَقُلْ لَهُ يَضَعُ يَدَهُ عَلَى مَتْنِ ثَوْرٍ، فَلَهُ بِمَا غَطَّتْ يَدُهُ بِكُلِّ شَعَرَةٍ سَنَةٌ. قَالَ أَىْ رَبِّ، ثُمَّ مَاذَا قَالَ ثُمَّ الْمَوْتُ. قَالَ فَالآنَ. قَالَ فَسَأَلَ اللَّهَ أَنْ يُدْنِيَهُ مِنَ الأَرْضِ الْمُقَدَّسَةِ رَمْيَةً بِحَجَرٍ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ كُنْتُ ثَمَّ لأَرَيْتُكُمْ قَبْرَهُ إِلَى جَانِبِ الطَّرِيقِ تَحْتَ الْكَثِيبِ الأَحْمَرِ ". قَالَ وَأَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامٍ حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ.
بَابُ وَإِذْ قَالَ مُوْسٰى لِقَوْمِهٰ إِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوْا بَقَرَةً (البقرة : 67) الآيَةَ ৬০/৩০. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ স্মরণ কর, যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু যবেহ করতে আদেশ দিয়েছেন। (আল-বাকারাহ্ ৬৭) قَالَ أَبُوْ الْعَالِيَةِ الْعَوَانُ النَّصَفُ بَيْنَ الْبِكْرِ وَالْهَرِمَةِ فَاقِعٌ صَافٍ لَا ذَلُوْلٌ لَمْ يُذِلَّهَا الْعَمَلُ تُثِيْرُ الْأَرْضَ لَيْسَتْ بِذَلُوْلٍ تُثِيْرُ الأَرْضَ وَلَا تَعْمَلُ فِي الْحَرْثِ مُسَلَّمَةٌ مِنْ الْعُيُوْبِ لَا شِيَةَ بَيَاضٌ صَفْرَآءُ إِنْ شِئْتَ سَوْدَاءُ وَيُقَالُ صَفْرَاءُ كَقَوْلِهِ جِمَالٰتٌ صُفْرٌ فَادّٰرَأْتُمْ اخْتَلَفْتُمْ আবুল ‘আলিয়াহ (রহ.) বলেন, الْعَوَانُ বুড়ো ও বাছুর উভয়ের মাঝামাঝি, فَاقِعٌ উজ্জ্বল গাঢ়। لَا ذَلُوْلٌ অর্থ, যা কাজে ব্যবহৃত হয় নাই। تُثِيْرُ الأَرْضَ জমি চাষে অর্থাৎ গাভীটি এমন যা ভূমি কর্ষণে ও চাষের কাজে ব্যবহৃত হয়নি। مُسَلَّمَةٌ যা সকল ত্রুটি ও খুঁত হতে মুক্ত। لَا شِيَةَ কোন দাগ নেই। হলুদ ও সাদা বর্ণের। তুমি ইচ্ছা করলে কালোও বলতে পারো। আরও বলা হয় এর অর্থ হলুদ বর্ণের। যেমন মহান আল্লাহর বাণীঃ جِمَالَاتٌ صُفْرٌ পীতবর্ণের উটসমূহ। فَادَّارَأْتُمْ -তোমরা পরস্পর মত বিরোধ করছিলে ৩৪০৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালাকুলকে মূসা (আঃ)-এর নিকট তাঁর জন্য পাঠান হয়েছিল। ফেরেশতা যখন তাঁর নিকট আসলেন, তিনি তাঁর চোখে চপেটাঘাত করলেন। তখন ফেরেশতা তাঁর রবের নিকট ফিরে গেলেন এবং বললেন, আপনি আমাকে এমন এক বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না। আল্লাহ্ বললেন, তুমি তার নিকট ফিরে যাও এবং তাকে বল সে যেন তার একটি হাত একটি গরুর পিঠে রাখে, তার হাত যতগুলো পশম ঢাকবে তার প্রতিটি পশমের বদলে তাকে এক বছর করে জীবন দেয়া হবে। মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! অতঃপর কী হবে? আল্লাহ্ বললেন, অতঃপর মৃত্যু। মূসা (আঃ) বললেন, তাহলে এখনই হোক। (রাবী) বলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট আরয করলেন, তাঁকে যেন ‘আরদে মুকাদ্দাস’ হতে একটি পাথর নিক্ষেপের দূরত্বের সমান স্থানে পৌঁছে দেয়া হয়। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি যদি সেখানে থাকতাম তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পথের ধারে লাল টিলার নীচে তাঁর কবরটি দেখিয়ে দিতাম। রাবী আব্দুর রায্যাক বলেন, মা‘মার (রহ.)......আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। (১৩৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3408 — Sahih al Bukhari 60:81
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ اسْتَبَّ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَرَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ. فَقَالَ الْمُسْلِمُ وَالَّذِي اصْطَفَى مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم عَلَى الْعَالَمِينَ. فِي قَسَمٍ يُقْسِمُ بِهِ. فَقَالَ الْيَهُودِيُّ وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْعَالَمِينَ. فَرَفَعَ الْمُسْلِمُ عِنْدَ ذَلِكَ يَدَهُ، فَلَطَمَ الْيَهُودِيَّ، فَذَهَبَ الْيَهُودِيُّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ الَّذِي كَانَ مِنْ أَمْرِهِ وَأَمْرِ الْمُسْلِمِ فَقَالَ " لاَ تُخَيِّرُونِي عَلَى مُوسَى، فَإِنَّ النَّاسَ يَصْعَقُونَ فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ، فَإِذَا مُوسَى بَاطِشٌ بِجَانِبِ الْعَرْشِ، فَلاَ أَدْرِي أَكَانَ فِيمَنْ صَعِقَ فَأَفَاقَ قَبْلِي أَوْ كَانَ مِمَّنِ اسْتَثْنَى اللَّهُ ".
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মুসলিম আর একজন ইয়াহূদী পরস্পরকে গালি দিল। মুসলিম ব্যক্তি বললেন, সেই সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তামাম জগতের উপর মনোনীত করেছেন। কসম করার সময় তিনি একথাটি বলেছেন। তখন ইয়াহূদী লোকটিও বলল, ঐ সত্তার কসম! যিনি মূসা (আঃ)-কে তামাম জগতের উপর মনোনীত করেছেন। তখন সেই মুসলিম সাহাবী সে সময় তার হাত উঠিয়ে ইয়াহূদীকে একটি চড় মারলেন। তখন সে ইয়াহূদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেল এবং ঘটনাটি জানালো যা তার ও মুসলিম সাহাবীর মধ্যে ঘটেছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমাকে মূসা (আঃ)-এর উপর বেশি মর্যাদা দিওনা। সকল মানুষ বেহুশ হয়ে যাবে। আর আমিই সর্বপ্রথম হুশ ফিরে পাব। তখনই আমি মূসা (আঃ)-কে দেখব, তিনি আরশের একপাশ ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, যারা বেহুশ হয়েছিল, তিনিও কি তাদের অন্তর্ভুক্ত অতঃপর আমার আগে তাঁর হুশ এসে গেছে? কিংবা তিনি তাদেরই একজন, যাঁদেরকে আল্লাহ্ বেহুঁশ হওয়া থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। (২৪১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3409 — Sahih al Bukhari 60:82
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " احْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى فَقَالَ لَهُ مُوسَى أَنْتَ آدَمُ الَّذِي أَخْرَجَتْكَ خَطِيئَتُكَ مِنَ الْجَنَّةِ. فَقَالَ لَهُ آدَمُ أَنْتَ مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالاَتِهِ وَبِكَلاَمِهِ، ثُمَّ تَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ قُدِّرَ عَلَىَّ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ ". فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى " مَرَّتَيْنِ.
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) তর্ক-বিতর্ক করছিলেন। তখন মূসা (আঃ) তাঁকে বলছিলেন, আপনি সেই আদম যে আপনার ভুল আপনাকে বেহেশত হতে বের করে দিয়েছিল। আদম (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি সেই মূসা যে, আপনাকে আল্লাহ্ তাঁর রিসালাত দান এবং বাক্যালাপ দ্বারা সম্মানিত করেছিলেন। অতঃপরও আপনি আমাকে এমন বিষয়ে দোষী করছেন, যা আমার সৃষ্টির আগেই আমার জন্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’বার বলেছেন, এ বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর ওপর বিজয়ী হন। (৪৭৩৬, ৪৭৩৮, ৬৬১৪, ৭৫১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3410 — Sahih al Bukhari 60:83
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حُصَيْنُ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا قَالَ " عُرِضَتْ عَلَىَّ الأُمَمُ، وَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الأُفُقَ فَقِيلَ هَذَا مُوسَى فِي قَوْمِهِ ".
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে আসলেন এবং বললেন, আমার নিকট সকল নবীর উম্মাতকে পেশ করা হয়েছিল। তখন আমি একটি বিরাট দল দেখলাম, যা দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত আবৃত করে ফেলেছিল। তখন বলা হলো, ইনি হলেন মূসা (আঃ) তাঁর কওমের মাঝে। (৫৭০৫, ৫৭৫২, ৬৪৭২, ৬৫৪১, মুসলিম ১/৯৪ হাঃ ২২০, আহমাদ ২৪৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3411 — Sahih al Bukhari 60:84
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَمَلَ مِنَ الرِّجَالِ كَثِيرٌ، وَلَمْ يَكْمُلْ مِنَ النِّسَاءِ إِلاَّ آسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ، وَمَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ، وَإِنَّ فَضْلَ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ ".
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন। কিন্তু মহিলাদের মধ্যে ফির‘আউনের স্ত্রী আসিয়া এবং ইমরানের কন্যা মারইয়াম ব্যতীত আর কেউ পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়নি। তবে ‘আয়িশাহর মর্যাদা সব মহিলার উপর এমন, যেমন সারীদের (গোশতের সুরুয়ায় ভিজা রুটির) মর্যাদা সকল প্রকার খাদ্যের উপর। (৩৪৩৩, ৩৭৬৯, ৫৪১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3412 — Sahih al Bukhari 60:85
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي الأَعْمَشُ،. حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ إِنِّي خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ ". زَادَ مُسَدَّدٌ " يُونُسَ بْنِ مَتَّى ".
باب إِنَّ قَرُوْنَ كَانَ مِنْ قَوْمِ مُوْسٰى الآية (القصص : 76) ৬০/৩৩. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই কারূন ছিল মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায় ভুক্ত। .... (আল-কাসাস ৭৬) لَتَنُوْٓءُ لَتُثْقِلُ . قال ابْنُ عَبَّاسٍ : أُولِى الْقُوَّةِ (القصص : 76) لَا يَرْفَعُهَا الْعُصْبَةُ مِنَ الرِّجَالِ . يُقَالُ : الفَرِحِيْنَ المرِحِيْنَ . وَيْكَأَنَّ اللهَ مِثْلُ : أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَّشَآءُ وَيَقْدِرُ . يُوَسَّعُ عَلَيْهِ وَيُضَيِّقُ . لَتَنُوْءُ অর্থ অবশ্যই কষ্টসাধ্য ছিল। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, أولِى الْقُوَّةِ অর্থ একদল বলবান লোকও তাঁর চাবিগুলো বহন করতে পারতো না। বলা হয় الفرِحِيْنَ অর্থ দাম্ভিক লোকগুলো। أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ হচেছ وَيْكَأَنَّ اللهَ এর মত, অর্থ তুমি দেখলেতো, আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা রিয্ক্ বেশি করে দেন, আর যাকে ইচ্ছা কম করে দেন....। (লুকমান ৩৭) 60/34. باب قول الله تعالى : وَإِلٰى مَدْيَنَ أَخٰهُمْ شُعَيْبًا (الأعراف : 85, هود : 84, والعنكبوت : 36) ৬০/৩৪. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শু‘আইবকে পাঠিয়েছিলাম। (আ‘রাফ ৮৫, হুদ ৪৮ ও ‘আনকাবূত ৩৬ ) إلى أَهْلِ مَدْيَنِ لِأَنَّ مَدْيَنَ بَلَدٌ ومِثْلُهُ وَسْئَلِ الْقَرْيَةَ (يوسف : 82) . وَاسألِ العِيْرَ يَعنِى أَهْلَ القَرْيَةِ وَأَهْلَ العِيْرِ . وَرَآءَكُمْ ظِهْرِيًّا لَمْ تَلْتَفِتُوْا إِلَيْهِ و وَيُقَالُ : إِذَا لَمْ تَقْضِ حَاجَتَهُ ظَهَرْتَ حَاجَتِيْ وَجَعَلَتْنِيْ ظِهْرِيًّا وَ قَالَ : الظِّهْرِيُّ أَنْ تَأْخُذَ مَعَكَ دَابَّةً أَوْ وِعَاءً تَسْتَظْهِرُ بِهِ . مَكَانَتُهُمْ وَمَكَانُهُمْ وَاحِدٌ . يَغْنُوْا : يَعِيْشُوْا . يَأْيَسُ : نَحْزَنُ : اٰسى أحْزَنُ . وقال الْحَسَنُ إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ الرَّشِيْدُ . يَسْتَهْزِئُوْنَ بِهِ . قَالَ مُجَاهِدٌ : لَيْكَةُ الأَيٍكَةُ . يَوْمِ الظُّلَّةِ (الشعراء : 189) إِظْلَالُ الغَمَامُ : العَذَابُ عَلَيٍهِمْ. إلى أَهْلِ مَدْيَنِ অর্থাৎ মাদ্ইয়ানবাসীদের প্রতি। কেননা মাদ্ইয়ান একটি জনপদ। যেমন وَسْئَلِ الْقَرْيَةَ - وَاسألِ العِيْرَ অর্থাৎ জনপদবাসী ও যাত্রীদল। وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا অর্থাৎ তোমরা তার প্রতি ফিরে তাকাওনি। যখন কারোও কোনো প্রয়োজন পুরা না করবে, তখন বলা হয়- তুমি আমার প্রয়োজনকে পিছনে ফেলে রেখেছো। অথবা তুমি আমার প্রতি ফিরে তাকাওনি। الظِّهْرِيُّ অর্থ-তুমি তোমার সঙ্গে কোন বাহন অথবা বাসন রাখতে যার দ্বারা তুমি উপকৃত হবে। مَكَانَتُهُمْI مَكَانُهُمْ একই অর্থ। يَغْنُوْا অর্থ জীবন যাপন। يَأْيَسُ অর্থ চিন্তিত হওয়া آسى অর্থ দুঃখিত হবো। হাসান (রহ.) বলেন, إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ الرَّشِيْدُ অর্থাৎ তুমি তো অবশ্যই সহিষ্ণু সদাচারী- (হুদ ৮৭)। এখানে কাফিরেরা ঠাট্টাচ্ছলে বলতো। আর মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَيْكَةُ মূলতঃ الأَيٍكَةُ ছিল। يَوْمِ الظُّلَّةِ অর্থ-তাদের জন্য মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব। قَالَ مُجَاهِدٌ : مُذْنِبُ . المَشْحُوْنُ : المُوْقَرُ . فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِيْنَ الآية (الصافات : 143) فَنَبْذْنَهُ بِالْعَرَاءِ بِوَجْهِ الأَرْضِ وَهُوَ سَقِيْمٌ (الصافات : 145). وَأًنْبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةٌ مِّنْ يَّقْطِيْنٍ (الصافات : 146) . من غَيْرِ ذَاتِ أَصْلِ الدُّبَّاءِ ونَحْوِهِ . وَأَرْسَلْنَاهُ إِلٰى مِائَةٍ أَلْفٍ أَوْ يَزِيْدُوْنَ (الصافات 147) . فأَمِنُوْا فَمَتَّعْنٰهُمْ إِلٰى حِيْنٍ (الصافات : 148) وَلَا تَكُنْ كَصٰحِبِ الْحُوْتِ إِذْ نٰدٰى وَهُوَ مَكْظُوْمٌ (القلم : 48) كَظِيْمٌ وَهُوَ مَغْمُوْمٌ . মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُلِيْمٌ অর্থ-অপরাধী المَشْحُوْنُ অর্থ-বোঝাই নৌযান। (আল্লাহর বাণী) সুতরাং যদি তিনি আল্লাহর তাসবীহ পাঠকারী না হতেন- (আস্ সাফফাত ১৪৩)। অতঃপর আমি তাকে নিক্ষেপ করলাম এক ময়দানে এবং তিনি ছিলেন পীড়িত। আর আমি উৎপন্ন করলাম তার উপর এক লাউ গাছ- (আস্ সাফফাত ১৪৫-১৪৬)। الْعَرَاءِ অর্থ-যমীনের উপরিভাগ। يَّقْطِيْن অর্থ-কান্ডবিহীন তৃণলতা, যেমন লাউ গাছ ও তার সদৃশ। (মহান আল্লাহর বাণী) আমি তাকে রাসূল করে পাঠিয়েছিলাম এক লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি। তারা ঈমান এনেছিল, ফলে আমি তাদেরকে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত জীবনোপভোগ করতে দিয়েছিলাম- (আস্ সাফফাত ১৪৭-৪৮)। (মহান আল্লাহর বাণী) অতএব, আপনি ধৈর্যধারণ করুন আপনার রবের নির্দেশের অপেক্ষায়। আপনি মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন তিনি চিন্তায়-বিপদে আচ্ছন্ন অবস্থায় কাতর প্রার্থনা করেছিলেন- (কলম ৪৮)। كَظِيْمٌ অর্থ-বিষাদাচ্ছন্ন। ৩৪১২. ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে যে, আমি অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইউনুস (আঃ) হতে উত্তম। মুসাদ্দাদ (রহ.) অতিরিক্ত বললেন, ইউনুস ইবনু মাত্তা। (৪৬০৩, ৩৮০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3413 — Sahih al Bukhari 60:86
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا يَنْبَغِي لِعَبْدٍ أَنْ يَقُولَ إِنِّي خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى ". وَنَسَبَهُ إِلَى أَبِيهِ.
ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কারো জন্য এ কথা বলা উচিত নয় যে, নিশ্চয়ই আমি (মুহাম্মদ) ইউনুস ইবনু মাত্তা হতে উত্তম। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (ইউনুসকে) তাঁর পিতার দিকে সম্পর্কিত করেছেন। (৩৩৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)