حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا مُحَارِبُ بْنُ دِثَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَكْرَهُ أَنْ يَأْتِيَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ طُرُوقًا.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে এসে রাতে ঘরে প্রবেশ করা অপছন্দ করতেন। [৪৪৩] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হাদিস 5244 — Sahih al Bukhari 67:177
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَطَالَ أَحَدُكُمُ الْغَيْبَةَ فَلاَ يَطْرُقْ أَهْلَهُ لَيْلاً ".
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটিয়ে রাতে আকস্মিকভাবে তার ঘরে যেন প্রবেশ না করে। [৪৪৭] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। যখন আমরা ফিরে আসছিলাম, আমি আমার ধীর গতিসম্পন্ন উটকে দ্রুত হাঁকালাম। তখন আমার পিছনে একজন আরোহী এসে মিলিত হলেন। তাকিয়ে দেখলাম যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বললেন, তোমার এ ব্যস্ততা কেন? আমি বললাম, আমি সদ্য বিয়ে করেছি। তিনি বললেন,কুমারী, না পূর্ব-বিবাহিতা বিয়ে করেছ? আমি বললাম, পূর্ব বিবাহিতা। তিনি বললেন, কুমারী করলে না কেন? তুমি তার সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ করতে, আর সেও তোমার সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ করত। রাবী) বলেন, আমরা মদিনা্য় পৌঁছে নিজ নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা অপেক্ষা কর- পরে রাতে অর্থাৎ এশা নাগাদ ঘরে যাবে, যাতে নারী তার অবিন্যস্ত চুল আঁচড়ে নিতে পারে এবং প্রবাসী স্বামীর স্ত্রী ক্ষুর ব্যবহার করতে পারে। রাবী) বলেন, আমাকে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে এও বলেছেন যে, হে জাবির। বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দাও, বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দাও। অর্থাৎ সন্তান কামনা কর।[1][৪৪৩]আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হাদিস 5246 — Sahih al Bukhari 67:179
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَيَّارٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دَخَلْتَ لَيْلاً فَلاَ تَدْخُلْ عَلَى أَهْلِكَ حَتَّى تَسْتَحِدَّ الْمُغِيبَةُ وَتَمْتَشِطَ الشَّعِثَةُ ". قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَعَلَيْكَ بِالْكَيْسِ الْكَيْسِ ". تَابَعَهُ عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ وَهْبٍ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْكَيْسِ.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সফর থেকে রাতে প্রত্যাবর্তন করে গৃহে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রী ক্ষুর ব্যবহার করতে পারে এবং এলোকেশী স্ত্রী চিরুনি করে নিতে পারে। রাবী), বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার কর্তব্য সন্তান কামনা করা, সন্তান কামনা করা। [৪৪৩] ‘উবাইদুল্লাহ্ (রহ.) ওয়াহাব (রহ.) থেকে জাবির (রাঃ)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ‘সন্তান অন্বেষণ’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন। আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক যুদ্ধে ছিলাম। যুদ্ধ শেষে ফেরার পথে যখন আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম, আমি আমার ধীর গতি উটকে দ্রুত হাঁকালাম। একটু পরেই এক আরোহী আমার পিছনে এসে মিলিত হলেন এবং তাঁর লাঠি দ্বারা আমার উটটিকে খোঁচা দিলেন। এতে আমার উটটি সর্বোৎকৃষ্ট উটেরমত চলতে লাগল যেমনভাবে উৎকৃষ্ট উটকে তোমরা চলতে দেখ। মুখ ফিরিয়ে দেখলাম যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সদ্য বিয়ে করেছি। তিনি বললেন, বিয়ে করেছ? বললাম, জি-হ্যাঁ। তিনি বললেন, কুমারী না পূর্ব-বিবাহিতা? আমি বললাম, বরং পূর্ব-বিবাহিতা। তিনি বললেন, কুমারী করলে না কেন? তুমি তার সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ করতে আর সেও তোমার সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ করত। রাবী বলেন, এরপর আমরা মদিনায় পৌঁছে নিজ নিজ গৃহে) প্রবেশ করতে উদ্যত হলাম, তখন তিনি বললেন, অপেক্ষা কর, সকলে রাতে অর্থাৎ সন্ধ্যায় প্রবেশ করবে, যাতে এলোকেশী নারী চিরুনি করে নিতে পারে এবং অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রী ক্ষুর ব্যবহার করে নিতে পারে। [৪৪৩] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হাদিস 5248 — Sahih al Bukhari 67:181
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ اخْتَلَفَ النَّاسُ بِأَىِّ شَىْءٍ دُووِيَ جُرْحُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ، فَسَأَلُوا سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، وَكَانَ مِنْ آخِرِ مَنْ بَقِيَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ، فَقَالَ وَمَا بَقِيَ مِنَ النَّاسِ أَحَدٌ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، كَانَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلاَمُ تَغْسِلُ الدَّمَ عَنْ وَجْهِهِ، وَعَلِيٌّ يَأْتِي بِالْمَاءِ عَلَى تُرْسِهِ، فَأُخِذَ حَصِيرٌ، فَحُرِّقَ فَحُشِيَ بِهِ جُرْحُهُ.
আবূ হাযিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষতস্থানে কী ঔষধ লাগানো হয়েছিল, এ নিয়ে লোকদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হল। পরে তারা সাহল ইব্নু সা‘দ সা‘ঈদীকে জিজ্ঞেস করল, যিনি মদিনা্র অবশিষ্ট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের সর্বশেষ ছিলেন। তিনি বললেন, এ ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ কোন ব্যক্তি অবশিষ্ট নেই। ফাতিমাহ (রাঃ) তাঁর মুখমন্ডল হতে রক্ত ধুয়ে দিচ্ছিলেন আর ‘আলী (রাঃ) ঢালে করে পানি আনছিলেন। পরে একটি চাটাই পুড়িয়ে, তা ক্ষতস্থানে চারপাশে লাগিয়ে দেয়া হল। [২৪৩]আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হাদিস 5249 — Sahih al Bukhari 67:182
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ سَأَلَهُ رَجُلٌ شَهِدْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِيدَ أَضْحًى أَوْ فِطْرًا قَالَ نَعَمْ لَوْلاَ مَكَانِي مِنْهُ مَا شَهِدْتُهُ ـ يَعْنِي مِنْ صِغَرِهِ ـ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى ثُمَّ خَطَبَ، وَلَمْ يَذْكُرْ أَذَانًا وَلاَ إِقَامَةً، ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ فَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ، فَرَأَيْتُهُنَّ يَهْوِينَ إِلَى آذَانِهِنَّ وَحُلُوقِهِنَّ يَدْفَعْنَ إِلَى بِلاَلٍ، ثُمَّ ارْتَفَعَ هُوَ وَبِلاَلٌ إِلَى بَيْتِهِ.
‘আবদুর রহমান ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত যে, আমি এক ব্যক্তিকে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছি যে, আপনি আযহা বা ফিতরের কোন ঈদে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। অবশ্য তাঁর সঙ্গে আমার এত ঘনিষ্ঠতা না থাকলে স্বল্প বয়সের কারণে আমি তাঁর সঙ্গে উপস্থিত হতে পারতাম না। তিনি আরও) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। তারপর সালাত আদায় করলেন, এরপর খুৎবাহ দিলেন। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) আযান ও ইকামাতের কথা উল্লেখ করেননি। এরপর তিনি মহিলাদের কাছে এলেন এবং তাদেরকে ওয়াজ ও নাসীহাত করলেন ও তাদেরকে সদাকাহ করার আদেশ দিলেন। রাবী বলেন,) আমি দেখলাম, তারা তাদের কর্ণ ও কন্ঠের দিকে হাত প্রসারিত করে গয়নাগুলো) বিলালের কাছে অর্পণ করছে। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও বিলাল (রাঃ) গৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন। [৯৮] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হাদিস 5250 — Sahih al Bukhari 67:183
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ عَاتَبَنِي أَبُو بَكْرٍ وَجَعَلَ يَطْعُنُنِي بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي فَلاَ يَمْنَعُنِي مِنَ التَّحَرُّكِ إِلاَّ مَكَانُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَأْسُهُ عَلَى فَخِذِي.
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাঃ) আমাকে ভৎর্সনা করলেন এবং আমার কোমরে তাঁর হাত দ্বারা খোঁচা দিলেন। আমার ঊরুর ওপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মস্তক থাকার কারণে আমি নড়াচড়া করতে পারিনি। [৩৩৪]আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন