। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি অন্ধ বিদ্বেষ অথবা গোত্রীয় বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে পাথর, চাবুক অথবা লাঠির আঘাতে হত্যাকান্ড ঘটায় তার উপর কতলে খাতার দিয়াত ধার্য হবে। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে তার উপর কিসাস বাধ্যকর হবে। আর যে ব্যক্তি হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণের মধ্যে প্রতিবন্ধক হবে তার উপর আল্লাহর, ফেরেশতাকুলের এবং মানবজাতির অভিসম্পাত। তার নফল অথবা ফরয কোন ইবাদতই কবুল করা হবে না।
। নিমরান ইবনে জারিয়া (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির বাহুতে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তা গ্রন্থির বাইরে থেকে কেটে ফেলে। আহত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মামলা রুজু করলো। তিনি তাকে দিয়াত প্রদানের নির্দেশ দিলেন। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কিসাস দাবি করছি। তিনি বলেনঃ তুমি দিয়াত গ্রহণ করো, আল্লাহ এতে তোমায় বরকত দান করুন। তিনি তার পক্ষে কিসাসের রায় দেননি।
। আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মস্তিকের মূলে (আঘাত) না পৌঁছলে, পেটের অভ্যন্তরে (আঘাত) না পৌঁছলে এবং হাড় ভেঙ্গে স্থানচ্যুত না হলে তাতে কিসাস নেই।
হাদিস 2638 — Sunan Ibn Majah 21:24
সহিহসহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ أَبَا جَهْمِ بْنَ حُذَيْفَةَ مُصَدِّقًا فَلاَجَّهُ رَجُلٌ فِي صَدَقَتِهِ فَضَرَبَهُ أَبُو جَهْمٍ فَشَجَّهُ فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا الْقَوَدَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَكُمْ كَذَا وَكَذَا " . فَلَمْ يَرْضَوْا فَقَالَ " لَكُمْ كَذَا وَكَذَا " . فَرَضُوا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي خَاطِبٌ عَلَى النَّاسِ وَمُخْبِرُهُمْ بِرِضَاكُمْ " . قَالُوا نَعَمْ . فَخَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّ هَؤُلاَءِ اللَّيْثِيِّينِ أَتَوْنِي يُرِيدُونَ الْقَوَدَ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِمْ كَذَا وَكَذَا أَرَضِيتُمْ " . قَالُوا لاَ . فَهَمَّ بِهِمُ الْمُهَاجِرُونَ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَكُفُّوا فَكَفُّوا ثُمَّ دَعَاهُمْ فَزَادَهُمْ فَقَالَ " أَرَضِيتُمْ " . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ " إِنِّي خَاطِبٌ عَلَى النَّاسِ وَمُخْبِرُهُمْ بِرِضَاكُمْ " . قَالُوا نَعَمْ . فَخَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " أَرَضِيتُمْ " . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ ابْنُ مَاجَهْ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى يَقُولُ تَفَرَّدَ بِهَذَا مَعْمَرٌ لاَ أَعْلَمُ رَوَاهُ غَيْرُهُ .
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ জাহম ইবনে হুযায়ফা (রাঃ) কে যাকাত আদায়কারী নিয়োগ করে পাঠান। এক ব্যক্তি তার যাকাতের ব্যাপারে তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়। আবূ জাহম (রাঃ) তাকে আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়। সেই গোত্রের লোকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কিসাস দাবি করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা এতো এতো পরিমাণ মাল পাবে। কিন্তু তারা তাতে রাজী হলো না। তিনি বলেনঃ তোমরা এতো এতো পরিমাণ মাল পাবে। এবার তারা রাযী হয়ে গেলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কি লোকেদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে তোমাদের রাযী হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিবো? তারা বললো, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দেন এবং বলেনঃ এই লাইস গোত্রের লোকজন আমার নিকট কিসাসের দাবি নিয়ে এসেছে। আমি তাদেরকে এতো এতো পরিমাণ মাল প্রদানের প্রস্তাব করে জিজ্ঞেস করলামঃ তোমরা কি সম্মত হলে? তারা বললো, না। এতে মুহাজিরগণ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে শাস্তি দিতে উত্যত হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বিরত হতে নির্দেশ দিলে তারা বিরত হন। তিনি মালের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে তাদেরকে পুনরায় প্রস্তাব দিয়ে বলেনঃ তোমরা কি সম্মত হলে? তারা বললো, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ আমি কি লোকেদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তাদেরকে তোমাদের সম্মত হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিবো? তারা বললো, হ্যাঁ। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিলেন, অতঃপর জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি সম্মত হয়েছো? তারা বললো, হ্যাঁ। ইমাম ইবনে মাজা (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, এ হাদীসটি বর্ণনার ক্ষেত্রে মা‘মার নিঃসঙ্গ। তিনি ছাড়া অপর কেউ এটি রিওয়ায়াত করেছেন কিনা তা আমার জানা নেই।
হাদিস 2639 — Sunan Ibn Majah 21:25
সহিহসহিহহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْجَنِينِ بِغُرَّةٍ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ فَقَالَ الَّذِي قُضِيَ عَلَيْهِ أَنَعْقِلُ مَنْ لاَ شَرِبَ وَلاَ أَكَلْ وَلاَ صَاحَ وَلاَ اسْتَهَلّ وَمِثْلُ ذَلِكَ يُطَلّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ هَذَا لَيَقُولُ بِقَوْلِ شَاعِرٍ فِيهِ غُرَّةٌ عَبْدٌ أَوْ أَمَةٌ " .
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভস্থ ভ্রুণের দিয়াত বাবত একটি ক্রীতদাস অথবা একটি ক্রীতদাসী নির্ধারণ করেন। তিনি যার উপর দিয়াত ধার্য করেন সে বললো, আমরা কি এমন মানুষের দিয়াত দিবো যে না পান করেছে, না চীৎকার করেছে আর না শব্দ করে কেঁদেছে? এর রক্ত (দিয়াত) তো বাতিল, অর্থহীন! রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লোকটি তো কবি সুলভ কথা বলছে। ভ্রুণের জন্য একটি ক্রীতদাস অথবা একটি ক্রীতদাসী দিয়াতস্বরূপ দিতে হবে।
। মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আঘাতের কারণে কোন নারীর গর্ভপাত হলে তার ব্যাপারে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) লোকজনের পরামর্শ তলব করলেন। মুগীরা ইবনে শো‘বা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত থাকা অবস্থায় তিনি এ ক্ষেত্রে একটি ক্রীতদাস অথবা একটি ক্রীতদাসী দিয়াতস্বরূপ ধার্য করেছেন। উমার (রাঃ) বলেন, তোমার কথার একজন সমর্থক উপস্থিত করো। তখন মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাঃ) তার কথা সমর্থন করলেন।
হাদিস 2641 — Sunan Ibn Majah 21:27
সহিহ Isnaadসহিহ IsnaadIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ نَشَدَ النَّاسَ قَضَاءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ يَعْنِي فِي الْجَنِينِ فَقَامَ حَمَلُ بْنُ مَالِكِ بْنِ النَّابِغَةِ فَقَالَ كُنْتُ بَيْنَ امْرَأَتَيْنِ لِي فَضَرَبَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى بِمِسْطَحٍ فَقَتَلَتْهَا وَقَتَلَتْ جَنِينَهَا فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْجَنِينِ بِغُرَّةٍ عَبْدٍ وَأَنْ تُقْتَلَ بِهَا .
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) লোকজনের নিকট গর্ভস্থ ভ্রুণের (দিয়াতের) ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফয়সালা জানতে চাইলেন। তখন হামল ইবনে মালেক ইবনে নাবিগা (রাঃ) উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, আমি আমার দু’ স্ত্রীর মাঝখানে ছিলাম। তাদের একজন তাঁবুর কিলক দ্বারা অপরজনকে আঘাত করে তার গর্ভস্থ ভ্রুণসহ তাকে হত্যা করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যা করার এবং গর্ভস্থ ভ্রুণের দিয়াতস্বরপ একটি ক্রীতদাস প্রদানের নির্দেশ দেন।
। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উমার (রাঃ) বলতেন, দিয়াত আকিলার প্রাপ্য এবং স্ত্রী উত্তরাধিকারসূত্রে তার স্বামীর দিয়াত থেকে কিছুই পাবে না। (তার এ রায়ের কথা জানতে পেরে) আদ-দাহ্হাক ইবনে সুফিয়ান (রাঃ) তাকে লিখে পাঠান যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশয়াম আদ-দিবাবীর স্ত্রীকে তার স্বামীর দিয়াত থেকে উত্তরাধিকার স্বত্ব দান করেছেন।
। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামল ইবনে মালেক আল হুযালী আল-লিহ্য়ানীকে তার স্ত্রীর দিয়াত থেকে ওয়ারিসী স্বত্ব দান করেন, যাকে তার অপর স্ত্রী হত্যা করেছিল।
। ‘আমর ইবনে শু‘আইব (রাঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা দেন যে, দু’ আহলে কিতাব সম্প্রদায় অর্থাৎ ইহূদী ও নাসারাদের দিয়াত হবে মুসলিমদের দিয়াতের অর্ধেক।