حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رِبْعِيَّ بْنَ حِرَاشٍ، يُحَدِّثُ عَنْ حُذَيْفَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " أَنَّ رَجُلاً مَاتَ فَقِيلَ لَهُ مَا عَمِلْتَ - فَإِمَّا ذَكَرَ أَوْ ذُكِّرَ - قَالَ إِنِّي كُنْتُ أَتَجَوَّزُ فِي السِّكَّةِ وَالنَّقْدِ وَأُنْظِرُ الْمُعْسِرَ . فَغَفَرَ اللَّهُ لَهُ " . قَالَ أَبُو مُسْعُودٍ أَنَا قَدْ، سَمِعْتُ هَذَا، مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
। হুযায়ফা (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হিসাবে বর্ণিত। এক ব্যক্তি মারা গেলে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তুমি কি আমল করেছো? সে নিজের স্মৃতি থেকে অথবা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে বললো, আমি নগদ অর্ধ ধার দিতাম এবং অভাবগ্রস্তকে (ঋণ পরিশোধে) অবকাশ দিতাম। এজন্য আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। আবূ মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমিও এ হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছি।
। ইবনে উমার ও আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি পাওনা আদায়ের তাগাদা দিলে যেন বিনীতভাবেই তাগাদা দেয়, তাতে পাওনা আদায় হোক বা না হোক।
। আবূ হুরায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক পাওনাদারকে বলেনঃ তুমি তোমার পাওনা ভদ্র ও বিনীতভাবে গ্রহণ করো, তা পূর্ণরূপে আদায় হোক বা না হোক।
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।
হাদিস 2424 — Sunan Ibn Majah 15:35
হাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ الْمَخْزُومِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَسْلَفَ مِنْهُ حِينَ غَزَا حُنَيْنًا ثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ أَلْفًا فَلَمَّا قَدِمَ قَضَاهَا إِيَّاهُ ثُمَّ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ إِنَّمَا جَزَاءُ السَّلَفِ الْوَفَاءُ وَالْحَمْدُ " .
। আবদুল্লাহ ইবনে আবূ রবীআ আল-মাখযূমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন যুদ্ধের সময় তার কাছ থেকে তিরিশ অথবা চল্লিশ হাজার দিরহাম ধার নিয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে তার পাওনা পরিশোধ করেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ আল্লাহ পাক তোমাকে তোমার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। ধারের প্রতিদান হলো, তা পরিশোধ করা এবং প্রশংসা করা।
হাদিস 2425 — Sunan Ibn Majah 15:36
Very DaifVery DaifVery Daifদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ يَطْلُبُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِدَيْنٍ أَوْ بِحَقٍّ فَتَكَلَّمَ بِبَعْضِ الْكَلاَمِ فَهَمَّ صَحَابَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَهْ إِنَّ صَاحِبَ الدَّيْنِ لَهُ سُلْطَانٌ عَلَى صَاحِبِهِ حَتَّى يَقْضِيَهُ " .
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ঋণ বা পাওনা আদায়ের তাগাদা দেয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলো এবং কিছু কঠোর কথা বললো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ তাতে ত্রুুদ্ধ হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ থামো! পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঋণদাতা তার দেনাদারকে কঠোরভাবে তাগাদা দেয়ার অধিকার রাখে।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তার ঋণ শোধের জন্য তাঁকে কঠোর ভাষায় তাগাদা দিলো, এমনকি সে তাঁকে বললো, আমার ঋণ পরিশোধ না করলে আমি আপনাকে নাজেহাল করবো। সাহীবগণ তার উপর চড়াও হতে উদ্ধত হয়ে বললেন, তোমার অনিষ্ট হোক! তুমি কি জানো কার সাথে কথা বলছো? সে বললো, আমি আমার পাওনা দাবি করছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কেন পাওনাদারের পক্ষ নিলে না? অতঃপর তিনি কায়েসের কন্যা খাওলা (রাঃ) এর নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে বললেন, তোমার কছে খেজুর থাকলে আমাকে ধার দাও। আমারে খেজুর আসলে তোমার ধার পরিশোধ করবো। খাওলা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, ইয়া রাসূলাল্লাহ। রাবী বলেন, তিনি তাঁকে ধার দিলেন। তিনি বেদুঈনের পাওনা পরিশোধ করলেন এবং তাকে আহার করালেন। সে বললো, আপনি পূর্ণরূপে পরিশোধ করলেন, আল্লাহ আপনাকে পূর্ণরূপে দান করুন। তিনি বলেনঃ উত্তম লোকেরা এমনই হয়। যে জাতির দুর্বল লোকেরা জোর-জবরদস্তি ছাড়া তাদের পাওনা আদায় করতে পারে না সেই জাতি কখনো পবিত্র হতে পারে না।
। আমর ইবনুশ শারীদ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে স্বচ্ছল ব্যক্তি কোন দেনা পরিশোধ করতে গড়িমসি করে, তাকে অপমান করা ও শাস্তি দেয়া উভয়ই আমার জন্য হালাল। আল আত-তানাফিসী (রাঃ) বলেন, অপমান করা অর্থ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা এবং শাস্তি দেয়ার অর্থ তাকে জেলখানায় কয়েদ করা।
। হিরমাস ইবনে হাবীব (রাঃ) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার এক দেনাদারকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম। তিনি বলেনঃ এর পিছে লেগে থাকো। অতঃপর দিনের শেষে তিনি আমার নিকট নিয়ে যাওয়ার সময় বলেনঃ হে তামীম গোত্রের ভাই! তোমার কয়েদী কি করছে?
। আবুদুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইবনে আবূ হাদরাদকে তার দেয়া ঋণ ফেরত দানের জন্য মসজিদের মধ্যে তাগাদা দিলেন। এতে তাদের উভয়ের কন্ঠস্বর চরমে উঠে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘর থেকে তা শুনতে পান। তিনি তাদের নিকট বের হয়ে এসে কাব (রাঃ) -কে ডাকলেন। কাব (রাঃ) উত্তর দিলেনঃ আমি হাজির ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ তোমার পাওনা থেকে এই পরিমাণ ছেড়ে দাও এবং নিজের হাত দিয়ে ইশারা করে অর্ধেক ছেড়ে দিতে বলেন। কাব (রাঃ) বললেন, আমি মাফ করে দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেনাদারকে বলেনঃ উঠে যাও এবং ওর ঋণ পরিশোধ করো।