। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির নিজ ঘরে এক ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার সওয়াব এক ওয়াক্ত সালাতেরই সমান, তার পাড়ার বা গোত্রের মসজিদে তার এক সালাত পঁচিশ সালাতের সমতুল্য, জুমুআহ মসজিদে তার এক সালাত পাঁচ শত সালাতের সমান। মাসজিদুল আকসায় তার এক সালাত পঞ্চাশ হাজার সালাতের সমতুল্য, আমার মসজিদে তার এক সালাত পঞ্চাশ হাজার সালাতের সমতুল্য এবং মাসজিদুল হারামে তার এক সালাত এক লাখ সালাতের সমতুল্য।
হাদিস 1414 — Sunan Ibn Majah 5:612
হাসানহাসানদাঈফ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الرَّقِّيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الطُّفَيْلِ بْنِ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي إِلَى جِذْعٍ إِذْ كَانَ الْمَسْجِدُ عَرِيشًا وَكَانَ يَخْطُبُ إِلَى ذَلِكَ الْجِذْعِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ هَلْ لَكَ أَنْ نَجْعَلَ لَكَ شَيْئًا تَقُومُ عَلَيْهِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ حَتَّى يَرَاكَ النَّاسُ وَتُسْمِعَهُمْ خُطْبَتَكَ قَالَ " نَعَمْ " . فَصَنَعَ لَهُ ثَلاَثَ دَرَجَاتٍ فَهِيَ الَّتِي عَلَى الْمِنْبَرِ فَلَمَّا وُضِعَ الْمِنْبَرُ وَضَعُوهُ فِي مَوْضِعِهِ الَّذِي هُوَ فِيهِ فَلَمَّا أَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ يَقُومَ إِلَى الْمِنْبَرِ مَرَّ إِلَى الْجِذْعِ الَّذِي كَانَ يَخْطُبُ إِلَيْهِ فَلَمَّا جَاوَزَ الْجِذْعَ خَارَ حَتَّى تَصَدَّعَ وَانْشَقَّ فَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَمَّا سَمِعَ صَوْتَ الْجِذْعِ فَمَسَحَهُ بِيَدِهِ حَتَّى سَكَنَ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى الْمِنْبَرِ فَكَانَ إِذَا صَلَّى صَلَّى إِلَيْهِ فَلَمَّا هُدِمَ الْمَسْجِدُ وَغُيِّرَ أَخَذَ ذَلِكَ الْجِذْعَ أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ وَكَانَ عِنْدَهُ فِي بَيْتِهِ حَتَّى بَلِيَ فَأَكَلَتْهُ الأَرَضَةُ وَعَادَ رُفَاتًا .
। উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাপড়ার মসজিদে থাকা অবস্থায় একটি খেজুর গাছের খুঁটির পাশে দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতো। তিনি ঐ খেজুর গাছের খুঁটি ঘেঁষে খুতবাহ দিতেন। তাঁর সাহাবীদের একজন বলেন, আমরা কি আপনার জন্য এমন একটি জিনিসের ব্যবস্থা করবো, যার উপর আপনি জুমুআহর দিন দাঁড়াবেন। যাতে লোকেরা আপনাকে দেখতে পায় এবং আপনার খুতবাহ তাদের শুনাতে পারেন। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তখন ঐ ব্যক্তি তাঁর জন্য তিন ধাপবিশিষ্ট একটি মিম্বার তৈরি করেন। এটি ছিল সবচাইতে উঁচু মিম্বার। মিম্বারটি বানানো হলে তারা তা যথাস্থানে স্থাপন করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে খুতবাহ দেয়ার ইচ্ছা করলেন। তিনি ঐ খুঁটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তা চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠে। ফলে তা ফেটে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুকনো খেজুর গাছের কান্নার শব্দ শুনে নেমে আসেন এবং তাতে নিজ হাতে বুলিয়ে দেন। ফলে তা শান্ত হয়ে যায়। তারপর তিনি মিম্বারে ফিরে যান। এরপর যখন তিনি সালাত আদায় করতেন তখন ঐ খুঁটির দিকে রোখ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। অতঃপর মাসজিদ যখন (সংস্কারের জন্য) ভাঙ্গা হলো, তখন উবাই ইবনু কাব খুঁটিটি নিয়ে তার ঘরে রাখেন। অবশেষে উইপোকা তা খেয়ে ফেলে এবং ফলে তা ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়।
। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর গাছের একটি শুকনা খুঁটি ঘেঁষে খুতবাহ দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের ব্যবস্থা করলে, তিনি (খুতবাদানের জন্য) মিম্বারে গিয়ে উঠলে খেজুর গাছের খুঁটিটি কেঁদে উঠে। তিনি তার কাছে এসে তার গায়ে হাত বুলিয়ে দেন এবং তা শান্ত হয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি তার গায়ে হাত না বুলালে তা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত রোনাজারি করতো।
। আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মিম্বার কিসের দ্বারা নির্মিত ছিল সে বিষয়ে লোকেরা মতভেদ করে। তারা সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) এর নিকট এসে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত আর কেউ বেঁচে নেই। এটি ছিল আল-গাবা বনভূমির আছল নামীয় গাছের তৈরি। অমুক মহিলার মুক্তদাস কাঠমিস্ত্রী তা তৈরি করেছিল। সেটি এনে স্থাপন করা হলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপর দাঁড়ান। অতঃপর তিনি কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালে লোকেরাও তাঁর পিছনে দাঁড়ায়, অতঃপর তিনি কিরাআত পড়েন, তারপর রুকূ করেন, অতঃপর মাথা উঠান, অতঃপর কিবলামুখী অবস্থায় পেছনে সরে এসে যমীনে সিজদা করেন, অতঃপর আবার মিম্বারের দিকে এগিয়ে গিয়ে কিরাআত পড়েন, তারপর রুকূ করে দাঁড়িয়ে যান, অতঃপর আগের মত পেছনে সরে এসে মাটিতে সিজদা করেন।
হাদিস 1417 — Sunan Ibn Majah 5:615
সহিহসহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُومُ فِي أَصْلِ شَجَرَةٍ - أَوْ قَالَ إِلَى جِذْعٍ - ثُمَّ اتَّخَذَ مِنْبَرًا . قَالَ فَحَنَّ الْجِذْعُ - قَالَ جَابِرٌ - حَتَّى سَمِعَهُ أَهْلُ الْمَسْجِدِ حَتَّى أَتَاهُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَمَسَحَهُ فَسَكَنَ . فَقَالَ بَعْضُهُمْ لَوْ لَمْ يَأْتِهِ لَحَنَّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ .
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাছের মূলে অথবা খেজুর গাছের কান্ডে ঠেস দিয়ে দাঁড়াতেন। অতঃপর তিনি একটি মিম্বার গ্রহণ করেন। রাবী বলেন, খেজুর কান্ডটি কেঁদে দিলো। জাবির বলেন, এমনকি মসজিদের লোকেরা এর কান্না শুনতে পায়। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের নিকট এসে তাতে হাত বুলান, ফলে তা শান্ত হয়। তাদের কতক বললেন, তিনি এর কাছে না এলে এটা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত কাঁদতো।
হাদিস 1418 — Sunan Ibn Majah 5:616
সহিহসহিহসহিহসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ صَلَّيْتُ ذَاتَ لَيْلَةٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرِ سَوْءٍ . قُلْتُ وَمَا ذَاكَ الأَمْرُ قَالَ هَمَمْتُ أَنْ أَجْلِسَ وَأَتْرُكَهُ .
। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত (নামায/নামাজ) পড়লাম। তিনি এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ান যে, শেষে আমি একটি অসমীচীন কাজের ইচ্ছা করলাম। আবূ ওয়াইল (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, সেই কাজটি কী? তিনি বলেন, আমি তাঁকে একা সালাতরত অবস্থায় ত্যাগ করে বসে পড়ার ইচ্ছা করেছিলাম।
হাদিস 1419 — Sunan Ibn Majah 5:617
সহিহসহিহসহিহসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، سَمِعَ الْمُغِيرَةَ، يَقُولُ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حَتَّى تَوَرَّمَتْ قَدَمَاهُ . فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ . قَالَ " أَفَلاَ أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا " .
। মুগীরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন যে, তাঁর পদদ্বয় ফুলে যায়। বলা হলো, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ তো আপনার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?
হাদিস 1420 — Sunan Ibn Majah 5:618
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ، مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي حَتَّى تَوَرَّمَتْ قَدَمَاهُ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ . قَالَ " أَفَلاَ أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দীর্ঘক্ষণ ধরে) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে থাকতেন, এমনকি তাঁর পদদ্বয় ফুলে যেতো। তাঁকে বলা হলো, আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?
হাদিস 1421 — Sunan Ibn Majah 5:619
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَىُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ قَالَ " طُولُ الْقُنُوتِ " .
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ সালাত (নামায/নামাজ) উত্তম? তিনি বলেনঃ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পড়া সালাত।
। আবূ ফাতেমাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন, যা আমি অবিচলভাবে অনবরত করতে পারি। তিনি বলেনঃ তুমি সিজদা করো। কেননা তুমি যখনই আল্লাহ্র জন্য একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তোমার মর্যাদা একধাপ সমুন্নত করবেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাফ করবেন।