। আল-মুত্তালিব ইবনু আবূ ওয়াদাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের সালাত (নামায/নামাজ) দু দু রাকআত করে। প্রতি দু রাকআতের শেষে রয়েছে তাশাহ্হুদ। অত্যন্ত বিনয়-নম্রতা সহকারে, শান্তভাবে ও একাগ্রতার সাথে সালাত (নামায/নামাজ) পড়বে এবং বলবেঃ হে আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করুন। যে ব্যক্তি তা করেনি তার নামায ত্রুটিপূর্ণ।
হাদিস 1326 — Sunan Ibn Majah 5:524
হাসান Sahihহাসান SahihহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমযান মাসের সওম রাখে (এবং রাতে) দন্ডায়মান হয় (সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে) তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করা হয়।
। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রমযানে সওম রাখলাম। তিনি আমাদের নিয়ে এ মাসে (নফল সালাতে) দাঁড়াননি, এমনকি রমযানের মাত্র সাতটি রাত বাকি রইল। সপ্তম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাত সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন। এরপর ষষ্ঠ রাতে তিনি (নফল) সালাত ড়েননি। অতঃপর পঞ্চম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে প্রায় অর্ধরাত পর্যন্ত সালাত পড়েন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! এর রাতের অবশিষ্ট অংশও যদি আপনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত পড়ে ফিরে আসে, সে সারা রাত সালাত পড়ার সমান সওয়াব পায়। অতঃপর তিনি চতুর্থ রাতে সালাত পড়েননি। তৃতীয় রাত এলে তিনি তাঁর স্ত্রীদের, পরিজনদের একত্র করেন এবং লোকেরাও একত্র হয়। রাবী বলেন, তিনি আমাদের নিয়ে এত দীর্ঘক্ষণ সালাত পড়লেন যে, আমরা কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করলাম। আবূ যার (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হলো, কল্যাণ কী? তিনি বলেন, সাহরী। অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে মাসের অবশিষ্ট রাতগুলোতে আর কোন নফল সালাত পড়েননি।
। নাযর ইবনু শাইবান (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালাম ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করে বললাম, আপনি আপনার পিতাকে রমযান মাস সম্পর্কে যে হাদীস বলতে শুনেছেন তা আমার নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেন যে,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাস সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেনঃ এমন একটি মাস, আল্লাহ তোমাদের উপর তার সওম ফরয করেছেন এবং আমি তোমাদের উপর এর দন্ডায়মান হওয়া (রাত জেগে ইবাদাত করা) সুন্নাত করেছি। অতএব এয ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় এ মাসে সওম রাখে ও (রাতে ইবাদাতে) দন্ডায়মান হয় সে তার জন্মদিনের মত পাপমুক্ত হয়ে যায়।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের বেলা শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের মাথায় একটি দড়ি দিয়ে তিনটি গিরা দেয়। সে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করলে একটি গিরা খুলে যায়। সে উঠে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলে আরেকটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর সে যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সমস্ত গিরা খুলে যায়। ফলে সে প্রশান্ত মনে হৃষ্টচিত্তে ভোরে উপনীত হয় এবং কল্যাণপ্রাপ্ত হয়। আর সে যদি এরূপ না করে, তবে তার ভোর হয় অলসতা ও অপবিত্র মন নিয়ে। ফলে সে কল্যাণ লাভ করতে পারে না।
হাদিস 1330 — Sunan Ibn Majah 5:528
সহিহসহিহসহিহসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَجُلٌ نَامَ لَيْلَةً حَتَّى أَصْبَحَ قَالَ " ذَلِكَ الشَّيْطَانُ بَالَ فِي أُذُنَيْهِ " .
। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা হলো যে, সে এক ঘুমে রাত কাটিয়ে ভোরে উপনীত হয়। তিনি বলেনঃ এ ব্যক্তির দুকানে শয়তান পেশাব করে দিয়েছে।
হাদিস 1331 — Sunan Ibn Majah 5:529
সহিহসহিহসহিহসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لاَ تَكُنْ مِثْلَ فُلاَنٍ كَانَ يَقُومُ اللَّيْلَ فَتَرَكَ قِيَامَ اللَّيْلِ " .
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি অমুক ব্যক্তির মত হয়ো না, যে রাতে উঠতো (নফল ইবাদাত করতো), পরে তা ছেড়ে দিয়েছে।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুলায়মান (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মা তাঁকে বললেন, হে বৎস! তুমি রাতে অধিক ঘুমিও না। কেননা রাতের অধিক ঘুম মানুষকে কিয়ামতের দিন নিঃস্ব অবস্থায় ত্যাগ করে।