। ‘আমর ইবনে শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল মুসলিম তাদের বিজাতীয় শত্রুর বিরুদ্ধে এক হাতস্বরূপ ঐক্যবদ্ধ। তাদের সকলের জান ও মাল সমান মর্যাদাসম্পন্ন। মুসলিম সমাজের একজন সাধারণ লোকও (তাদের পক্ষ থেকে) অন্যকে আশ্রয় দিতে পারে। মুসলিমদের দূরবর্তী ব্যক্তিও তাদের গনীমাতে শরীক হবে।
। আবদুল্লাহ ইবনে ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম যিম্মীকে হত্যা করবে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ তার সুগন্ধ অবশ্যই চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে।
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিরাপত্তা লাভকারী কোন যিম্মীকে হত্যা করবে সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না। অথচ সত্তর বছরের দূরত্ব থেকেও অবশ্যই তার সুগন্ধ পাওয়া যাবে।
। রিফা‘আ ইবনে শাদ্দাদ আল-কিতবানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমর ইবনুল হামিক আল-খুযাঈ (রাঃ) -র নিকট আমি যে বাক্যটি শুনেছি তা না থাকলে আমি মুখতারের মাথা ও দেহের মাঝখান দিয়ে হাঁটাচলা করতাম (তাকে হত্যা করতাম)। আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোকের জানের নিরাপত্তা দেয়ার পর তাকে হত্যা করলো সে কিয়ামতের দিন বিশ্বাসঘাতকতার ঝান্ডা বয়ে বেড়াবে।
। রিফা‘আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুখতারের প্রাসাদে প্রবেশ করে তার নিকট উপস্থিত হলাম। সে বললো, এই মুহূর্তে জিবরীল (আ) আমার নিকট থেকে উঠে চলে গেলেন। তখন তার গর্দানে সজোরে আঘাত হানা থেকে একটি হাদীসই আমাকে বিরত রেখেছে। আমি সুলায়মান ইবনে সুরাদ (রাঃ) কে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘তোমার থেকে কেউ তার জীবনের নিরাপত্তা লাভ করলে তুমি তাকে হত্যা করো না’’। এ হাদীসই তাকে হত্যা করা থেকে আমাকে বিরত রেখেছে।
হাদিস 2690 — Sunan Ibn Majah 21:76
সহিহসহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَتَلَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُفِعَ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَفَعَهُ إِلَى وَلِيِّ الْمَقْتُولِ فَقَالَ الْقَاتِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ قَتْلَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْوَلِيِّ " أَمَا إِنَّهُ إِنْ كَانَ صَادِقًا ثُمَّ قَتَلْتَهُ دَخَلْتَ النَّارَ " . قَالَ فَخَلَّى سَبِيلَهُ . قَالَ وَكَانَ مَكْتُوفًا بِنِسْعَةٍ فَخَرَجَ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ فَسُمِّيَ ذَا النِّسْعَةِ .
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এক ব্যক্তি হত্যার অপরাধ করলো। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলে তিনি তাকে (হন্তাকে) নিহতের অভিভাবকের নিকট সোপর্দ করলেন। হত্যাকারী বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! তাকে হত্যা করার ইচ্ছা আমার ছিলো না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহতের অভিভাবককে বললেনঃ সে সত্যবাদী হয়ে থাকলে এবং তারপরও তুমি তাকে হত্যা করলে তুমি জাহান্নামে যাবে। রাবী বলেন, তারা তাকে তার পথে ছেড়ে দিলো। সে একটি রশি দ্বারা পিঠমোড়া দিয়ে বাঁধা ছিল। সে তার রশি মাটির সাথে টানতে টানতে বেরিয়ে চলে গেলো। সেই থেকে তার নাম হলো ‘রশিধারী’।
হাদিস 2691 — Sunan Ibn Majah 21:77
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو عُمَيْرٍ، عِيسَى بْنُ مُحَمَّدٍ النَّحَّاسُ وَعِيسَى بْنُ يُونُسَ وَالْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي السَّرِيِّ الْعَسْقَلاَنِيُّ قَالُوا حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ أَتَى رَجُلٌ بِقَاتِلِ وَلِيِّهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اعْفُ " . فَأَبَى فَقَالَ " خُذْ أَرْشَكَ " . فَأَبَى . قَالَ " اذْهَبْ فَاقْتُلْهُ فَإِنَّكَ مِثْلُهُ " . قَالَ فَلُحِقَ بِهِ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ " اقْتُلْهُ فَإِنَّكَ مِثْلُهُ " . فَخَلَّى سَبِيلَهُ . قَالَ فَرُئِيَ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ ذَاهِبًا إِلَى أَهْلِهِ . قَالَ كَأَنَّهُ قَدْ كَانَ أَوْثَقَهُ . قَالَ أَبُو عُمَيْرٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ ابْنُ شَوْذَبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، فَلَيْسَ لأَحَدٍ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقُولَ " اقْتُلْهُ فَإِنَّكَ مِثْلُهُ " . قَالَ ابْنُ مَاجَهْ هَذَا حَدِيثُ الرَّمْلِيِّينَ لَيْسَ إِلاَّ عِنْدَهُمْ .
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার অভিভাবকের হত্যাকারীকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি ক্ষমা করে দাও। সে অস্বীকার করলো। তিনি বলেনঃ তাহলে তুমি দিয়াত গ্রহণ করো। সে তাও অস্বীকার করলো। তিনি বলেনঃ তাহলে যাও, তাকে হত্যা করো। কেননা তুমি তার মতই হবে। রাবী বলেন, তার নিকট গিয়ে তাকে বলা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যি বলেছেনঃ তাকে হত্যা করো, তুমি তার মতই হবে। অতঃপর সে তাকে তার পথে ছেড়ে দিলো। রাবী বলেন, তাকে তার রশি টানতে টানতে তার পরিবারের দিকে চলে যেতে দেখা গেলো। সম্ভবত নিহতের দাবিদারগণ তাকে রশি দিয়ে বেঁধেছিল। রাবী আবূ উমাইর (রাঃ) তার হাদীসে বলেন, ইবনে মাওযাব (রাঃ) আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন এর পর আর কারো পক্ষে এরূপ বলা জায়েয নয় যে, ‘‘তাকে হত্যা করো, তুমিও তার মতই হবে’’। ইবনে মাজা (রাঃ) বলেন, এটা হলো রামলাবাসীদের বর্ণিত হাদীস, যা তাদের ছাড়া আর কারো কাছে নেই।
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিসাস সংক্রান্ত কোন মোকদ্দমা উত্থাপিত হলেই তিনি তা ক্ষমা করে দেয়ার আহবান জানাতেন (বাদীর প্রতি)।
। আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যার দেহের কোন স্থান আঘাতপ্রাপ্ত হলো, অতঃপর সে তা সদাকা করে দিলো (অপরাধীকে ক্ষমা করে দিলো) আল্লাহ এর বিনিময়ে তার এক ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তার একটি গুনাহ মাফ করবেন। এ কথা আমার দু’ কান শুনেছে এবং আমার অন্তর তা হেফাজত করেছেন।
। মুআয ইবনে জাবাল, আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ, উবাদা ইবনুস সামিত ও শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন নারী ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার অপরাধ করলে বা যেনা করলে এবং গর্ভবতী হয়ে থাকলে, সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত এবং তার বাচ্চার লালন-পালন (দুধপানের মেয়াদ) শেষ না করা পর্যন্ত তাকে হত্যা বা রজম করা যাবে না।