। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তার ঋণ শোধের জন্য তাঁকে কঠোর ভাষায় তাগাদা দিলো, এমনকি সে তাঁকে বললো, আমার ঋণ পরিশোধ না করলে আমি আপনাকে নাজেহাল করবো। সাহীবগণ তার উপর চড়াও হতে উদ্ধত হয়ে বললেন, তোমার অনিষ্ট হোক! তুমি কি জানো কার সাথে কথা বলছো? সে বললো, আমি আমার পাওনা দাবি করছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কেন পাওনাদারের পক্ষ নিলে না? অতঃপর তিনি কায়েসের কন্যা খাওলা (রাঃ) এর নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে বললেন, তোমার কছে খেজুর থাকলে আমাকে ধার দাও। আমারে খেজুর আসলে তোমার ধার পরিশোধ করবো। খাওলা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, ইয়া রাসূলাল্লাহ। রাবী বলেন, তিনি তাঁকে ধার দিলেন। তিনি বেদুঈনের পাওনা পরিশোধ করলেন এবং তাকে আহার করালেন। সে বললো, আপনি পূর্ণরূপে পরিশোধ করলেন, আল্লাহ আপনাকে পূর্ণরূপে দান করুন। তিনি বলেনঃ উত্তম লোকেরা এমনই হয়। যে জাতির দুর্বল লোকেরা জোর-জবরদস্তি ছাড়া তাদের পাওনা আদায় করতে পারে না সেই জাতি কখনো পবিত্র হতে পারে না।
। আমর ইবনুশ শারীদ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে স্বচ্ছল ব্যক্তি কোন দেনা পরিশোধ করতে গড়িমসি করে, তাকে অপমান করা ও শাস্তি দেয়া উভয়ই আমার জন্য হালাল। আল আত-তানাফিসী (রাঃ) বলেন, অপমান করা অর্থ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা এবং শাস্তি দেয়ার অর্থ তাকে জেলখানায় কয়েদ করা।
। হিরমাস ইবনে হাবীব (রাঃ) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার এক দেনাদারকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম। তিনি বলেনঃ এর পিছে লেগে থাকো। অতঃপর দিনের শেষে তিনি আমার নিকট নিয়ে যাওয়ার সময় বলেনঃ হে তামীম গোত্রের ভাই! তোমার কয়েদী কি করছে?
। আবুদুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইবনে আবূ হাদরাদকে তার দেয়া ঋণ ফেরত দানের জন্য মসজিদের মধ্যে তাগাদা দিলেন। এতে তাদের উভয়ের কন্ঠস্বর চরমে উঠে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘর থেকে তা শুনতে পান। তিনি তাদের নিকট বের হয়ে এসে কাব (রাঃ) -কে ডাকলেন। কাব (রাঃ) উত্তর দিলেনঃ আমি হাজির ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ তোমার পাওনা থেকে এই পরিমাণ ছেড়ে দাও এবং নিজের হাত দিয়ে ইশারা করে অর্ধেক ছেড়ে দিতে বলেন। কাব (রাঃ) বললেন, আমি মাফ করে দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেনাদারকে বলেনঃ উঠে যাও এবং ওর ঋণ পরিশোধ করো।
। কায়েস ইবনে রূমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুলায়মান ইবনে আদনান (রাঃ) আলকামা(রাঃ) কে তার বাতা প্রাপ্তির সাপেক্ষ এক হাজার দিরহাম করয দিয়েছিলেন। সুলায়মান তাকে কঠোরভাবে কযর থেকে দানের তাগাদা দিলেন। আলকামা (রাঃ) তার কর্য ফেরত দিলেন এবং তার প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন। কয়েক মাস পর তিনি সুলায়মানের নিকট এসে বলেন, হাঁ খুব ভালো কথা। হে উতবার মা! দয়া করে তোমার নিকট গচ্ছিত মোহর করা থলেটি নিয়ে এসো। সে তা নিয়ে এলে সুলায়মান (আলকামাকে) বলেন, আল্লাহর শপথ! দেখুন, এগুলো আপনার সেই দিরহাম যা আপনি আমাকে ফেরত দিয়েছিলেন। আমি তা থেকে একটি দিরহামও সরাইনি। আলকামা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর জন্য তোমার পিতা উৎসর্গিত হোক! তবে কোন জিনিস তোমাকে আমার সাথে রূঢ় আচরণ করতে প্ররোচিত করেছিল? তিনি বলেন, আমি আপনার নিকট যে হাদীস শুনেছি তা। আলকামা (রাঃ) বলেন, তুমি আমার নিকট কি হাদীস শুনেছ? তিনি বলেন, আমি আপনাকে ইবনে মাসউদ (রাঃ) -র সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘কোন মুসলিম অপর মুসলিমকে দু’বার করয দিলে সে সেই পরিমাণ মাল একবার দান-খয়রাত করার সমান সওয়াব পায়।’’ আলকামা (রাঃ) বলেন, ইবনমোসউদ (রাঃ) আমাকে এভাবেই অবহিত করেছেন।
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মিরাজের রাতে আমি জান্নাতের একটি দরজায় লেখা দেখলাম, দান-খয়রাতে দশ গুণ সওয়াব এবং করযে আঠারো গুণ! আমি বললামঃ হে জিবরীল! করয দান-খয়রাতের চেয়ে উত্তম হওয়ার কারণ কি? তিনি বলেন, ভিক্ষুক নিজের কাছে (সম্পদ) থাকতেও ভিক্ষা চায়, কিন্তু কযরদান প্রয়োজনের তাগিদেই কর্য চায়।
। ইহয়াহইয়া ইবনে আবূ ইসহাক আল-হানাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আমাদের মধ্যে কেউ তার ভাইক মাল করয দেয়, অতঃপর করযদার তাকে উপঢৌকন দেয়। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কোন জিনিস করয দেয়ার পর করযদার তাকে কিছু উপঢৌকন দিলে বা তার সওয়ারীতে আরোহণ করাতে চাইলে সে যেন তাতে আরোহণ না করে এবং উপঢৌকন গ্রহণ না করে। তবে তাদের মধ্যে আগে থেকেই এরূপ সৌজন্যমূলক বিনিময়ের প্রচলন থাকলে আপত্তি নেই।
। সা'দ ইবনুল আতওয়াল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তার ভাই ইনতিকাল করেন এবং তিন শত দিরহাম ও কতক অসহায় সন্তান রেখে যান। আমি সেগুলো তার সন্তানদের জন্য খরচ করতে মনস্থ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার ভাই দেনার কারণে আটক রয়েছে। অতএব তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করো। সাদ (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তার পক্ষ থেকে সব দেনা শোধ করেছি, কেবল এক মহিলার দাবিকৃত দু’টি দীনার বাকী আছে। কিন্তু তার কাছে কোন প্রমাণ নেই। তিনি বলেনঃ তা তাকে দিয়ে দাও, কারণ সে সত্যবাদিনী।
হাদিস 2434 — Sunan Ibn Majah 15:45
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَبَاهُ، تُوُفِّيَ وَتَرَكَ عَلَيْهِ ثَلاَثِينَ وَسْقًا لِرَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ فَاسْتَنْظَرَهُ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فَأَبَى أَنْ يُنْظِرَهُ فَكَلَّمَ جَابِرٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيَشْفَعَ لَهُ إِلَيْهِ فَجَاءَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَلَّمَ الْيَهُودِيَّ لِيَأْخُذَ ثَمَرَ نَخْلِهِ بِالَّذِي لَهُ عَلَيْهِ فَأَبَى عَلَيْهِ فَكَلَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَبَى أَنْ يُنْظِرَهُ فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّخْلَ فَمَشَى فِيهَا ثُمَّ قَالَ لِجَابِرٍ " جُدَّ لَهُ فَأَوْفِهِ الَّذِي لَهُ " . فَجَدَّ لَهُ بَعْدَ مَا رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثِينَ وَسْقًا وَفَضَلَ لَهُ اثْنَا عَشَرَ وَسْقًا فَجَاءَ جَابِرٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُخْبِرَهُ بِالَّذِي كَانَ فَوَجَدَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَائِبًا فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَهُ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ قَدْ أَوْفَاهُ وَأَخْبَرَهُ بِالْفَضْلِ الَّذِي فَضَلَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَخْبِرْ بِذَلِكَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ " . فَذَهَبَ جَابِرٌ إِلَى عُمَرَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ لَقَدْ عَلِمْتُ حِينَ مَشَى فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُبَارِكَنَّ اللَّهُ فِيهَا .
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তার পিতা তার দায়িত্বে তিরিশ ওয়াসাক (খাদ্যশস্য) দেনা রেখে মারা যান। এক ইহূদীর নিকট থেকে তা ধার নেয়া হয়েছিল। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) তার কাছে সময় চাইলে সে তাকে সময় দিতে রাযী হলো না। জাবির (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আলাপ করলেন যে, সে যেন তার করযের বিনিময়ে জাবিরের বাগানের খেজুর নিয়ে নেয়। ইহূদী তাতে সম্মত হলো না। পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সময় দিতে বললে এবারও সে তাকে সময় দিতে রাজী হলো না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাবিরের বাগানে প্রবেশ করে তার মধ্যে পায়চারি করলেন, তারপর জাবির (রাঃ)-কে বললেনঃ খেজুর কেটে তার সম্পূর্ণ পাওনা তাকে মিটিয়ে দাও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রত্যাবর্তনের পর জাবির (রাঃ) তা কাটলেন এবং তা থেকে ইহূদীকে তিরিশ ওয়াসাক দেয়ার পর আরো ১২ ওয়াসাক উদ্বৃত্ত হলো। অতএব জাবির (রাঃ) এ খবর জানানোর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুপস্থিত পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এলে তিনি তাঁর কাছে এসে জানান যে, তিনি ইহূদীর সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধ করেছেন এবং যা উদ্বৃত্ত হলো তার কথাও তাঁকে অবহিত করলেন। রাসূলুল্লাহ বললেনঃ খবরটি উমার ইবনুল খাত্তাবকেও পৌঁছিয়ে দাও। জাবির (রাঃ) উমর (রাঃ) এর কাছে গিয়ে তাকে খবরটি জানালে তিনি তাকে বলেনঃ আমি জানতাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাগানের মধ্যে পায়চারি করেছেন তখন আল্লাহ তা‘আল অবশ্যই তাতে বরকত দিবেন।
। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে কিয়ামতের দিন তার থেকে ঋণ কর্তন করা হবে। কিন্তু তিন কারণে ঋণগ্রস্ত হলে ভিন্ন কথা। (এক) যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে করতে দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ঋণ করে আর তার দ্বারা সে আল্লাহর দুশমন এবং নিজের দুশমনের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করে। (দুই) কোন ব্যক্তির নিকট কোন মুসলিম মারা গেলে তাকে দাফন করার জন্য সে ঋণগ্রস্ত হলে। (তিন) যে অবিবাহিত ব্যক্তি দারিদ্রের কারণে আল্লাহর দীন থেকে বিপথগামী হওয়ার আশংকায় ঋণ করে বিবাহ করে। আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাদের পক্ষ থেকে তাদের ঋণ শোধ করবেন।