حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ السَّفْرِ بْنِ نُسَيْرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَهَى أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ وَهُوَ حَاقِنٌ .
। আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন ব্যাক্তিকে পেশাব-পায়খানার বেগ চেপে রেখে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
হাদিস 618 — Sunan Ibn Majah 1:352
দাঈফসহিহসহিহ Lighairihiসহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ إِدْرِيسَ الأَوْدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لاَ يَقُومُ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلاَةِ وَبِهِ أَذًى " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন পেশাব-পায়খানার বেগ নিয়ে সালাতে না দাঁড়ায়।
হাদিস 619 — Sunan Ibn Majah 1:353
দাঈফসহিহসহিহ Lighairihiহাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي حَىٍّ الْمُؤَذِّنِ، عَنْ ثَوْبَانَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَقُومُ أَحَدٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَهُوَ حَاقِنٌ حَتَّى يَتَخَفَّفَ " .
। সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন মুসলিমের পেশাব-পায়খানার বেগ হলে সে যেন তা থেকে হালকা না হয়ে সালাতে না দাঁড়ায়।
হাদিস 620 — Sunan Ibn Majah 1:354
সহিহসহিহসহিহ Lighairihiদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ، حَدَّثَتْهُ أَنَّهَا، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَشَكَتْ إِلَيْهِ الدَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنَّمَا ذَلِكَ عِرْقٌ فَانْظُرِي إِذَا أَتَى قَرْؤُكِ فَلاَ تُصَلِّي فَإِذَا مَرَّ الْقَرْءُ فَتَطَهَّرِي ثُمَّ صَلِّي مَا بَيْنَ الْقَرْءِ إِلَى الْقَرْءِ " .
। ফাতিমা বিনত আবূ হুবাইশ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে ঋতুস্রাব সম্পর্কে অভিযোগ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তা এক প্রকার শিরাজনিত রোগ। সুতরাং তুমি লক্ষ্য রাখবে যে, তোমার হায়েয শুরু হলে সালাত পড়বে না। হায়েযকাল উত্তীর্ণ হলে পর তুমি পবিত্রতা অর্জন করবে, অতঃপর দু হায়েযের মধ্যবর্তীকাল সালাত পড়বে।
। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে আবূ হুবাইশ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার অনবরত রক্তস্রাব হতেই থাকে এবং আমি পবিত্র হতে পারি না। আমি কি সালাত ছেড়ে দিবো? তিনি বলেনঃ না, বরং এটি হচ্ছে একটি শিরাজনিত রোগ এবং এটা হায়েযের রক্ত নয়। অতএব তোমার ঋতুস্রাব দেখা দিলে তুমি সালাত ছেড়ে দিবে। অতঃপর ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে তুমি রক্ত ধুয়ে ফেলে সালাত পড়বে।
। উম্মু হাবীবা বিনতে জাহশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ইস্তিহাযার রক্ত খুব বেশি দিন ধরে নির্গত হতো। আমি এ ব্যাপারে সমাধান জানতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলাম এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। রাবী বলেন, আমি তাঁকে আমার বোন যয়নবের নিকট পেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার সাথে আমার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে। তিনি বলেনঃ তা কী, হে আমার প্রিয় শ্যালিকা? আমি বললাম, আমার খুব বেশি পরিমাণে দীর্ঘ সময় ধরে ইস্তিহাযার রক্ত আসে, যা আমাকে সালাত-সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) থেকে বিরত রাখে। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কী হুকুম করেন? তিনি বলেন, আমি তোমাকে তুলার পট্টি ব্যবহারের নির্দেশ দিচ্ছি। কেননা তা রক্ত প্রতিরোধক। আমি বললাম, তা পরিমাণে আরও বেশি। পরবর্তী বর্ণনা শারীকের হাদীসের অনুরূপ।
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট সমাধান জানতে চেয়ে বলেন, আমার অনবরত রক্তস্রাব হয়, আমি কখনো পবিত্র হই না। আমি কি সালাত ছেড়ে দিবো? তিনি বলেনঃ না, বরং তুমি তোমার হায়িযের মেয়াদে সালাত ত্যাগ করো। আবূ বাকর (রহঃ)-এর রিওয়ায়াতে আছেঃ প্রতি মাসে হায়েযের সমপরিমাণ মেয়াদ নির্ধারণ করো, অতঃপর গোসল করে কাপড়ের পট্টি বেঁধে সালাত পড়ো।
। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে আবূ হুবাইশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার রক্তস্রাব হতেই থাকে এবং আমি কখনো পবিত্র হতে পারি না। আমি কি সালাত ছেড়ে দিবো? তিনি বলেনঃ না, এটা এক প্রকার শিরাজনিত রোগ, এটা হায়িযের রক্ত নয়। তুমি তোমার হায়িযের মেয়াদকালে সালাত থেকে বিরত থাকো, অতঃপর গোসল করো এবং প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে সালাত পড়ো, যদিও সালাতের পাটিতে রক্ত পড়ে।
হাদিস 625 — Sunan Ibn Majah 1:359
সহিহসহিহসহিহ Lighairihiদাঈফ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ " الْمُسْتَحَاضَةُ تَدَعُ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ وَتَصُومُ وَتُصَلِّي " .
। আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইস্তিহাযায় (রক্তপ্রদরে) আক্রান্ত নারী তার হায়িযের মেয়াদকাল সালাত ত্যাগ করবে। এরপর সে গোসল করবে এবং প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং সালাত-সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) করবে।
হাদিস 626 — Sunan Ibn Majah 1:360
সহিহসহিহসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَتِ اسْتُحِيضَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ وَهِيَ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ سَبْعَ سِنِينَ فَشَكَتْ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَإِنَّمَا هُوَ عِرْقٌ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ ثُمَّ تُصَلِّي وَكَانَتْ تَقْعُدُ فِي مِرْكَنٍ لأُخْتِهَا زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حَتَّى إِنَّ حُمْرَةَ الدَّمِ لَتَعْلُو الْمَاءَ .
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা বিনতে জাহশ এর ইস্তিহাযা (রক্তপ্রদর) হল। তিনি সাত বছর তার স্ত্রীত্বে ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে অভিযোগ করলে তিনি বলেনঃ এটা হায়েযের রক্ত নয়, বরং তা একটি শিরাজনিত রোগ। তোমার হায়েয শুরু হলে তুমি সালাত ছেড়ে দিবে এবং হায়েযের রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে তুমি গোসল করে সালাত পড়বে। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য গোসল করে সালাত আদায় করতেন। তিনি তার বোন যয়নব বিনতে জাহ্শ (রাঃ) এর পানির পাত্রে বসতেন, এমনকি রক্তের লাল রংয়ে পানি রঞ্জিত হয়ে যেত।